মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

শ্রীমঙ্গলে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩ তম দুর্গোৎসব



শ্রীমঙ্গলে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩ তম দুর্গোৎসব
ছবি: প্রতিবেদক

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এ বছর ১৭৩টি পূজামণ্ডপে উদ্‌যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের মহানবমী তিথিতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের দুর্গামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ৪৩তম বর্ষে পদার্পণ করা মণ্ডপটিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান,পূজা-অর্চনা,পুষ্পাঞ্জলি ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করছেন ভক্তরা।

সকাল থেকেই মণ্ডপে ভক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি,কাঁসর-ঘণ্টা ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মাস্টারপাড়া এলাকা। মহানবমীর পূজা উপলক্ষে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি,সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেন।

মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত সন্ধিপূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ ও ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ করে দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। মহানবমীর বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপের পূজা ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।

মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের সভাপতি তিমির বণিক বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদ সার্বজনীনভাবে দুর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছে। প্রতিবছরই ভক্ত,দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পেয়ে আমরা আনন্দিত। এ বছরও সবার অংশগ্রহণে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপনের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে বলে আশা করি।”

পূজা সংসদের যুগ্ম সম্পাদক অনিক ভট্টাচার্য সাজু বলেন,“মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩তম আয়োজন আমাদের জন্য আনন্দ ও গৌরবের। এই দীর্ঘ পথচলায় সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা চাই,ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব আনন্দমুখর হয়ে উঠুক। পূজার মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক।”

শ্রীমঙ্গলের কৃতী সন্তান ও সমাজসেবক, সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের কানাডা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক যোশেফ দাশগুপ্ত যশো বলেন,“দুর্গোৎসব আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের এমন সুন্দর পরিবেশ দেখে ভালো লাগে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় হয়ে উঠুক,এটাই প্রত্যাশা।”

এদিকে সাংবাদিক ও সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক সদস্য সত্যজিৎ দাস তাঁর মা সবিতা দাসের নামে দেবী দুর্গার ভোগারতি দিতে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি বলেন, “মায়ের নামে দেবী দুর্গার চরণে ভোগারতি নিবেদন করে পরিবারের শান্তি,সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেছি। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ,মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি এবং সবার জীবনে সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করেছি। দুর্গোৎসবের মূল শিক্ষা হলো অশুভের বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয়। এই শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনেও প্রতিফলিত হোক।”

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী,মহানবমী দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক। অন্যায় ও অধর্মের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এই তিথির অন্যতম তাৎপর্য। তাই মহানবমীর পূজা-অর্চনায় ভক্তরা দেবীর কাছে শান্তি,সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ কামনা করেন।

মণ্ডপে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,শ্রীমঙ্গল শহরের মাস্টারপাড়ায় মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের আয়োজনে শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গোৎসব ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ৪৩তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬


শ্রীমঙ্গলে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩ তম দুর্গোৎসব

প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এ বছর ১৭৩টি পূজামণ্ডপে উদ্‌যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের মহানবমী তিথিতে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের দুর্গামণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ৪৩তম বর্ষে পদার্পণ করা মণ্ডপটিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান,পূজা-অর্চনা,পুষ্পাঞ্জলি ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আরাধনা করছেন ভক্তরা।

সকাল থেকেই মণ্ডপে ভক্তদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি,কাঁসর-ঘণ্টা ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মাস্টারপাড়া এলাকা। মহানবমীর পূজা উপলক্ষে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করে পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি,সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেন।

মহাষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত সন্ধিপূজায় ১০৮টি মাটির প্রদীপ ও ১০৮টি পদ্মফুল উৎসর্গ করে দেবী চামুণ্ডার আরাধনা করা হয়। মহানবমীর বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপের পূজা ও যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে।

মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের সভাপতি তিমির বণিক বলেন,“দীর্ঘদিন ধরে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদ সার্বজনীনভাবে দুর্গোৎসবের আয়োজন করে আসছে। প্রতিবছরই ভক্ত,দর্শনার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পেয়ে আমরা আনন্দিত। এ বছরও সবার অংশগ্রহণে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপনের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে বলে আশা করি।”

পূজা সংসদের যুগ্ম সম্পাদক অনিক ভট্টাচার্য সাজু বলেন,“মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের ৪৩তম আয়োজন আমাদের জন্য আনন্দ ও গৌরবের। এই দীর্ঘ পথচলায় সবার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা চাই,ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে দুর্গোৎসব আনন্দমুখর হয়ে উঠুক। পূজার মধ্য দিয়ে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক।”

শ্রীমঙ্গলের কৃতী সন্তান ও সমাজসেবক, সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের কানাডা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক যোশেফ দাশগুপ্ত যশো বলেন,“দুর্গোৎসব আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা,সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবের এমন সুন্দর পরিবেশ দেখে ভালো লাগে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় হয়ে উঠুক,এটাই প্রত্যাশা।”

এদিকে সাংবাদিক ও সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক সদস্য সত্যজিৎ দাস তাঁর মা সবিতা দাসের নামে দেবী দুর্গার ভোগারতি দিতে মাস্টারপাড়া পূজা সংসদে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি বলেন, “মায়ের নামে দেবী দুর্গার চরণে ভোগারতি নিবেদন করে পরিবারের শান্তি,সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেছি। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণ,মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি এবং সবার জীবনে সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রার্থনা করেছি। দুর্গোৎসবের মূল শিক্ষা হলো অশুভের বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয়। এই শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনেও প্রতিফলিত হোক।”

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী,মহানবমী দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক। অন্যায় ও অধর্মের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা এই তিথির অন্যতম তাৎপর্য। তাই মহানবমীর পূজা-অর্চনায় ভক্তরা দেবীর কাছে শান্তি,সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ কামনা করেন।

মণ্ডপে উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,শ্রীমঙ্গল শহরের মাস্টারপাড়ায় মাস্টারপাড়া পূজা সংসদের আয়োজনে শ্রীশ্রী শারদীয় দুর্গোৎসব ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ৪৩তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামীকাল বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream