সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

২০২৬ সালে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোন দূষণের শিকার


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

২০২৬ সালে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোন দূষণের শিকার
প্রতীকি ছবি

 ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভূপৃষ্ঠের ক্ষতিকর মাত্রার ওজোন দূষণের মধ্যে বসবাস করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'কোপার্নিকাস অ্যাটমস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস' (CAMS)-এর এক নতুন বিশ্লেষণে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

তুরস্কের একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং মানবসৃষ্ট বায়ুদূষণ—এ দুটির যৌথ প্রভাবেই বিশ্বের এক বিশাল অঞ্চলে ওজোন দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ 'ভালো' মানের ওজোনযুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এশিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ 'অত্যন্ত খারাপ' মাত্রার ওজোনের সংস্পর্শে এসেছেন। 'খারাপ', 'অত্যন্ত খারাপ' ও 'অত্যন্ত দুর্বল'—এই তিন ক্যাটাগরি হিসাব করলে এশিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হার দাঁড়ায় ৯০ শতাংশে।

ইউরোপের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে জুন থেকে আগস্ট মাসের প্রখর দাবদাহ ওজোন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় দাবানল থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ অতিরিক্ত ওজোন দূষণের শিকার হয়েছেন।

ওশেনিয়া অঞ্চলের শতভাগ মানুষ 'ভালো' বা 'মোটামুটি ভালো' মাত্রার বাতাসে ছিলেন। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকায় ৮১ শতাংশ এবং আফ্রিকায় ৫৬ শতাংশ মানুষ তুলনামূলক ভালো বায়ুমণ্ডলে বসবাস করেছেন।

সিএএমএস-এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে বায়ুদূষণ কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে থাকে না। দাবানলের ধোঁয়া, মরুভূমির বালুঝড় ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ জাতীয় সীমানা ও মহাসাগর পেরিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের এলাকাকেও মারাত্মকভাবে দূষিত করে।

বিজ্ঞানীরা এই চক্রকে ‘ওজোন-জলবায়ু শাস্তি’ (Ozone-climate penalty) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওজোন নিজেই একটি ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস, আর বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত ওজোন তৈরির অনুকূল পরিবেশ আরও সহজ হয়ে ওঠে।

কোপার্নিকাস অ্যাটমসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (CAMS)-এর পরিচালক লরেন্স রুইল জানান, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় কেবল স্থানীয় ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; বরং জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


২০২৬ সালে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোন দূষণের শিকার

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

 ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভূপৃষ্ঠের ক্ষতিকর মাত্রার ওজোন দূষণের মধ্যে বসবাস করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা 'কোপার্নিকাস অ্যাটমস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস' (CAMS)-এর এক নতুন বিশ্লেষণে এ উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।

তুরস্কের একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং মানবসৃষ্ট বায়ুদূষণ—এ দুটির যৌথ প্রভাবেই বিশ্বের এক বিশাল অঞ্চলে ওজোন দূষণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ 'ভালো' মানের ওজোনযুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এশিয়ার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ 'অত্যন্ত খারাপ' মাত্রার ওজোনের সংস্পর্শে এসেছেন। 'খারাপ', 'অত্যন্ত খারাপ' ও 'অত্যন্ত দুর্বল'—এই তিন ক্যাটাগরি হিসাব করলে এশিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হার দাঁড়ায় ৯০ শতাংশে।

ইউরোপের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ ক্ষতিকর ওজোনের মুখোমুখি হয়েছেন, যেখানে জুন থেকে আগস্ট মাসের প্রখর দাবদাহ ওজোন তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় দাবানল থেকে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষ অতিরিক্ত ওজোন দূষণের শিকার হয়েছেন।

ওশেনিয়া অঞ্চলের শতভাগ মানুষ 'ভালো' বা 'মোটামুটি ভালো' মাত্রার বাতাসে ছিলেন। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকায় ৮১ শতাংশ এবং আফ্রিকায় ৫৬ শতাংশ মানুষ তুলনামূলক ভালো বায়ুমণ্ডলে বসবাস করেছেন।

সিএএমএস-এর প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে বায়ুদূষণ কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে থাকে না। দাবানলের ধোঁয়া, মরুভূমির বালুঝড় ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ জাতীয় সীমানা ও মহাসাগর পেরিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের এলাকাকেও মারাত্মকভাবে দূষিত করে।

বিজ্ঞানীরা এই চক্রকে ‘ওজোন-জলবায়ু শাস্তি’ (Ozone-climate penalty) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওজোন নিজেই একটি ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস, আর বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত ওজোন তৈরির অনুকূল পরিবেশ আরও সহজ হয়ে ওঠে।

কোপার্নিকাস অ্যাটমসফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস (CAMS)-এর পরিচালক লরেন্স রুইল জানান, বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবিলায় কেবল স্থানীয় ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; বরং জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream