বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

বিশ্ববাজারে তেলের দামে লাগাম টানতে জি৭-এর বড় উদ্যোগ

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি৭। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের পর জোটটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে চার মাসে প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। পাশাপাশি প্রথম ২০ দিনেই বড় পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের ফলে স্বল্পমেয়াদে তেল ও বিশেষ করে ডিজেলের দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে বিশ্ববাজারের সরবরাহ ঘাটতির মূল সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে আরও বড় ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। কেন এত বাড়ছে তেল ও ডিজেলের দাম? বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পেছনে মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের দুটি যুদ্ধ বড় ভূমিকা রাখছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ আরও কমেছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি ডিজেলের বাজারেও তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জলবায়ু ও পণ্যবাজার অর্থনীতিবিদ হামাদ হুসেইন বলেন, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ডিজেলের দামে কিছুটা নিম্নমুখী চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এটি সাময়িক সমাধান হওয়ায় সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট সমস্যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে না। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। এর আগেই ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। যুক্তরাষ্ট্রে গত শুক্রবার এক গ্যালন (৩ দশমিক ৭৯ লিটার) ডিজেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫০ ডলার। এক মাস আগে যা ছিল ৫ দশমিক ৬১ ডলার। কী ঘোষণা দিয়েছে জি৭? ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে জি৭ নেতাদের ভিডিও বৈঠকের পর জোটটি জানায়, আইইএ’র মাধ্যমে সমন্বিতভাবে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়া হবে। এর আগে আইইএ’র নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জানিয়েছিলেন, ৪০ কোটি ব্যারেল জরুরি মজুত ছাড়ার যে সমঝোতা হয়েছিল, তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে সদস্য দেশগুলো বাজারে ছেড়েছে। নতুন কর্মসূচির আওতায় জি৭-এর তেল মজুত ছাড়ার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে এবং চার মাস চলবে। এর মধ্যে প্রথম ২০ দিনেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। তবে কোন দেশ কত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল ছাড়বে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জি৭ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে আরও ডিজেল মজুত ছাড়ার বিষয়েও আইইএ’র মাধ্যমে আলোচনা হবে। এছাড়া জোটভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি পণ্য রফতানিতে বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জি৭ দেশগুলোর তেল শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একই সময়ে একাধিক শোধনাগার বন্ধ হয়ে বাজারে সরবরাহ আরও কমে না যায়। ডিজেলের সংকট কেন এত তীব্র? বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে তিনটি প্রধান কারণের কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তেল শিল্প ও বাজার বিভাগের সাবেক প্রধান নিল অ্যাটকিনসন। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ডিজেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইউরোপ আগে সৌদি আরব ও কুয়েত থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানি করত। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়া ডিজেল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। তৃতীয়ত, চীনও ডিজেল রফতানি কমিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে ডিজেলের চাহিদা এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে কৃষিপণ্যের মৌসুমি সংগ্রহ বা ফসল কাটার সময় ডিজেলের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডিজেল উৎপাদক ও রফতানিকারক। দেশটি বছরে প্রায় ২৪ কোটি ৫ লাখ টন ডিজেল উৎপাদন করে এবং প্রতিদিন প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রফতানি করে। রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল রফতানিকারক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ ব্যারেল ডিজেল আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। অন্যদিকে সৌদি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিজেল উৎপাদক হলেও দেশটির উৎপাদনের বড় অংশ অভ্যন্তরীণ বাজারেই ব্যবহৃত হয়। জি৭-এর উদ্যোগে কি দাম কমবে? জি৭-এর ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে যায়। পরে আবার তা প্রায় ১০২ ডলারে উঠে আসে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বিশেষ করে ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্যের দাম কমতে পারে। জায়ে ক্যাপিটাল মার্কেটসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা নাইম আসলামও মনে করেন, জি৭-এর উদ্যোগটি বাজারের ওপর তৈরি চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় ছিল। তবে তার মতে, কোন দেশ কত মজুত ছাড়বে এবং কোথায় রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে- এসব বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো বাজারের প্রতিক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার ধারণা, সপ্তাহের শেষ দিকে জ্বালানি বাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে পরবর্তী কর্মদিবসে বাজার আবার বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। নিল অ্যাটকিনসনের মতে, জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার উদ্যোগ স্বাগত জানানোর মতো হলেও এতে বিশ্ববাজারের মৌলিক সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। কারণ যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পরও বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ডিজেলের দাম বাড়লে কেন সবকিছুর দাম বাড়ে? ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। কারণ বিশ্বের অর্থনীতির বড় একটি অংশ সরাসরি ডিজেলনির্ভর। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কাউন্সিলের অনাবাসিক জ্যেষ্ঠ ফেলো ফ্রেডেরিক শ্নাইডারের মতে, পেট্রল মূলত ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যবহৃত হলেও ডিজেল ব্যবহার হয় ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ, ট্রাক্টর, ফসল কাটার যন্ত্র, নির্মাণ ও খনিশিল্পের যন্ত্রপাতি এবং জরুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটরে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় একসঙ্গে বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে খাদ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং ট্রাকে পরিবহন করা প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামে। কৃষকেরা এ ক্ষেত্রে দ্বিগুণ চাপের মুখে পড়ছেন। একদিকে ডিজেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে সারও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উভয় পণ্যের সরবরাহ ও দামে চাপ তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, ডিজেলের উচ্চ দাম কার্যত উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করে। এতে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, অন্যদিকে পরিবহন ও কৃষিখাতের মুনাফা কমে যায়। ফলে অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল প্রবৃদ্ধির ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ট্রাম্পের ওপরও বাড়ছে চাপ যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির বাড়তি দাম ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার ডিজেল ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলোকে জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও ইউরোপকে দ্রুত জরুরি মজুত ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এমনকি ইউরোপ মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারে বলেও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রফতানি বন্ধ করবে না। তার ভাষ্য, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কখনোই চূড়ান্ত পরিকল্পনার অংশ ছিল না। জি৭-এর ঘোষণার পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইউরোপ বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উচ্চ ডিজেলের দাম মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন একটি নির্বাহী আদেশ জারির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সামনে কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, জি৭-এর জরুরি মজুত ছাড়ার সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ বাড়লে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অব্যাহত থাকা, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনে বাধা, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং চীনের ডিজেল রফতানি কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো অব্যাহত থাকলে বাজারের মৌলিক সরবরাহ সংকট থেকেই যাবে। অর্থাৎ জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার ফলে বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম স্থায়ীভাবে কমানোর জন্য যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকটের সমাধানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা

ইসরায়েলের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আপত্তি প্রকাশ্যে

মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন (২৮০ কোটি) মার্কিন ডলারের সামরিক অস্ত্র বিক্রির অর্থায়নে আপত্তি জানিয়ে প্রক্রিয়াটি আটকে দিয়েছেন। একই অবস্থানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকসও সংহতি জানিয়ে অস্ত্র চালানে বাধা দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের গভীর অনাস্থা ফের প্রকাশ্যে এলো।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল ও সেমাফোর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত এ চুক্তির আওতায় প্রতিটি এক টন (২ হাজার পাউন্ড) ওজনের প্রায় ৪০ হাজার শক্তিশালী বোমা ইসরায়েলকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গাজায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় সাবেক বাইডেন প্রশাসন এসব ভারী বোমার চালান স্থগিত রেখেছিল।সিনেটর জিন শ্যাহিন অভিযোগ করেন, গাজায় নির্বিচার বেসামরিক মানুষ হত্যা বন্ধে এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া সিরিয়ায় ইসরায়েলের আগ্রাসী বোমাবর্ষণ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে উগ্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, সিনেটের ফরেন রিলেশনস ও প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ সদস্যদের বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্তে অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ বা ভেটো দেওয়ার আইনি ক্ষমতা রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরকে সাধারণত এ ধরনের অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ নিরসন করে সম্মতি নিতে হয়।প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগরি মিকস সম্প্রতি এক বিরল প্রকাশ্য বিবৃতিতে জানান, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা প্রাণঘাতী অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও মার্কিন বিধি মেনে ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।এ বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জিন শ্যাহিন বলেন, "ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। গাজায় তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং সিরিয়ায় যেভাবে বোমাবর্ষণ করছে—তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি।"নেতানিয়াহু সরকারকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শ্যাহিন আরও বলেন, "নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে পরিষ্কার শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন তা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। পশ্চিম তীরে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। অথচ নেতানিয়াহু সরকার এ বর্বরতা থামাতে কিছুই করেনি।"ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশই নারী ও শিশু। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে আবারও ভারী মারণাস্ত্র সরবরাহের মার্কিন উদ্যোগ ওয়াশিংটনেই তীব্র অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়ল।

ইসরায়েলের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আপত্তি প্রকাশ্যে

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তলাইব গাজায় চলমান নৃশংসতার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অংশীদারিত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গাজায় শিশুদের জীবন যাচ্ছে মার্কিন নির্মিত প্রাণঘাতী অস্ত্রের আঘাতেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিদা তলাইব উল্লেখ করেন, ‘গণহত্যা এখনো চলছে’ এবং ‘মার্কিন নির্মিত বোমার আঘাতে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আর যারা বেঁচে থাকছে তারা সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।’ জাতিগত নিধনের মতো এসব জঘন্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ডে মার্কিন প্রশাসনের সব ধরনের সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল ইসরায়েল

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলিদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিভিন্ন ব্যক্তির হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করেছে। বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশে নতুন সতর্কবার্তায় ইসরায়েলিদের ভ্রমণ ও অবস্থানের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইহুদিদের আসন্ন পবিত্র দিনগুলোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মূল্যায়ন করেছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সংস্থাটির মতে, ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তিন বছর পূর্তিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এসব বিক্ষোভের কিছু ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সহিংস রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থাটি আরও বলেছে, হামাস ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হুতিরাও আফ্রিকা মহাদেশে ইসরায়েলিদের ওপর হামলার কথা জানিয়েছে। ইরানের আশপাশের দেশগুলোকে ইসরায়েলিদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আজারবাইজান, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জর্ডান, কাতার, সোমালিল্যান্ড এবং মিসর—সিনাই উপত্যকাসহ—ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করা হয়েছে। এসব দেশে ভ্রমণ না করা এবং অবস্থানরত ইসরায়েলিদের সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশগুলোতে বিমানের ট্রানজিট থাকলে বিমানবন্দর না ছাড়তেও বলা হয়েছে। ইরাক, কুর্দিস্তান, ইয়েমেন, ইরান, সিরিয়া, লেবানন ও সৌদি আরবে ইসরায়েলিদের ভ্রমণ আইনিভাবে নিষিদ্ধ বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এই নিষেধাজ্ঞা দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও সোমালিয়াকেও ইসরায়েলিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এসব দেশে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট  

বাংলাদেশসহ কয়েক দেশে ইসরায়েলিদের সতর্ক করল ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যা চলছে এটাকে যুদ্ধ বলব না: জেডি ভ্যান্স

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছে। তিনি সরাসরি বলে দেন, এটিকে যুদ্ধ বলাই যায় না। তবে এর শেষ কবে সেটিও জানেন না তিনি। এদিকে এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধটি জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভ্যান্স এই যুদ্ধের পরিণতি বা প্রভাবকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করেন। এমনকি এই সংঘাতকে কী নামে অভিহিত করা উচিত, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এটিকে যুদ্ধ বলব না। এই মুহূর্তে কোনো সক্রিয় গোলাগুলি হচ্ছে না।’ এরপর তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমি স্বীকার করি, এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেখানে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র হামলা-পাল্টা হামলার পর ভ্যান্সের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো। তা সত্ত্বেও ভ্যান্স দাবি করেন যে মূল সামরিক অভিযান কেবল ‘প্রায় ছয় সপ্তাহ’ স্থায়ী ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা ধ্বংস করতে সফল হয়েছে। যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালীর দিকেও মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা করেন ভ্যান্স। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করার জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করেন। সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি যখন প্রশ্ন করেন, “এটি কবে শেষ হবে? ” তখন আসলে আমাকে এমন একটি প্রশ্ন করছেন ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে?’ তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, ওই প্রশ্নের উত্তর আমি জানি না। আপনাকে ইরানিদেরই জিজ্ঞাসা করতে হবে।’ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধে জাহাজ চলাচল করত। কিন্তু ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দফায় হামলা চালানোর পর ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য জলপথটি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে ভ্যান্সের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বাড়ানোর পরিস্থিতি তৈরি করতে সহায়তা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার ৬ হাজার ৫০০ কোটি ব্যারেল তেলের মজুদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের নতুন একটি চুক্তি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে সহায়তা করবে। ভ্যান্স বলেন, ‘ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে এবং এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়া বন্ধ হবে? এর উত্তর হলো, দিন দিন এর প্রভাব কমছে।’ যুদ্ধে আরও বেশি অবদান না রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেরও ভর্ৎসনা করেন ভ্যান্স। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাই জ্বালানি সংকট ঠেকাচ্ছেন বলে প্রশংসা করেন। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন যা করছি, তা হলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা, যাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা না দেয়। আমরা এখন জ্বালানি সংকটে পড়িনি শুধু প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের কারণে নয়, আমাদের সামরিক বাহিনীর চমৎকার কাজের কারণেও।’ ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে হামলাটির বিষয়ে দেওয়া বর্ণনা নিয়ে তিনি ‘অত্যন্ত সন্দিহান’ বলেও মন্তব্য করেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এটি তদন্ত করছি, কারণ স্পষ্টতই আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা জানতে চাই। আমাদের সামরিক বাহিনী যখন ভুল করে, তখন তারা সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেয় এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করে।’ ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত এবং আরও প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা উল্লেখ করেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র হামলার দায় অস্বীকার করেছে। এসব হামলার শিকার ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগও খুবই সীমিত। এই ঘটনার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ‘কখনোই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না’। যুদ্ধের প্রথম দিন ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায়ও দায় অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পর্যালোচনা করা প্রমাণে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইরানের সঙ্গে যা চলছে  এটাকে যুদ্ধ বলব না: জেডি ভ্যান্স
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream