বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

মায়ের বিদায়লগ্নে বিষাদের ছায়া: কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন



মায়ের বিদায়লগ্নে বিষাদের ছায়া: কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন

"আসিছে বছর আবার ফিরে..." মায়ের চরণে এই আকুতি আর বুকভাঙ্গা কান্নার রোল নিয়েই শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দশমী পূজার বিহিত পূজা, অঞ্জলি নিবেদন আর বিজয়ার সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠার পর বিষাদের সুর বাজলো রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে। দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় জানাতে কর্ণফুলী নদীর ঘাটে ঘাটে উপচে পড়েছিল ভক্তদের হাজারো মানুষের ঢল। আনন্দ আর বেদনার এক অপূর্ব মিতালীতে পূর্ণ হলো এবারের বিজয়া।

এ বছর কাপ্তাইয়ের ৯টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শুভক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও, প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেই শুরু হয় এই আবেগঘন পর্ব। যা প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মা দুর্গাকে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার এই বিদায়লগ্নে ভক্তদের চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত। তবুও আগামী বছরের প্রত্যাশায় নদীর তীরে ধ্বনিত হয়েছে উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্য।

উৎসবমুখর ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাপ্তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এবং নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের নিরলস তৎপরতায় পুরো বিসর্জন প্রক্রিয়াটি নিরাপদে সম্পন্ন হয়।

​বিসর্জনের এই আনন্দঘন ও আবেগপূর্ণ মুহূর্তকে আরও বর্ণিল করতে কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে কর্ণফুলী নদীতে আয়োজন করা হয় এক জমকালো 'বিজয়া নৌ র‍্যালী-২০২৬'। শত শত ভক্ত ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ে ঢাকঢোল, কাঁসর ও খঞ্জরার তালে তালে নেচে-গেয়ে মেতে ওঠেন অনাবিল আনন্দে। কর্ণফুলীর নদীজল ছুঁয়ে যাওয়া সেই উল্লাস, পন্টুন ও ফেরিঘাট এলাকার চারপাশ মুখরিত করে তোলে এক অন্যরকম উৎসবের আমেজে।

বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণের মাধ্যমে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে আগামী শরতে আবার ফিরে আসার আকুল প্রার্থনা জানান।

এর আগে পূজা ও বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র দাশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন এবং রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য উথোয়াই মং মারমা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই আনন্দ ও বিষাদের ক্ষণে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


মায়ের বিদায়লগ্নে বিষাদের ছায়া: কাপ্তাইয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্ণফুলী নদীতে প্রতিমা বিসর্জন

প্রকাশের তারিখ : ২১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

"আসিছে বছর আবার ফিরে..." মায়ের চরণে এই আকুতি আর বুকভাঙ্গা কান্নার রোল নিয়েই শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। দশমী পূজার বিহিত পূজা, অঞ্জলি নিবেদন আর বিজয়ার সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠার পর বিষাদের সুর বাজলো রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে। দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোক থেকে বিদায় জানাতে কর্ণফুলী নদীর ঘাটে ঘাটে উপচে পড়েছিল ভক্তদের হাজারো মানুষের ঢল। আনন্দ আর বেদনার এক অপূর্ব মিতালীতে পূর্ণ হলো এবারের বিজয়া।

এ বছর কাপ্তাইয়ের ৯টি মন্দিরের প্রতিমা বিসর্জনের জন্য বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শুভক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও, প্রশাসনের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টা থেকেই শুরু হয় এই আবেগঘন পর্ব। যা প্রায় সাড়ে ৫টার দিকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মা দুর্গাকে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার এই বিদায়লগ্নে ভক্তদের চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত। তবুও আগামী বছরের প্রত্যাশায় নদীর তীরে ধ্বনিত হয়েছে উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্য।

উৎসবমুখর ও সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কাপ্তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর ও সুদৃঢ় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস এবং নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের নিরলস তৎপরতায় পুরো বিসর্জন প্রক্রিয়াটি নিরাপদে সম্পন্ন হয়।

​বিসর্জনের এই আনন্দঘন ও আবেগপূর্ণ মুহূর্তকে আরও বর্ণিল করতে কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে কর্ণফুলী নদীতে আয়োজন করা হয় এক জমকালো 'বিজয়া নৌ র‍্যালী-২০২৬'। শত শত ভক্ত ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ে ঢাকঢোল, কাঁসর ও খঞ্জরার তালে তালে নেচে-গেয়ে মেতে ওঠেন অনাবিল আনন্দে। কর্ণফুলীর নদীজল ছুঁয়ে যাওয়া সেই উল্লাস, পন্টুন ও ফেরিঘাট এলাকার চারপাশ মুখরিত করে তোলে এক অন্যরকম উৎসবের আমেজে।

বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণের মাধ্যমে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে আগামী শরতে আবার ফিরে আসার আকুল প্রার্থনা জানান।

এর আগে পূজা ও বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কাপ্তাই উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র দাশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন এবং রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য উথোয়াই মং মারমা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং উপজেলা পূজা উদযাপন সমন্বয় কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে এই আনন্দ ও বিষাদের ক্ষণে একাত্মতা প্রকাশ করেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream