বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

আজকের চারা, আগামীর ছায়া গ্রিন হরাইজন প্রকল্পের সবুজ উদ্যোগ


| ফটো কার্ড

আজকের চারা, আগামীর ছায়া গ্রিন হরাইজন প্রকল্পের সবুজ উদ্যোগ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

আজকের ছোট্ট একটি চারা, আগামী দিনের বিশাল ছায়া। সেই ছায়ার স্বপ্নকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় রোপণ করা হয়েছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ। শিক্ষাঙ্গনকে সবুজে সাজানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের শরণখোলা এডিপির ‘গ্রিন হরাইজন প্রকল্প’-এর আওতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৩০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় আম বারি-৪, আম্রপালি, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, জাম, নিম ও আমলকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।

বৃক্ষরোপণের ফলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যই বাড়বে না, ভবিষ্যতে এসব গাছ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের জন্য ছায়া, নির্মল বাতাস ও একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে গাছের পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধও তৈরি হবে।

তাফালবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মানিক চাঁদ রায় বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণ একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। গাছ আমাদের পরিবেশ রক্ষা করে, শিক্ষার্থীদের ছায়া দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়ায়। এমন একটি সুন্দর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করব।”

শিক্ষার্থী অংকিতা বলে, “স্কুলের আঙিনায় গাছ লাগানোয় আমাদের খুব ভালো লাগছে। গাছগুলো বড় হলে আমাদের স্কুল আরও সুন্দর ও ছায়াঘেরা হবে। আমরা সবাই মিলে এগুলোর যত্ন নেব।”

শিক্ষার্থী বৈশাখী বলে, “গাছ পরিবেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা নিজেদের গাছ মনে করে এগুলোর পরিচর্যা করতে চাই।”

শিক্ষার্থী সাজনিন বলে, “নতুন গাছ লাগানোর মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষার একটি ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের এমন কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হলে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।”

শিক্ষার্থী পৃথা বলে, “আজ আমরা যে ছোট গাছের চারা লাগাচ্ছি, কয়েক বছর পর সেগুলো বড় হবে। তখন এই গাছের ছায়ায় অন্য শিক্ষার্থীরা বসবে। আমাদের লাগানো গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপকার করবে—এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।”

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের শরণখোলা এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার মানিক হালদার বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষা ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। গ্রিন হরাইজন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এসব গাছের যত্ন নেবেন এবং এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।”

প্রকৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই বন্ধন হয়তো আজ ছোট্ট একটি চারার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই চারা বড় হয়ে ছায়া দেবে, ফুল-ফল দেবে, আর সাক্ষী হয়ে থাকবে একটি সবুজ প্রজন্ম গড়ে ওঠার গল্পের। আজকের এই চারা তাই শুধু একটি গাছ নয় এটি আগামীর নির্মল পরিবেশের স্বপ্ন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


আজকের চারা, আগামীর ছায়া গ্রিন হরাইজন প্রকল্পের সবুজ উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

আজকের ছোট্ট একটি চারা, আগামী দিনের বিশাল ছায়া। সেই ছায়ার স্বপ্নকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় রোপণ করা হয়েছে নানা প্রজাতির বৃক্ষ। শিক্ষাঙ্গনকে সবুজে সাজানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের শরণখোলা এডিপির ‘গ্রিন হরাইজন প্রকল্প’-এর আওতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৩০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় আম বারি-৪, আম্রপালি, বকুল, কৃষ্ণচূড়া, জাম, নিম ও আমলকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।


বৃক্ষরোপণের ফলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্যই বাড়বে না, ভবিষ্যতে এসব গাছ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের জন্য ছায়া, নির্মল বাতাস ও একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে গাছের পরিচর্যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি মমত্ববোধও তৈরি হবে।


তাফালবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মানিক চাঁদ রায় বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণ একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। গাছ আমাদের পরিবেশ রক্ষা করে, শিক্ষার্থীদের ছায়া দেয় এবং প্রতিষ্ঠানের সৌন্দর্য বাড়ায়। এমন একটি সুন্দর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করব।”


শিক্ষার্থী অংকিতা বলে, “স্কুলের আঙিনায় গাছ লাগানোয় আমাদের খুব ভালো লাগছে। গাছগুলো বড় হলে আমাদের স্কুল আরও সুন্দর ও ছায়াঘেরা হবে। আমরা সবাই মিলে এগুলোর যত্ন নেব।”


শিক্ষার্থী বৈশাখী বলে, “গাছ পরিবেশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখাও আমাদের দায়িত্ব। আমরা নিজেদের গাছ মনে করে এগুলোর পরিচর্যা করতে চাই।”


শিক্ষার্থী সাজনিন বলে, “নতুন গাছ লাগানোর মাধ্যমে আমরা পরিবেশ রক্ষার একটি ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরেছি। আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের এমন কাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা হলে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে।”


শিক্ষার্থী পৃথা বলে, “আজ আমরা যে ছোট গাছের চারা লাগাচ্ছি, কয়েক বছর পর সেগুলো বড় হবে। তখন এই গাছের ছায়ায় অন্য শিক্ষার্থীরা বসবে। আমাদের লাগানো গাছ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপকার করবে—এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।”


ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের শরণখোলা এডিপির প্রোগ্রাম অফিসার মানিক হালদার বলেন, “পরিবেশ সুরক্ষা ও শিশুদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। গ্রিন হরাইজন প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এসব গাছের যত্ন নেবেন এবং এর মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হবে।”


প্রকৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের এই বন্ধন হয়তো আজ ছোট্ট একটি চারার মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই চারা বড় হয়ে ছায়া দেবে, ফুল-ফল দেবে, আর সাক্ষী হয়ে থাকবে একটি সবুজ প্রজন্ম গড়ে ওঠার গল্পের। আজকের এই চারা তাই শুধু একটি গাছ নয় এটি আগামীর নির্মল পরিবেশের স্বপ্ন।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream