বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

সদরপুরে চার ওষুধের ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা



সদরপুরে চার ওষুধের ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং ড্রাগ লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটি ওষুধের ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সদরপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি, যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি এবং ড্রাগ লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪৮ ধারার সংশ্লিষ্ট উপধারায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে খান ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, ভোলানাথ ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা, লোকনাথ ফার্মেসিকে ৮ হাজার টাকা এবং মেসার্স চৌধুরী মেডিকেল হলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সদরপুর বাজারে প্রায় ৫০টি ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে চারটি ছাড়া বাকি সব ফার্মেসি বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের দাবি, অভিযানের সময় দোকান বন্ধ করে পালানোর সুযোগ না পাওয়ায় ওই চারটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় সেগুলোও বন্ধ করে সরে পড়তেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত তদারকি না থাকায় কিছু ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমনকি কিছু ব্যবসায়ী পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকা থেকে কম দামে নকল ওষুধ এনে বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, ওষুধ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই ড্রাগ লাইসেন্স, ওষুধের মান ও মেয়াদ যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। এতে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিরাপদ ওষুধ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, অভিযান বন্ধ রাখতে সদরপুর ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অর্থ ঊর্ধ্বতন মহলে দিয়ে অভিযান বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে সদরপুর ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান হিরু (রাহাত) বলেন, ‘আজ অনেক ওষুধের দোকানের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। এ কারণে অনেক দোকান বন্ধ পাওয়া গেছে। আপনি নিউজ করে যা পারেন করেন।’

অভিযান শেষে ফরিদপুর জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওষুধের দোকানগুলোতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে ওষুধ বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


সদরপুরে চার ওষুধের ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ফরিদপুরের সদরপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং ড্রাগ লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটি ওষুধের ফার্মেসিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সদরপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর ঔষধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি, যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি এবং ড্রাগ লাইসেন্স না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর ৪৮ ধারার সংশ্লিষ্ট উপধারায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে খান ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা, ভোলানাথ ফার্মেসিকে ৫ হাজার টাকা, লোকনাথ ফার্মেসিকে ৮ হাজার টাকা এবং মেসার্স চৌধুরী মেডিকেল হলকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সদরপুর বাজারে প্রায় ৫০টি ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে চারটি ছাড়া বাকি সব ফার্মেসি বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের দাবি, অভিযানের সময় দোকান বন্ধ করে পালানোর সুযোগ না পাওয়ায় ওই চারটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। অন্যথায় সেগুলোও বন্ধ করে সরে পড়তেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, নিয়মিত তদারকি না থাকায় কিছু ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমনকি কিছু ব্যবসায়ী পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকা থেকে কম দামে নকল ওষুধ এনে বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, ওষুধ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই ড্রাগ লাইসেন্স, ওষুধের মান ও মেয়াদ যাচাইয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। এতে নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ নিরাপদ ওষুধ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, অভিযান বন্ধ রাখতে সদরপুর ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন ওষুধের দোকান থেকে এক হাজার, দুই হাজার, তিন হাজার টাকাসহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অর্থ ঊর্ধ্বতন মহলে দিয়ে অভিযান বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে সদরপুর ঔষধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান হিরু (রাহাত) বলেন, ‘আজ অনেক ওষুধের দোকানের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন। এ কারণে অনেক দোকান বন্ধ পাওয়া গেছে। আপনি নিউজ করে যা পারেন করেন।’

অভিযান শেষে ফরিদপুর জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার আশরাফ বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ওষুধের দোকানগুলোতে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ওষুধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে ওষুধ বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream