বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরোধ, ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বললেন চাক শুমার

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরোধ, ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বললেন চাক শুমার

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সের এক সিদ্ধান্তকে ঘিরে দলটির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। নিজ দলের প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে সমর্থন না করে প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান নেতা মাইক রজার্সের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। স্টিভেন্সের এমন সিদ্ধান্তকে ‘ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার।সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লড়াইয়ে মিশিগানের আসনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সের তুলনায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন এল-সাইয়েদ। এমন পরিস্থিতিতে দলের ভেতর এই বিরোধ নতুন করে রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে।উল্লেখ্য, এই আসনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন হ্যালি স্টিভেন্স নিজেও। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রাথমিক নির্বাচনে আবদুল এল-সাইয়েদের কাছে হেরে যান তিনি।অন্যদিকে, জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিতি পাওয়া এল-সাইয়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কঠোর সমালোচক। তিনি ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সুযোগ রয়েছে তার। হ্যালির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এল-সাইয়েদ বলেন, ‘এতে আমি বিচলিত নই। দিন শেষে আসলে হ্যালিকে নিয়ে ভাবছি না। আমি ভাবছি বাকি ৯৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯৮ জন মানুষকে নিয়ে, যারা ওই দুজন নন।’ ওই দুজন বলতে তিনি হ্যালি ও রজার্সকে ইঙ্গিত করেন। পরে বলেন, ‘পুরো বিষয়টির রাজনীতির চেয়ে নীতিগত দিক নিয়েই আমি বেশি আগ্রহী।’ রোববার রাতে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রজার্সকে সমর্থনের কারণ ব্যাখ্যা করেন হ্যালি। তিনি বলেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে আমি বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা ও নতুন উদ্যম পেয়েছি। আমার হৃদয় যা বলছে, সেটিই করেছি।’ তবে তিনি চান সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাক। হ্যালির এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন সিনেটে সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ঘৃণ্য বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেন। অন্যদিকে, মিশিগান ডেমোক্র্যাটদের কৃষ্ণাঙ্গ ককাসের চেয়ারম্যান ভার্জি রলিন্স বলেন, হ্যালি নিজেকে দলত্যাগী হিসেবে প্রকাশ করে নিজের পথ হারিয়েছেন। নিজ দলে সমালোচিত হলেও হ্যালির প্রশংসা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘হ্যালি এমন কথা বলেছেন, যা বলার সাহস খুব কম মানুষেরই আছে।’

নেতানিয়াহুর ঐক্য সরকার গঠনের উদ্যোগ, জামিনদার হতে পারেন ট্রাম্প

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা গাডি আইজেনকোটের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের কথা ভাবছেন। এ সরকার গঠনের চুক্তিতে জামিনদার হিসেবে থাকতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।রোববার (১ নভেম্বর) ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ক্যানের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউ আরব।নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ডিমোনার মেয়র বেনি বিটন রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক চাল বা নির্বাচনী কৌশল নয়। নেতানিয়াহু সত্যিই একটি ঐক্য সরকার গঠন করতে চান।লিকুদ পার্টির এই নেতা জানান, আগের দিন তিনি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রস্তাবিত চুক্তিতে হারজোগ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জামিনদার হিসেবে থাকবেন। তাদের ভূমিকা হবে গাডি আইজেনকোটের পক্ষে চুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়া।গত মঙ্গলবারের সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতমার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের বিষয়টি সামনে এসেছে।এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন একটি ঐক্য সরকার গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সব পক্ষকে নমনীয় হওয়ার এবং আরেকটি নির্বাচন এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিটন বিরোধী দলের নেতাদের আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমি ব্যতিক্রম ছাড়া সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—গাডি আইজেনকোট, অবিগডোর লিবারম্যান এবং নাফতালি বেনেট—তাদের অহংকার সরিয়ে রাখতে। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে; একসঙ্গে আসুন, টেবিলে বসুন এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছান।’ একতরফাভাবে নেসেটের স্পিকার পরিবর্তনের চেষ্টা না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিটন বলেন, ‘যে মুহূর্তে তারা নেসেটের স্পিকার প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করবে... আমি কীভাবে বলব? এটি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। সব দলের সম্মতিতে স্পিকার নিয়োগে কোনো সমস্যা নেই। তবে তারা যদি একতরফা সংসদীয় চাল চালতে শুরু করে, তবে তা হবে একটি লাল রেখা।’ তিনি আরও সতর্ক করেন, জাতীয় ঐক্য সরকার গঠন করা না হলে দেশ আরেকটি নির্বাচনের দিকে ধাবিত হবে। বিটনের মতে, লিকুদ পার্টিকে ছাড়া গঠিত যেকোনো সরকার টিকে থাকবে না এবং ‘ছয় মাসের বেশি বেঁচে থাকতে সক্ষম হবে না’। এদিকে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠনের বিকল্পটিকে বিরোধী দলগুলো প্রত্যাখ্যান করলেও জয়েন্ট লিস্ট এবং ইউনাইটেড আরব লিস্ট বা রা’আম পার্টি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করতে পারে বলে জয়েন্ট লিস্টের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্র: দ্য নিউ আরব

নেতানিয়াহুর ঐক্য সরকার গঠনের উদ্যোগ, জামিনদার হতে পারেন ট্রাম্প

ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলে অচলাবস্থা, আবার নির্বাচন হতে পারে

ভোট গণনা শেষ হয়েছে ইসরায়েলের নির্বাচনে। এতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা (৬১) কোনো পক্ষই পায়নি। এমন অবস্থা দেশটিকে আগামী কয়েক সপ্তাহ কিংবা কয়েক মাসের জন্য রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়েছে। প্রধান দুটি জোটের একটির নেতৃত্বে আছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি দল লিকুদ। অপরটিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা গাদি আইজেনকোটের মধ্যপন্থি দল ইয়াশার। ভোট গণনা শেষে উভয় জোটের প্রাপ্ত আসন যথাক্রমে ৫৩ ও ৪৮। আরব ব্লক পেয়েছে বাকি ১৯টি। রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিভাজন এতটাই গভীর যে, সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন। তবে সরকার গঠন একেবারে অসম্ভব নয়।  দলীয় নেতারা যদি নির্ধারিত ১২ সপ্তাহের মধ্যে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে ইসরায়েলিদের আবারও ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। এ পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য কয়েকটি পথ আছে। দৃশ্যপট ১: বিরোধী জোটের সরকার কাগজে-কলমে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ হলো ইহুদি ও আরব দলগুলোর সহযোগিতায় বিরোধী সরকার গঠন। তবে এ পথের সবচেয়ে বড় বাধাটি আদর্শিক। চেঞ্জ ব্লকের ডানপন্থি দুই দলের নেতা- নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দল রাআম ও জয়েন্ট লিস্টের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে চান না। জোটের ভেতরে থেকে কিংবা বাইরে থেকেও সমর্থন নিতে অনীহা দেখিয়েছেন।  ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে এ দুই নেতা আরব দলগুলোর ব্যাপারে নিজেদের অবস্থান কঠোর করেছেন। ইসরায়েলের ইতিহাসে মাত্র একবারই কোনো আরব দল পূর্ণাঙ্গভাবে সরকারে অংশ নিয়েছিল। ২০২১ সালে রাআম আট দলীয় একটি জোট সরকারের অংশ হয়। ওই সরকার নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয়েছিল। তবে ক্ষমতায় থাকার মাত্র এক বছর পরই জোটটি ভেঙে যায়। সরকার গঠন করতে না পারলেও বিরোধী দলগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তারা নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে পরিবর্তন আনতে পারে। এর মাধ্যমে নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ক্ষমতাও সীমিত করা সম্ভব। তবে ইসরায়েলের নেতৃত্ব থেকে নেতানিয়াহুকে সরিয়ে নতুন জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা এখনো অত্যন্ত জটিল ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। দৃশ্যপট ২: জাতীয় ঐক্যের সরকার আরেকটি সম্ভাবনা হলো, দুটি রাজনৈতিক জোট ভেঙে গিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করা। এক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ অবশ্যই সরকারে থাকবে। বর্তমান জোটের কয়েকটি শরিক দলও এতে যুক্ত হবে। পাশাপাশি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিরোধী জোটের অন্তত একটি দলকেও সরকারে রাখতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, বিরোধী দলকে সরকারে জায়গা দিতে নেতানিয়াহু তাঁর কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে রাজি হতে পারেন। তবে কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও ধর্মীয় দলগুলোকে বাদ দিতে তিনি রাজি নন। আইজেনকোট নেতানিয়াহুর সঙ্গে একই সরকারে বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। কারণ অবস্থান পরিবর্তন করলে সেটিকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখবেন অনেক ইসরায়েলি। বিশেষ করে যারা ‘বিবি’ নামে পরিচিত নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে আগ্রহী। দৃশ্যপট ৩: দলত্যাগী ৮ এমপি দরকার বিরোধী দলগুলোর সংসদ সদস্য বা স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতাদের দলত্যাগে উৎসাহিত করে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু। তবে বিরোধী জোটের চার দলের নেতা- আইজেনকোট, বেনেট, লিবারম্যান ও ইয়ার গোলান সবাই নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরকার গঠনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন পিছিয়ে আছে। ফলে সরকার গঠনের জন্য আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে দলত্যাগে রাজি করানো বেশ কঠিন হবে। দৃশ্যপট ৪: আরেকটি নির্বাচন সরকার গঠনের জন্য ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ পার্লামেন্টে আসন পাওয়া দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে পরামর্শ করবেন। তাঁদের মতামত নেওয়ার পর তিনি একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। আরব দলগুলো আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ইয়াশার দলের নেতা সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পেতে পারেন। প্রেসিডেন্ট কর্তৃক মনোনীত হওয়ার পর ওই নেতা সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে সফল না হলে প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় একজন নেতাকে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে বলবেন। তাঁর জন্যও সময় থাকবে ২৮ দিন। এরপর নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা প্রেসিডেন্টের কাছে তৃতীয় একজন প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানাতে পারবেন। ওই প্রার্থী জোট সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় পাবেন। এভাবেও কোনো সমাধান না এলে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সীমার হিসাব অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন নেতানিয়াহু। তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অপেক্ষা করার সুযোগ আছে তাঁর। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট প্রথম সুযোগ পেয়ে ব্যর্থ হলে সরকার গঠনের দায়িত্ব নেতানিয়াহুর হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।  নেতানিয়াহু নিজেও ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরায়েলকে আবার নির্বাচনে যেতে হতে পারে। সেক্ষেত্রে নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত কয়েক মাস নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে নতুন করে নির্বাচনের যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। তবে সেটি আগামী মার্চ কিংবা মে মাসের আগে নয়। সেটি হলে আট বছরের মধ্যে দেশটিতে সপ্তমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে।

ভোট গণনা শেষে ইসরায়েলে অচলাবস্থা, আবার নির্বাচন হতে পারে

অপেক্ষাকৃত কম শয়তানকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান গাজাবাসী

যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কাউকে ক্ষমতায় দেখতে চান গাজার অনেক ফিলিস্তিনি। তবে বিরোধী রাজনীতিক গাদি আইজেনকট ক্ষমতায় এলেও গাজার পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাঁদের। বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরের বাসিন্দারা ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তাঁদের আশা, নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কেউ ইসরায়েলের সরকার গঠন করবেন। তবে ইসরায়েলের রাজনীতিকেরা গাজা নিয়ে তাঁদের নীতি পরিবর্তন করবেন, এমনটা মনে করছেন না অনেকেই।যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় নিয়মিত বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে খান ইউনিসের বাসিন্দা আইমান আহমেদ বলেন, গাজার বিষয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিকদের সবার অবস্থানই কঠোর। তারপরও তাঁদের মধ্যে তুলনামূলক কম ক্ষতি হতে পারে, এমন কাউকে বেছে নিতে চান তাঁরা।আহমেদের ভাষায়, ‘গাজার প্রতি তাদের সবার নীতিই কঠোর। তবে আমরা দুই শয়তানের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম শয়তানকেই বেছে নিচ্ছি।’ তিনি আশা করছেন, নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট নির্বাচনে জয়ী হবেন। একই সঙ্গে তিনি গাজার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত রোডম্যাপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনায় হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট একটি নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও গাজার পুনর্গঠনকাজ শুরুর শর্তও রয়েছে। তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি। নেতানিয়াহু এতে সম্মতি দিলেও প্রাথমিক ধাপের বাইরে এগোননি। ওই ধাপে সীমিত পরিসরে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের হাতে আটক শেষ জীবিত ও মৃত জিম্মিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মানবিক সহায়তা বাড়ানোর ব্যবস্থা ছিল। প্রায় এক বছর ধরে পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের কাছের ধ্বংসস্তূপে ভরা সড়কে মোহাম্মদ আবেদ বলেন, নেতানিয়াহু জয়ী হলে সেটিকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচির বিজয় হিসেবে দেখা হবে। তবে ক্ষমতায় যিনিই আসুন না কেন, গাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন না। ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট দেশটির শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে। ফলে তাঁর নেতৃত্বে গাজার পরিস্থিতি কতটা বদলাবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। আবেদ বলেন, ‘আইজেনকট জয়ী হলেও পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হবে না, কারণ তাদের নীতিগুলো প্রায় একই রকম। শেষ পর্যন্ত সবকিছু একই থাকবে।’ উত্তর গাজার বেইত হানুনে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া হাসান আল-মাসরি আশা করছেন, ইসরায়েলের নির্বাচন গাজার মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, এই নির্বাচন যেন আমাদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে। আমাদের সবকিছু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে; আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তারা আমাদের সন্তানদের হত্যা করেছে, আমাদের বাড়িঘর ধ্বংস করেছে, আর আমাদের যা কিছু ছিল, সবই হারিয়ে গেছে।’ গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের অধিকাংশই এখনো বাস্তুচ্যুত। তাঁদের অনেকে বোমা হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিজেদের বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে কিংবা মানবেতর পরিবেশে গড়ে ওঠা তাঁবুর শিবিরে বসবাস করছেন। ইসরায়েলের নির্বাচনী প্রচারে গাজার ভবিষ্যৎ খুব একটা গুরুত্ব পায়নি। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কথা বলা একমাত্র প্রধান প্রার্থী ছিলেন ছোট রাজনৈতিক দল ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়াইর গোলান। গাজার ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে সেখানকার মানুষ আশাবাদী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইমান আহমেদ বলেন, ‘গাজার বাইরের মানুষই শুধু এসব বিষয় নিয়ে ভাবে।’ তাঁর মতে, গাজার মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রতিদিন খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করা। তবে নেতানিয়াহু আবারও ক্ষমতায় এলে গাজায় আরও যুদ্ধ ও দুর্ভোগ নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকেই আমরা সমর্থন করি।’

অপেক্ষাকৃত কম শয়তানকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান গাজাবাসী

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ হাচিবুর রহমান (৩৩) নামে এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মেরিল্যান্ডের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।মেরিল্যান্ডের ইউএস অ্যাটর্নি কেলি ও. হেইস এবং এফবিআইয়ের বাল্টিমোর ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট ইনচার্জ জিমি পল যৌথভাবে এ তথ্য প্রকাশ করেন।মামলার নথি অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক না হয়েও হাচিবুর রহমান ২০২৪ সালের নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ করা হয়েছিল।তবে মামলা দায়ের হওয়া মানেই তিনি অপরাধী, এমন নয়। আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ হিসেবে গণ্য হবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে হাচিবুর রহমান সর্বোচ্চ এক বছরের ফেডারেল কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে প্রকৃত সাজা সাধারণত সর্বোচ্চ শাস্তির চেয়ে কম হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সাজা নির্ধারণের নির্দেশিকা ও আইনের অন্যান্য বিধান বিবেচনায় নিয়ে ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক সাজা নির্ধারণ করবেন। তদন্তে কাজের জন্য এফবিআইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অ্যাটর্নি কেলি ও হেইস। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিসের বাল্টিমোর কার্যালয়ের সহায়তারও প্রশংসা করেন তিনি। মামলাটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি ফিলিপ মোৎসেকেও ধন্যবাদ জানান হেইস।

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

ভোট গণনা প্রায় শেষ, ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন

ইসরায়েলের নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলেও কে হচ্ছেন দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে নির্বাচন শেষ হলেও ক্ষমতায় কে আসছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের বিষয়ে একমত হতে না পারলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এ দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই।ইসরায়েলের নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক দলগুলো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়া নেতাকে মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য ৪২ দিন সময় দেওয়া হয়।তবে এই সময়ের মধ্যে কোনো দল বা জোট প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারই দায়িত্ব পালন করতে পারে। এবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলেও ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছে। এতে তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোট গণনার পর ইসরায়েলের তিনটি প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাসে বলা হয়, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী, কট্টর ডানপন্থী ও অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর জোট ১২০ আসনের নেসেটে ৫৩টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৪৮টি। আরব ইসরায়েলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো পেতে পারে ১৯টি আসন, যা হবে রেকর্ডসংখ্যক। ফলে এসব দলের সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। তবে অনেক ইহুদি রাজনৈতিক নেতা আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। ভোট গণনা পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় আসনসংখ্যার হিসাবে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে নেতানিয়াহুর বিরোধীদের যে শক্ত অবস্থানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তারা সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা চলাকালে এবং সম্ভাব্য নতুন নির্বাচন পর্যন্ত নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ ধরনের সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাদের থাকে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা নিয়মিত সরকারের মতোই। তবে এ ধরনের সরকারের কাছ থেকে সংযম প্রত্যাশা করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সীমিত থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকলেও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের হাতে থাকতে পারে।

ভোট গণনা প্রায় শেষ, ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন

ব্রাজিলের নির্বাচন বদলে দিল ট্রাম্পের হিসাব

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার জয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পশ্চিম গোলার্ধ নিয়ে পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চেয়েছিলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে নিয়ে এমন একটি জোট গড়ে তুলতে, যেখানে তাঁর সমর্থক নেতারা ব্যবসাবান্ধব নীতি অনুসরণ করবেন এবং কঠোরভাবে দেশ পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মিত্রদের থেকে দূরত্ব তৈরি করতে চেয়েছিলেন তিনি। রোববারের নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও লুলার জয়ের পর তা বড় বাধার মুখে পড়েছে।পশ্চিম গোলার্ধকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের বহু পুরোনো। ১৮২৩ সালে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেমস মনরো ইউরোপীয় শক্তিগুলোকে আমেরিকা মহাদেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর এই ঘোষণাই পরে ‘মনরো নীতি’ নামে পরিচিতি পায়। ১৮৯০-এর দশকে স্পেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সময় নীতিটি আবারও গুরুত্ব পায়। পরবর্তী সময়ে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব ও আধিপত্য বাড়ানোর এই পরিকল্পনা কিছুটা আড়ালে চলে যায়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সেই পুরোনো নীতিকে সামনে এনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। ব্রাজিল যদি বাম পন্থা থেকে ডান পন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ত, তাহলে লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের জন্য তা হতো অভাবনীয় সাফল্যের বছর। বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে অপহরণের পর দেশটিকে নিজের অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত করার সুযোগ পান ট্রাম্প। এরপর চিলির নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী হোসে আন্তোনিও কাস্তের জয় হয়। তাঁর বাবা ছিলেন জার্মানির নাৎসি বাহিনীর একজন কর্মকর্তা। কলম্বিয়াতেও ট্রাম্প-সমর্থিত ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার কাছে বামপন্থীরা পরাজিত হন। এই সাফল্যের ফলে এল সালভাদরের নায়িব বুকেলে ও আর্জেন্টিনার হাভিয়ের মিলের মতো ট্রাম্পের পুরোনো মিত্ররা আর বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম বলে বিবেচিত হচ্ছেন না। ব্রাজিলে কট্টর ডানপন্থী ফ্লাভিও বলসোনারো জিতলে মেক্সিকোর দক্ষিণে ট্রাম্পের মিত্রদের প্রায় পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হতো। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে পশ্চিম গোলার্ধের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। এরপর ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এর আওতায় মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটক করে। তাঁর উত্তরসূরিকে দিয়ে ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রে নতুন করে ১০০ বছরের জন্য একটি মার্কিন কোম্পানিকে অধিকার দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। এসব তেলক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুতের পরিমাণ ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল। মার্চে হোয়াইট হাউস ‘আমেরিকাস কাউন্টার কার্টেল কোয়ালিশন’ বা মাদক চক্রবিরোধী জোট গঠনের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা আরও জোরদার করে। ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ বা ‘আমেরিকার সুরক্ষাকবচ’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল মাদক ব্যবসা ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করা। ফ্লোরিডার ডোরালে মার্কিন দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের সদর দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের পর লাতিন আমেরিকার ১২ জন নেতা ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর গলফ ক্লাবে যান। মার্কিন কর্মকর্তারা মাদক চক্র, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও চীনের মতো বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্প এই আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে ইরানে তাঁর সামরিক হামলারও যোগসূত্র টানেন। তবে এই জোট শুধু নিরাপত্তা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ডোরালে গোপন বৈঠকের পর ভেনেজুয়েলার সোনা ও তেল এবং চিলির খনিজ সম্পদ নিয়ে এমন কিছু চুক্তি সামনে আসে, যেগুলো মার্কিন কোম্পানির স্বার্থের অনুকূলে ছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জোটের সদস্যরা ‘অর্থনৈতিক সহযোগিতা’কে আনুষ্ঠানিকভাবে এর লক্ষ্য হিসেবে যুক্ত করেন। এর মধ্যে ছিল বিনিয়োগ যাচাই, খনিজ সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোয় নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী নিশ্চিত করার উদ্যোগ। কিন্তু লুলার বিজয়ের আগেই জোটটির দুর্বলতা প্রকাশ পেতে শুরু করেছিল। জোট ঘোষণার মাত্র দুই দিন আগে এর প্রথম প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে অপমানজনকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁকে বিশেষ দূত হিসেবে রাখার সিদ্ধান্তও সেপ্টেম্বরে কার্যত শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে নিয়োগের প্রয়োজনও পররাষ্ট্র দপ্তর অনুভব করেনি। বুয়েনস এইরেস ও সান্তিয়াগোয় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের কর্মকাণ্ডও আঞ্চলিক বিরোধ উসকে দিয়েছে। চিলিতে ট্রাম্পের দূত ব্র্যান্ডন জাড—যিনি আগে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে কাজ করতেন—ম্যাগেলান প্রণালির ওপর চিলির সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার সঙ্গে চিলির সহযোগিতার শর্তও জুড়ে দেন তিনি। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার সম্পদ ভাগাভাগি নিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রকাশ্য দুর্নীতি ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে। লুলার সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ, ব্রাজিলকে অর্থনৈতিক সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে আমেরিকা মহাদেশকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার বিষয়ে ট্রাম্পের বড় পরিকল্পনা যখন ভেঙে পড়েছে, তখন লুলার জন্য সেই কাজ কিছুটা সহজ হতে পারে।

ব্রাজিলের নির্বাচন বদলে দিল ট্রাম্পের হিসাব

নেতানিয়াহু হেরে গেছেন, কটাক্ষ গোলানের

ইসরায়েলে সরকার গঠনের জন্য গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটস নেতা ইয়ার গোলান। তিনি বলেছেন, আরব দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠন করা হলে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সম্ভব।ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ তথ্য জানিয়েছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোলান লেখেন, ‘নেতানিয়াহু হেরে গেছেন। আমি ১২০ পর্যন্ত গুনতে জানি। ৫৫-এর চেয়ে ৬৫ বেশি। এভাবেই ইসরায়েলের গণতন্ত্র কাজ করে।’ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক উপপ্রধান গোলান আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে, ভয় ও বর্ণবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে ইসরায়েলে ভবিষ্যৎ গড়া কঠিন হবে।তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহুর অনুসরণ করা ইহুদি ও আরব ভোটারদের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি আর মেনে নেওয়া হবে না। ইহুদিবাদ বা জায়নবাদ প্রসঙ্গে গোলান লিখেছেন, নেতানিয়াহুর ব্লকে অ-জায়নবাদী হারেদি দলের ১৬ জন নেসেট সদস্য রয়েছেন। তাদের দলগুলো ব্যাপকভাবে সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়িয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়, অথচ তাদের সন্তানদের বয়সী অন্যরা লড়াই করছেন এবং প্রাণ হারাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু যদি কেবল জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব করতে চান, তাহলে তাকে প্রথমে নিজের জোট থেকে অ-জায়নবাদী হারেদি দলগুলোর ১৬ জন সদস্যকে বাদ দিতে হবে। তারা জায়নবাদ নিয়ে অন্যদের উপদেশ দিতে পারেন না। গোলান উল্লেখ করেন, পরিবর্তনের পক্ষে থাকা জোটে জায়নবাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে; ৪৯ আসনের বিপরীতে ৩৯ আসন। একইভাবে ইসরায়েলি সংখ্যাগরিষ্ঠতাও রয়েছে; ৫৫ আসনের বিপরীতে ৬৫ আসন। ভয় বন্ধ করে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডেমোক্র্যাটস নেতা বলেন, আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আর ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে পরিবর্তনের সরকার গঠনের সুযোগও আমাদের হাতে রয়েছে- যে সরকার সমস্ত ইসরায়েলি নাগরিকের সেবা করবে। এখন আমাদের সাহস প্রয়োজন। এর জন্য নেতৃত্ব দরকার। এদিকে ভোট গণনা চলার মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট ৫৬টি আসন, গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো ১৬টি আসনে রয়েছে।

নেতানিয়াহু হেরে গেছেন, কটাক্ষ গোলানের

মিশিগানে ভোটের লড়াইয়ে ওবামা ও ট্রাম্প

মিশিগান অঙ্গরাজ্যে টানা দুই দিনে প্রচারে অংশ নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রেসিডেন্ট। গত শনিবার ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে প্রচার চালান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পরদিন রোববার পোর্ট হুরনে রিপাবলিকানদের হয়ে ভোট চান বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের শেষ সময়ে দুই নেতার এই প্রচার থেকেই বোঝা যায়, অঙ্গরাজ্যটি দুই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।ওবামা প্রচারে অংশ নেন ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জোসলিন বেনসনের পক্ষে। অন্যদিকে, ট্রাম্প রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সসহ দলের অন্য প্রার্থীদের জন্য ভোট চান। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণে মিশিগানের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।ট্রাম্প ও ওবামার মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ দীর্ঘদিনের। এবারের প্রচারেও তাঁরা একে অপরকে আক্রমণ করেছেন। ট্রাম্প ওবামাকে ব্যর্থ ও অযোগ্য বলে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আল-সাইয়েদকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।অন্যদিকে, ওবামা বলেন, কারও নাম ও ধর্মকে ব্যবহার করে তাঁকে কম দেশপ্রেমিক বা কম আমেরিকান হিসেবে তুলে ধরার কৌশল নতুন নয়। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারে পরিচয় ও ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভাজন তৈরির রাজনীতির সমালোচনা উঠে আসে। নিজের অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে ওবামা বললেন, ‘এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। আমিও তাতে অভিনয় করেছি।’ তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ স্পষ্ট: একসময় তাঁর জন্মপরিচয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল; এখন আল-সাইয়েদের নাম ও মুসলিম পরিচয়কে একইভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পোর্ট হুরনের সভায় ট্রাম্প সরাসরি আল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয়কে আক্রমণের লক্ষ্য করেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে জিহাদি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হিসেবে অভিহিত করেন। আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মিশিগানেই জন্ম নেওয়া এই প্রার্থীর তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে ভয়ের আরেকটি উপাদান ছিল ক্রিসমাস। তিনি দাবি করেন, আল-সাইয়েদ ও ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে জিহাদিদের ঢল নামবে এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসের ফলে পরিস্থিতি এমন হবে যে মানুষ ক্রিসমাসও উদ্‌যাপন করতে পারবে না। তাঁর কথায় ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী আতঙ্কে পরিণত করার চেষ্টা কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে ডেট্রয়েটে ওবামা সামনে আনলেন ভিন্ন এক ছবি। মিশিগানের বর্তমান সিনেটর এলিসা স্লটকিন ইহুদি। তাঁর পাশে আল-সাইয়েদের মতো একজন মুসলিম সিনেটর থাকলে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বে একটি শক্তিশালী জুটি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একজন মুসলিম পুরুষ ও একজন ইহুদি নারী একই অঙ্গরাজ্যের মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন—বিভক্তির রাজনীতির বিপরীতে এই সম্ভাবনাই তুলে ধরলেন ওবামা। অর্থনীতি নিয়েও দুই নেতার বক্তব্য বিপরীতমুখী। ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতি ও প্রশাসনের সাফল্যের পক্ষে সাফাই গাইলেন। ওবামা সামনে আনলেন কীভাবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের শাসনকালকে তিনি বর্ণনা করেন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা ও দুর্নীতির সময় হিসেবে। তাঁর আহ্বান, এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবি জানাতে হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের মিশিগানের আসনটি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের এই প্রতিযোগিতায় দুই দলই সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। তবে ওবামার সমর্থন পেলেই আল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় না। ম্যারিস্টের ১৫-১৮ অক্টোবরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ৫০ শতাংশ, রজার্সের ৪৮ শতাংশ। ২ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার বা মার্জিন অব এররসের মধ্যে। অর্থাৎ লড়াই এখনো অনিশ্চিত; শেষ পর্যন্ত কার সমর্থকেরা বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে আসেন, সেটিই বড় প্রশ্ন। এই লড়াইয়ের আরেকটি বড় উপাদান অর্থ। আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানপন্থী বাইরের সংগঠনগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাকও আল-সাইয়েদের বিপক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বাছাই পর্বে তাঁকে ঠেকাতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ডলার। তবে এই অর্থের লড়াইকে শুধু ‘ইহুদি লবি’র তৎপরতা বলা যথাযথ হবে না। ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের অনেক বড় খেলোয়াড়ই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হাত খুলে অর্থ খরচ করছেন। এক ইলন মাস্কের পকেট থেকেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার আসছে বলে নানা সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটা বড় অংশ ব্যয় হবে মিশিগান ও টেক্সাসে। আল-সাইয়েদের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রগতিশীল নেতারাও। কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেস তাঁর সমর্থনে একটি যৌথ তহবিলে ১০ লাখ ডলার দিয়েছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও নিজের নির্বাচনী তহবিল থেকে তাঁর সমর্থনে ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছেন। এটি সভায় হাতে তুলে দেওয়া নগদ উপহার নয়; নির্বাচনী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য তহবিলের অর্থ। আল-সাইয়েদ নিজেও তাঁর সমর্থকদের মাত্র এক ডলার করে চাঁদা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। মিশিগানে ওবামার উপস্থিতির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুফল অবশ্য অর্থ নয়, ভোটারদের উৎসাহ। দলের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি অনাগ্রহী সমর্থকদের, বিশেষত আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোটকেন্দ্রে টানতে এবং দলের ভেতরের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু জনসভার উচ্ছ্বাস আর ব্যালট বাক্সের ভোট এক নয়। ওবামা মঞ্চে আলো ফেলেছেন; সেই আলো কত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়, উত্তর মিলবে ৩ নভেম্বর।

মিশিগানে ভোটের লড়াইয়ে ওবামা ও ট্রাম্প

আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজের শর্ত নিয়ে যা বললেন মানসুর আব্বাস

মানসুর আব্বাসকে নির্বাচনের রাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গাদি আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ করার জন্য যে শর্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে তাঁর মত কী? জবাবে ইসরায়েলি আবরদের দল রা’আমের নেতা বলেন, আগে দেখতে হবে সরকার গঠন করা সম্ভব কি না। তারপর শর্ত নিয়ে আলোচনা করা যাবে।আব্বাস প্রথমে ইসরায়েলি চ্যানেল ১৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসনসংখ্যার হিসাবকে গুরুত্ব দেন। কারণ, তখন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাচনী পূর্বাভাসে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র উঠে আসছিল। আব্বাস বুঝতে চাইছিলেন, তাঁর দল এবং দলের ভোটারদের সামনে কী কী সম্ভাবনা রয়েছে। দর-কষাকষিতে তাঁর প্রভাব থাকতে পারে। আবার চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যেতে পারে, তাঁর হাতে তেমন কোনো সুযোগই নেই।বিদেশে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নিয়ে আলোচনা হলে অনেক সময় তাঁদের নিজেদের রাজনৈতিক মতামত ও সিদ্ধান্তের বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। কখনো তাঁদের ইসরায়েলের গণতন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়, আবার কখনো তাঁদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে এর বাইরে আরব রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের প্রভাব বাড়ানো, সরকারের কাছে দাবি আদায় এবং রাজনৈতিক সমঝোতার সীমা নিয়ে আলোচনা করছে।তাদের এসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ইতিহাসেও প্রভাব ফেলেছে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেত ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোট সরকারে যোগ দিয়েছিল আরব দল রা’আম। সরকার টিকিয়ে রাখতে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ডানপন্থী নেতা নাফতালি বেনেত।এবারের নির্বাচনেও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। তবে চ্যানেল ১৪-এর সর্বশেষ পূর্বাভাসে তাঁর জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দেখা গেছে। অবশ্য এসব পূর্বাভাস, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নয়।ইসরায়েলের পার্লামেন্টে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। দেশটির আরব নাগরিকদের ভোটও অন্য নাগরিকদের ভোটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সমর্থন সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আবার পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সমর্থন হারালে সরকারের পতনও ঘটতে পারে।তাই ইসরায়েলের রাজনীতি বুঝতে হলে দেশটির আরব নাগরিকদের শুধু বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকার গঠন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা ও প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে।‘অ্যাপার্থাইড’ বা বর্ণবৈষম্য শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইসরায়েলের পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেও বর্ণবৈষম্য চালানোর অভিযোগ তুলেছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে আরবদের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার থাকলেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অধীনে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির সমাধান হয়ে যায় না। তাঁদের আইনি ও রাজনৈতিক অবস্থান আলাদা। একইভাবে, ইসরায়েলের ভেতরে আরব নাগরিকদের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টিও উপেক্ষা করা যায় না। এসব বিষয় আলাদাভাবে বিচার করা প্রয়োজন।একই সঙ্গে এটিও মনে রাখতে হবে, ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা রাজনৈতিক দল গঠন করছেন, পার্লামেন্টে আসন জিতছেন এবং সরকার কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে আলোচনা করছেন। এটিও দেশটির গণতান্ত্রিক বাস্তবতার অংশ। আরব দলগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়েছে। মানসুর আব্বাস চান, তাঁর দল রা’আম সরাসরি সরকারে অংশ নিক। অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট নেতানিয়াহুর পরিবর্তে গঠিত কোনো সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।জোটটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়ন ও তদারকির ব্যবস্থা রেখে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বাজেটসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে তিনি আপস না করার অবস্থান জানিয়েছেন। এই মতপার্থক্যগুলো মিটিয়েই দুই পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়ে একমত হলেই পরবর্তী সরকারের নীতি নিয়ে ঐকমত্য তৈরি হবে না।রা’আম আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটি ইয়োভ সেগালোভিৎসকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি একজন ইহুদি, ইয়েশ আতিদ দলের সাবেক এমপি এবং একসময় ইসরায়েলের জাতীয় গুরুতর অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান ছিলেন।ইসলামপন্থী ও রক্ষণশীল শিকড়সম্পন্ন রা’আমে তাঁর যোগদান পুলিশি ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং দলটির পরিচয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ভোটারদের কেউ এই সিদ্ধান্তকে সম্ভাবনাময় মনে করতে পারেন, কেউ ভুল সিদ্ধান্ত ভাবতে পারেন, আবার কেউ মনে করতে পারেন, এই সহযোগিতা বেশিদিন টিকবে না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁদেরই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এমন একটি রাজনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দূর থেকে অসম্ভব বলে মনে হতে পারে।ইহুদি দলগুলোর মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে গাদি আইজেনকট এক সাক্ষাৎকারে আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সহযোগিতার কয়েকটি শর্ত তুলে ধরেন। তাঁর শর্ত ছিল, ইসরায়েলকে ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকার করতে হবে, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মেনে নিতে হবে, নাগরিকদের সেবা করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করতে হবে এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে স্বীকার করতে হবে, যেটিকে ধ্বংস করতে হবে।আইজেনকট বলেন, তাঁর মতে কোনো আরব দলই এসব শর্ত পূরণ করে না। পরে অক্টোবরে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা একটি পডকাস্টে তিনি আরব কোনো দলের সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।এসব প্রশ্ন সরকার পরিচালনার দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। ৭ অক্টোবরের হামলার পর হামাস নিয়ে মতপার্থক্য সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যাঁরা দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের প্রতি নাগরিকদের আস্থার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। সরকারে অংশ নিতে চাওয়া আরব নেতাদের নিজেদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কঠোর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁদের সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাঁদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে, তবে আগেই ধরে নেওয়া যাবে না যে সেগুলো মেনে নিতে হবে।২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি নিবন্ধে বালাদ দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য সামি আবু শেহাদেহ ৭ অক্টোবরের হামলার কৌশলগত গুরুত্ব এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক লাভ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু বেসামরিক মানুষ হত্যা ও অপহরণের নিন্দা জানাননি। পরে তিনি গণহত্যার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, হামলার নৃশংসতার পুরো চিত্র জানার আগেই নিবন্ধটি লিখেছিলেন। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধটি ওইভাবে প্রকাশ করা উচিত হয়নি।২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর রা’আমের পার্লামেন্ট সদস্য ইমান খতিব-ইয়াসিন শিশু হত্যা ও নারীদের ধর্ষণের খবর নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, এ বিষয়ে আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট ভিডিওচিত্র তিনি দেখেননি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি হামলাটিকে অমানবিক, ইসলামের পরিপন্থী এবং কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে নিন্দা জানান। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। মানসুর আব্বাসও গণহত্যার ঘটনাকে ছোট করে দেখানোর বিরোধিতা করেন এবং খতিব-ইয়াসিনের পদত্যাগ দাবি করেন।এই মন্তব্যগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেগুলোর বিরুদ্ধে দেওয়া প্রতিক্রিয়াগুলোও ইতিহাসের অংশ।২০২১ সালে যে সরকারে রা’আম অংশ নিয়েছিল, সেই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন নাফতালি বেনেত। কিন্তু এখন তিনি একই ধরনের জোট গঠনের বিরোধিতা করছেন। বেনেতের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর আপত্তির কারণ রা’আমের সদস্যদের জাতিগত পরিচয় নয়, বরং দলটির অ-জায়নবাদী রাজনৈতিক অবস্থান। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান রা’আমকে জোট সরকারে নেওয়ার পক্ষে।এই দুই অবস্থানেরই প্রভাব রয়েছে সম্ভাব্য সরকার গঠন এবং সে জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতার ওপর। শুধু আসনসংখ্যা দিয়ে এই মতপার্থক্য বোঝা সম্ভব নয়। কোনো নির্দিষ্ট সরকারে আরব দল অংশ নেবে কি না, তা নির্ভর করে কার্যকর সমঝোতা, সরকারের নীতি এবং জোটের অংশীদারদের মধ্যে আস্থা বজায় রাখার ওপর।কোনো দল আরব দলের সঙ্গে জোট করতে না চাইলে, শুধু সেই কারণে তাকে বর্ণবাদী বলা যায় না। একইভাবে, ইসরায়েলের কোনো আরব নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার বা গ্রহণযোগ্যতা এই শর্তে নির্ভর করতে পারে না যে তাঁকে এমন দল বেছে নিতে হবে, যেটি ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর পছন্দ।গণতন্ত্রে এই পার্থক্যগুলো স্পষ্ট রাখা জরুরি, বিশেষ করে নির্বাচনের ফলাফল যখন এসব বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে। জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন ইসরায়েলের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলে। রাস্তার নিরাপত্তা, সরকারি পরিষেবা এবং নাগরিকদের একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধ, সবকিছুর সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক কৌশল কী হবে, তা নিয়ে আরব দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে। দেশের চরিত্র কেমন হবে এবং রাজনৈতিক সহযোগিতার জন্য কতটা আপস করতে হবে, তা নিয়েও ইহুদি দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।কোনো একজন নেতা পুরো একটি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন না। একইভাবে, একজন ভোটারের পরিচয় জানলেই বোঝা যায় না, তিনি গোপন ব্যালটে কাকে ভোট দিয়েছেন বা কেন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।মানসুর আব্বাস প্রথমেই জানতে চেয়েছিলেন, সরকার গঠন করা সম্ভব কি না। শেষ পর্যন্ত তিনি জোট সরকারের অংশ হতে পারেন, বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দিতে পারেন, অথবা বিরোধী দলে থাকতে পারেন। এসব সম্ভাবনার যেকোনোটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বাস্তবায়িত হতে পারে।মূল প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল নির্বাচনের ফলাফলকে দায়িত্বশীল সরকার পরিচালনায় রূপ দিতে পারবে কি না এবং একই সঙ্গে সেই নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে কি না, যাঁদের প্রতিনিধিরা সরকারে জায়গা পাননি।ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি ইসরায়েল কল্পনা করা প্রয়োজন, যেখানে গুরুতর মতপার্থক্যগুলো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আলোচনা করা হবে। যেখানে কোনো জোট ভেঙে গেলেও বা কোনো দল নির্বাচনে হেরে গেলেও সমান নাগরিকত্বের নীতি অক্ষুণ্ন থাকবে।নির্বাচনের রাতে সবার মনোযোগ থাকে মন্ত্রিসভার টেবিলে কারা বসবেন, সেই হিসাবের দিকে। কিন্তু একটি দেশের গণতন্ত্র শুধু তাঁদের ওপর নির্ভর করে না, যাঁরা ক্ষমতার টেবিলে জায়গা পান। গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি নির্ভর করে তাঁদের অধিকার ও মর্যাদার ওপরও, যাঁদের সেই টেবিলে কোনো আসন নেই।সূত্র: জেরুসালেম পোস্ট

আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজের শর্ত নিয়ে যা বললেন মানসুর আব্বাস

‘ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়তে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই মানের হয়’

শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে অনুষ্ঠানের টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে নূন্যতম মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মানদণ্ড বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। এক সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, ‘শুধু একটা ভালো নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে সবগুলো নির্বাচন সেই একই মানদণ্ডের হয়, সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা শুধু এককালীন আয়োজন নয়। একটা ভালো নির্বাচন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং দেশে একটা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই মানের হয়। সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে।’ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও একই মানদণ্ডে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এক্ষেত্রে সব অংশীজনের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে ইসি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, এই অঙ্গীকারই কমিশনকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণেই এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সিইসি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের মধ্যে কোনো খাদ নেই। আসন্ন ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের মতোই আগামী নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কমিশনের ওপর কোনো পক্ষের চাপ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেভাবেই কাজ করছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রয়োজন। সিইসি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা খুবই দরকার। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই নভেম্বর মাসের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসব আমরা।’ তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে এবং পূর্ণমাত্রায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে তা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, কঠোর হবে আচরণবিধি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিইসি। ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। তিনি জানান, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে। এ কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত করা ক্যামেরাও থাকবে। এতে নির্বাচনে সহিংসতা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ডে থাকবে। সিইসি বলেন, ‘আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত মূল্যায়নে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন এবং সামগ্রিক নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল। সিইসি বলেন, মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা, নির্বাচন কমিশনকে আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তিনি জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সিইসি বলেন, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা মানুষের আস্থা ফেরানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের সহযোগিতায় গুরুত্ব ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মানুষের আস্থা ধরে রাখা, প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এমন হতে হবে, যাতে মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তার সুযোগ না থাকে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সবার সহযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। সাংবাদিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কমিশনের দরজা উন্মুক্ত। তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাবের সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, কমিশন সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায় এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে। অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা জানান সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিকার যেন স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন। কালো টাকা ব্যবহার ও ভোট কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিইসি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সব অংশীজন নিয়ম মেনে নির্বাচনী মাঠে থাকলে কমিশনের জন্য অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে। ১০ মাস থেকে এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করেন। নির্বাচন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেও ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সিইসি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে না। নারী প্রার্থী বাড়াতে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি বলেন, নারী ভোটার পাওয়া গেলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তুলনামূলক কঠিন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নিরুৎসাহিত করা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক প্রচারণা নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য আইনে রাখা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ তরুণদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানান সিইসি। তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে বছরের ১ জানুয়ারিকে ভিত্তি ধরে বয়স গণনা করা হলেও এবার নতুন সুযোগের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সব পক্ষের সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি। তিনি বলেন, নির্বাচনে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একইসাথে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কমিশন। সিইসি বলেন, কমিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। বিডি প্রতিদিন/জেডএ 

‘ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি গড়তে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই মানের হয়’

হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জবাব চান ইসরায়েলিরা

হাজার হাজার মানুষ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে শনিবার তেল আবিবে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম সাধারণ নির্বাচনের তিন দিন আগে তেল আবিবের ‘হোস্টেজ স্কয়ার’ বা বন্দিদের চত্বরে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। ‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি গোষ্ঠী এ সমাবেশের আয়োজন করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় অপহৃত ব্যক্তিদের পরিবার নিয়ে গঠিত এই সংগঠনটি হামলা প্রতিরোধে সরকারের ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহি দাবি করছে। সমাবেশের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, নির্বাচনের তিন দিন আগে তারা তিন বছরের সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্যায়ের আয়োজন করছে। তাদের লক্ষ্য সত্য উন্মোচন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির অন্যান্য স্থানেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের জন্য মানুষ জড়ো হন। তেল আবিবের সমাবেশে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার দলের গাডি আইজেনকোট, যিনি নেতানিয়াহুর প্রধান মধ্য-ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, সমাবেশে আইজেনকোটকে স্বাগত জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘কে আসছেন? পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী!’ স্লোগান দেন। ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলানও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ইসরায়েলি নাগরিক ও আইনজীবী ড্যান আদিন এক্সে দেওয়া পোস্টে বিক্ষোভে বিপুল মানুষের উপস্থিতির কথা জানান। তিনি লেখেন, ডেমোক্র্যাটস দলের মিছিলে রবিন স্কয়ার থেকে হোস্টেজ স্কয়ার পর্যন্ত মানুষের ঢল নেমেছে। তাঁর ভাষায়, এই সমাবেশ পরিবর্তন, আশা ও বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত জনমত জরিপগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট এবং আইজেনকোটের জোট প্রায় সমানে সমান অবস্থানে রয়েছে। কোনো জোটই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়ে তুলনামূলক কম আগ্রহী হতে পারেন। তবে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাসহ পররাষ্ট্রনীতির বেশ কিছু বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। বিক্ষোভের আগে অক্টোবর কাউন্সিল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সতর্ক করে জানায়, সরকারপন্থী কিছু পক্ষ সমাবেশে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি জানায়, এ বিষয়ে তারা পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছে। ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে যুক্ত কিছু পক্ষ ওই রাতের সমাবেশে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। অক্টোবর কাউন্সিলের মূল দাবি, ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার জন্য দায়ী ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকার একটি রাজনৈতিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিশনের অর্ধেক সদস্য নিয়োগ করবে সরকার এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগ করবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে গঠিত এমন কমিশন তারা বয়কট করবেন।

হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জবাব চান ইসরায়েলিরা

নেতানিয়াহুর জন্য দুঃসংবাদ, নির্বাচনী জরিপে এগিয়ে বিরোধীরা

ইসরায়েলের আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে বেশি পছন্দ করছেন নাগরিকেরা। জরিপে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচনে আইজেনকটের দল ইয়াশার পার্টি সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে।বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত চ্যানেল টুয়েলভের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর চেয়ে আইজেনকট ১২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি সমর্থন পেয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ আইজেনকটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা। এর আগে প্রকাশিত জরিপে দুই নেতার মধ্যে ব্যবধান ছিল ১০ শতাংশ পয়েন্ট। নতুন জরিপে সেই ব্যবধান বেড়ে ১২ শতাংশ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নির্বাচনের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি থাকতে প্রকাশিত এই জরিপে পার্লামেন্টের আসন বণ্টন নিয়েও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আইজেনকটের দল ইয়াশার সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে এতে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপের হিসাব অনুযায়ী, ইয়াশার পেতে পারে ২৪টি আসন। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির আসনসংখ্যা হতে পারে ২১। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল টুগেদার পেতে পারে ১৪টি আসন। এ ছাড়া ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস এবং আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট—উভয় দলই পেতে পারে ৯টি করে আসন। অন্যদিকে আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি, কট্টর অর্থোডক্স ইহুদিদের দল শাস এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের জিউইশ পাওয়ার পার্টি আটটি করে আসন পেতে পারে বলে জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জরিপে আরও বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর বিরোধী ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ৫৫টি আসন পেতে পারে। আগের জরিপের তুলনায় এই সংখ্যা দুই আসন বেশি। বিপরীতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন জোটের আসনসংখ্যা হতে পারে ৫১টি। এছাড়া আরব দল দুটি মিলিয়ে আরও ১৪টি আসন পেতে পারে। সে হিসাবে নেতানিয়াহুর জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর মোট আসন দাঁড়াতে পারে ৬৯টিতে। তবে এসব দলকে নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো সরকার গঠনের জোট তৈরি হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে জরিপের আরেকটি প্রশ্নেও নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট। উত্তরদাতাদের ৩৯ শতাংশ বেনেটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেশি উপযুক্ত মনে করেন। নেতানিয়াহুর পক্ষে মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ। আর ২২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে, তাদের কেউই প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য উপযুক্ত নন। নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন নেতানিয়াহুর ভোটে কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও জরিপে জানতে চাওয়া হয়। এতে অংশ নেওয়া ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে, ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে লিকুদ পার্টিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা তাদের কমেছে। বিপরীতে ১২ শতাংশ জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর দলের প্রতি তাদের সমর্থন আরও বাড়িয়েছে। এর আগে গত রোববার নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প। এ সময় তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

নেতানিয়াহুর জন্য দুঃসংবাদ, নির্বাচনী জরিপে এগিয়ে বিরোধীরা

স্থানীয় নির্বাচন : ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ২৫ নভেম্বর প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শনিবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়। মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩ (জ) অনুযায়ী যোগ্যতা অর্জনের তারিখ হিসেবে ৩১ জুলাই ২০০৮ কমিশন নির্ধারণ করেছে। সে প্রেক্ষিতে, ভোটার তালিকা ডাটাবেইজে ৩১ জুলাই ২০০৮ তারিখ বা তার আগে যাদের জন্ম এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত যারা ডাটাবেইজে নিবন্ধিত হয়েছেন বা হবেন তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরত: চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিল এবং দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ সংক্রান্তে বিস্তারিত সময়সূচি কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকার পিডিএফ প্রস্তুত ও মাঠ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসারের কাছে লিংক প্রেরণের শেষ তারিখ আগামী ৪ নভেম্বর, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ৫ নভেম্বর, দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ২০ নভেম্বর সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির শেষ তারিখ ২৩ নভেম্বর দাবি, আপত্তি ও সংশোধনীর জন্য দাখিলকৃত আবেদনের উপর গৃহীত সিদ্ধান্ত সন্নিবেশের শেষ তারিখ ২৪ নভেম্বর, হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ২৫ নভেম্বর। এ কার্যক্রম চলাকালীন মুদ্রিত খসড়া ভোটার তালিকা জনসাধারণের পরিদর্শন ও ভুলত্রুটি সংশোধনের আবেদন দাখিলের আহ্বান জানিয়ে মসজিদ/মন্দিরসহ ধর্মীয় উপসনালয়ে ইমাম/পুরোহিতদের মাধ্যমে নামাজ/প্রার্থনার আগে বা পরে ঘোষণা প্রদান, স্থানীয় সাংবাদিক ও ক্যাবল অপারেটরের মাধ্যমে জনস্বার্থে তা প্রচারের ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয় নির্বাচন : ২৫ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় জুলাইয়ের পর থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এতে চলতি নির্বাচনী চক্রে তার মোট রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের।নির্বাচনী অর্থায়নের নথি থেকে মাস্কের এই ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়কারী রাজনৈতিক দাতা হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম।এদিকে, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মাস্কের পাওয়া সরকারি চুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) পরিচালনার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাস্কের সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাকের একজন মুখপাত্র তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী চক্রে জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী জয়ে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত এই সুপার প্যাকটি সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের সহায়তায় গঠিত কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। এটি লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব আমেরিকা প্যাক পেয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার। টেক্সাসে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মার্কিন সিনেট নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্যাক্সটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার অনেক সুপার প্যাকের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় মাস্কের নতুন অনুদানের তথ্যও জনসমক্ষে আসবে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করে না—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমেও অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্রের ভাষ্য, চলতি নির্বাচনী চক্রে ব্যয় করা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ আগের নির্বাচনের কার্যক্রম বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের এক ব্যর্থ প্রার্থীর জন্য সহায়তা এবং বিতর্কিত একটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বাক্‌স্বাধীনতা ও বন্দুক রাখার অধিকারের সমর্থনে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী নিবন্ধিত ভোটারদের ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর আগের নির্বাচনী চক্রে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সময় মাস্ক প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

সংরক্ষিত নারী আসন পেতে বিএনপির নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে সংসদ সদস্য হচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসনটি পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেত্রীরা। জেলা পর্যায়ের নেত্রীরাও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাননি, এমন অনেক নেত্রীও নতুন করে তৎপর হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ সরাসরি সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের পর তাঁরা নতুন করে সুযোগ দেখছেন।বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দল এখন ক্ষমতায় থাকায় এই আসনে মনোনয়ন পেতে আগ্রহীর সংখ্যা বেশি। পরিচিত নেত্রীদের পাশাপাশি আরও অনেকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়েছেন তাঁরা।তবে শূন্য হওয়া এই আসনে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীদের পাশাপাশি মহিলা দলের নেত্রীরাও আসনটি নিয়ে আগ্রহী। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। তবে হামলা-ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। সংরক্ষিত নারী আসন থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার কারণে একটি আসন শূন্য হয়ে গেছে। নিয়মানুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসন পায়। ফলে মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনটি বিএনপির ভাগের, দলটিই ঠিক করবে কে যাবেন সংসদে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা করেনি। এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হন। গত ৩০ এপ্রিল তাঁদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশিত হয়। শপথ নেন ৩ মে। পাঁচ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মিষ্টি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিষ্টির শূন্য আসনের আলোচনায় আছেন দলটির সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। সংরক্ষিত নারী আসনে আগেও তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী পাপিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ্য নারীদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির উদারতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ করে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হারুনুর রশিদ বিএনপির মনোনয়ন পেয়েও জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। তখন দলের ভেতর আলোচনা ছিল যে সংরক্ষিত আসনে হয়তো পাপিয়াকে সদস্য করা হবে। তবে আলোচিত দম্পতির দুজনই এখন সংসদের বাইরে। তাই এই দম্পতির অনুসারীরা পুনরায় আশা দেখছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী শাহানা আক্তার সানুও সংরক্ষিত নারী আসনের শূন্য পদ পেতে তৎপর। ফেনীর সোনাগাজীর এই নেত্রী ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য আয়শা সিদ্দিকা মনি। বাগেরহাটের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী এর আগে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলনে নারীদের অবদানবিষয়ক বিএনপির কমিটিতেও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিসও মনোনয়নপ্রত্যাশী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। স্বেচ্ছাসেবক দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের নেতৃত্বেও ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী শাহিনুর বেগম সাগরের নামও আলোচনায় রয়েছে। নোয়াখালীর এই নেত্রী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকাও মিষ্টির এই আসনে আগ্রহী। সংগঠনটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিভিন্ন জেলায় মহিলা দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়াসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক সূচিও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন। গত নির্বাচনে তিনি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। জেলা মহিলা দলের দায়িত্বের পাশাপাশি ওই এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ও জনসংযোগে যুক্ত আছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নাচোলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন তিনি। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা চৌধুরী হীরার নামও আলোচনায় আছে। ২০২২ সালের মে মাসে জেলা বিএনপির সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। তিনটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৩৫ ভোট পান হীরা। প্রায় এক যুগ পর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা নেতৃত্বে আসেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি রুনা লায়লাও আছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায়। বিএনপির দায়িত্বশীল একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, পদ একটা, দাবিদার এক ডজনের বেশি। দলের অঙ্গসংগঠনে যাঁরা দীর্ঘদিন সক্রিয় আছেন, তাঁরা বিবেচনার দাবি রাখেন। আবার দলের সমর্থক, সংসদে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন যোগ্য নারীও আছেন। সব দিক বিবেচনা করেই একজনকে বেছে নেওয়া হবে। সবাইকে তো খুশি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি এখনো তা প্রকাশ করেননি। ফলে এখন যত নাম আসছে, সবই আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সংরক্ষিত নারী আসন পেতে বিএনপির নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream