বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজের শর্ত নিয়ে যা বললেন মানসুর আব্বাস



আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজের শর্ত নিয়ে যা বললেন মানসুর আব্বাস
আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজের শর্ত নিয়ে যা বললেন মানসুর আব্বাস

মানসুর আব্বাসকে নির্বাচনের রাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য যে শর্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর মত কী? জবাবে ইসরায়েলি আবরদের দল রা’আমের নেতা বলেন, আগে দেখতে হবে সরকার গঠন করা সম্ভব কি না। তারপর শর্ত নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

আব্বাস প্রথমে ইসরায়েলি চ্যানেল ১৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসনসংখ্যার হিসাবকে গুরুত্ব দেন। কারণ, তখন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাচনী পূর্বাভাসে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে আসছিল। আব্বাস বুঝতে চাইছিলেন, তাঁর দল এবং দলের ভোটারদের সামনে কী কী সম্ভাবনা রয়েছে। দর-কষাকষিতে তাঁর প্রভাব থাকতে পারে। আবার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যেতে পারে, তাঁর হাতে তেমন কোনো সুযোগই নেই।

বিদেশে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নিয়ে আলোচনা হলে অনেক সময় তাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক মতামত ও সিদ্ধান্তের বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। কখনো তাঁদের ইসরায়েলের গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, আবার কখনো তাঁদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এর বাইরে আরব রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়ানো, সরকারের কাছে দাবি আদায় এবং রাজনৈতিক সমঝোতার সীমা নিয়ে আলোচনা করছে।

তাদের এসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ইতিহাসেও প্রভাব ফেলেছে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেত ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল আরব দল রা’আম। সরকার টিকিয়ে রাখতে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডানপন্থী নেতা নাফতালি বেনেত।

এবারের নির্বাচনেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। তবে চ্যানেল ১৪-এর সর্বশেষ পূর্বাভাসে তাঁর জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দেখা গেছে। অবশ্য এসব পূর্বাভাস, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। দেশটির আরব নাগরিকদের ভোটও অন্য নাগরিকদের ভোটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সমর্থন সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আবার পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন হারালে সরকারের পতনও ঘটতে পারে।

তাই ইসরায়েলের রাজনীতি বুঝতে হলে দেশটির আরব নাগরিকদের শুধু বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকার গঠন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা ও প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

‘অ্যাপার্থাইড’ বা বর্ণবৈষম্য শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলের পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও বর্ণবৈষম্য চালানোর অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরবদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকলেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অধীনে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যায় না। তাঁদের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা। একইভাবে, ইসরায়েলের ভেতরে আরব নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। এসব বিষয় আলাদাভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা রাজনৈতিক দল গঠন করছেন, পার্লামেন্টে আসন জিতছেন এবং সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। এটিও দেশটির গণতান্ত্রিক বাস্তবতার অংশ। আরব দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। মানসুর আব্বাস চান, তাঁর দল রা’আম সরাসরি সরকারে অংশ নিক। অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুর পরিবর্তে গঠিত কোনো সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।

জোটটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়ন ও তদারকির ব্যবস্থা রেখে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বাজেটসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে তিনি আপস না করার অবস্থান জানিয়েছেন। এই মতপার্থক্যগুলো মিটিয়েই দুই পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে একমত হলেই পরবর্তী সরকারের নীতি নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হবে না।

রা’আম আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটি ইয়োভ সেগালোভিৎসকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি একজন ইহুদি, ইয়েশ আতিদ দলের সাবেক এমপি এবং একসময় ইসরায়েলের জাতীয় গুরুতর অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান ছিলেন।

ইসলামপন্থী ও রক্ষণশীল শিকড়সম্পন্ন রা’আমে তাঁর যোগদান পুলিশি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং দলটির পরিচয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভোটারদের কেউ এই সিদ্ধান্তকে সম্ভাবনাময় মনে করতে পারেন, কেউ ভুল সিদ্ধান্ত ভাবতে পারেন, আবার কেউ মনে করতে পারেন, এই সহযোগিতা বেশিদিন টিকবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁদেরই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন একটি রাজনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দূর থেকে অসম্ভব বলে মনে হতে পারে।

ইহুদি দলগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে গাদি আইজেনকট এক সাক্ষাৎকারে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন। তাঁর শর্ত ছিল, ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করতে হবে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে নিতে হবে, নাগরিকদের সেবা করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করতে হবে এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকার করতে হবে, যেটিকে ধ্বংস করতে হবে।

আইজেনকট বলেন, তাঁর মতে কোনো আরব দলই এসব শর্ত পূরণ করে না। পরে অক্টোবরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা একটি পডকাস্টে তিনি আরব কোনো দলের সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

এসব প্রশ্ন সরকার পরিচালনার দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাস নিয়ে মতপার্থক্য সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যাঁরা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের প্রতি নাগরিকদের আস্থার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। সরকারে অংশ নিতে চাওয়া আরব নেতাদের নিজেদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁদের সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাঁদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে, তবে আগেই ধরে নেওয়া যাবে না যে সেগুলো মেনে নিতে হবে।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বালাদ দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য সামি আবু শেহাদেহ ৭ অক্টোবরের হামলার কৌশলগত গুরুত্ব এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক লাভ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু বেসামরিক মানুষ হত্যা ও অপহরণের নিন্দা জানাননি। পরে তিনি গণহত্যার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, হামলার নৃশংসতার পুরো চিত্র জানার আগেই নিবন্ধটি লিখেছিলেন। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধটি ওইভাবে প্রকাশ করা উচিত হয়নি।

২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর রা’আমের পার্লামেন্ট সদস্য ইমান খতিব-ইয়াসিন শিশু হত্যা ও নারীদের ধর্ষণের খবর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্র তিনি দেখেননি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি হামলাটিকে অমানবিক, ইসলামের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে নিন্দা জানান। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। মানসুর আব্বাসও গণহত্যার ঘটনাকে ছোট করে দেখানোর বিরোধিতা করেন এবং খতিব-ইয়াসিনের পদত্যাগ দাবি করেন।

এই মন্তব্যগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিক্রিয়াগুলোও ইতিহাসের অংশ।

২০২১ সালে যে সরকারে রা’আম অংশ নিয়েছিল, সেই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন নাফতালি বেনেত। কিন্তু এখন তিনি একই ধরনের জোট গঠনের বিরোধিতা করছেন। বেনেতের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর আপত্তির কারণ রা’আমের সদস্যদের জাতিগত পরিচয় নয়, বরং দলটির অ-জায়নবাদী রাজনৈতিক অবস্থান। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান রা’আমকে জোট সরকারে নেওয়ার পক্ষে।

এই দুই অবস্থানেরই প্রভাব রয়েছে সম্ভাব্য সরকার গঠন এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতার ওপর। শুধু আসনসংখ্যা দিয়ে এই মতপার্থক্য বোঝা সম্ভব নয়। কোনো নির্দিষ্ট সরকারে আরব দল অংশ নেবে কি না, তা নির্ভর করে কার্যকর সমঝোতা, সরকারের নীতি এবং জোটের অংশীদারদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখার ওপর।

কোনো দল আরব দলের সঙ্গে জোট করতে না চাইলে, শুধু সেই কারণে তাকে বর্ণবাদী বলা যায় না। একইভাবে, ইসরায়েলের কোনো আরব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার বা গ্রহণযোগ্যতা এই শর্তে নির্ভর করতে পারে না যে তাঁকে এমন দল বেছে নিতে হবে, যেটি ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর পছন্দ।

গণতন্ত্রে এই পার্থক্যগুলো স্পষ্ট রাখা জরুরি, বিশেষ করে নির্বাচনের ফলাফল যখন এসব বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন ইসরায়েলের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। রাস্তার নিরাপত্তা, সরকারি পরিষেবা এবং নাগরিকদের একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ, সবকিছুর সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আরব দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে। দেশের চরিত্র কেমন হবে এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার জন্য কতটা আপস করতে হবে, তা নিয়েও ইহুদি দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

কোনো একজন নেতা পুরো একটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। একইভাবে, একজন ভোটারের পরিচয় জানলেই বোঝা যায় না, তিনি গোপন ব্যালটে কাকে ভোট দিয়েছেন বা কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মানসুর আব্বাস প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, সরকার গঠন করা সম্ভব কি না। শেষ পর্যন্ত তিনি জোট সরকারের অংশ হতে পারেন, বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দিতে পারেন, অথবা বিরোধী দলে থাকতে পারেন। এসব সম্ভাবনার যেকোনোটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হতে পারে।

মূল প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল নির্বাচনের ফলাফলকে দায়িত্বশীল সরকার পরিচালনায় রূপ দিতে পারবে কি না এবং একই সঙ্গে সেই নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে কি না, যাঁদের প্রতিনিধিরা সরকারে জায়গা পাননি।

ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি ইসরায়েল কল্পনা করা প্রয়োজন, যেখানে গুরুতর মতপার্থক্যগুলো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। যেখানে কোনো জোট ভেঙে গেলেও বা কোনো দল নির্বাচনে হেরে গেলেও সমান নাগরিকত্বের নীতি অক্ষুণ্ন থাকবে।

নির্বাচনের রাতে সবার মনোযোগ থাকে মন্ত্রিসভার টেবিলে কারা বসবেন, সেই হিসাবের দিকে। কিন্তু একটি দেশের গণতন্ত্র শুধু তাঁদের ওপর নির্ভর করে না, যাঁরা ক্ষমতার টেবিলে জায়গা পান। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদার ওপরও, যাঁদের সেই টেবিলে কোনো আসন নেই।

সূত্র: জেরুসালেম পোস্ট

বিষয় : নির্বাচন ফিলিস্তিন ইসরায়েল বিশ্লেষণ সংবাদ বিশ্লেষণ আরব বিশ্ব রাজনীতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজের শর্ত নিয়ে যা বললেন মানসুর আব্বাস

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানসুর আব্বাসকে নির্বাচনের রাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য যে শর্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর মত কী? জবাবে ইসরায়েলি আবরদের দল রা’আমের নেতা বলেন, আগে দেখতে হবে সরকার গঠন করা সম্ভব কি না। তারপর শর্ত নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

আব্বাস প্রথমে ইসরায়েলি চ্যানেল ১৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসনসংখ্যার হিসাবকে গুরুত্ব দেন। কারণ, তখন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাচনী পূর্বাভাসে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে আসছিল। আব্বাস বুঝতে চাইছিলেন, তাঁর দল এবং দলের ভোটারদের সামনে কী কী সম্ভাবনা রয়েছে। দর-কষাকষিতে তাঁর প্রভাব থাকতে পারে। আবার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যেতে পারে, তাঁর হাতে তেমন কোনো সুযোগই নেই।

বিদেশে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নিয়ে আলোচনা হলে অনেক সময় তাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক মতামত ও সিদ্ধান্তের বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। কখনো তাঁদের ইসরায়েলের গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, আবার কখনো তাঁদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এর বাইরে আরব রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়ানো, সরকারের কাছে দাবি আদায় এবং রাজনৈতিক সমঝোতার সীমা নিয়ে আলোচনা করছে।

তাদের এসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ইতিহাসেও প্রভাব ফেলেছে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেত ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল আরব দল রা’আম। সরকার টিকিয়ে রাখতে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডানপন্থী নেতা নাফতালি বেনেত।

এবারের নির্বাচনেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। তবে চ্যানেল ১৪-এর সর্বশেষ পূর্বাভাসে তাঁর জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দেখা গেছে। অবশ্য এসব পূর্বাভাস, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়।

ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। দেশটির আরব নাগরিকদের ভোটও অন্য নাগরিকদের ভোটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সমর্থন সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আবার পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন হারালে সরকারের পতনও ঘটতে পারে।

তাই ইসরায়েলের রাজনীতি বুঝতে হলে দেশটির আরব নাগরিকদের শুধু বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকার গঠন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা ও প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

‘অ্যাপার্থাইড’ বা বর্ণবৈষম্য শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলের পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও বর্ণবৈষম্য চালানোর অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরবদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকলেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অধীনে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যায় না। তাঁদের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা। একইভাবে, ইসরায়েলের ভেতরে আরব নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। এসব বিষয় আলাদাভাবে বিচার করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা রাজনৈতিক দল গঠন করছেন, পার্লামেন্টে আসন জিতছেন এবং সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। এটিও দেশটির গণতান্ত্রিক বাস্তবতার অংশ। আরব দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। মানসুর আব্বাস চান, তাঁর দল রা’আম সরাসরি সরকারে অংশ নিক। অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুর পরিবর্তে গঠিত কোনো সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।

জোটটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়ন ও তদারকির ব্যবস্থা রেখে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বাজেটসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে তিনি আপস না করার অবস্থান জানিয়েছেন। এই মতপার্থক্যগুলো মিটিয়েই দুই পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে একমত হলেই পরবর্তী সরকারের নীতি নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হবে না।

রা’আম আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটি ইয়োভ সেগালোভিৎসকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি একজন ইহুদি, ইয়েশ আতিদ দলের সাবেক এমপি এবং একসময় ইসরায়েলের জাতীয় গুরুতর অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান ছিলেন।

ইসলামপন্থী ও রক্ষণশীল শিকড়সম্পন্ন রা’আমে তাঁর যোগদান পুলিশি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং দলটির পরিচয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভোটারদের কেউ এই সিদ্ধান্তকে সম্ভাবনাময় মনে করতে পারেন, কেউ ভুল সিদ্ধান্ত ভাবতে পারেন, আবার কেউ মনে করতে পারেন, এই সহযোগিতা বেশিদিন টিকবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁদেরই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন একটি রাজনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দূর থেকে অসম্ভব বলে মনে হতে পারে।

ইহুদি দলগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে গাদি আইজেনকট এক সাক্ষাৎকারে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন। তাঁর শর্ত ছিল, ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করতে হবে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে নিতে হবে, নাগরিকদের সেবা করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করতে হবে এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকার করতে হবে, যেটিকে ধ্বংস করতে হবে।

আইজেনকট বলেন, তাঁর মতে কোনো আরব দলই এসব শর্ত পূরণ করে না। পরে অক্টোবরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা একটি পডকাস্টে তিনি আরব কোনো দলের সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

এসব প্রশ্ন সরকার পরিচালনার দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাস নিয়ে মতপার্থক্য সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যাঁরা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের প্রতি নাগরিকদের আস্থার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। সরকারে অংশ নিতে চাওয়া আরব নেতাদের নিজেদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁদের সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাঁদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে, তবে আগেই ধরে নেওয়া যাবে না যে সেগুলো মেনে নিতে হবে।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বালাদ দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য সামি আবু শেহাদেহ ৭ অক্টোবরের হামলার কৌশলগত গুরুত্ব এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক লাভ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু বেসামরিক মানুষ হত্যা ও অপহরণের নিন্দা জানাননি। পরে তিনি গণহত্যার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, হামলার নৃশংসতার পুরো চিত্র জানার আগেই নিবন্ধটি লিখেছিলেন। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধটি ওইভাবে প্রকাশ করা উচিত হয়নি।

২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর রা’আমের পার্লামেন্ট সদস্য ইমান খতিব-ইয়াসিন শিশু হত্যা ও নারীদের ধর্ষণের খবর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্র তিনি দেখেননি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি হামলাটিকে অমানবিক, ইসলামের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে নিন্দা জানান। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। মানসুর আব্বাসও গণহত্যার ঘটনাকে ছোট করে দেখানোর বিরোধিতা করেন এবং খতিব-ইয়াসিনের পদত্যাগ দাবি করেন।

এই মন্তব্যগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিক্রিয়াগুলোও ইতিহাসের অংশ।

২০২১ সালে যে সরকারে রা’আম অংশ নিয়েছিল, সেই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন নাফতালি বেনেত। কিন্তু এখন তিনি একই ধরনের জোট গঠনের বিরোধিতা করছেন। বেনেতের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর আপত্তির কারণ রা’আমের সদস্যদের জাতিগত পরিচয় নয়, বরং দলটির অ-জায়নবাদী রাজনৈতিক অবস্থান। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান রা’আমকে জোট সরকারে নেওয়ার পক্ষে।

এই দুই অবস্থানেরই প্রভাব রয়েছে সম্ভাব্য সরকার গঠন এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতার ওপর। শুধু আসনসংখ্যা দিয়ে এই মতপার্থক্য বোঝা সম্ভব নয়। কোনো নির্দিষ্ট সরকারে আরব দল অংশ নেবে কি না, তা নির্ভর করে কার্যকর সমঝোতা, সরকারের নীতি এবং জোটের অংশীদারদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখার ওপর।

কোনো দল আরব দলের সঙ্গে জোট করতে না চাইলে, শুধু সেই কারণে তাকে বর্ণবাদী বলা যায় না। একইভাবে, ইসরায়েলের কোনো আরব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার বা গ্রহণযোগ্যতা এই শর্তে নির্ভর করতে পারে না যে তাঁকে এমন দল বেছে নিতে হবে, যেটি ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর পছন্দ।

গণতন্ত্রে এই পার্থক্যগুলো স্পষ্ট রাখা জরুরি, বিশেষ করে নির্বাচনের ফলাফল যখন এসব বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন ইসরায়েলের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। রাস্তার নিরাপত্তা, সরকারি পরিষেবা এবং নাগরিকদের একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ, সবকিছুর সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আরব দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে। দেশের চরিত্র কেমন হবে এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার জন্য কতটা আপস করতে হবে, তা নিয়েও ইহুদি দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

কোনো একজন নেতা পুরো একটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। একইভাবে, একজন ভোটারের পরিচয় জানলেই বোঝা যায় না, তিনি গোপন ব্যালটে কাকে ভোট দিয়েছেন বা কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মানসুর আব্বাস প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, সরকার গঠন করা সম্ভব কি না। শেষ পর্যন্ত তিনি জোট সরকারের অংশ হতে পারেন, বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দিতে পারেন, অথবা বিরোধী দলে থাকতে পারেন। এসব সম্ভাবনার যেকোনোটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হতে পারে।

মূল প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল নির্বাচনের ফলাফলকে দায়িত্বশীল সরকার পরিচালনায় রূপ দিতে পারবে কি না এবং একই সঙ্গে সেই নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে কি না, যাঁদের প্রতিনিধিরা সরকারে জায়গা পাননি।

ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি ইসরায়েল কল্পনা করা প্রয়োজন, যেখানে গুরুতর মতপার্থক্যগুলো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। যেখানে কোনো জোট ভেঙে গেলেও বা কোনো দল নির্বাচনে হেরে গেলেও সমান নাগরিকত্বের নীতি অক্ষুণ্ন থাকবে।

নির্বাচনের রাতে সবার মনোযোগ থাকে মন্ত্রিসভার টেবিলে কারা বসবেন, সেই হিসাবের দিকে। কিন্তু একটি দেশের গণতন্ত্র শুধু তাঁদের ওপর নির্ভর করে না, যাঁরা ক্ষমতার টেবিলে জায়গা পান। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদার ওপরও, যাঁদের সেই টেবিলে কোনো আসন নেই।

সূত্র: জেরুসালেম পোস্ট


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream