হিজরি বর্ষপঞ্জির ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত পবিত্র ও বরকতময় দিন। এটি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র ধরণীতে আগমন (জন্ম) এবং তাঁর এই ধরা ধাম থেকে বিদায় (ওফাত)-এর স্মারক। মুসলিম বিশ্বে এ দিনটি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে 'ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয় এবং সরকারি ছুটির বিধান বহাল রয়েছে।
আজ থেকে ১৪শ বছরেরও বেশি আগে ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের এ দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) আরবের পুণ্যভূমি মক্কায় কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। সে সময় পুরো আরব সমাজ অজ্ঞতা, অনাচার ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত ছিল, যাকে ইতিহাসের ভাষায় 'আইয়ামে জাহেলিয়াত' বলা হয়।
মহানবী (সা.) তাওহিদের বাণী এবং সুমহান মানবীয় আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান এবং সত্য, ন্যায় ও মানবতার বিজয় নিশ্চিত করেন। ঠিক ৬৩ বছর পর একই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) তিনি নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করেন।
মহানবী (সা.)-এর আগমনে আরবের বুকে শান্তি, সাম্য ও ন্যায়ের রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দাসপ্রথা, বর্ণবাদ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করেন।
আল্লাহ তাআলা সুরা ইউনুসে রহমত ও অনুগ্রহ পাওয়ার পর খুশি প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহানবী (সা.) মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমত (রহমাতুল্লিল আলামিন), তাই তাঁর আগমন উপলক্ষ্যে আনন্দ ও শুকরিয়া প্রকাশ করাই মিলাদুন্নবীর মূল উদ্দেশ্য।
ঈদে মিলাদুন্নবী কেবল আনুষ্ঠানিক পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর আসল শিক্ষা হলো মহানবীর (সা.) প্রতিটি কথা, কর্ম ও আদর্শকে (সুন্নাহ) ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বাস্তবায়ন করা।
বিশ্বজুড়ে এবং বাংলাদেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ ও সালাম পাঠ, মিলাদ মাহফিল এবং জিলুস (র্যালি)-এর মাধ্যমে দিনটি উদ্যাপন করেন। বিভিন্ন মসজিদ ও সামাজিক-ধর্মীয় সংস্থায় এ দিন রসুল (সা.)-এর সীরাত ও সান্নিধ্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং এতিম-দুস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল বার্তা হলো মহানবী (সা.)-এর দেখানো ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমাশীলতা ও ভালোবাসার পথে হেঁটে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
মতামত