সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর তেল শোধনাগারে পৃথক জোড়া হামলায় ৪ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) এবং ইয়েমেনের সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ২ জন নিহত ও ৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ১ জন সৌদি নাগরিক, ২ জন ভারতীয়, ২ জন ইয়েমেনি, ২ জন বাংলাদেশি এবং ১ জন নেপালি নাগরিক রয়েছেন।
একই সময়ে অপর এক পৃথক হামলায় আরও ২ জন নিহত ও ২ জন আহত হন বলে জানা গেছে।
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি সমর্থিত সরকারের চলমান সংঘাতের জেরে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি অক্টোবর মাসের শুরু থেকে বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর অবকাঠামোয় হুথি হামলায় অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয় যে, বিমানবন্দর হামলায় দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাঁরা বর্তমানে দাম্মামের ‘সৌদি-জার্মান হাসপাতালে’ চিকিৎসাধীন।
আহত দুই প্রবাসীর পরিচয়:
১. সজল চন্দ্র দাস: পিতা—অনুকূল চন্দ্র দাস, সাং—রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন, থানা—বাঙ্গরাবাজার, জেলা—কুমিল্লা।
২. মোহাম্মদ আবদুর রহিম: পিতা—সিরাজুল হক, সাং—দিনমনিরহাট, থানা—সদর, জেলা—নোয়াখালী।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় সৃষ্টি হওয়া ধোঁয়া ও অতিরিক্ত গরমে তাঁরা সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। তবে তাঁদের শরীরে গুরুতর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা তদারকি করেছেন এবং আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন। চিকিৎসা শেষে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
মতামত