রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
একনেকের সভায় বড় অঙ্কের ব্যয়ে অনুমোদন পেল ১২ প্রকল্প

একনেকের সভায় বড় অঙ্কের ব্যয়ে অনুমোদন পেল ১২ প্রকল্প

মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়। এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে বুধবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দেওয়া হয়।  অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সংস্থান করা হবে। সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রকল্প সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হলো—ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বা মেট্রোরেলের লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট), রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং মেট্রোরেলের লাইন-৫ (নর্দান রুট) ও লাইন-১-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।  রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন) প্রকল্প।  প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এছাড়া, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (১ম সংশোধন) প্রকল্প, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কাজের উন্নত পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতিপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ, ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট স্থাপন ও কক্সবাজারে বনায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, রংপুর জোনে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু প্রতিস্থাপন, আরডিএ ভবনের সম্প্রসারণ, সিলেট বিভাগের বন্যা পূর্বাভাসের জন্য ডিজিটাল এলিভেশন (থ্রি-ডি) মডেল তৈরি এবং সিলেট-১০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্প। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

শ‌হিদুল ইসলাম, প্রতি‌বেদক:কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে শুরুর দাবিতে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটিতে নির্দিষ্ট সময়ে এর নির্মাণকাজ শুরুর সরকারি প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণার বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ র‌বিবার, স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মনোয়ারা বেগম। এটি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ, মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ কামরুল ইসলাম, বিশিষ্ট রাজনীতিক মিতুল দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম একরাম হোসেন, সার্ক মানবাধিকারের বিভাগীয় মহাসচিব জাফর ইকবাল, শিশুসাহিত্যিক কবি তসলিম খাঁ, ফোরামের বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি আক্তার হোসেন নিজামী, পরিবেশ কর্মী মাসুদ রানা, বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী রোজী চৌধুরী, সাংবাদিক আবছার উদ্দিন অলি, নারীনেত্রী আফরোজা সুলতানা পুর্নিমা, তাহেরা শারমিন, সাবরিনা আফরোজা, লায়ন অলি আহমদ পিন্টু, সাংবাদিক ইলিয়াছ রিপন, জসিম উদ্দিন, এ কে আজাদ, সমাজসেবী মাঈনুদ্দিন, বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ মিসেস আজমেরী প্রমুখ।স্মারকলিপিতে বলা হয়, একনেক অনুমোদনের প্রায় দুই বছর পরও কালুরঘাট নতুন সেতু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ও মূল নির্মাণকাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। ১৪ মে ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন ও নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১৬ নভেম্বর ২০২৪ সালে এক মতবিনিময় সভায়। বিগত ২৬ নভেম্বর ২০২৪ সালের একটি সংবাদমাধ্যমে, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত ফোকাল পার্সন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো.  গোলাম মোস্তফা বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মে-জুনে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ হয়ে যাবে, একইসঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণের কাজও মে-জুন থেকে শুরু হবে, ডিটেইল ডিজাইন করতে এক বছর লাগবে, এরপর টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং এরপর সেতুর কাজ শুরু হবে। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের পর তুলনামূলকভাবে অনেক স্বল্প সময়ে নির্মাণকাজ শুরু ও সম্পন্ন করার উদাহরণ টেনে এতে বলা হয়, আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও যথাযথ তদারকি থাকলে এটা সম্ভব হয়।চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা, বিলম্বের কারণ প্রকাশ, নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা, আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরু এবং ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, কালুরঘাট নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর, শিল্পাঞ্চল, কক্সবাজার রেল যোগাযোগ ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ বিলম্বে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে, জনদুর্ভোগ ও যানজট বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তদারকি, বিলম্বের কারণ প্রকাশ ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে স্মারকলিপিতে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুটি সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দরা বলেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের জনগণকে সাথে নিয়ে কালুরঘাট নতুন সেতু বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।  চট্টগ্রামের জনগণের এই দাবি কোনো আঞ্চলিক দাবি নয়, নাগরিক ফোরামের উদ্যোগের কারণে এটি একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রতিটি পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করে বিভিন্ন গাফিলতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, কিন্তু বারবার চট্টগ্রামবাসী তাদের এই স্বপ্ন পূরণে হতাশ হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, অতীতে বিগত সরকারের সময় এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে বারবার স্মারকলিপি প্রদান করেছে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। এছাড়া বর্তমান নতুন সরকারের কাছেও স্মারকলিপি দিয়ে যথাসময়ে কাজ শুরু করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো দৃশ্যমান কাজ শুরু না হওয়ায় আবার স্মারকলিপি প্রদান করতে হয়েছে।চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে বলেন, "কালুরঘাট নতুন সেতুর স্বপ্নটি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো অবস্থাতেই নিরব হব না। আমাদের দাবি অরাজনৈতিক এবং সামাজিক, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণভাবে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ব্যানারে চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমাদের সচেতন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যতদিন না এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।”

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূতের বৈঠক

মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ সোমবার এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশেষ দূত বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকন্সিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সঙ্কট। এ সঙ্কট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে তার সাথে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সঙ্কটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী। কারণ নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তার অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করবেন বলে জানান। এছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান। একইসাথে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তিনি তুলে ধরেন। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের বিশেষ দূতের বৈঠক

সচিবালয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা, নাব্যতা নিশ্চিতকরণ এবং বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় এই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। আজ রোববার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং তৎসংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশে বিদ্যমান বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। এ পর্যন্ত গৃহীত পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে যথাযথ সমন্বয় নিশ্চিত করে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিবালয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘে তারেক-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতিসংঘে নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেটে নগরীর একটি হোটেলে আজ শনিবার সকালে টেলিভিশন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং কেনা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বোয়িং কিনতে হবে এটা কেউ চাপিয়ে দিচ্ছে না। চাহিদা আছে বলেই আমেরিকা থেকে বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরও কেনা হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, কীভাবে একটি সাইকোপ্যাথিক দুর্নীতি করা যায়, এনার্জি সেক্টর দেখলে বোঝা যাবে। তবে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন জ্বালানি খাতকে। জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, মক্কা চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এতে যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের জন্য অস্বাভাবিক নয়। অনেক দেশই এখন একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকছে। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে যাওয়া দরকার, সেখানে যাওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ায় শ্রমশক্তি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। বর্তমান সরকার এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে। ধাপে ধাপে শ্রমশক্তি রপ্তানি হবে। এ সময় সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

জাতিসংঘে তারেক-ট্রাম্প বৈঠকের সম্ভাবনা

শিক্ষার্থী সিফাতের মুক্তি দাবি ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে

বিরোধী দলনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি ও প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট করায় গ্রেপ্তার কলেজ শিক্ষার্থী সিফাত আবদুল্লাহর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করেছেন। মতিঝিলে আজ শনিবার ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম ‘লংমার্চ’ শুরুর আগে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই দাবি জানান। ‘তাকে মুক্তি দিন। শান্তিপূর্ণভাবে মুক্তি দিন। যদি তা না করেন, তবে মনে রাখবেন যে নূর হোসেন, ইয়াসমিন এবং ড. মিলনের মতো অনেকেই ক্ষমতার আসনে থাকা অনেকের বিরুদ্ধেই পরিস্থিতি পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছিলেন। কেউ বলতে পারে না কখন পচা শামুকের ওপর পা দিয়ে তার পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে’ বলেন জামায়াত আমির  বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, সিফাতকে থানায় নিয়ে গিয়ে দলীয় কর্মীরা হেনস্তা করেছে। তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যেন তার মন্তব্য ‘বাংলাদেশকে ওলটপালট করে দিতে পারে’। ‘সিফাত যে ভাষা ব্যবহার করেছে তাকে সমর্থন না করলেও, যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ সিফাতের মতোই গর্জন করবে’, যোগ করেন শফিকুর রহমান। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ছয় দফা দাবিতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এই লংমার্চ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তবে সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান এতে সপ্তম দাবি হিসেবে ‘চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের প্রত্যাখ্যানের’ ঘোষণা যুক্ত করেন। সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে রাজপথে নামিনি, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নেমেছি। রাজপথ, মহাসড়ক কিংবা জাতীয় সংসদ— সবখানেই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।’ সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ দাবি করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অলি আহমদ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ লংমার্চে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তা কঠোর হাতে দমন করা হবে। জনগণের দাবি মেনে না নিলে সরকারকে পদত্যাগ করা স্বৈরাচারদের পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।’ অন্যদিকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, সরকারের ঘোষিত বিভিন্ন সংস্কার এজেন্ডা ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও লোডশেডিং থামেনি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘সরকার যদি দেশকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চায়, তবে আমরা বারণ করব। কিন্তু তাতেও কাজ না হলে কঠোর অবস্থান নিতে আমরা দ্বিধা করব না।’ মতিঝিলের সমাবেশ শেষে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে জোটের লংমার্চ চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর এবং আগামী মাসে খুলনা ও সিলেটে অনুরূপ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

শিক্ষার্থী সিফাতের মুক্তি দাবি ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে

উসকানি দিয়ে সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা, সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

কেউ কেউ মানুষকে সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। দেশে বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ কেউ যেন নষ্ট করতে না পারে সে জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আজ বৃহস্পতিবার সকালে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গুজব রটানো হচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করতে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ মানুষকে উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। দেশে কোনো রকমের সাম্প্রদায়িক উসকানি বা বিদ্বেষ যেন অস্থিরতার কারণ হতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর, অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী ‘কংস’। শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর কংসের পতন ঘটে। সময়ে সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা সমাজে বিভেদ-বিরোধ জিইয়ে রাখার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সমাজবিরোধী অপশক্তি যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং কেউ যেন বিরাজমান সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুভ জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার —বর্তমান সরকার ও বিএনপি এই নীতিতে বিশ্বাস করে। এই দেশ আপনার, আমার, আমাদের সবার। নাগরিক হিসেবে এ দেশে সবার অধিকার সমান। নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার। ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। এর আগে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি যোগ দেন। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি, ধর্মীয় গুরু, বিশিষ্ট নাগরিক এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পুরোহিত ও সেবায়েতরা অংশ নেন।

উসকানি দিয়ে সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা, সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

বন্দিদশার অবসান, প্রধানমন্ত্রীর কারামুক্তির ১৯ বছর

আজ ৩ সেপ্টেম্বর, ১৯তম কারামুক্তি দিবস প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এক/এগার সরকারের সময়ে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী থাকতে হয় তাকে বিনা বিচারে , ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান। বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ ভোররাতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে গ্রেফতার করে কারান্তরীণ করা হয়। কারাবন্দী অবস্থায় তাকে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি ইংল্যান্ডে যান। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। নির্বাচনে জনগণের রায় নিয়ে সরকার গঠনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন।

বন্দিদশার অবসান, প্রধানমন্ত্রীর কারামুক্তির ১৯ বছর

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে আসেন। এ সময় তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পুষ্পমাল্য অর্পণের পর ফাতেহা পাঠ করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তাঁরা। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বেষ্টনী তুলে নেওয়ার পর সমাধিস্থলে দলীয় নেতা কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে ‘শুভ শুভ শুভ দিন, বিএনপির জন্মদিন’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’ প্রভৃতি স্লোগানে মুখরিত করেন জিয়া উদ্যানের সমাধি প্রাঙ্গণ। বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে পাঁচ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। বিএনপি এমন সময় তাদের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে, যখন দুই দশক পর আবারও রাষ্ট্র পরিচালনা করছে দলটি। আর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে আছেন দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দলটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাদের বড় ছেলে তারেক রহমান দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

