শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla FM

যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা
যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা

জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতি, দুশ্চিন্তা কিংবা রিজিকের সংকটে নিরাশ না হয়ে রবের দিকে ফিরে আসাই মুমিনের কাজ। গুনাহের কারণে মানবজীবনে অনেক সময় নানা বিপদ নেমে আসে। ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কেবল পাপই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকত ও মানসিক প্রশান্তির দুয়ার খুলে দেন।

চারপাশের পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল, তখন নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করুন:

যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে নিরাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেবেন না। বরং ফিরে আসুন আপনার রবের দিকে। বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। হৃদয় থেকে পড়ুন—

اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ’।

অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

গুনাহের কারণে অনেক সময় আমাদের জীবনে বিপদ নেমে আসে এবং রিজিকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ইস্তিগফারের মাধ্যমে যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তখন তিনি শুধু গুনাহই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকতের সব দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের ফজিলত—

পবিত্র কুরআনে হজরত নুহ (আ.) তার হতাশাগ্রস্ত ও বিপদাপন্ন কওমকে ইস্তিগফারের প্রতি আহ্বান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা সেই ঘটনাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন—

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا * يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا * وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا

‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)

ইস্তিগফার যে সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও রিজিকের অভাব দূর করে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট সুসংবাদ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— 

مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا ، وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি বিপদ থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ ১৫১৮, ইবনে মাজাহ ৩৮১৯)

হতাশা শয়তানের হাতিয়ার, আর ইস্তিগফার হলো মুমিনের ঢাল। জীবনের যত বড় সংকটই আসুক না কেন, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিশাল। তাই বিপদ কিংবা অভাবের সময় মানুষের কাছে অভিযোগ না করে আসুন আমাদের রবের দরবারে হাত তুলি। উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ইস্তিগফারকে আমাদের নিত্যসঙ্গী বানিয়ে নিই। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মানসিক প্রশান্তি দিন এবং আমাদের রিজিকে অশেষ বরকত দান করুন। আমিন।

বিষয় : ইসলাম কুরআন হাদিস আমল ইবাদত

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬


যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতি, দুশ্চিন্তা কিংবা রিজিকের সংকটে নিরাশ না হয়ে রবের দিকে ফিরে আসাই মুমিনের কাজ। গুনাহের কারণে মানবজীবনে অনেক সময় নানা বিপদ নেমে আসে। ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কেবল পাপই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকত ও মানসিক প্রশান্তির দুয়ার খুলে দেন।

চারপাশের পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল, তখন নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করুন:

যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে নিরাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেবেন না। বরং ফিরে আসুন আপনার রবের দিকে। বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। হৃদয় থেকে পড়ুন—

اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله

উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ’।

অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’

গুনাহের কারণে অনেক সময় আমাদের জীবনে বিপদ নেমে আসে এবং রিজিকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ইস্তিগফারের মাধ্যমে যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তখন তিনি শুধু গুনাহই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকতের সব দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের ফজিলত—

পবিত্র কুরআনে হজরত নুহ (আ.) তার হতাশাগ্রস্ত ও বিপদাপন্ন কওমকে ইস্তিগফারের প্রতি আহ্বান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা সেই ঘটনাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন—

فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا * يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا * وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا

‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২)

ইস্তিগফার যে সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও রিজিকের অভাব দূর করে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট সুসংবাদ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— 

مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا ، وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ

‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি বিপদ থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ ১৫১৮, ইবনে মাজাহ ৩৮১৯)

হতাশা শয়তানের হাতিয়ার, আর ইস্তিগফার হলো মুমিনের ঢাল। জীবনের যত বড় সংকটই আসুক না কেন, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিশাল। তাই বিপদ কিংবা অভাবের সময় মানুষের কাছে অভিযোগ না করে আসুন আমাদের রবের দরবারে হাত তুলি। উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ইস্তিগফারকে আমাদের নিত্যসঙ্গী বানিয়ে নিই। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মানসিক প্রশান্তি দিন এবং আমাদের রিজিকে অশেষ বরকত দান করুন। আমিন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
২৪/৭ লাইভ অডিও সম্প্রচার