মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সৌদিতে রমজানের দিনক্ষণ নিয়ে আগাম হিসাব

সৌদিতে রমজানের দিনক্ষণ নিয়ে আগাম হিসাব

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি ও সময় গণনা শুরু হয়েছে সৌদি আরবে। আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস সৌদি আরবে ৮ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) শুরু হতে পারে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস অনুযায়ী। তবে রমজান শুরুর বিষয়টি হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৪৪৮ হিজরির রমজান হবে ২০২৭ সালের রমজানটি। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে সৌদি আরবে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম রোজা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, যদি ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নতুন চাঁদ দেখা যায়, তবে সেদিন এশার নামাজের পর থেকে তারাবি শুরু হবে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে প্রথম রোজা। তবে মেঘলা আকাশ বা অন্য কোনো কারণে ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা হবে এবং সে ক্ষেত্রে রোজা শুরু একদিন পিছিয়ে যাবে। সৌদি আরবসহ গোটা মুসলিম বিশ্বে রমজানের আনুষ্ঠানিক সূচনার জন্য চাঁদ দেখা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা কেবল একটি পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয় এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত হবে। উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সাধারণত সৌদি আরবের পরদিন বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে বাংলাদেশে ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ৯ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার)। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলে কী হয়?

স্বপ্নে নিজেকে নতুন বর বা কনের সাজে দেখলে অথবা নিজের বিয়ে হতে দেখলে মনে নানা কৌতূহল ও নানা প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলে এর ব্যাখ্যা কী হতে পারে? বিখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) স্বপ্নের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কে বলেন—মানুষ মূলত দুই ধরনের স্বপ্ন দেখে: হাদিস শরিফে আরও এসেছে, ভালো ও পছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে মহান আল্লাহর প্রশংসা আদায় করা এবং তা কেবল ভালোবাসার মানুষের কাছে বলা উচিত। পক্ষান্তরে, অপছন্দনীয় বা মন্দ স্বপ্ন দেখলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করে ৩ বার ‘আউজু বিল্লাহ...’ পড়া এবং কারও কাছে তা প্রকাশ না করাই উত্তম। (সহিহ বুখারি: ৬৫৮৪, সহিহ মুসলিম: ৫৮৬২) ১. কোনো অবিবাহিত পুরুষ বা নারী যদি প্রতিনিয়ত বিয়ে করার কথা ভাবেন কিংবা বিয়ের প্রস্তুতি ও আকাঙ্ক্ষায় মশগুল থাকেন, তবে অবচেতন মনের চিন্তার প্রতিফলনে স্বপ্নে বিয়ে দেখাটা খুবই স্বাভাবিক। স্বপ্নের তিন প্রকারের এক প্রকার হলো নিজের অন্তরের কল্পনার প্রকাশ। ২. অবিবাহিত কেউ যদি স্বাভাবিক অবস্থায় স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখে, তবে অনেক ফুকাহায়ে কেরামের মতে এর অর্থ দাঁড়ায়—আল্লাহ তাআলা অলৌকিকভাবে তাঁর রিজিক বা আর্থিক অবস্থায় বরকত দেবেন এবং তিনি অতি দ্রুত সম্পদশালী বা সচ্ছল হয়ে উঠতে পারেন। এর আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহর হুকুমে সে শিগগিরই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছে। ৩. কোনো বিবাহিত পুরুষ যদি স্বপ্নে দেখেন যে তিনি আবারও বিয়ে করছেন, তবে এর ব্যাখ্যামূলক অর্থ হলো—তার সামাজিক মর্যাদা ও সার্বিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তার ব্যবসা-বাণিজ্য বা কর্মক্ষেত্রে অগ্রগতি হবে এবং বিশেষ করে নিজ বংশ বা পরিবার থেকে তিনি বিশেষ কল্যাণ ও সাহায্য লাভ করবেন। ৪. কোনো বিবাহিত নারী যদি স্বপ্নে নিজের দ্বিতীয় বিয়ে হতে দেখেন, তবে কিছু ব্যাখ্যাবিদদের মতে তিনি কারও পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্ট বা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। এমন স্বপ্ন দেখলে ভয় না পেয়ে কিছু সদকা করে দেওয়া উত্তম; কারণ সদকা বিপদ-আপদ দূর করে। হাদিস গ্রন্থ উমদাতুল কারি ও ফাতহুল বারি-তে বর্ণিত রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাধারণত ফজরের নামাজ আদায়ের পরপরই সাহাবিদের থেকে স্বপ্নের কথা শুনতেন এবং এর সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরতেন।  তবে ফজর পরবর্তী সময়টিই সর্বোত্তম। কারণ এই সময়ে স্বপ্ন দেখার পর বেশি সময় অতিবাহিত না হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য মনে থাকে এবং ব্যাখ্যায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

স্বপ্নে নিজের বিয়ে দেখলে কী হয়?

যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা

জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতি, দুশ্চিন্তা কিংবা রিজিকের সংকটে নিরাশ না হয়ে রবের দিকে ফিরে আসাই মুমিনের কাজ। গুনাহের কারণে মানবজীবনে অনেক সময় নানা বিপদ নেমে আসে। ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা কেবল পাপই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকত ও মানসিক প্রশান্তির দুয়ার খুলে দেন। চারপাশের পরিস্থিতি যখন প্রতিকূল, তখন নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করুন: যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে নিরাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেবেন না। বরং ফিরে আসুন আপনার রবের দিকে। বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন। হৃদয় থেকে পড়ুন— اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله - اَسْتَغْفِرُ الله উচ্চারণ: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ’। অর্থ: ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ গুনাহের কারণে অনেক সময় আমাদের জীবনে বিপদ নেমে আসে এবং রিজিকের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। ইস্তিগফারের মাধ্যমে যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, তখন তিনি শুধু গুনাহই মাফ করেন না, বরং আসমানি বরকতের সব দরজা আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইস্তিগফারের ফজিলত— পবিত্র কুরআনে হজরত নুহ (আ.) তার হতাশাগ্রস্ত ও বিপদাপন্ন কওমকে ইস্তিগফারের প্রতি আহ্বান করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা সেই ঘটনাটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন— فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا * يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا * وَيُمْدِدْكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَل لَّكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَل لَّكُمْ أَنْهَارًا ‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদীনালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ: আয়াত ১০-১২) ইস্তিগফার যে সব ধরনের দুশ্চিন্তা ও রিজিকের অভাব দূর করে, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্ট সুসংবাদ দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—  مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللَّهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا ، وَمِنْ كُلِّ هَمٍّ فَرَجًا ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করবে (ক্ষমা প্রার্থনাকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেবে), আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি বিপদ থেকে মুক্তির পথ বের করে দেবেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না।’ (আবু দাউদ ১৫১৮, ইবনে মাজাহ ৩৮১৯) হতাশা শয়তানের হাতিয়ার, আর ইস্তিগফার হলো মুমিনের ঢাল। জীবনের যত বড় সংকটই আসুক না কেন, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও অনেক বেশি বিশাল। তাই বিপদ কিংবা অভাবের সময় মানুষের কাছে অভিযোগ না করে আসুন আমাদের রবের দরবারে হাত তুলি। উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে ইস্তিগফারকে আমাদের নিত্যসঙ্গী বানিয়ে নিই। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মানসিক প্রশান্তি দিন এবং আমাদের রিজিকে অশেষ বরকত দান করুন। আমিন।

যে আমল করলে খুলে যাবে আপনার বরকতের দরজা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream