শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ভবন ধসে নিহত ২০, আহত ১৪

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ভবন ধসে নিহত ২০, আহত ১৪

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নারী-শিশুসহ ২০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ১৪ জন এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। শতাধিক আটকা পড়েছেন এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে। ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাতের বেলায় ছয়তলা একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের বের করে আনছেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয়রাও হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভিডিওতে দেখা যায়, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। একটি ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি ছোট মেয়েকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে দেখা যায়। এ সময় আরও শিশুসহ কয়েকজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আল-জাজিরাকে জানান, সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি আটকা রয়েছেন বলেও জানান মুখপাত্র। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকারী দলের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগের একটি বিমান হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই হামলার পর ভবনটিতে ফাটল ধরেছিল এবং এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটিই ধসে পড়ে। এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় এই ঘটনার জন্য ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘সম্পূর্ণ ও সরাসরি’ দায়ী করেছে। কার্যালয়টি বলেছে, ছয়তলা ভবনটিতে প্রতিটি তলায় চারটি করে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ভবনটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এতে ভবনটির কাঠামোগত দৃঢ়তা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি ধসে যায়। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডজুড়ে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশেও ইসরায়েল বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মুখপাত্র বাসাল বলেন, অনেক ফিলিস্তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, তাঁদের যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই। শরণার্থী কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাঁবুর অভাবেই তাঁদের এমন ভবনে থাকতে হচ্ছে, যা তাঁদের হুমকির মুখে ফেলছে। এ দিকে ধ্বংসস্তূপ নিরাপদে সরানো এবং উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য সিভিল ডিফেন্সের প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশেও ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে ভবনধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে মূলত হাতের সাহায্যে কাজ করতে হচ্ছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে। গাজা সিটির মেয়র ইয়াহইয়া আল-সাররাজ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি কোনো ভবনধসের প্রথম ঘটনা নয়। আমরা আশঙ্কা করছি, এটিই শেষ ঘটনাও নাও হতে পারে।’ মেয়র আরও জানান, সিটি করপোরেশন ও সিভিল ডিফেন্স ‘অচল’ হয়ে পড়েছে। মানুষকে উদ্ধারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের হাতে নেই।

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তলাইব গাজায় চলমান নৃশংসতার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অংশীদারিত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গাজায় শিশুদের জীবন যাচ্ছে মার্কিন নির্মিত প্রাণঘাতী অস্ত্রের আঘাতেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিদা তলাইব উল্লেখ করেন, ‘গণহত্যা এখনো চলছে’ এবং ‘মার্কিন নির্মিত বোমার আঘাতে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আর যারা বেঁচে থাকছে তারা সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।’ জাতিগত নিধনের মতো এসব জঘন্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ডে মার্কিন প্রশাসনের সব ধরনের সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশই ফিলিস্তিনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের ওপর আটটি আরব-ইসলামিক দেশের যৌথ বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সামগ্রিক আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে উভয় দেশ। বিশেষ করে সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে সম্মত হওয়া রিজিওনাল ফোর (আর৪) কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

ঘরহারা ৮ লাখ ফিলিস্তিনির ঠিকানা তাঁবু

২১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকাজুড়ে অত্যন্ত করুণ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। যাদের মধ্যে বসবাসের অযোগ্য অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। গাজার সরকারি তথ্য দপ্তর সোমবার (১৭ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুখে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, ৫ লক্ষাধিক শিশু রয়েছে তাঁবুতে বসবাসকারীদের মধ্যে। অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে কদাকার আবহাওয়া প্রতিরোধী তাঁবু,  ক্রেন, অন্তরণ সামগ্রী ও অন্যান্য আশ্রয় সরঞ্জাম অবিলম্বে প্রবেশের সুযোগ দিতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পরিস্থিতি সংকটের চরম সীমায় পৌঁছেছে।’ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ এবং সবচেয়ে অসহায় মানুষদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও এতে জোর দেওয়া হয়।ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজার বাসিন্দারা খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সেবার চরম সংকটে ভুগছে বলে ত্রাণ সংস্থাগুলো ক্রমাগত সতর্ক করে আসছে।তথ্য দপ্তরের পূর্ববর্তী তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকা পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে।সূত্র: আল জাজিরা

ঘরহারা ৮ লাখ ফিলিস্তিনির ঠিকানা তাঁবু
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream