বর্তমানে হরমোন ভারসাম্যহীনত্যা একটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা আমাদের শরীরে হরমোনের মাত্রায় অতিরিক্ত তারতম্য বা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে হরমোন ভারসাম্যহীনতা বলে। হরমোন আমাদের শরীরে গুরত্বপূর্ণ কাজ করে।
তারা রক্ত প্রবাহের মাধ্যমে টিস্যু এবং অঙ্গগুলিতে ভ্রমণ করে, শরীরের অনেক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। হরমোনে হেরফের দেখা দিলে শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা দিতে পারে এবং বিভিন্ন উপসর্গসহ স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খাবারে অতিরিক্ত পরিমানে চিনি, কার্বোহাইড্রেট ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকলে তা ইনসুলিনের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণ হতে পারে।
ঘুম কম হলে গ্রোথ হরমোন ও ইনসুলিনের মতো হরমোন উৎপাদনে ব্যঘাত ঘটায়।
স্ট্রেসের কারণে হরমোন অতিরিক্ত উৎপাদনের দিকে ধাবিত করতে পারে যা হরমোন ভারসাম্যহীনতার কারণ।
নারীদের মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবে কমে যায়।
হাইপোথইরয়েডিজম এর মতো অবস্থার জন্য দায়ী থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা।
পরিবেশগত কিছু বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে এলে এন্ডোক্রাইন ফাংশন ব্যাহত হতে পারে এবং হরমোন ভারসাম্যহীনতার দিকে পরিচালিত হতে পারে।
* পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, ক্লান্তি বা শক্তির অভাব
* ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া
* শরীরের বিভিন্ন অংশে লোম গজানো
* মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
* অস্থিরতার কারণে মুখে ব্রণ, ত্বক শুষ্ক বা তৈলাক্ত হয়ে যাওয়া
* অতিরিক্ত চুল পড়া
হরমোন ভারসাম্যহীনতা আয়ত্তে আনতে জীবনধারায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। হরমোনে ভারসাম্যহীনতার চিকিৎসা অর্ন্তনিহিত কারণ এবং জড়িত নির্দিষ্ট হরমোনের উপর নির্ভর করে। যেমন-
১: খাবারে পরিবর্তন আনতে হবে। ফল, শাক- সবজি, চর্বিহীন প্রেটিন ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে হবে।
২: নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।
৩: পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমাতে হবে।
৪: হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেয়া যেতে পারে। এটি মেনোপোজ বা হাইপোথাইরয়েডিজমের মতো পরিস্থিতিতে হরমোনের মাত্রা পুনরুদ্ধার করতে ব্যবহৃত হয়।
৫: যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে তারা থাইরয়েডের ঔষধ সেবন করলে এর মাত্রা স্বাভাবিক হতে পারে।
৬: আংকুপাচার হরমোন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং উপসর্গ উপশম করতে সাহায্য করে।
হরমোন ভারসাম্যহীনতা শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। জীবনধারায় কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
মতামত