শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

বাউফলে চরে ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ: বিষাক্ত ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ২৫



বাউফলে চরে ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ: বিষাক্ত ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ২৫
বাউফলে চরে ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ: বিষাক্ত ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ২৫

পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ওই বিষাক্ত ঘাস খেয়ে প্রায় ২৫টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে এ ঘটনা ঘটে।

মহিষের রাখাল ও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই ঘাস খাওয়ার পরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ মহিষগুলোর মধ্যে কয়েকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মহিষ মালিক, রাখাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়েই প্রাকৃতিকভাবে মহিষগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাখালেরা শতাধিক মহিষকে লালচরে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান। পরে ঘাস খাওয়ার পর একে একে মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে।

এ ঘটনায় রফিজ মৃধার একটি, সুমন মাঝির একটি ও রুহুল আমিনের একটি মহিষ মারা গেছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে লালচরে মহিষ পালন করছি। শত শত মহিষ চরের ঘাস খায়। এর আগে কখনো এমন সমস্যা হয়নি। এবার শত্রুতামূলকভাবে কেউ চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, “বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে আমার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্যগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে।”

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। বাকি মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


বাউফলে চরে ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ: বিষাক্ত ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, অসুস্থ ২৫

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পটুয়াখালীর বাউফলে চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ওই বিষাক্ত ঘাস খেয়ে প্রায় ২৫টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে তিনটি মহিষ মারা গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে এ ঘটনা ঘটে।

মহিষের রাখাল ও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, চরের ঘাসে বিষপ্রয়োগ করা হয়েছিল। সেই ঘাস খাওয়ার পরই মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ মহিষগুলোর মধ্যে কয়েকটির অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

মহিষ মালিক, রাখাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেশবপুর ইউনিয়নের লালচরে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় খামারিরা উন্মুক্তভাবে মহিষ পালন করে আসছেন। চরের সবুজ ঘাস খেয়েই প্রাকৃতিকভাবে মহিষগুলো হৃষ্টপুষ্ট হয়ে ওঠে। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও রাখালেরা শতাধিক মহিষকে লালচরে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যান। পরে ঘাস খাওয়ার পর একে একে মহিষগুলো অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে।

এ ঘটনায় রফিজ মৃধার একটি, সুমন মাঝির একটি ও রুহুল আমিনের একটি মহিষ মারা গেছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

চন্দ্রদ্বীপের রায় সাহেবের বাসিন্দা মহিষ মালিক মোস্তফা ফকির বলেন, “প্রায় ১৫ বছর ধরে লালচরে মহিষ পালন করছি। শত শত মহিষ চরের ঘাস খায়। এর আগে কখনো এমন সমস্যা হয়নি। এবার শত্রুতামূলকভাবে কেউ চরের ঘাসে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে। সেই ঘাস খেয়ে মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমার ১৮টি মহিষের অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

আরেক মহিষ মালিক রুহুল আমিন বলেন, “বিষ দেওয়া ঘাস খেয়ে আমার একটি মহিষ মারা গেছে। অন্যগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা চলছে।”

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কয়েকটি মহিষ মারা যায়। বাকি মহিষগুলোর চিকিৎসা চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মহিষগুলোর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া মহিষের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream