রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

খুব শিগগিরই সুপেয় পানির জন্যও যুদ্ধে নামতে হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

খুব শিগগিরই সুপেয় পানির জন্যও যুদ্ধে নামতে হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশে চারদিকে পানি থাকলেও শিল্পবর্জ্য ও দূষণের কারণে এর বড় অংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ১১টি শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য পরিবেশ ও পানির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত ‘বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উদযাপন ও মার্ক এঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড গিভিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে সুপেয় পানির সংকট ক্রমেই বাড়ছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই শুধু গভীর নলকূপ স্থাপন করে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

সুপেয় পানির ভবিষ্যৎ সংকটের কথা তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, তেলের জন্য যেমন বিশ্বে যুদ্ধ চলছে, ভবিষ্যতে পানির জন্যও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন অর্থ থাকলেও পানি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, নির্বাচনি এলাকায় গেলে মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই গভীর নলকূপ স্থাপনের আবেদন আসে। কিন্তু ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের বিপরীতে বছরে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

দূষিত পানির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এমন পানিতে গোসল করাও নিরাপদ নয়। কোথাও কোথাও দূষিত পানিতে মাছ চাষ হলেও সেসব মাছ মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় পানিতে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

পানির সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি খাল খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন বা নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে গণতান্ত্রিক করা যথেষ্ট নয়; এখন মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্যও আন্দোলন প্রয়োজন। বর্তমান প্রজন্মকে আগামী প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অধিকার ও দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুব শিগগিরই সুপেয় পানির জন্যও যুদ্ধে নামতে হতে পারে: পানিসম্পদমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশে চারদিকে পানি থাকলেও শিল্পবর্জ্য ও দূষণের কারণে এর বড় অংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ১১টি শিল্পাঞ্চলের বর্জ্য পরিবেশ ও পানির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত ‘বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উদযাপন ও মার্ক এঞ্জেলো রিভার অ্যাওয়ার্ড গিভিং’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে সুপেয় পানির সংকট ক্রমেই বাড়ছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। তাই শুধু গভীর নলকূপ স্থাপন করে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

সুপেয় পানির ভবিষ্যৎ সংকটের কথা তুলে ধরে শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, তেলের জন্য যেমন বিশ্বে যুদ্ধ চলছে, ভবিষ্যতে পানির জন্যও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন অর্থ থাকলেও পানি পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।

তিনি জানান, নির্বাচনি এলাকায় গেলে মানুষের কাছ থেকে প্রায়ই গভীর নলকূপ স্থাপনের আবেদন আসে। কিন্তু ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মানুষের বিপরীতে বছরে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়।

দূষিত পানির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এমন পানিতে গোসল করাও নিরাপদ নয়। কোথাও কোথাও দূষিত পানিতে মাছ চাষ হলেও সেসব মাছ মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় পানিতে বিষাক্ত ধাতুর উপস্থিতির বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

পানির সংকট মোকাবিলায় সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু সরকারের উদ্যোগে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি খাল খননসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন বা নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশকে গণতান্ত্রিক করা যথেষ্ট নয়; এখন মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্যও আন্দোলন প্রয়োজন। বর্তমান প্রজন্মকে আগামী প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে বাংলাদেশের যে সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অধিকার ও দাবিগুলো স্পষ্টভাবে উপস্থাপনের আহ্বান জানান পানিসম্পদমন্ত্রী।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream