বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রুশ জ্বালানি নিয়ে আবারও অবস্থান বদল, নতুন ঘোষণা ট্রাম্পের

রুশ জ্বালানি নিয়ে আবারও অবস্থান বদল, নতুন ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি খাত নিয়ে আবারও অবস্থান বদলেছেন। তিনি বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়ানো ও দেশে দাম নিয়ন্ত্রণের চাপে রুশ জ্বালানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কয়েক দিন পরই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবিলম্বে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার ট্রাম্প জানান, দুই দেশ একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এ ধরনের সমঝোতার বিষয়ে তিনি আগে থেকে জানতেন না। ফলে যুদ্ধবিরতির শর্ত ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবারও জেলেনস্কি দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় তেল ও ডিজেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও। আগামী ৩ নভেম্বর দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচন। তার আগে জ্বালানির দাম কমাতে না পারলে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। কী এই ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিলম্বে একে অপরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে সমঝোতার বিস্তারিত শর্ত জানাননি তিনি। সোমবার ওয়ারশতে এক নিরাপত্তা সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কী শর্তে সমঝোতা হয়েছে, তা জানতে তারা অপেক্ষা করছেন। রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা, এমনকি খারকিভের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জেলেনস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিয়ে রাশিয়াকে সমঝোতা মানতে বাধ্য করলে এটি যুদ্ধ অবসানের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়নের জ্যেষ্ঠ গবেষক অ্যালেক্সি মুরাভিয়েভ সমঝোতার আওতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, চুক্তিটি যদি শুধু তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা অসম পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কারণ, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের তেল শোধনাগারের সক্ষমতা আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামের চাপ ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ৯১ ডলারে নেমে আসে। তবে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর সঙ্গে ইয়েমেনের হুতিদের হামলা এবং লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেব প্রণালিকে ঘিরে সংঘাতও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলায় ডিজেল সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। পরিবহন, কৃষি ও পণ্য উৎপাদনে ডিজেল অপরিহার্য হওয়ায় এর দাম বাড়লে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে জি-৭ জোট জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসান্না স্ট্রিটার বলেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা সরবরাহ কমিয়ে পরিবহন, কৃষি ও ব্যবসার ব্যয় বাড়াচ্ছে। প্রকৃত যুদ্ধবিরতি সরবরাহ সুরক্ষিত করতে এবং দাম কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে জেলেনস্কির অজ্ঞাতসারে ঘোষিত সমঝোতাকে এখনই বড় কূটনৈতিক সাফল্য বলার সুযোগ নেই। নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়: কেন বদলাচ্ছেন ট্রাম্প ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসনের পর রুশ জ্বালানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি কয়েকবার বদলেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ওই বছরের মার্চে রুশ জ্বালানি আমদানি নিষিদ্ধ করে এবং জি-৭-এর সঙ্গে রুশ তেলের ওপর মূল্যসীমা আরোপে সমর্থন দেয়। লক্ষ্য ছিল, বিশ্ববাজারে সরবরাহ বজায় রেখেও মস্কোর আয় কমানো। ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প ২০২৫ সালের আগস্টে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেন। পরে রুশ জ্বালানি খাতের দুই বড় প্রতিষ্ঠান রসনেফট ও লুকঅয়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কিন্তু ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের পর চলতি বছরের মার্চে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া হয়, যাতে ভারত সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কিনতে পারে। পরে ট্যাংকারে তোলা নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত রুশ তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য কেনার সুযোগও বাড়ানো হয়। সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান। সর্বশেষ ৯ অক্টোবর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া অবিলম্বে তিন লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে; পরে আরও ১৫ লাখ টন দেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা এবং দেশে জ্বালানির দাম কমানো- দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জনের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি ৬ দশমিক ৫২ ডলারে পৌঁছায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানো তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লক্ষ্য। মুরাভিয়েভের ধারণা, রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল সরবরাহের আলোচনা ট্রাম্পের ঘোষণার অনেক আগেই এগিয়ে থাকতে পারে। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমানোর উদ্যোগ তুলে ধরে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকতে পারে। পুতিনেরও স্বার্থ রয়েছে রাশিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা শুধু অর্থনৈতিক লাভের বিষয় নয়। ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন এবং যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করেছেন। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা বজায় রেখে মস্কো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। ব্যবসা ও বিনিয়োগে প্রভাব রুশ ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে পরিবহন প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও উৎপাদনকারীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সরবরাহসংকট অব্যাহত থাকলে এর প্রভাব সীমিত হবে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞার নীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন জ্বালানি সংগ্রহ, সরবরাহব্যবস্থার পরিকল্পনা এবং আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করছে দুটি বিষয়ের ওপর- রুশ জ্বালানির সরবরাহ বাড়িয়ে দাম কতটা কমানো যায় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন সত্যিই জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করে কি না। সমঝোতা বাস্তবায়িত না হলে তার ঘোষণার কূটনৈতিক সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে। সূত্র: আল-জাজিরা

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই দূতের সাথে বৈঠকের পর বলেছেন, রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ সামনে শীতের সময়েও গড়াতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। ওই বৈঠক শেষে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইউক্রেনে সফর করলেন। এর আগের দিন তারা মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে বৈঠক করেছিলেন। উইটকফ বলেছেন, কিয়েভে অনুষ্ঠিত আলোচনাকে তিনি ‘আশাব্যঞ্জক’ মনে করছেন এবং বৈঠকটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও ‘ফলপ্রসূ’। জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি এমন একটি ন্যায়সঙ্গত শান্তি চান, যাতে রাশিয়ার জন্য ভবিষ্যতে আবার আগ্রাসন চালানোর কোনো সুযোগ না থাকে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) কয়েক ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা শিগগিরই আবার বৈঠক করবেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাবেন। তিনি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকেরও আহ্বান জানান। উইটকফ বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এখানে একটি ভালো সমাধান আসবে।’ তিনি আরো বলেন, মস্কোতে তাদের আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি হয়েছে’। মস্কোর বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে কুশনার বলেন, মার্কিন দল এমন অনেক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেছে, যেগুলো ‘এখন পর্যন্ত কাজ করেনি’। এরপর থেকে তারা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কী কী উপাদান প্রয়োজন, তা নিয়ে চিন্তা করেছেন। তিনি আরো বলেন, পুতিনের সাথে ‘খুব ভালো সংলাপ’ হয়েছে। পুতিন অনেক প্রশ্ন করেছেন এবং তারাও অনেক প্রশ্ন করেছেন। উইটকফ জানান, কিয়েভে যাওয়ার আগে তারা পুতিনের সাথে দেখা করেছিলেন, কারণ ‘তার অবস্থান কী, সেটা আমাদের জানতে হতো’। জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, যদি যুদ্ধ শীতকাল পর্যন্ত চলতে থাকে তাহলে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতে সহায়তা প্রয়োজন হবে। তিনি মনে করেন, এখন পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবেলায় ইউক্রেন মার্কিন-নির্মিত প্যাট্টিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আসছে। তবে ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার অনেক মজুত ব্যবহার করেছে। জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনকে নিজেদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। তবে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর উৎপাদন বাড়াবে এবং ইউক্রেন সেটির ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন দূতরা বিমানে পোল্যান্ডে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে ট্রেনে করে কিয়েভ যান। জেলেনস্কি সাংবাদিকদের বলেন, তাদের বিমানের অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি কিয়েভে নামানো সম্ভব হয়নি। আলোচনার সময় তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা না চালাতে সম্মত হয়েছিলেন পুতিন ও জেলেনস্কি। জেলেনস্কি কিয়েভের সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রালের কাছে উইটকফ ও কুশনারকে স্বাগত জানান। ওই এলাকায় শুক্রবার একটি রুশ ড্রোন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার সদর দফতরে আঘাত করেছিল। এদিকে রাতভর রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইউক্রেন জানায়, তারা একটি তেল শোধনাগার, একটি বিমানঘাঁটি এবং দু’টি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানায়, রাশিয়া ১০৮টি দূরপাল্লার ড্রোন ও কয়েকটি ছোট ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৮২টি ড্রোন ও ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ১১টি স্থানে হামলা হয়েছে এবং আরো সাতটি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। শনিবার মস্কোর ক্রেমলিনে পুতিনের সাথে বৈঠকটি তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং তা রুদ্ধদ্বার ছিল বলে রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়। পুতিনের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের সমাধান, অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য ‘পারস্পরিক লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্প’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উশাকভ বলেন, আলোচনায় যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ নিয়ে কথা হয়েছে এবং সংঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধান করা প্রয়োজন বলে স্বীকার করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের শহরগুলো বিশেষ করে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বেড়ে গেলেও যুদ্ধের বেশিভাগ সময় রুশ স্থলবাহিনীর অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর ছিল এবং এতে বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাশিয়া এখনো ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে- যার বেশিভাগই ২০২২ সালে দখল করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই আকাশপথে হামলা বাড়ানোর পর এই নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। সূত্র : বিবিসি

শীতেও গড়াতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: জেলেনস্কি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে মস্কোতে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার জোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ট্রাম্পের প্রতিনিধিরা এমন একটি সময়ে রাশিয়া গেছেন, যার ঠিক এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময় আগে সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ ‘বিরল এক সফরে’ মস্কো যান। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি। রাশিয়ার সাথে বৈঠক শেষে রোববার কিয়েভে যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি দলটির। গত শনিবার ক্রেমলিন থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রুশ প্রেসিডেন্টকে মার্কিন প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। পুতিনকে সেসময় বলতে শোনা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি ‘খুব একটা সহজ নয়’। তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে ইউক্রেনের সাথে রাজি হওয়ায় পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন উইটকফ। পুতেনের সাথে দেখা করার পর রোববার মার্কিন প্রতিনিধি দলটির সদস্যরা কিয়েভে যাবেন। যুদ্ধ অবসানে আলোচনার জন্য ইউক্রেনের রাজধানীতে এটিই তাদের প্রথম সফর। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টা চালিয়েও এখন পর্যন্ত কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। সবশেষ গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, উইটকফ ও কুশনার ‘যুদ্ধ শেষ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসছেন।’ গত শনিবার ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত আলোচনায় পুতিন বলেছেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, এ ধরনের যোগাযোগ নিঃসন্দেহে সবসময়ই উপকারী।’ তিনি শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে কাজ করতে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে আমাদের দিক থেকে আমরা অবশ্যই বেশ উচ্চমাত্রায় আস্থা রাখছি।’ রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারি বাসভবনে আয়োজিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে কি-না, সেবিষয়ে এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি। তবে রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ ওই বৈঠককে ‘গঠনমূলক এবং অত্যন্ত খোলামেলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। ইউরি উশাকভ বলেন, ‘আলোচনা শুধু ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের বিষয়ে মতবিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং অর্থনৈতিক বিষয় এবং সম্ভাব্য বড় ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক রুশ-মার্কিন প্রকল্পগুলো নিয়েও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।’ ‘যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ সেনাবাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতির বিষয়টি আমলে নেয়া হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, চলমান ওই সঙ্ঘাতের ‘মূল কারণগুলো’ সমাধানের জন্য আরো আলোচনায় প্রয়োজন রয়েছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের শহরগুলোতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই যুদ্ধের বেশিভাগ সময় জুড়ে রুশ সেনাবাহিনী অত্যন্ত ধীর গতিতে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। এতে তারা ব্যাপক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে রাশিয়া। গত শনিবার পুতিনের সাথে মার্কিন প্রতিনিধি দলের বৈঠকের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, তিনি ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের দূতদের সাথে কথা বলেছেন। মস্কোর সাথে বৈঠক শেষে রোববার একই ইস্যুতে কিয়েভের সাথে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রতিনিধিদের। জেলেনস্কি বলেন, ‘স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি এবং একটি ফলপ্রসু আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছি।’ বৈঠক চলাকালে, অর্থাৎ গত শনিবার থেকে শুরু করে সোমবার পর্যন্ত রাশিয়া এবং ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইতোমধ্যেই তিন দিনের জন্য কিয়েভে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে রুশ গণমাধ্যমের খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে পুতিন জানিয়েছেন, কিয়েভের বাইরে ইউক্রেনের অণ্য অঞ্চলের জন্য সাময়িক ওই যুদ্ধবিরতির নির্দেশনা কার্যকর হবে না। যুদ্ধ অবসানের আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং মধ্যস্থতাকারী মার্কিন প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। ট্রাম্পের দূত কুশনার এবং উইটকফ এর আগেও বেশ কয়েকবার রাশিয়া সফর করেছেন। তবে রোববার তারা প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে আলোচনা করতে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া পূর্ণাঙ্গ আক্রমণ শুরু করার পর থেকে ইউক্রেনের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় মস্কো থেকে মার্কিন প্রতিনিধিরা কিভাবে কিয়েভে যাবেন, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে, গত শনিবারের বৈঠকের আগে রাশিয়া রাতভর কিয়েভ ও বোরিসপিলের বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন এবং রাশিয়া আলাদাভাবে ইঙ্গিত দিয়েছিল, যুদ্ধ শেষ করতে একটি শান্তি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইউক্রেনের ইউরোপীয় মিত্ররাও প্যারিসে আলোচনায় বসেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি ছাড়াই সেটি শেষ হয়। গত কয়েক মাসে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই পাল্টা-পাল্টি বিমান হামলা আরো জোরদার করেছে। এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এতো বেশি বৃদ্ধি করেছে যে, প্রতিহত করতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে ইউক্রেন। তারপরও তারা রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে পুতিনের দরজায় ট্রাম্পের দূত
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream