মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মাস্কের কোটি কোটি ডলার ব্যয়

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রচেষ্টায় জুলাইয়ের পর থেকে ২৭৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। এতে চলতি নির্বাচনী চক্রে তার মোট রাজনৈতিক অনুদানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬৬ মিলিয়ন ডলারে। তবে বিপুল অর্থ ব্যয় সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের।নির্বাচনী অর্থায়নের নথি থেকে মাস্কের এই ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল নিউইয়র্ক টাইমস। চলতি নির্বাচনী চক্রে এখন পর্যন্ত একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয়কারী রাজনৈতিক দাতা হিসেবে উঠে এসেছে তার নাম।এদিকে, স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মাস্কের পাওয়া সরকারি চুক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) পরিচালনার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। এতে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মাস্কের সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাকের একজন মুখপাত্র তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করেছেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শুরু হওয়া নির্বাচনী চক্রে জুলাইয়ের পর থেকে দেওয়া ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৫৮ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী জয়ে সহায়তার লক্ষ্যে গঠিত এই সুপার প্যাকটি সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর ও সিনেট মেজরিটি লিডার জন থুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের সহায়তায় গঠিত কংগ্রেশনাল লিডারশিপ ফান্ড পেয়েছে ২০ মিলিয়ন ডলার। এটি লুইজিয়ানার রিপাবলিকান ও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ ছাড়া মাস্কের নিজস্ব আমেরিকা প্যাক পেয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার। টেক্সাসে রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের মার্কিন সিনেট নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি প্যাক পেয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর সঙ্গে প্যাক্সটনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া রিপাবলিকান গভর্নরস অ্যাসোসিয়েশনকে ১০ মিলিয়ন এবং রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেলস অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাক সাতটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার অনেক সুপার প্যাকের তৃতীয় প্রান্তিকের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকায় মাস্কের নতুন অনুদানের তথ্যও জনসমক্ষে আসবে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাতাদের পরিচয় প্রকাশ করে না—এমন বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমেও অর্থ দিয়েছেন মাস্ক। আমেরিকা প্যাকের মুখপাত্রের ভাষ্য, চলতি নির্বাচনী চক্রে ব্যয় করা প্রায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের একটি অংশ আগের নির্বাচনের কার্যক্রম বা অন্যান্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উইসকনসিন সুপ্রিম কোর্টের এক ব্যর্থ প্রার্থীর জন্য সহায়তা এবং বিতর্কিত একটি কর্মসূচি রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে বাক্‌স্বাধীনতা ও বন্দুক রাখার অধিকারের সমর্থনে পিটিশনে স্বাক্ষরকারী নিবন্ধিত ভোটারদের ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর আগের নির্বাচনী চক্রে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সময় মাস্ক প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন। ওই নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

সংরক্ষিত নারী আসন পেতে বিএনপির নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে সংসদ সদস্য হচ্ছেন, তা নিয়ে দলটির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আসনটি পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেত্রীরা। জেলা পর্যায়ের নেত্রীরাও মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাননি, এমন অনেক নেত্রীও নতুন করে তৎপর হয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ সরাসরি সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের পর তাঁরা নতুন করে সুযোগ দেখছেন।বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দল এখন ক্ষমতায় থাকায় এই আসনে মনোনয়ন পেতে আগ্রহীর সংখ্যা বেশি। পরিচিত নেত্রীদের পাশাপাশি আরও অনেকে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়েছেন তাঁরা।তবে শূন্য হওয়া এই আসনে দল কাকে মনোনয়ন দেবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীদের পাশাপাশি মহিলা দলের নেত্রীরাও আসনটি নিয়ে আগ্রহী। রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসার পর রাজনৈতিক দায় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। তবে হামলা-ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিষ্টি। সংরক্ষিত নারী আসন থেকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করার কারণে একটি আসন শূন্য হয়ে গেছে। নিয়মানুযায়ী, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসন পায়। ফলে মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনটি বিএনপির ভাগের, দলটিই ঠিক করবে কে যাবেন সংসদে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪-এর ২৭ ধারা অনুযায়ী, আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা করেনি। এবার বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হন। গত ৩০ এপ্রিল তাঁদের নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশিত হয়। শপথ নেন ৩ মে। পাঁচ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ ছাড়েন মিষ্টি। বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিষ্টির শূন্য আসনের আলোচনায় আছেন দলটির সহ-মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। সংরক্ষিত নারী আসনে আগেও তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদের স্ত্রী পাপিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এক অনুষ্ঠানে যোগ্য নারীদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির উদারতার অভাব রয়েছে—এমন অভিযোগ করে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন তিনি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হারুনুর রশিদ বিএনপির মনোনয়ন পেয়েও জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হেরে যান। তখন দলের ভেতর আলোচনা ছিল যে সংরক্ষিত আসনে হয়তো পাপিয়াকে সদস্য করা হবে। তবে আলোচিত দম্পতির দুজনই এখন সংসদের বাইরে। তাই এই দম্পতির অনুসারীরা পুনরায় আশা দেখছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আইনজীবী শাহানা আক্তার সানুও সংরক্ষিত নারী আসনের শূন্য পদ পেতে তৎপর। ফেনীর সোনাগাজীর এই নেত্রী ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদকও ছিলেন। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন না পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য আয়শা সিদ্দিকা মনি। বাগেরহাটের রাজনীতিতে সক্রিয় এই নেত্রী এর আগে সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ২০২৫ সালে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ আন্দোলনে নারীদের অবদানবিষয়ক বিএনপির কমিটিতেও তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিসও মনোনয়নপ্রত্যাশী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন তিনি। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। স্বেচ্ছাসেবক দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের নেতৃত্বেও ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আইনজীবী শাহিনুর বেগম সাগরের নামও আলোচনায় রয়েছে। নোয়াখালীর এই নেত্রী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে স্বেচ্ছাসেবক দলের মহিলাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকাও মিষ্টির এই আসনে আগ্রহী। সংগঠনটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিভিন্ন জেলায় মহিলা দলের সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে খালেদা জিয়াসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক সূচিও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন। গত নির্বাচনে তিনি নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট নিয়ে গঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। জেলা মহিলা দলের দায়িত্বের পাশাপাশি ওই এলাকায় দলীয় কর্মসূচি ও জনসংযোগে যুক্ত আছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে নাচোলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন তিনি। দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা চৌধুরী হীরার নামও আলোচনায় আছে। ২০২২ সালের মে মাসে জেলা বিএনপির সম্মেলনে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। তিনটি সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৩৫ ভোট পান হীরা। প্রায় এক যুগ পর অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে জেলা নেতৃত্বে আসেন তিনি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি রুনা লায়লাও আছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায়। বিএনপির দায়িত্বশীল একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, পদ একটা, দাবিদার এক ডজনের বেশি। দলের অঙ্গসংগঠনে যাঁরা দীর্ঘদিন সক্রিয় আছেন, তাঁরা বিবেচনার দাবি রাখেন। আবার দলের সমর্থক, সংসদে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন যোগ্য নারীও আছেন। সব দিক বিবেচনা করেই একজনকে বেছে নেওয়া হবে। সবাইকে তো খুশি করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি এখনো তা প্রকাশ করেননি। ফলে এখন যত নাম আসছে, সবই আলোচনা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সংরক্ষিত নারী আসন পেতে বিএনপির নেত্রীদের দৌড়ঝাঁপ

মমতাপন্থীদের সমর্থনের পরই মিলন প্রধান গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর। এর আগে এক পুরোনো হত্যা মামলায় কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠী মিলন প্রধানকে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই—এর খবরে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারের ঘটনায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁরা নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এবং জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছেন। লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেছেন, মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার ‘কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়’, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়—এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, গণতন্ত্রের হত্যা।’ তিনি বলেন, ‘বিজেপির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে কোনো বিশ্বাস নেই। এ কারণেই তারা কখনো ভোট চুরি করে, কখনো সরকার চুরি করে এবং কখনো দল চুরি করে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায়। তারা নির্বাচনে লড়তে চায় না; তারা পুরো নির্বাচনী লড়াইটাই শেষ করে দিতে চায়। কংগ্রেস ভয় পাবে না, মাথা নত করবে না। আমরা লড়ব এবং জিতব।’ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি গ্রেপ্তারকে ‘ভোট চুরি’ এবং ‘চুনাব (নির্বাচন) চুরি’র নির্লজ্জ চেষ্টা বলে মন্তব্য করেন। খাড়গে বলেন, ‘বিজেপি এতটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে যে একটি উপনির্বাচনেও তারা তদন্তকারী সংস্থাগুলোর অপব্যবহার করে বিরোধী দলের একজন প্রার্থীকে নিশানা করে গ্রেপ্তার করছে। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে ‘গণতন্ত্রের মা’ বলে গর্ব করেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি যা করছে, তা গণতন্ত্রের হত্যা। কংগ্রেসকে ভয় দেখানো বা চুপ করানো যাবে না। ঐক্যবদ্ধ ইন্ডিয়া জোট এর বিরুদ্ধে লড়াই করবে।’ কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরীও গ্রেপ্তারের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আজ হঠাৎ করে, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই, কোনো কারণ ছাড়াই স্থানীয় পুলিশ কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে।’ তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে প্রার্থিতা জমা দিয়েছেন এবং জেলার জেলা কালেক্টর তথা রিটার্নিং অফিসারের সামনে শপথ নিয়েছেন, তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সে সময় তিনি কোনো বাধা ছাড়াই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। যখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তাকে সমর্থন করছে, তখন বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে এবং হতাশা থেকে আমাদের সম্ভাবনা নষ্ট করতে তাকে গ্রেপ্তার করেছে।’ ভারতের নির্বাচন কমিশনের এক অন্তর্বর্তী আদেশের পরপরই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই আদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীকেই তাদের মূল নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল ও ঘাস’ বা ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়। অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয় ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক। দলীয় সাংগঠনিক বিরোধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন উপনির্বাচনগুলোর জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এই আদেশের এক দিন পর মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেপ্তারের সঙ্গে তাঁর দলের সমর্থন ঘোষণার সময়ের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। এক্সে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে আমরা সমর্থন করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই সময় নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এটি বিজেপির চেনা ফর্মুলা—পুরোনো মামলা খুঁজে বের করা। কিন্তু এখন কেন? ঠিক তখনই কেন, যখন আমরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের ঘোষণা করলাম?’ তবে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেস গোষ্ঠীর নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারকে সমর্থন করেছেন। রাহুল গান্ধীর পোস্টের জবাবে তিনি এক্সে বলেন, ‘আমরা, ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। নির্বাচনের সময় পরোয়ানা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। রাজ্য কংগ্রেসের নেতৃত্ব সম্ভবত বিষয়টির প্রকৃত বিবরণ রাহুল গান্ধীকে জানায়নি।’ তৃণমূলের দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী গোষ্ঠীর নন্দীগ্রাম প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এর আগে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বলে জানা গেছে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেন। তিনি কংগ্রেসকে ‘সিস্টার পার্টি’ বা বোনের মতো দল বলে উল্লেখ করেন। এদিকে, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি ইরানি রাহুল গান্ধীর নির্বাচন কমিশনের সমালোচনার জবাব দেন। তিনি কংগ্রেসের শাসনামলের কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে কটাক্ষ করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী আজ তাঁর নিজের দলের অন্ধকার ইতিহাসই তুলে ধরেছেন। এটা কি সত্য নয় যে ১৯৮০ সালে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় সরকার সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে দেশের ৯টি রাজ্য সরকারকে বরখাস্ত করেছিল? এটা কি সত্য নয় যে ২০০৫ সালে ইউপিএ সরকারের সময় কংগ্রেস সরকার বিহার বিধানসভা ভেঙে দিয়েছিল? এই কাজকে সুপ্রিম কোর্ট অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেছিল। কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধী কেন বারবার নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করছেন? রাহুল গান্ধী কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন?’ বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্রও নির্বাচন কমিশনের আদেশ নিয়ে রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘প্রথমত, রাহুল গান্ধী ভারতের বিচারব্যবস্থার প্রতি কোনো সম্মানই দেখান না। এখানে একটি বিচারিক প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তার ভিত্তিতে একটি রায় দেওয়া হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে ভবানীপুর আসন ধরে রাখেন। ফলে নন্দীগ্রাম আসনটি শূন্য হয়। নন্দীগ্রাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী উভয়ের জন্যই দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আসন। ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণবিরোধী আন্দোলন নন্দীগ্রামকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত করে। উপনির্বাচনে বিজেপি হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। সিপিআই প্রার্থী করেছে শান্তি গোপাল গিরিকে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন এবং আসামের নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর। ৬ অক্টোবরের ভোট যত এগিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের লড়াই ততই সাধারণ উপনির্বাচনের সীমা ছাড়িয়ে বড় রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত হচ্ছে। দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘাত, বিরোধী দলগুলোর ঐক্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত সমঝোতা এবং নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম আলোচিত লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

মমতাপন্থীদের সমর্থনের পরই মিলন প্রধান গ্রেপ্তার

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  বুধবার  ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, আবাসস্থল পরিবর্তনের কারণে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন গ্রহণ, আবেদনপত্র ইস্যু এবং দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করার শেষ সময় ৭ সেপ্টেম্বর। আবেদনপত্র ইস্যুর শেষ সময় ৯ সেপ্টেম্বর এবং দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটার স্থানান্তরের আবেদনগুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। আগামী নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা যাবে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করবে ইসি: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ সরকার নির্ধারণ করে দেবে না; সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে নির্বাচন কমিশনই (ইসি) এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন। তিনি জানান দুর্গাপূজা, বন্যা, বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজ সোমবার (২৪ আগস্ট)  ‘এক্সিকিউভ লিডারশিপ ডায়ালগ’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সিইসি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ সরকার জানিয়েছে কি না প্রশ্ন উঠলে সিইসি বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে না, আমরাই নেব। সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। দিনক্ষণ আমরাই ঠিক করব। এটা এমন নয় যে সরকার একটি তারিখ দেবে আর আমরা তা ঘোষণা করে দেব। আমাদের সামগ্রিক প্রস্তুতি চলমান আছে।’ সিইসি আরও বলেন, তবে নির্বাচন করতে গেলে অনেক কিছু বিবেচনায় নিতে হয়, যেগুলো অনেক দেশে নেই। প্রথমে দুর্গাপূজার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। বর্ষাকালেরও একটি সমস্যা হয়...বন্যা হয়, এটা একটা সমস্যা। এরপর বার্ষিক পরীক্ষা এসে যাবে। গ্রামভিত্তিক নির্বাচন হলে স্কুলের মধ্যে নির্বাচন হবে। আবার স্কুলের শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হয়। নানাবিধ কনসিডারেশন আছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা একটি সিদ্ধান্ত নেব। তবে আশা করি, এটা এমন নয় যে নির্বাচন অনেক দেরি হবে। যথাসম্ভব সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে এমন একটি সময়ে যাতে আমরা শুরু করতে পারি, সেভাবেই আমরা ব্যবস্থা নেব।’ স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখন বলা যাবে না। এটা অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আমাদের কিছু আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সংশোধন করতে হচ্ছে। তবে তেমন সময় লাগবে না। আমাদের তরফ থেকে আমরা কাজ করে ফেলেছি এবং মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠিয়েছি। এটা হয়ে গেলে আমাদের মোটামুটিভাবে আগের কিছু কাজের জন্য প্রকিউরমেন্টও আছে। আবার কিছু নির্বাচন করার জন্য আইনে বাধ্যবাধকতাও আছে। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ছাড়া তো চলতে পারব না। পুলিশ লাগবে, বিজিবি লাগবে। এরা সবাই তো সরকারের লোক। শুধু আমার নির্বাচন কমিশনের একার প্রস্তুতি নয়। এই সমস্ত বাহিনী যারা নির্বাচনে কাজ করবে, তাদেরও প্রস্তুতি দরকার। নতুন একটি সরকার এসেছে। সুতরাং সবাইকে নিয়ে যখন সবাই প্রস্তুত হবে, তখন বোঝা যাবে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। আমি শুধু আমার ঘরের মধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপ দেব—এমনটা তো নয়। সবাইকে নিয়েই আমাকে নির্বাচনে ঝাঁপ দিতে হবে। সবাইকে নিয়ে যে প্রস্তুতি, সেই প্রস্তুতির জন্য আমরা কার্যক্রম নিয়েছি।’ পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা তাঁর প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চেয়েছি, সারা দেশের অবস্থা জানতে চেয়েছি এবং তিনি কতসংখ্যক পুলিশ দিতে পারবেন বা পারবেন না—এসব বিষয় জানতে চেয়েছি। তাঁকে কিছু পরামর্শও দিয়েছি। তাদের সহযোগিতা লাগবে। বিশেষ করে পুলিশের একটি মনিটরিং সিস্টেম আছে, সেটি আমরা চেয়েছি। নির্বাচনের সময় মনিটরিংয়ের কাজে সেটি ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিও আমরা দেখতে চাই।’ এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে খারাপ হবে না; বরং আরও ভালো করার চেষ্টা থাকবে। জাতীয় নির্বাচনে যে মানদণ্ড তৈরি হয়েছে, তা বজায় রেখেই সবার সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতার ঝুঁকি বেশি থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন অনুযায়ী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এ সময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন কবে হবে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে করতে হবে। ৯০ দিনের মধ্যেই এটা হয়ে যাবে। কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাবে কিনা জানতে চাইলে নাসির উদ্দিন বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে একটি নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচন হবে, এটা তো সারাদেশে নয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করবে ইসি: সিইসি

আইন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য: আইনমন্ত্রী

মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, আইন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়; প্রয়োজনে তা পরিবর্তনযোগ্য। সরকারের কোনো কাজে ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত। সরকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপে ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক বহুদলীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সংলাপের আয়োজন করে। তিনি জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। যদি কোনো ক্ষেত্রে সফল না হই, তাহলে সংশোধনের জন্য আমরা উন্মুক্ত। আইন কোনো পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়; আইন পরিবর্তনযোগ্য।’ মন্ত্রী বলেন, এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হন। জুলাই সনদেও সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে যৌক্তিক কোনো প্রস্তাব এলে তা অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। সরকারের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কিছু দুর্বলতা রয়েছে, তা অস্বীকার করছি না। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের ভুল হতে পারে, তবে আমাদের চিন্তা স্বচ্ছ।’ বিএনপি জুলাই সনদের পথেই এগিয়ে যেতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর আস্থা রাখুন। আমরা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যেতে চাই।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের তোপের মুখে না রাখেন, তাহলে আমরা পথ হারাতে পারি। তবে সেই চাপের ভাষা ও পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ।’ সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। গতি ধীর হতে পারে, তবে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।’ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশে বাধা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। একটি গুমের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি নেওয়া হয়েছে। সরকার গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বলেও জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পেছনে ফিরতে চাই না। আমরা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশনটি যেভাবে তৈরি করা হয়েছিল, সেটি একটি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’-এর মতো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারত। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সরকার সংসদে ফিরবে। তবে কমিশনকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের ক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আইন পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নয়, প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য: আইনমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের পর আপিল

আইনি কোনো বাধা নেই বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে বলে মন্তব্য করেছেন অ‍্যাটর্নি জেনারেল ব‍্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট হাইকোর্টে খারিজের পর এবার আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন বলে এ তথ্য জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।গতকাল সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট এর আগে খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন। অ্যাডভোকেট ইউনূছ আলী আকন্দ রিটের পক্ষে শুনানি করেন। গত বৃহস্পতিবার এ রিট করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ইউনুছ আলী আকন্দ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-(ক) উক্ত দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সে কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের পর আপিল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট

জাতীয় সংসদের সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ সীমিতকরণের অভিযোগ এনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী ভোটগ্রহণের তারিখ আগামী ২০ আগস্ট। ওইদিন দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে রিট

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

আগামী ২০ আগস্ট ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ  দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  ঘোষিত সময়সূচি ও নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য:মনোনয়নপত্র দাখিল: ১৩ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)  মনোনয়নপত্র বাছাই: ১৬ আগস্ট  প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়: ১৮ আগস্ট  ভোটগ্রহণ: ২০ আগস্ট (দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত)  আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনের নির্ধারিত অধিবেশন কক্ষে সংসদ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream