বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত। ৩৯ বছর বয়সে এসে তিনি করেছেন আট গোল, খেলেছেন একের পর এক নজরকাড়া ম্যাচ। বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে গুরুতর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে বিশ্বকাপ ছেড়ে বাবার কাছে দেশে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন মেসি। দিয়ারিও ওলের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছেন সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো। বিশ্বকাপ তাই মেসির জন্য ছিল একইসঙ্গে সাফল্য, আনন্দ ও উৎকণ্ঠার সময়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তে তার চোখের পানি যেন মাঠের বাইরের লড়াইটাকেও সামনে নিয়ে এসেছিল।
আগের প্রতিটি বড় মঞ্চে বাবা হোর্হে মেসির উপস্থিতি ছিল একেবারে নিয়মিত বিষয়। এবার হোর্হে তার পাশে থাকতে পারেননি। মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা, সন্তানরা এবং শ্বশুর গ্যালারিতে ছিলেন। কিন্তু ছিলেন না মা সেলিয়া কিংবা বাবা হোর্হে।
কোচ স্কালোনির অধীনে দলের ক্যাম্পে থেকেও মেসি এই কঠিন সময় সামলে নিয়েছিলেন। নিজের স্বভাব অনুযায়ী তিনি এই কষ্ট নিজের মধ্যেই রেখেছিলেন। তবে তার সতীর্থ এবং কোচিং স্টাফরা প্রতি মুহূর্তে খোঁজ রাখতেন তার বাবার শারীরিক অবস্থার।
কিছু সময় এমনও এসেছিল, যখন তাকে ব্যক্তিগত বিমানে রোজারিওতে গিয়ে বাবার সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার দলে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের সঙ্গেই থেকে যান।
এবারের বিশ্বকাপে মেসি অসাধারণ কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন। একই সঙ্গে বাবা হোর্হের অসুস্থতার সঙ্গে তাকে লড়তে হয়েছে। রোজারিওতে হোর্হে তখন প্যালিয়েটিভ চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। এত আবেগ আর দুশ্চিন্তার মধ্যেই মেসি পার করেছেন তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। মাঠে দিয়েছেন সবকিছু, আর মনে মনে ভেবেছেন বাবার স্বাস্থ্যের কথা। এতসব লড়াই যেন তার ২০২৬ বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে বহুগুণে।
মতামত