মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বাংলাদেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির কাজ কতদূর?


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বাংলাদেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির কাজ কতদূর?
প্রতীকি ছবি

রাসেলস ভাইপারের (চন্দ্রবোড়া) প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—অ্যান্টিবডি উৎপাদনের সফল কাজ শেষে দুই বছর আগে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দেশের একমাত্র ‘ভেনম রিসার্চ সেন্টার’। তবে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত এই অনন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গেছে।

২০২৩ সালের সরকারি তথ্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী

দেশে প্রতি বছর আনুমানিক সাড়ে ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। সর্পদংশনে প্রতি বছর সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

আক্রান্তদের ৮৬ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের অপচিকিৎসার শিকার হন এবং গ্রামীণ এলাকায় সাপের কামড়ের ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে থাকে।

ওঝার ওপর নির্ভরতা বা অসচেতনতার কারণে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান মাত্র ৩ শতাংশ রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১৭ সালে সাপের কামড়কে 'চরম উপেক্ষিত ট্রপিক্যাল রোগ' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, বাংলাদেশ যার অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভারত থেকে আমদানিকৃত অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় প্রতিষেধক দেশটির স্থানীয় সাপের বিষের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বাংলাদেশের স্থানীয় সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করতে শতভাগ কার্যকর বা বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি নিখুঁত নয়। স্থানীয় সাপের বিষ ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি অ্যান্টিভেনম অনেক বেশি কার্যকরী ও সুনির্দিষ্ট হবে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের পর থেকে অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি অর্থ অনুমোদন বন্ধ রয়েছে।

ভেনম রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য গবেষক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক অনিরূদ্ধ ঘোষ জানান, রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ সফলভাবে শেষ করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হলেও অর্থায়নের অভাবে নিউরোটক্সিক সাপের (যেমন- গোখরা ও ক্রেইট বা কালকেউটে) অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এমনকি অ্যান্টিবডি তৈরির প্রাথমিক ধাপ ‘ভেনম ক্যারেক্টারাইজেশন’ করার মতো বাজেটও বর্তমানে সেন্টারের কাছে নেই।

প্রকল্পটি বর্তমানে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়ন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. হালিমুর রশীদ জানিয়েছেন, অপারেশনাল প্ল্যানের আওতাধীন প্রকল্পগুলোকে রেভিনিউ (পরিচালন) খাত অথবা ডিপিপির আওতায় নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া চলছে। এটি কোন খাতের অধীনে নেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাপেক্ষেই আবার অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে।

সুত্রঃ বিবিসি নিউজ 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির কাজ কতদূর?

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাসেলস ভাইপারের (চন্দ্রবোড়া) প্রতিষেধক বা অ্যান্টিভেনম তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—অ্যান্টিবডি উৎপাদনের সফল কাজ শেষে দুই বছর আগে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে দেশের একমাত্র ‘ভেনম রিসার্চ সেন্টার’। তবে সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত এই অনন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গেছে।

২০২৩ সালের সরকারি তথ্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণা অনুযায়ী

দেশে প্রতি বছর আনুমানিক সাড়ে ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। সর্পদংশনে প্রতি বছর সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।

আক্রান্তদের ৮৬ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের অপচিকিৎসার শিকার হন এবং গ্রামীণ এলাকায় সাপের কামড়ের ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটে থাকে।

ওঝার ওপর নির্ভরতা বা অসচেতনতার কারণে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান মাত্র ৩ শতাংশ রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০১৭ সালে সাপের কামড়কে 'চরম উপেক্ষিত ট্রপিক্যাল রোগ' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এতে মৃত্যুর সংখ্যা ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, বাংলাদেশ যার অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভারত থেকে আমদানিকৃত অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় প্রতিষেধক দেশটির স্থানীয় সাপের বিষের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা বাংলাদেশের স্থানীয় সাপের বিষ নিষ্ক্রিয় করতে শতভাগ কার্যকর বা বৈজ্ঞানিকভাবে পুরোপুরি নিখুঁত নয়। স্থানীয় সাপের বিষ ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি অ্যান্টিভেনম অনেক বেশি কার্যকরী ও সুনির্দিষ্ট হবে।

২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল প্ল্যানের (ওপি) অধীনে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৩০ জুনের পর থেকে অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি অর্থ অনুমোদন বন্ধ রয়েছে।

ভেনম রিসার্চ সেন্টারের মুখ্য গবেষক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক অনিরূদ্ধ ঘোষ জানান, রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ সফলভাবে শেষ করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া হলেও অর্থায়নের অভাবে নিউরোটক্সিক সাপের (যেমন- গোখরা ও ক্রেইট বা কালকেউটে) অ্যান্টিবডি তৈরির কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এমনকি অ্যান্টিবডি তৈরির প্রাথমিক ধাপ ‘ভেনম ক্যারেক্টারাইজেশন’ করার মতো বাজেটও বর্তমানে সেন্টারের কাছে নেই।

প্রকল্পটি বর্তমানে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) প্রণয়ন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক মো. হালিমুর রশীদ জানিয়েছেন, অপারেশনাল প্ল্যানের আওতাধীন প্রকল্পগুলোকে রেভিনিউ (পরিচালন) খাত অথবা ডিপিপির আওতায় নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়া চলছে। এটি কোন খাতের অধীনে নেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সাপেক্ষেই আবার অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে।

সুত্রঃ বিবিসি নিউজ 



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream