মধ্যপ্রাচ্যে ও সামরিক সংঘাত শুরুর প্রথম দিকে আলোচনার মূল কেন্দ্রে ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো। যার জের ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলা চালানোর দাবিও করেছিল। তবে সংঘাতের ছয় মাস পার হয়ে বিশ্বমঞ্চে সেই পারমাণবিক বোমার চেয়েও বড় এক সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তির জানান দিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান।
আন্তর্জাতিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতপূর্ণ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’কে দর-কষাকষির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা ছাড়িয়ে সংবেদনশীল এই সামুদ্রিক রুটটি এখন পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি আলি হাশেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতীতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চরম উত্তেজনার সময়েও ইরান হরমুজ প্রণালিকে এভাবে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি। কিন্তু বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা প্রশমনে বিশ্বজুড়ে যত কূটনৈতিক আলোচনা চলছে, তার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে বিশ্ব জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের এই প্রধান রুটটি পুনরায় উন্মুক্ত রাখা।
সামরিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে আলি হাশেম জানান, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান যে ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা অর্জন করেছে, তা বাস্তবিক অর্থেই দেশটির জন্য একটি 'ভৌগোলিক পারমাণবিক বোমা' (Geographical Nuclear Bomb) হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্য সরবরাহের অন্যতম প্রধান এই ধমনিটিকে সচল রাখা বা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার অভূতপূর্ব ক্ষমতা এখন ইরানের হাতে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতপূর্ব ও সংঘাত-পরবর্তী বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য আর আগের মতো থাকছে না। বিশ্বমঞ্চের যেকোনো পরাশক্তিই এখন তেহরানের এই 'ভৌগোলিক পারমাণবিক বোমা'র ক্ষমতাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।
সুত্র: আল- জাজিরা
মতামত