বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ভোটের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা ইসরায়েলে



ভোটের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা ইসরায়েলে
ভোটের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা ইসরায়েলে

ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলে বুথফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—কেউই সহজে সরকার গঠন করতে পারছেন না।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠন করতে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। কিন্তু ভোট-পরবর্তী জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।

ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর জরিপে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে। আগের পার্লামেন্টে তাঁর জোটের আসন ছিল ৬৮টি। ফলে এবার তাঁর জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট আরব লিস্ট পেতে পারে ১৯টি আসন।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের এই ফলাফলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলাফল হিসেবে ইসরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। 

তবে ইসরায়েলি রাজনীতি মূলত জোট গঠনের ওপরই নির্ভরশীল। সবচেয়ে বড় দল হওয়াটা এখানে মুখ্য নয় আর নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ এখন অস্পষ্ট।

বিরোধী শিবিরের জন্যও সরকার গঠনের পথটি বেশ জটিল। নেতানিয়াহু-বিরোধী দলগুলো ভোটের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী তারা ৬৮ থেকে ৭০টি আসন অর্জন করেছে। তবে তারা ডানপন্থী, বামপন্থী ও মধ্যপন্থী-এমনকি ইহুদি ও আরব দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছে।

আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’ দলটি বিরোধী বৃহত্তম দল। তবে ক্ষমতায় যেতে হলে তাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের সব নেতা সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত নন। তবে, এক্সিট পোল কেবল একটি ধাপ মাত্র। তাই ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন বলেন, বুথফেরত জরিপগুলোয় নেতানিয়াহুর জোটের ‘স্পষ্ট দুর্বলতা’ উঠে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে-কোনোটা বলার সময় এখনও আসেনি।’

এহাব জাবারিন আরও বলেন, ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারে, তবে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।’

যেহেতু এক্সিট পোলগুলোতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ছেন তাই উভয় নেতাই তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা ভোট গণনার রাতটিকে নিজেদের অনুকূলে তুলে ধরার এবং বিজয়ের একটি আখ্যান তৈরির চেষ্টা করেছেন।

ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপটি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের হাতে চলে যাবে। জেরুজালেমে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে হারজোগ পরামর্শ গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যেখানে প্রতিটি নির্বাচিত দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে।

এই সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে, প্রেসিডেন্ট একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। এই প্রার্থী যে সবসময় বৃহত্তম দলের নেতাই হবেন-তা কিন্তু নয়; বরং প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় যিনি ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সক্ষম বলে মনে হবেন, তাকেই তিনি এই দায়িত্ব দেবেন।

সুতরাং ইসরায়েলের নির্বাচনে জয়লাভ মানে কেবল ভোট বা আসন পাওয়া নয়, বরং একটি কার্যকর জোট গঠন করা এবং তা টিকিয়ে রাখাও এর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা

বিষয় : প্রধানমন্ত্রী ইসরায়েল

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ভোটের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা ইসরায়েলে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলে বুথফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—কেউই সহজে সরকার গঠন করতে পারছেন না।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠন করতে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। কিন্তু ভোট-পরবর্তী জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।

ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর জরিপে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে। আগের পার্লামেন্টে তাঁর জোটের আসন ছিল ৬৮টি। ফলে এবার তাঁর জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট আরব লিস্ট পেতে পারে ১৯টি আসন।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের এই ফলাফলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এ অবস্থায় নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলাফল হিসেবে ইসরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষির পথ উন্মুক্ত হতে পারে। 

তবে ইসরায়েলি রাজনীতি মূলত জোট গঠনের ওপরই নির্ভরশীল। সবচেয়ে বড় দল হওয়াটা এখানে মুখ্য নয় আর নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ এখন অস্পষ্ট।

বিরোধী শিবিরের জন্যও সরকার গঠনের পথটি বেশ জটিল। নেতানিয়াহু-বিরোধী দলগুলো ভোটের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী তারা ৬৮ থেকে ৭০টি আসন অর্জন করেছে। তবে তারা ডানপন্থী, বামপন্থী ও মধ্যপন্থী-এমনকি ইহুদি ও আরব দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছে।

আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’ দলটি বিরোধী বৃহত্তম দল। তবে ক্ষমতায় যেতে হলে তাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের সব নেতা সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত নন। তবে, এক্সিট পোল কেবল একটি ধাপ মাত্র। তাই ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন বলেন, বুথফেরত জরিপগুলোয় নেতানিয়াহুর জোটের ‘স্পষ্ট দুর্বলতা’ উঠে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে-কোনোটা বলার সময় এখনও আসেনি।’

এহাব জাবারিন আরও বলেন, ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারে, তবে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।’

যেহেতু এক্সিট পোলগুলোতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ছেন তাই উভয় নেতাই তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা ভোট গণনার রাতটিকে নিজেদের অনুকূলে তুলে ধরার এবং বিজয়ের একটি আখ্যান তৈরির চেষ্টা করেছেন।

ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপটি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের হাতে চলে যাবে। জেরুজালেমে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে হারজোগ পরামর্শ গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যেখানে প্রতিটি নির্বাচিত দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে।

এই সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে, প্রেসিডেন্ট একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। এই প্রার্থী যে সবসময় বৃহত্তম দলের নেতাই হবেন-তা কিন্তু নয়; বরং প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় যিনি ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সক্ষম বলে মনে হবেন, তাকেই তিনি এই দায়িত্ব দেবেন।

সুতরাং ইসরায়েলের নির্বাচনে জয়লাভ মানে কেবল ভোট বা আসন পাওয়া নয়, বরং একটি কার্যকর জোট গঠন করা এবং তা টিকিয়ে রাখাও এর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream