সিলেটের গোলাপগঞ্জে নালিশকারী মান্না আহমদের বাড়িতে পেট্রোল ও গান পাউডার ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গড়িমসির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মামলা রেকর্ডের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ২৪ আগস্ট ২০২৬ সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-০২ (গোলাপগঞ্জ)-এর বিচারক আবদুল্লাহ আল নোমান উক্ত দরখাস্তটিকে এজাহার (FIR) হিসেবে গণ্য করে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মামলা রুজু করার জন্য গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ধারাবহর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে মান্না আহমদ বাদী হয়ে লেকভিউ হাউজিংয়ের মালিক শরীফ উদ্দিনসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ এবং ১০/১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে নালিশি দরখাস্ত দাখিল করেন। নামীয় প্রধান আসামীরা হলেন— ১. শরীফ উদ্দিন, ২. জালাল উদ্দিন, ৩. আফজাল, ৪. আনোয়ার হোসেন, ৫. রাহুল হুদা রাহেল, ৬. ময়নুল ইসলাম, ৭. সুমন আহমদ, ৮. নুরুল ইসলাম, ৯. ইমরান আহমদ, ১০. রুহেল আহমদ, ১১. মারম আলী, ১২. সাধন, ১৩. শরীফ, ১৪. রাফি এবং ১৫. তারেক আহমদ।
আসামীদের বিরুদ্ধে দ্য পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৪৪৭/৪৫৬ (২য় অংশ)/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে ব্যাপক পুলিশ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন এবং ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এফআইআর রুজু সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি:
অনুসন্ধানে জানা যায়, আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর গ্রামে ‘লেকভিউ হাউজিং’ নামের একটি প্রকল্পের পাহাড় কাটা ও পরিবেশ বিনাশের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন সৌদি প্রবাসী মুক্তা আহমদ। অন্যদিকে টিলা কাটার দায়ে স্থানীয় প্রশাসন প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে চক্রটি। ওই আক্রোশের জেরে গত ১৭ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লেকভিউ হাউজিংয়ের মালিক শরীফ উদ্দিনের নেতৃত্বে দুটি নোহা গাড়িতে এসে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১৫ জনের সশস্ত্র দল মান্না আহমদের বাড়িতে হানা দেয়। আসামীরা ঘরের চারপাশে পেট্রোল ঢেলে এবং গান পাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মাত্র আধ ঘণ্টার তাণ্ডবে টিনশেড আধাপাকা ঘরটির ৬টি রুম, রান্নাঘর ও বাথরুম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, দেড় ভরি সোনা, আসবাবপত্র, জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনসহ আনুমানিক ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচলেও পরিবারের ৭ সদস্য বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
আইনি জটিলতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ:ঘটনার পরপরই স্থানীয় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। কিন্তু ঘটনার আট দিন পার হয়ে গেলেও গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ এজাহারটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
পুলিশের কালক্ষেপণের প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে বিচারপ্রার্থী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের এই আদেশের পর ভুক্তভোগী পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে সকল আসামীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে।

মতামত