বিগত ফ্যাসিবাদী ও পলায়িত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর চালানো দমন-পীড়নের এক ভয়াল স্মারক আজ ২৮ অক্টোবর। বিগত ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ডিবি পুলিশের হাতে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার ও কালরাতের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার ৭ নম্বর পাটিচরা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান (পলাশ)।
স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে রাজপথে আপসহীন ভূমিকা রাখার অপরাধে তাঁকে সেই সময় চরম অমানবিকতার শিকার হতে হয়েছিল। ডিবি পুলিশ কর্তৃক আটক ও রাতে পৈশাচিক শারীরিক নির্যাতন শেষে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় (মামলা নম্বর: ৫৩১০)। পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দীর্ঘ ৪ মাস ২ দিন কারাভোগের পর তিনি মুক্তিলাভ করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক এবং তিনবারের সফল সাবেক সংসদ সদস্য মো. সামসুজ্জোহা খান জোহা’র সার্বিক সহযোগিতা ও আইনি প্রচেষ্টায় তিনি সেই সময় কারাগার থেকে মুক্তি পান। কারামুক্তির পর সাবেক এই সংসদ সদস্য নিজ হাতে ফুল দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন, যা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে স্মরণ করেন এই লড়াকু নেতা।
জেল-জুলুম, অত্যাচার ও পুলিশের নির্মম নির্যাতনও তাঁকে দলীয় আদর্শ থেকে এক বিন্দুও টলাতে পারেনি। কারাবাস ও নির্যাতনের সেই ভয়াল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, “দল আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে, কিন্তু আমি দলকে কিছুই দিতে পারিনি; শুধু সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দলকে ভালোবেসে কাজ করে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি মাত্র।”
বর্তমানে তিনি কোনো পলায়নপর বা ভয়ের মানসিকতায় না থেকে নিজস্ব গতিতে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর এই আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা নওগাঁর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।
মতামত