রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

মধ্যবর্তী ভোটে হার নিয়ে ট্রাম্পের বড় সতর্কবার্তা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

মধ্যবর্তী ভোটে হার নিয়ে ট্রাম্পের বড় সতর্কবার্তা

৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে অভিশংসিত করা হবে। আমাকে তারা অভিশংসিত করবে। কেন করবে, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।’ ট্রাম্প দাবি করেছেন, রিপাবলিকানরা আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে তাকে অভিশংসিত করা হবে।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় সাউথ ক্যারোলাইনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে তারা "সবকিছু হারাবে"।

ট্রাম্প নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে শুক্রবার অস্বাভাবিকভাবে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। কারণ, তিনি আইন পাস করাতে পারবেন না এবং নিজের অনুগত কংগ্রেসের ওপরও নির্ভর করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি, যাকে দুবার অভিশংসিত করা হয়েছে। তবে দুইবারের কোনোটিতেই তাকে পদ থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। অনেক ডেমোক্র্যাট প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে অন্তত তিনজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাতে তেমন কোনো ফল হয়নি।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা হবে কি না—এ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। দলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এর ফলে দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

অতীতে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পকে বেশ নির্লিপ্ত মনে হয়েছে। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে—এমন পূর্বাভাসই ব্যাপকভাবে দেওয়া হচ্ছে। কিছু জরিপকারী আবার সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটরা ফিরে পেতে পারে বলে সামান্য ব্যবধানে তাদের এগিয়ে রাখছেন।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রিপাবলিকানরা ভোট দিতে না গেলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অর্থনীতি ধ্বংস করবে এবং তার সরকারের অর্জনগুলো বাতিল করে দেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, 'আমরা যদি হেরে যাই, তাহলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, আপনারা করছাড় হারাবেন, আমরা যা কিছু করেছি, সবকিছু হারাবেন। আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় করছাড় দিয়েছি। একবার ভাবুন—বকশিশের ওপর কোনো কর নেই, আমাদের প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ওপর কোনো কর নেই, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরির ওপর কোনো কর নেই। এর সবকিছুই চলে যাবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আপনাদের কর বেড়ে যাবে। আপনাদের আয় কমে যাবে। আপনাদের কর্মসংস্থান নষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। আপনাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্যত্র চলে যাবে।'

ট্রাম্প দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ডারলাইন গ্রাহামের হয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে তার বোন ডারলাইন গ্রাহামকে ওই সিনেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

ডারলাইন গ্রাহাম এখন পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন। তবে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি সরাসরি জয় পাননি। ফলে মঙ্গলবার তাকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়তে হবে।

২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে তার পারফরম্যান্স ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। তাইওয়ান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন যে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি 'এতটা অবহিত নন'।

ট্রাম্পের নিজের দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে গ্রাহামের সাফল্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একসময় রক্ষণশীল রাজনীতিতে ট্রাম্পের সমর্থনকে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু মঙ্গলবার রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে তার মনোনীত তিন প্রার্থী হেরে গেছেন।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প তার 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করেন। তিনি তাদের বলেন, এমনভাবে যেন তারা 'ধরে নেন' যে ট্রাম্প নিজেই ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে আছেন।

ট্রাম্প বলেন, 'তারা বলে, "ট্রাম্প যখন ব্যালটে থাকেন, তখন দারুণ করেন। কিন্তু তিনি যখন ব্যালটে থাকেন না, তখন তার লোকজন ভোট দিতে আসে না।" তাই আমি আসলে আপনাদের যা করতে বলছি, তা হলো—দয়া করে ধরে নিন যে আমি ব্যালটে আছি। শুধু আসুন এবং ভোট দিন।'

বিষয় : ডোনাল্ড ট্রাম্প

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


মধ্যবর্তী ভোটে হার নিয়ে ট্রাম্পের বড় সতর্কবার্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাকে অভিশংসিত করা হবে। আমাকে তারা অভিশংসিত করবে। কেন করবে, সে সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নেই।’ ট্রাম্প দাবি করেছেন, রিপাবলিকানরা আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলে তাকে অভিশংসিত করা হবে।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় সাউথ ক্যারোলাইনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সমর্থকদের সতর্ক করে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা তার মেয়াদের শেষ দুই বছরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিলে তারা "সবকিছু হারাবে"।

ট্রাম্প নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে শুক্রবার অস্বাভাবিকভাবে কঠোর ভাষায় কথা বলেন। কারণ, তিনি আইন পাস করাতে পারবেন না এবং নিজের অনুগত কংগ্রেসের ওপরও নির্ভর করতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি, যাকে দুবার অভিশংসিত করা হয়েছে। তবে দুইবারের কোনোটিতেই তাকে পদ থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। অনেক ডেমোক্র্যাট প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দ্বিতীয় মেয়াদে অন্তত তিনজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের প্রস্তাবও উত্থাপন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাতে তেমন কোনো ফল হয়নি।

তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করা হবে কি না—এ নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে। দলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে ভোটারদের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এর ফলে দ্রব্যমূল্য কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়ালে পড়ে যেতে পারে।

অতীতে মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে ট্রাম্পকে বেশ নির্লিপ্ত মনে হয়েছে। এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে—এমন পূর্বাভাসই ব্যাপকভাবে দেওয়া হচ্ছে। কিছু জরিপকারী আবার সিনেটের নিয়ন্ত্রণও ডেমোক্র্যাটরা ফিরে পেতে পারে বলে সামান্য ব্যবধানে তাদের এগিয়ে রাখছেন।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রিপাবলিকানরা ভোট দিতে না গেলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা অর্থনীতি ধ্বংস করবে এবং তার সরকারের অর্জনগুলো বাতিল করে দেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, 'আমরা যদি হেরে যাই, তাহলে আপনারা সীমান্ত হারাবেন, আপনারা করছাড় হারাবেন, আমরা যা কিছু করেছি, সবকিছু হারাবেন। আমরা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় করছাড় দিয়েছি। একবার ভাবুন—বকশিশের ওপর কোনো কর নেই, আমাদের প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার ওপর কোনো কর নেই, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরির ওপর কোনো কর নেই। এর সবকিছুই চলে যাবে।'

তিনি আরও বলেন, 'আপনাদের কর বেড়ে যাবে। আপনাদের আয় কমে যাবে। আপনাদের কর্মসংস্থান নষ্ট হবে। শেষ পর্যন্ত সেগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। আপনাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অন্যত্র চলে যাবে।'

ট্রাম্প দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ডারলাইন গ্রাহামের হয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে তার বোন ডারলাইন গ্রাহামকে ওই সিনেটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

ডারলাইন গ্রাহাম এখন পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়ছেন। তবে দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে তিনি সরাসরি জয় পাননি। ফলে মঙ্গলবার তাকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়তে হবে।

২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বিতর্কে তার পারফরম্যান্স ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। তাইওয়ান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন যে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি 'এতটা অবহিত নন'।

ট্রাম্পের নিজের দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে গ্রাহামের সাফল্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একসময় রক্ষণশীল রাজনীতিতে ট্রাম্পের সমর্থনকে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু মঙ্গলবার রিপাবলিকান দলের প্রাথমিক নির্বাচনে তার মনোনীত তিন প্রার্থী হেরে গেছেন।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প তার 'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' সমর্থকদের ভোট দিতে উৎসাহিত করেন। তিনি তাদের বলেন, এমনভাবে যেন তারা 'ধরে নেন' যে ট্রাম্প নিজেই ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে আছেন।

ট্রাম্প বলেন, 'তারা বলে, "ট্রাম্প যখন ব্যালটে থাকেন, তখন দারুণ করেন। কিন্তু তিনি যখন ব্যালটে থাকেন না, তখন তার লোকজন ভোট দিতে আসে না।" তাই আমি আসলে আপনাদের যা করতে বলছি, তা হলো—দয়া করে ধরে নিন যে আমি ব্যালটে আছি। শুধু আসুন এবং ভোট দিন।'


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream