বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

রাণীশংকৈলে পুকুরের মাছ লুট, চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ



রাণীশংকৈলে পুকুরের মাছ লুট, চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
রাণীশংকৈলে পুকুরের মাছ লুট, চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ভাড়া নেওয়া পুকুরের পানি সেঁচে ও বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ লুট, চাঁদা দাবি, মাছচাষিকে মারধর এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামি তোবারক আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বাদী বারঘরিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে সাইদুর রহমান। তিনি ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হাতিয়া পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আট মাস আগে পুকুরটির মালিক ও হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অমল চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে পুকুরটি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন সাইদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা। পুকুরে রুই, কাতলা, পুঁটি, মৃগেল, কালবাউস, গ্লাসকার্প ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ মাছের পোনা অবমুক্ত করে নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলেন তাঁরা।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন তোবারক আলী, মোজাম্মেল, শরিফ, টনিক, করিমুল হক ও শুকুরদিসহ ১৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে পুকুরে তিনটি স্যালো মেশিন বসিয়ে পানি সেঁচে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় মাছচাষি সাইদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর পকেটে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ মেরে পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান বলেন, “এনজিওসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে আমরা পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছিলাম। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমাদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছেন। মাছ লুটের পাশাপাশি আমাকে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও আইনি প্রতিকার চাই।”

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী সোমবার জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামি তোবারক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


রাণীশংকৈলে পুকুরের মাছ লুট, চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ভাড়া নেওয়া পুকুরের পানি সেঁচে ও বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ লুট, চাঁদা দাবি, মাছচাষিকে মারধর এবং নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামি তোবারক আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রোববার দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার বাদী বারঘরিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে সাইদুর রহমান। তিনি ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার উপজেলার হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হাতিয়া পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আট মাস আগে পুকুরটির মালিক ও হোসেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অমল চন্দ্র রায়ের কাছ থেকে পুকুরটি ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন সাইদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা। পুকুরে রুই, কাতলা, পুঁটি, মৃগেল, কালবাউস, গ্লাসকার্প ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১৮ থেকে ২০ মণ মাছের পোনা অবমুক্ত করে নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছিলেন তাঁরা।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন তোবারক আলী, মোজাম্মেল, শরিফ, টনিক, করিমুল হক ও শুকুরদিসহ ১৩ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তি দলবদ্ধ হয়ে পুকুরে তিনটি স্যালো মেশিন বসিয়ে পানি সেঁচে মাছ ধরতে শুরু করেন। এ সময় মাছচাষি সাইদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর পকেটে থাকা নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে মাছ মেরে পুকুরের মাছ লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ সময় স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান বলেন, “এনজিওসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে আমরা পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেছিলাম। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আমাদের সর্বস্বান্ত করে দিয়েছেন। মাছ লুটের পাশাপাশি আমাকে মারধর করে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও আইনি প্রতিকার চাই।”

এ বিষয়ে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী সোমবার জানান, এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামি তোবারক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream