মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বো/মা হাম/লার হুমকির মুখে বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ যাত্রীবাহী বিমানের

বো/মা হাম/লার হুমকির মুখে বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ যাত্রীবাহী বিমানের

বোমা হামলার হুমকি পাওয়ার পর তেল আবিব থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাগামী একটি এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজ বুলগেরিয়ায় জরুরি অবতরণ করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।রোববার বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের ওএস৮২ ফ্লাইটটি রোমানিয়া সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছালে উড়োজাহাজের ক্রুরা বোমা হামলার হুমকি পান। পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন।বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে সোফিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছে দিতে বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান এসকর্ট করে। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুসারে উড়োজাহাজটিতে ছয়জন ক্রু ও ৫১ জন যাত্রী ছিলেন। পরে তাদের সবাই বিমান থেকে নেমে আসেন। এএফপিকে এয়ারলাইনটি জানায়, উড়োজাহাজে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হয়েছে। এয়ারলাইনটি আরও জানায়, উড়োজাহাজের তল্লাশি শেষ হলে যাত্রীদের যত দ্রুত সম্ভব বিকল্প ফ্লাইটে পুনরায় বুকিং দেওয়া হবে। বুলগেরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, একটি সংকট মোকাবিলা দল গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। ফ্লাইটট্র্যাকিং সাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়্যারের তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনস ৮২ রবিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিটে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ছাড়ে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্যে দেখা যায়, রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢোকে, এরপর দক্ষিণে ঘুরে বুলগেরিয়ার দিকে ফিরে যায়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম এডিএস-বি এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় একই সময়ে উড়োজাহাজটি ৭৭০০ স্কোয়াক কোড সম্প্রচার করছিল, যা সাধারণ জরুরি অবস্থার সংকেত।

ইরানের সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে হুতিদের হামলা

ইরানের সহযোগিতায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনে তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।সৌদি আরব ও ইয়েমেনে হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখছে। এই সহযোগিতার ফলে লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরেও হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে গোষ্ঠীটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সৌদি রাজধানী রিয়াদে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। ওই হামলাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিদের সাম্প্রতিক আক্রমণগুলো তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব হামলার পেছনে ইরানের গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সহায়তায় হুতিরা শুধু হামলার সক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, ইয়েমেনের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের সাম্প্রতিক ভূখণ্ডগত অগ্রগতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ও তাদের সামরিক সহায়তার বিষয়ে তেহরান বরাবরই হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের দাবি, ইয়েমেনের হুতিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন সত্তা’ হিসেবে কাজ করে। ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম পক্ষ হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটি দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের হুতিবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের বাইরেও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক অভিযানে ইরানের সহায়তার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনের সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনও বক্তব্য দিয়েছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে হুতিদের হামলা

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।  শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা গত ১৯ মে-এর পর সর্বোচ্চ। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচারসের দাম ৩ দশমিক ৯৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে স্থির হয়। এর আগে গত ১৯ মে ব্রেন্টের দাম সর্বশেষ এতটা উঁচুতে উঠেছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৪৪ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল ডব্লিউটিআইয়ের সর্বোচ্চ দর। চলতি সপ্তাহে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, সপ্তাহজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির হার ব্রেন্টের তুলনায় বেশি ছিল। জ্বালানি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ফলে আগের দরপতন কাটিয়ে আবারও বাড়তে শুরু করে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশগুলোর সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের মতো বড় উৎপাদক দেশের জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে। এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়। আর তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বিভিন্ন দেশের মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে। ফলে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেই তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার আশঙ্কার খবরও বাজারে সেই অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার খবরটি প্রতিবেদনে গুঞ্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; হামলার ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়নি। তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্ন এবং বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ার ওপর। সূত্র: আল-জাজিরা

আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ল অপরিশোধিত তেলের দাম

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট

আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা বিষয়ক’ সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে (সিআইসিএ) ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ওয়াকআউট করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলন কক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করে কক্ষ ত্যাগ করেন।

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে বাংলাদেশের ওয়াকআউট

ইসরায়েলের আকাশসীমায় উড়তে মানতে হবে নতুন নিয়ম

পাইলট ও কেবিন ক্রু হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই এমন দেশের নাগরিকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে দেশটি। দ্বৈত নাগরিকত্বধারীরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন। ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মেনে চলার কথা জানিয়েছে ফরাসি বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও আলজেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ওপর এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা ৩১টি বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকপত্রে ২৯টি দেশের তালিকা রয়েছে। জাতীয়তার ভিত্তিতে বিমানকর্মীদের দায়িত্ব পালনে এমন বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো কীভাবে এই নিয়ম কার্যকর করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আল জাজিরাকে এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, অন্যান্য বিমান সংস্থার মতো তাদেরও যেসব দেশে সেবা পরিচালিত হয়, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম গ্রাহক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে মেনে চলতে হয়। মিডিয়াপার্টের পর্যালোচনা করা এয়ার ফ্রান্সের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের উদ্দেশে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকপত্রে বলা হয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে বিমান সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীরা উভয়েই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন। যেসব দেশের নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে নতুন নির্দেশনার কথা জানায়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলি আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনো দেশের নাগরিক হওয়া চলবে না, যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। প্রতিবেদনগুলোতে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ৩১টি দেশের কথা বলা হয়েছে, আবার ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি অভ্যন্তরীণ শিডিউলিং স্মারকপত্রে ২৯টি দেশের তালিকা রয়েছে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি আফগানিস্তান, ইরাক, লেবানন, কাতার, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকেরাও এই বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই নির্দেশনার কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের দায়িত্ব বণ্টন নতুন করে বিবেচনা করতে হতে পারে। ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটে ঘটনার পর নির্দেশনা প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর এক দিন পরই নতুন বিধিনিষেধের নির্দেশনা জারি করে ইসরায়েল। আল জাজিরা সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ওই ফ্লাইটের একজন ওমানি কো-পাইলটের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ এবং বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন আহত হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এবং পরদিন ইসরায়েলের নতুন নির্দেশনা জারির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রকাশিত তথ্য ও প্রতিবেদন থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। আরও যেসব বিমান সংস্থা নিয়ম মানছে এয়ার ফ্রান্সের পাশাপাশি চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা প্রযোজ্য সব নিয়ম মেনে চলবে। স্মার্টউইংসের মুখপাত্র ভ্লাদিমিরা দুফকোভা আল জাজিরাকে বলেন, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্দেশনাটি পেয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সব নিয়ম পর্যবেক্ষণ ও অনুসরণ করছেন। তবে স্মার্টউইংসের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নির্দেশনার কারণে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা, ক্রু ব্যবস্থাপনা কিংবা ইসরায়েলগামী ও ইসরায়েল থেকে আসা ফ্লাইটে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি। ইউনাইটেড এয়ারলাইনসও তাদের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের জাতীয়তাভিত্তিক এই বিধিনিষেধ সম্পর্কে অবহিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন বিমান সংস্থাটি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি। তারা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশনা পেয়েছে কি না কিংবা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা-ও নিশ্চিত করেনি। নতুন এই বিধিনিষেধের ফলে ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোকে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জাতীয়তা বিবেচনায় রেখে দায়িত্ব বণ্টন করতে হতে পারে। তবে বিভিন্ন বিমান সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্দেশনাটির বাস্তব প্রভাব একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম হতে পারে। সূত্র : আল জাজিরা ও মিডিয়াপার্ট।

ইসরায়েলের আকাশসীমায় উড়তে মানতে হবে নতুন নিয়ম

ইসরায়েলের নির্দেশনায় এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইটে ৩১ দেশের ক্রুদের দায়িত্বে নিষেধাজ্ঞা

এয়ার ফ্রান্স ইসরায়েলের নতুন নির্দেশনা মেনে দেশটির আকাশসীমায় চলাচলকারী ফ্লাইটে নির্দিষ্ট ৩১টি দেশের নাগরিক পাইলট ও কেবিন ক্রুদের দায়িত্ব দেওয়া থেকে বিরত থাকছে। বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর নাগরিকদের লক্ষ্য করে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। ফরাসি আইনজীবীদের মতে, বিদেশি সরকারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মানতে গিয়ে এয়ার ফ্রান্স নিজ দেশের শ্রম আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের নতুন বিধিনিষেধের আওতায় আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও নাইজারসহ ৩১টি দেশের নাগরিকদের ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশকারী ফ্লাইটে কাজ করার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এয়ার ফ্রান্স আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের নতুন বিধিনিষেধ মেনে চলছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, যেসব দেশে তারা ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রবেশসংক্রান্ত বিধিবিধান যাত্রী ও কর্মী- উভয়ের ক্ষেত্রেই মেনে চলতে হয়। ফ্লাইটের সহপাইলটকে ঘিরে ঘটনার পর নির্দেশনা ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম এন১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় গত ১ অক্টোবর বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে নতুন নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, ইসরায়েলের আকাশসীমায় চলাচলকারী ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের এমন কোনও দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা যাবে না, যেসব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের সহপাইলট বিমানটি ছিনতাই করে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে আছড়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন বলে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে। ওই ঘটনায় সহপাইলটের বিরুদ্ধে বিমানের ভারতীয় পাইলটকে আক্রমণের অভিযোগও রয়েছে। আহত পাইলট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পরদিনই বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে এন১২ জানিয়েছে। এয়ার ফ্রান্স বলেছে, তেল আবিবগামী ফ্লাইটের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানানো হয়েছে। প্রভাব পড়তে পারে বহু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থায় ইসরায়েলের নির্দেশনার প্রভাব দেশটিতে, দেশটি থেকে এবং দেশটির আকাশসীমা ব্যবহার করে চলাচলকারী কয়েক ডজন বিমান সংস্থার ওপর পড়তে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আল-জাজিরা। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আল-জাজিরা ইসরায়েলে ফ্লাইট পরিচালনাকারী ১৫টি বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার কাছেও জানতে চেয়েছিল, তারা নতুন নির্দেশনা পেয়েছে কি না এবং এর ফলে কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টনে কোনও পরিবর্তন এনেছে কি না। চেক প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তম বিমান সংস্থা স্মার্টউইংস নির্দেশনা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আপাতত তাদের কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েনি। তবে তারা ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ মেনে চলবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইনস শুধু জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের বলার মতো কিছু নেই। তারা নির্দেশনা পেয়েছে কি না বা তা অনুসারে কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের হাতে আসা এয়ার ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ একটি স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, নির্দেশনা না মানলে বিমান সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্মী- উভয়েই সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে পারেন। তবে আল-জাজিরা স্মারকলিপিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ফরাসি আইনে বৈষম্যের অভিযোগ প্যারিসভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ক্লারা গাঁদাঁর মতে, ইসরায়েলের নির্দেশনা মেনে চলার কারণে এয়ার ফ্রান্স ফ্রান্সের শ্রম আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থানে পড়তে পারে। তিনি বলেন, ৩১টি দেশের নাগরিকদের সবাইকে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করার মধ্য দিয়ে একটি সামষ্টিক ধারণার ভিত্তিতে বৈষম্য করা হচ্ছে। দেশগুলোর বেশির ভাগই আরব বা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফরাসি শ্রম আইনের ১১৩২-১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা নেওয়া নিষিদ্ধ। কর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন, বেতন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এ বিধান প্রযোজ্য। ফলে কোনও কর্মী আল-জেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান বা তালিকাভুক্ত অন্য কোনও দেশের নাগরিক হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট ফ্লাইট থেকে বাদ পড়লে, বেতন কমানো না হলেও তা সরাসরি বৈষম্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে ক্লারা গাঁদাঁর মত। তার মতে, এই বিধিনিষেধ পরোক্ষভাবে জাতিগত পরিচয় কিংবা অনুমিত ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেও বৈষম্য তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পেশাগত প্রয়োজনের কারণে ভিন্ন আচরণের সুযোগ ফরাসি আইনে রয়েছে। তবে সেক্ষেত্রে বৈধ উদ্দেশ্য, আনুপাতিকতা এবং সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকৃতির সঙ্গে বিধিনিষেধের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে হয়। ক্লারা গাঁদাঁ বলেন, বিমান চালানোর ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট জাতীয়তা থাকা পেশাগত শর্ত হতে পারে না। একই পাইলট ও কেবিন ক্রুরা অন্য রুটে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন, অথচ শুধু ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে- এটি তাদের নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা না করারই ইঙ্গিত দেয়। তার মতে, ইসরায়েলের বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখার বাণিজ্যিক স্বার্থ বৈষম্যকে আইনগতভাবে বৈধতা দিতে পারে না। আকাশসীমার সার্বভৌমত্ব বনাম শ্রম আইন তবে কোনও রাষ্ট্রের আকাশসীমা ও ভূখণ্ডে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং অন্য দেশের শ্রম আইনের অধীনে বিমান সংস্থার দায়িত্ব- দুটি পৃথক আইনি বিষয়। কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিমান আইনবিষয়ক অধ্যাপক ভিনসেন্ট কোরেইয়া বলেন, ১৯৪৪ সালের শিকাগো কনভেনশনের প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রতিটি রাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডের ওপর অবস্থিত আকাশসীমায় সার্বভৌমত্ব রয়েছে। কনভেনশনের ১৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনও রাষ্ট্র তার ভূখণ্ডে যাত্রী ও ক্রুদের প্রবেশসংক্রান্ত আইন প্রয়োগ করতে পারে। তার মতে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্রুদেরও অভিবাসন ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ফলে জাতীয়তার ভিত্তিতে তাদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাষ্ট্রগুলোর রয়েছে। তবে ক্লারা গাঁদাঁর বক্তব্য, ইসরায়েলের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের অধিকার থাকলেও তা এয়ার ফ্রান্সকে ফরাসি শ্রম আইন ও বৈষম্যবিরোধী বিধান মানার বাধ্যবাধকতা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি দেয় না। এক্ষেত্রে এয়ার ফ্রান্সের সামনে বিকল্পও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চাইলে বর্তমান শর্তে ইসরায়েলগামী ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে পারে অথবা ফরাসি সরকার, দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কিংবা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে নির্দেশনাটির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। বিধিনিষেধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও মামলা করতে পারে। ক্লারা গাঁদাঁর মতে, বিষয়টি ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়লে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৪৫ হাজার ইউরো জরিমানার বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে। এছাড়া কর্মীদের কাছ থেকে নাগরিকত্বসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তথ্য সুরক্ষা আইনের প্রশ্ন উঠতে পারে। এমন তথ্য সংগ্রহের সঙ্গে কর্মীর কাজের সরাসরি ও প্রয়োজনীয় সম্পর্ক থাকতে হয়। মিডিয়াপার্ট জানিয়েছে, এয়ার ফ্রান্স প্রথমে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের পরিচয় জানানোর অনুরোধ করার কথা বিবেচনা করেছিল। তবে পাইলটদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন অল্টার কর্তৃপক্ষকে সেই পদক্ষেপ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হয়। ইউনিয়নটির মতে, এমন উদ্যোগও নাগরিকত্বের ভিত্তিতে বৈষম্যের শামিল হতে পারে। বিমান আইন বিশেষজ্ঞ কোরেইয়া সতর্ক করে বলেছেন, অন্য দেশগুলোও একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল পরিচালনা আরও জটিল হয়ে উঠবে। বিশেষ করে পাইলটের ঘাটতির সময়ে জাতীয়তার ভিত্তিতে ক্রু বাছাইয়ের বাধ্যবাধকতা বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিকল্পনায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা

ইসরায়েলের নির্দেশনায় এয়ার ফ্রান্সের ফ্লাইটে ৩১ দেশের ক্রুদের দায়িত্বে নিষেধাজ্ঞা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর জোটটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে চার মাসে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। পাশাপাশি প্রথম ২০ দিনেই বড় পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে স্বল্পমেয়াদে তেল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে বিশ্ববাজারের সরবরাহ ঘাটতির মূল সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে আরও বড় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। কেন এত বাড়ছে তেল ও ডিজেলের দাম? বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পেছনে মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুটি যুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের বাজারেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজার অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ডিজেলের দামে কিছুটা নিম্নমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এটি সাময়িক সমাধান হওয়ায় সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। এর আগেই ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার এক গ্যালন (৩ দশমিক ৭৯ লিটার) ডিজেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার। কী ঘোষণা দিয়েছে জি৭? ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে জি৭ নেতাদের ভিডিও বৈঠকের পর জোটটি জানায়, আইইএ’র মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছিলেন, ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুত ছাড়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলো বাজারে ছেড়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় জি৭-এর তেল মজুত ছাড়ার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস চলবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। তবে কোন দেশ কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল ছাড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জি৭ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়েও আইইএ’র মাধ্যমে আলোচনা হবে। এছাড়া জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি পণ্য রফতানিতে বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জি৭ দেশগুলোর তেল শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একই সময়ে একাধিক শোধনাগার বন্ধ হয়ে বাজারে সরবরাহ আরও কমে না যায়। ডিজেলের সংকট কেন এত তীব্র? বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণের কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তেল শিল্প ও বাজার বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসন। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপ আগে সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়া ডিজেল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। তৃতীয়ত, চীনও ডিজেল রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের চাহিদা এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের মৌসুমি সংগ্রহ বা ফসল কাটার সময় ডিজেলের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজেল উৎপাদক ও রফতানিকারক। দেশটি বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রফতানি করে। রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রফতানিকারক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ ব্যারেল ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। অন্যদিকে সৌদি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল উৎপাদক হলেও দেশটির উৎপাদনের বড় অংশ অভ্যন্তরীণ বাজারেই ব্যবহৃত হয়। জি৭-এর উদ্যোগে কি দাম কমবে? জি৭-এর ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। পরে আবার তা প্রায় ১০২ ডলারে উঠে আসে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বিশেষ করে ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমতে পারে। জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাইম আসলামও মনে করেন, জি৭-এর উদ্যোগটি বাজারের ওপর তৈরি চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ছিল। তবে তার মতে, কোন দেশ কত মজুত ছাড়বে এবং কোথায় রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো বাজারের প্রতিক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে পরবর্তী কর্মদিবসে বাজার আবার বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। নিল অ্যাটকিনসনের মতে, জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার উদ্যোগ স্বাগত জানানোর মতো হলেও এতে বিশ্ববাজারের মৌলিক সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। কারণ যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পরও বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ডিজেলের দাম বাড়লে কেন সবকিছুর দাম বাড়ে? ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। কারণ বিশ্বের অর্থনীতির বড় একটি অংশ সরাসরি ডিজেলনির্ভর। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কাউন্সিলের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো ফ্রেডেরিক শ্নাইডারের মতে, পেট্রল মূলত ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হলেও ডিজেল ব্যবহার হয় ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ, ট্রাক্টর, ফসল কাটার যন্ত্র, নির্মাণ ও খনিশিল্পের যন্ত্রপাতি এবং জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটরে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় একসঙ্গে বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং ট্রাকে পরিবহন করা প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামে। কৃষকেরা এ ক্ষেত্রে দ্বিগুণ চাপের মুখে পড়ছেন। একদিকে ডিজেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে সারও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উভয় পণ্যের সরবরাহ ও দামে চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ডিজেলের উচ্চ দাম কার্যত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করে। এতে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, অন্যদিকে পরিবহন ও কৃষিখাতের মুনাফা কমে যায়। ফলে অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ট্রাম্পের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির বাড়তি দাম ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার ডিজেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপকে দ্রুত জরুরি মজুত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি ইউরোপ মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারে বলেও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি বন্ধ করবে না। তার ভাষ্য, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কখনোই চূড়ান্ত পরিকল্পনার অংশ ছিল না। জি৭-এর ঘোষণার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইউরোপ বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চ ডিজেলের দাম মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনে বাধা, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং চীনের ডিজেল রফতানি কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো অব্যাহত থাকলে বাজারের মৌলিক সরবরাহ সংকট থেকেই যাবে। অর্থাৎ জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম স্থায়ীভাবে কমানোর জন্য যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকটের সমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা

বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

ইসরায়েলের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আপত্তি প্রকাশ্যে

মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়নে আপত্তি জানিয়ে প্রক্রিয়াটি আটকে দিয়েছেন। একই অবস্থানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকসও সংহতি জানিয়ে অস্ত্র চালানে বাধা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের গভীর অনাস্থা ফের প্রকাশ্যে এলো।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় প্রতিটি এক টন (২ হাজার পাউন্ড) ওজনের প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা ইসরায়েলকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক বাইডেন প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।সিনেটর জিন শ্যাহিন অভিযোগ করেন, গাজায় নির্বিচার বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধে এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া সিরিয়ায় ইসরায়েলের আগ্রাসী বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, সিনেটের ফরেন রিলেশনস ও প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যদের বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দেওয়ার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরকে সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ নিরসন করে সম্মতি নিতে হয়।প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানান, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জিন শ্যাহিন বলেন, "ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে—তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।"নেতানিয়াহু সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন আরও বলেন, "নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। অথচ নেতানিয়াহু সরকার এ বর্বরতা থামাতে কিছুই করেনি।"ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই নারী ও শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়ল।

ইসরায়েলের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আপত্তি প্রকাশ্যে

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তলাইব গাজায় চলমান নৃশংসতার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অংশীদারিত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গাজায় শিশুদের জীবন যাচ্ছে মার্কিন নির্মিত প্রাণঘাতী অস্ত্রের আঘাতেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিদা তলাইব উল্লেখ করেন, ‘গণহত্যা এখনো চলছে’ এবং ‘মার্কিন নির্মিত বোমার আঘাতে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আর যারা বেঁচে থাকছে তারা সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।’ জাতিগত নিধনের মতো এসব জঘন্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ডে মার্কিন প্রশাসনের সব ধরনের সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল ইসরায়েল

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলিদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিভিন্ন ব্যক্তির হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে নতুন সতর্কবার্তায় ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থানের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইহুদিদের আসন্ন পবিত্র দিনগুলোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মূল্যায়ন করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সংস্থাটির মতে, ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাটি আরও বলেছে, হামাস ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হুতিরাও আফ্রিকা মহাদেশে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার কথা জানিয়েছে। ইরানের আশপাশের দেশগুলোকে ইসরায়েলিদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিসর—সিনাই উপত্যকাসহ—ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করা এবং অবস্থানরত ইসরায়েলিদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশগুলোতে বিমানের ট্রানজিট থাকলে বিমানবন্দর না ছাড়তেও বলা হয়েছে। ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনিভাবে নিষিদ্ধ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এই নিষেধাজ্ঞা দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকেও ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট  

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যা চলছে এটাকে যুদ্ধ বলব না: জেডি ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে। তিনি সরাসরি বলে দেন, এটিকে যুদ্ধ বলাই যায় না। তবে এর শেষ কবে সেটিও জানেন না তিনি। এদিকে এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধটি জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স এই যুদ্ধের পরিণতি বা প্রভাবকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করেন। এমনকি এই সংঘাতকে কী নামে অভিহিত করা উচিত, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি হচ্ছে না।’ এরপর তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি স্বীকার করি, এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার পর ভ্যান্সের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো। তা সত্ত্বেও ভ্যান্স দাবি করেন যে মূল সামরিক অভিযান কেবল ‘প্রায় ছয় সপ্তাহ’ স্থায়ী ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালীর দিকেও মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা করেন ভ্যান্স। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করেন। সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি যখন প্রশ্ন করেন, “এটি কবে শেষ হবে? ” তখন আসলে আমাকে এমন একটি প্রশ্ন করছেন ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে?’ তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, ওই প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না। আপনাকে ইরানিদেরই জিজ্ঞাসা করতে হবে।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দফায় হামলা চালানোর পর ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য জলপথটি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে ভ্যান্সের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করতে সহায়তা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের নতুন একটি চুক্তি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে। ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে এবং এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়া বন্ধ হবে? এর উত্তর হলো, দিন দিন এর প্রভাব কমছে।’ যুদ্ধে আরও বেশি অবদান না রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও ভর্ৎসনা করেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাই জ্বালানি সংকট ঠেকাচ্ছেন বলে প্রশংসা করেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন যা করছি, তা হলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা, যাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা না দেয়। আমরা এখন জ্বালানি সংকটে পড়িনি শুধু প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের কারণে নয়, আমাদের সামরিক বাহিনীর চমৎকার কাজের কারণেও।’ ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে হামলাটির বিষয়ে দেওয়া বর্ণনা নিয়ে তিনি ‘অত্যন্ত সন্দিহান’ বলেও মন্তব্য করেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এটি তদন্ত করছি, কারণ স্পষ্টতই আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা জানতে চাই। আমাদের সামরিক বাহিনী যখন ভুল করে, তখন তারা সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করে।’ ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র হামলার দায় অস্বীকার করেছে। এসব হামলার শিকার ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও খুবই সীমিত। এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ‘কখনোই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না’। যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায়ও দায় অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যালোচনা করা প্রমাণে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইরানের সঙ্গে যা চলছে  এটাকে যুদ্ধ বলব না: জেডি ভ্যান্স
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream