রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে শিক্ষককে, পরে বাকি ৩ জনকে হত্যা: পুলিশ


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে শিক্ষককে, পরে বাকি ৩ জনকে হত্যা: পুলিশ

বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে প্রথমে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও হত্যা করে অভিযুক্তরা—এমনটাই জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে দুই যুবক মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি দেখে বাধা দেওয়ায় তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে আসার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়।

পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও গলায় কাপড় ও রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর নিচতলায় গিয়ে গণপতি দম্পতির ছেলে, রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়মকেও কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তীর মৃত্যু হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে। এমনকি সকালে তারা সেখানে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খায়। পরে সেখানে ইয়াবা সেবনও করে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তী বা তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রীতিলতার বোন পূজা রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে পাশের বাড়ি দিয়ে ভেতরে ঢুকে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

পরে বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং তাদের দুই সন্তান প্রার্থী ও প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রার্থী চক্রবর্তী মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন এবং প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় প্রথমে শিক্ষককে, পরে বাকি ৩ জনকে হত্যা: পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে প্রথমে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকেও হত্যা করে অভিযুক্তরা—এমনটাই জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এসব তথ্য জানান। এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে দুই যুবক মাদক সেবন করছিল। বিষয়টি দেখে বাধা দেওয়ায় তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ওপরে আসার চেষ্টা করলে সিঁড়িতেই তাকে হত্যা করা হয়।

পরে মায়ের চিৎকার শুনে মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এগিয়ে এলে তাকেও গলায় কাপড় ও রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর নিচতলায় গিয়ে গণপতি দম্পতির ছেলে, রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়মকেও কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

পুলিশ কমিশনার জানান, আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রার্থী চক্রবর্তীর মৃত্যু হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। হত্যাকাণ্ডের পরও অভিযুক্তরা ওই বাড়িতে অবস্থান করে। এমনকি সকালে তারা সেখানে গোসল করে এবং ডাইনিং টেবিলে বসে খেজুর খায়। পরে সেখানে ইয়াবা সেবনও করে। ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, গণপতি চক্রবর্তী বা তার পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে প্রীতিলতার বোন পূজা রাতে ওই বাড়িতে গিয়ে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে পাশের বাড়ি দিয়ে ভেতরে ঢুকে ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন।

পরে বাড়ির বিভিন্ন স্থান থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং তাদের দুই সন্তান প্রার্থী ও প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রার্থী চক্রবর্তী মাস্টার্স সম্পন্ন করেছিলেন এবং প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream