চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী একটি নদীর উজানে বরফ ও বিশাল পাথরধসে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সেখানে পানি জমে তৈরি হয়েছে বড় একটি কৃত্রিম হ্রদ, যা ভেঙে গেলে ভাটির দিকে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাঠমান্ডুতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, পাহাড়ধসের কারণে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কৃত্রিমভাবে সৃষ্ট হ্রদটিতে দ্রুত পানি জমছে। ইতোমধ্যে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় জমে থাকা পানি ও ধসের স্তূপ ভেঙে নিচের দিকে তীব্র স্রোত নেমে আসার ঝুঁকি রয়েছে।
নেপালের ‘চ্ছোদেন খোলা’ ও ‘পুরেপু সাংপো’ নদীর মিলনস্থলের কাছাকাছি এলাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে নদীর ভাটির দিকের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের পানির উচ্চতা ও স্রোতের গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়া সম্ভব হয়।
তবে কৃত্রিম হ্রদটিতে বর্তমানে কত পরিমাণ পানি জমেছে এবং এটি ঠিক কখন ভেঙে পড়তে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এরই মধ্যে নেপালের রসুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। এমন অবস্থায় সীমান্তবর্তী এই কৃত্রিম হ্রদ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
চীনা দূতাবাস এ পরিস্থিতিতে গুজব বা যাচাইহীন তথ্য ছড়িয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জনগণকে কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মতামত