শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

কাপ্তাইয়ের সীতা পাহাড়ে আটকা পড়া ৪ পর্যটক উদ্ধার



কাপ্তাইয়ের সীতা পাহাড়ে আটকা পড়া ৪ পর্যটক উদ্ধার
কাপ্তাইয়ের সীতা পাহাড়ে আটকা পড়া ৪ পর্যটক উদ্ধার

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের দুর্গম সীতা পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে দিক হারিয়ে ও আহত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা থাকার পর চার পর্যটককে সফলভাবে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।উদ্ধারকৃত পর্যটকরা হলেন,টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের নুরুল আমিনের ছেলে মো. রবিউল আলম (২২), সন্দ্বীপের হারামিয়ার মো. বেলালের ছেলে ফুদ্দিন এমদাদ (২৫), টেকনাফের বড়হাবীব পাড়ার আবদুর শুক্করের ছেলে মো. মামুন (২০) এবং টেকনাফের সাবরাংয়ের মো. হাশেমের ছেলে মোস্তফা হাশেম সোহাগ (২৪)। তাদের সবার বর্তমান ঠিকানা চট্রগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে চার পর্যটক মিলে প্রায় ১ হাজার ৮৪০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সীতা পাহাড়ে ঘুরতে যান। পাহাড়ে ওঠার পর ফেরার পথে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে তাদের মধ্যে দু'জনের পা পিছলে কেটে যায়। দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে নিচে নামতে অসমর্থ হয়ে দলটির সদস্য রবিউল আলম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চান। 

খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনে।​উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. রেজাউল করিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পাহাড়ের রাস্তাঘাট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 আহত দুই পর্যটকের পায়ে আঘাত থাকলেও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।​রাম পাহাড় বিটের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মিঠু তালুকদার জানান, সীতা পাহাড় এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি বন্য হাতির নিয়মিত চলাচলের করিডোর। বর্তমানে সেখানে ৪০ থেকে ৫০টি হাতি রয়েছে এবং প্রতিটি পালের সঙ্গেই শাবক রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে চলে আসেন। এর আগে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। 

স্থানীয় বালুচর ও প্রশান্তি ঘাট এলাকার লোকজনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো পর্যটককে নদী পার করে ওই এলাকায় না নেওয়া হয়। বিশেষ করে কোনো কারণে গেলেও বিকেল ৪টার আগেই যেন সবাই পাহাড়ি এলাকা ত্যাগ করেন।উদ্ধার হওয়া পর্যটক রবিউল আলম বলেন, "সীতা পাহাড় যে এতখানি ঝুঁকিপূর্ণ ও ভয়ংকর, তা এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না। আমরা ভিডিওতে এর সৌন্দর্য দেখেছিলাম, কিন্তু বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত ভয়ের ও দুর্গম।"প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম শেষে রাতেই ওই চার পর্যটক নিরাপদে চট্রগ্রামে উদ্দেশ্যে রওনা হন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


কাপ্তাইয়ের সীতা পাহাড়ে আটকা পড়া ৪ পর্যটক উদ্ধার

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম ইউনিয়নের দুর্গম সীতা পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে দিক হারিয়ে ও আহত হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকা থাকার পর চার পর্যটককে সফলভাবে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। 

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।উদ্ধারকৃত পর্যটকরা হলেন,টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের নুরুল আমিনের ছেলে মো. রবিউল আলম (২২), সন্দ্বীপের হারামিয়ার মো. বেলালের ছেলে ফুদ্দিন এমদাদ (২৫), টেকনাফের বড়হাবীব পাড়ার আবদুর শুক্করের ছেলে মো. মামুন (২০) এবং টেকনাফের সাবরাংয়ের মো. হাশেমের ছেলে মোস্তফা হাশেম সোহাগ (২৪)। তাদের সবার বর্তমান ঠিকানা চট্রগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায়।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে চার পর্যটক মিলে প্রায় ১ হাজার ৮৪০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট সীতা পাহাড়ে ঘুরতে যান। পাহাড়ে ওঠার পর ফেরার পথে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে তাদের মধ্যে দু'জনের পা পিছলে কেটে যায়। দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে নিচে নামতে অসমর্থ হয়ে দলটির সদস্য রবিউল আলম জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে সাহায্য চান। 

খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনে।​উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার মো. রেজাউল করিম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পাহাড়ের রাস্তাঘাট অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

 আহত দুই পর্যটকের পায়ে আঘাত থাকলেও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা তাদের নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।​রাম পাহাড় বিটের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মিঠু তালুকদার জানান, সীতা পাহাড় এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি বন্য হাতির নিয়মিত চলাচলের করিডোর। বর্তমানে সেখানে ৪০ থেকে ৫০টি হাতি রয়েছে এবং প্রতিটি পালের সঙ্গেই শাবক রয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে চলে আসেন। এর আগে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। 

স্থানীয় বালুচর ও প্রশান্তি ঘাট এলাকার লোকজনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো পর্যটককে নদী পার করে ওই এলাকায় না নেওয়া হয়। বিশেষ করে কোনো কারণে গেলেও বিকেল ৪টার আগেই যেন সবাই পাহাড়ি এলাকা ত্যাগ করেন।উদ্ধার হওয়া পর্যটক রবিউল আলম বলেন, "সীতা পাহাড় যে এতখানি ঝুঁকিপূর্ণ ও ভয়ংকর, তা এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না। আমরা ভিডিওতে এর সৌন্দর্য দেখেছিলাম, কিন্তু বাস্তব চিত্রটি অত্যন্ত ভয়ের ও দুর্গম।"প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার কার্যক্রম শেষে রাতেই ওই চার পর্যটক নিরাপদে চট্রগ্রামে উদ্দেশ্যে রওনা হন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream