ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এবার রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেছেন ইউরোপের দুই নেতা। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। এ সময় তারা ইউক্রেনে হামলা বন্ধ করে স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত শান্তিচুক্তি করার আহ্বান জানান।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। তবে এবার রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ ইউরোপের নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ হিসেবে এই যুদ্ধ তাদের পাশাপাশি পুরো ইউরোপের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। তাই যুদ্ধ বন্ধে সরাসরি আলোচনা জরুরি।
অন্যদিকে, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, তার প্রভাব বহু প্রজন্ম ধরে থেকে যেতে পারে।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, ফোনালাপে পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা ও যৌক্তিক স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি করা সম্ভব।
পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পর ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের দুই নেতা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও আলোচনা করেন। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার উচিত জ্বালানি ও অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করা এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত না করা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে অসলোতে ইউরোপীয় প্রতিনিধি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতা হিসেবেই এই ফোনালাপটি করা হয়। আগামী মাসে আবুধাবিতে নতুন দফার শান্তি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে রাশিয়ার প্রতিনিধিদলও সরাসরি উপস্থিত থাকতে পারে। ব্রাসেলসও এবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে রুশ কর্মকর্তাদের সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসার সংকেত দিয়েছে।
তবে এই কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে কিছুটা মতভেদও দেখা দিয়েছে। ফিনল্যান্ড ও নরওয়ে জানিয়েছে তারা নিজ নিজ দেশের পক্ষ থেকেই এই আলোচনা চালিয়েছে, ইউরোপের একাংশ হিসেবে নয়। অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, একা একা এই ধরণের উদ্যোগ না নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ থাকা বেশি প্রয়োজন ছিল।
সূত্র: ইউরোনিউজ
মতামত