বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ


| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে কক্ষে তালাবদ্ধ করে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ওরফে ক্বারী রফিকের বিরুদ্ধে।

রফিক উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের রসলপুইরা বাড়ির মৃত ক্বারী রমিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। স্ত্রী,এক ছেলে,দুই মেয়ের জনক।

অভিযোগ উঠেছে , মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য  রফিক একই কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে মুঠোফোনে কল করে বাদাঘাটের কামড়াবন্দ গ্রামে তার বাসায় ডেকে নেন। সেখানে বাসার গেটে তালা দিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আপত্তিকর প্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

এরপর ওই ছাত্রী শিক্ষকের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তিনি বাসার গেটে তালা দিয়ে বাদাঘাট বাজারে চলে যান। পরে ওই ছাত্রী মুঠোফোনে সহপাঠীদের কাছে উদ্ধারের আকুতি জানান। খবর পেয়ে সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার ও বুধবার তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শ্বশুর ও বাদাঘাট বাজারের বাসিন্দা ডা. হাফিজ উদ্দিন বলেন, গোটা বিষয়টি একটি ষড়যন্ত্র।”*

বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আক্তার বলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

ওই ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর তার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে এবং এতে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্টো ওই শিক্ষকের লোকজন ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমে আমার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন , ওই শিক্ষক আমার মেয়ের শিক্ষা জীবন ধ্বয়স করেছেন , কোন মুখ নিয়ে আমার মেয়ে ওই কলেজে পড়তে যাবে !?

তাহিরপুর থানার ওসি মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, “ ভিকটিমের পরিবার আইনগত সহায়তা চাইলে পুলিশি সহায়তা পাবেন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে অভিযোগকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয় : সুনামগঞ্জ তাহিরপুর

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক কলেজছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে কক্ষে তালাবদ্ধ করে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ওরফে ক্বারী রফিকের বিরুদ্ধে।

রফিক উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের পৈলনপুর গ্রামের রসলপুইরা বাড়ির মৃত ক্বারী রমিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। স্ত্রী,এক ছেলে,দুই মেয়ের জনক।

অভিযোগ উঠেছে , মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের সমস্যা নিয়ে কথা বলার জন্য  রফিক একই কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে মুঠোফোনে কল করে বাদাঘাটের কামড়াবন্দ গ্রামে তার বাসায় ডেকে নেন। সেখানে বাসার গেটে তালা দিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আপত্তিকর প্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।

এরপর ওই ছাত্রী শিক্ষকের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তিনি বাসার গেটে তালা দিয়ে বাদাঘাট বাজারে চলে যান। পরে ওই ছাত্রী মুঠোফোনে সহপাঠীদের কাছে উদ্ধারের আকুতি জানান। খবর পেয়ে সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মিছিল-সমাবেশ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার ও বুধবার তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শ্বশুর ও বাদাঘাট বাজারের বাসিন্দা ডা. হাফিজ উদ্দিন বলেন, গোটা বিষয়টি একটি ষড়যন্ত্র।”*

বাদাঘাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আক্তার বলেন, কলেজ পরিচালনা কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

ওই ছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার পর তার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে এবং এতে তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উল্টো ওই শিক্ষকের লোকজন ফেসবুক পোষ্টের মাধ্যমে আমার মেয়ের চরিত্রহননের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন , ওই শিক্ষক আমার মেয়ের শিক্ষা জীবন ধ্বয়স করেছেন , কোন মুখ নিয়ে আমার মেয়ে ওই কলেজে পড়তে যাবে !?

তাহিরপুর থানার ওসি মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, “ ভিকটিমের পরিবার আইনগত সহায়তা চাইলে পুলিশি সহায়তা পাবেন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

এদিকে, একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ঘটনাটির ভিডিও ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে অভিযোগকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে বলে জানা গেছে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream