তিব্বত-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় (ফ্ল্যাশ ফ্লাড) এ পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতের জিরোং পোর্ট থেকে শুরু হওয়া এই পাহাড়ি ঢল মুহূর্তের মধ্যে নেপালের রাসুয়া জেলায় প্রবেশ করে ভোট কোশী নদী বরাবর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এতে নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৪০০ মানুষ, যার মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় পর্যটক ও ৩৭ জন অনিবাসী ভারতীয় (এনআরআই) রয়েছেন।
জিরোং পোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পাহাড়ের ওপর থেকে আসা কাদা, পাথর ও প্রকাণ্ড ধ্বংসাবশেষসহ ঢলের প্রবল স্রোত মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরো সীমান্ত এলাকা ও একটি পার্কিং লট ভাসিয়ে নিয়ে যায়। হঠাৎ আসা এই পাহাড়ি ঢল থেকে বাঁচতে মানুষ আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করলেও মুহূর্তের মধ্যে তা সীমান্ত এলাকাকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে।
নেপাল ট্রাভেল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ২৯১ জন বিদেশী এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিকসহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ৫৯ জন কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রার পুণ্যার্থী ছিলেন।
উদ্ধার অভিযান ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি:
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হলেও এবারের এই আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মতামত