রাজধানীতে যানজট নিরসনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

রাজধানীতে অনেক দিনের তীব্র যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর বর্তমান যানজট পরিস্থিতি, ফ্লাইওভার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস ও অবৈধ পার্কিং নিয়ে বিষদ আলোচনা শেষে বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।শহরজুড়ে সব এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত টোল আদায়ের লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি পরিচালনার জন্য একটি নতুন অ্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়ে আগামী ৪ মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।কেন্দ্রীয় ঢাকার ওপর থেকে আন্তঃজেলা বাসের চাপ কমাতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের আগপর্যন্ত আগামী ৪ মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল তৈরি করা হবে।গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি শহরের কেন্দ্রস্থলে যানজট কমানোর লক্ষ্যে কারওয়ান বাজারের ঐতিহ্যবাহী কিচেন মার্কেটটি সরিয়ে গাবতলীতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই পয়েন্টের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বুয়েটের প্রস্তুতকৃত আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ঢাকা শহরে ব্যাটারিচালিত ও সাধারণ অটোরিকশা চলাচলে সুনির্দিষ্ট ও পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।সচিবালয়ের আশপাশে যানজট কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণকে পার্কিং হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং অন্যান্য বিকল্প স্থান অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন।

রাজধানীতে যানজট নিরসনের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে শিক্ষাই হোক সেতুবন্ধন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষাকেই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন। চীন সরকারের আমন্ত্রণে বুধবার সফররত মাহদী আমিন বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। মাহদী আমিন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও গভীর বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় ও নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। বর্তমান সরকারও চীনের সাথে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করা। সে লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি তরুণদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে এগিয়ে রাখতে মান্দারিন (চীনা ভাষা) সহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। শিক্ষাকে সার্বজনীন ও সম্পূর্ণ কর্মমুখী করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, চীনের শীর্ষস্থানীয় পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ বৃদ্ধি, যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ এবং আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। চীনের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় বাড়াতে হবে। একইসাথে চীনে বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে নিবিড় সহযোগিতা প্রয়োজন।’ অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ দাউদ মিয়াসহ চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় যৌথ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র ‘চীন-বাংলাদেশ শিল্প ও শিক্ষা একীকরণ আন্তর্জাতিক সেবা কেন্দ্র’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়। সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে শিক্ষাই হোক সেতুবন্ধন

বিএনপি নেতা বাবুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাহী কমিটির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী এক শোকবার্তায় মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিজি হাসপাতাল) গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জহুরুল ইসলাম বাবুর মৃত্যু হয়। তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং লিভার সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। বাবু পাবনা পিওয়াইসি ক্লাবের একজন কৃতি ক্রিকেটার ছিলেন। তিনি পাবনা সাবেক ক্রিকেটার সমিতিরও সদস্য ছিলেন। সূত্র : বাসস

বিএনপি নেতা বাবুর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল সংস্কার: জহির উদ্দিন স্বপন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশে সংস্কারের জন্য হয়েছে, কোনো বিপ্লব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। রাজধানীর সিরডাপে আজ সোমবার  ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক বহুদলীয় আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে মনে করি এখানে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে সংস্কারের জন্য, কোনো বিপ্লব হয়নি। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে ঐকমত্য তৈরি করতে পারলে সংস্কারের এই কঠিন যাত্রা একটি সুস্থ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রত্যেকে বিষয়গুলো ভিন্নভাবে দেখছেন। রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করতে না পারায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ৩১ দফার চেতনাকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। তবে তা বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করতে হবে। সবাই মিলে কীভাবে তাঁদের গঠনমূলকভাবে যুক্ত করা যায় এবং সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘দূরত্ব কমাতে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সবার মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ঐকমত্য তৈরি ছাড়া এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।’ পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জ্বালানির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা রয়েছে। তাই সব সিদ্ধান্ত দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতিকে সামনে রেখেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করতে হবে।’ সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্য ছিল সংস্কার: জহির উদ্দিন স্বপন

‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে পৌঁছেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ইউক্রেনের স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তির দিনে তাঁর এই সফরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিবিসি জানিয়েছে, সফরকালে বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া ৩৫ টির বেশি দেশের জোট ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর প্রথম বৈঠকেও সভাপতিত্ব করবেন তিনি। সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হিসেবে ইউক্রেনকে নিজ দেশে ব্রিটিশ ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ধরনের দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হবে। এ জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটির নকশা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগির বিষয়ে একটি চুক্তি হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকার ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি এমবিডিএকে ফরাসি ‘স্ক্যাল্প’ ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাজ্য-সংশ্লিষ্ট উপাদান সম্পর্কে কিছু গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেবে। স্ক্যাল্প মূলত স্টর্ম শ্যাডোর ফরাসি সংস্করণ। প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের এবং ৫ দশমিক ১০ মিটার দীর্ঘ স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র প্রায় ১৫০ মাইল বা ২৪১ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত স্থির লক্ষ্যবস্তুতে দিন বা রাত—সব ধরনের আবহাওয়ায় হামলার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ইউক্রেনের নিজস্ব দূরপাল্লার ড্রোন হামলা সক্ষমতার তুলনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কম। তারপরও পশ্চিমা মিত্রদের উন্নত অস্ত্রপ্রযুক্তি ইউক্রেনের সঙ্গে ভাগাভাগি করার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম ইউক্রেনীয় জনগণকে সরাসরি আশ্বস্ত করতে চান, যত দিন প্রয়োজন, তত দিন ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে দেওয়া হুমকি ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করবেন। ইউক্রেন বর্তমানে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার আশায় রয়েছে। দেশটির জন্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অন্যতম জরুরি প্রয়োজন। বার্নহ্যাম ও জেলেনস্কির মধ্যে প্রায় এক মাস আগে ইংল্যান্ডের পোর্টসমাউথে প্রথম বৈঠক হয়েছিল। কিয়েভ সফরে সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় দুই দেশের সামরিক সহযোগিতা এবং ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন বার্নহ্যাম

‘তারেক রহমান ভারতবিরোধী নন’: বিদ্যাভূষণ সোনি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে  ‘ভারতবিরোধী নন’ বলে মন্তব্য করে সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের জন্যই ফলপ্রসূ হতে পারে বলে সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক বিদ্যাভূষণ সোনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করছেন, ভারতে তারেক রহমান  না এলে এই সুযোগ হারিয়ে যেতে পারে এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য যোগাযোগের পথও খোলা নাও থাকতে পারে।বিদ্যাভূষণ সোনি ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এই সফরের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানের পথও খুলতে পারে।সাক্ষাৎকারে সোনি বলেন, অনেক বিষয় এখনও দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত রয়েছে।  তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ বিষয়ে দুই দেশ একমত হলেও পরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।সোনি বলেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার সমাধানেও ভারতের আরও সক্রিয় ভূমিকা চায়। তার মতে, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ছাড়া ভারতের তেমন কিছু করার নেই। কারণ, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ভারতের কথা শুনতে পারে। তারেক রহমানের ভারত সফরের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ ভারতকে এসব সমস্যা সমাধানে তার প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একইসঙ্গে তুলনামূলকভাবে ‘অনেক বেশি খোলামেলা’ এবং ‘ভারতবিরোধী নন’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যাভূষণ সোনি। তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারি মুখপাত্ররা এখন পর্যন্ত যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলো মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য। তবে দুই দেশের রাজনীতিবিদরা এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তাই তারেক রহমানের ভারত সফরের এখনও সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।সোনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে খুবই আশাবাদী’। তার মতে, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘তিনি (তারেক রহমান) যদি না আসেন, তাহলে এই সুযোগটি হারিয়ে যাবে। দীর্ঘ সময়ের জন্য এই যোগাযোগের পথ খোলা নাও থাকতে পারে। আমরা কেউই এই সুযোগ হারাতে চাই না। তাই আমি বেশ আশাবাদী।’তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে নয়াদিল্লি ও ঢাকার কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। গত রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তারেক রহমান দিল্লিতে গেলে সেটি হবে ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। সফর নিয়ে আলোচনা চললেও এখনও কোনও চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

‘তারেক রহমান ভারতবিরোধী নন’: বিদ্যাভূষণ সোনি
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream