বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান। তিনি জানান, বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা সেতু ও দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দু’টির অবস্থান, নকশা ও প্রকল্প ব্যয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বৈঠকে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এছাড়া বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব। বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবুল হোসেন এবং পদ্মা ব্যারেজের প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে আছেন, সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন, এটা আমি বিশ্বাস করি না। তবে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও এর অর্থ এই নয় যে, ডিসেম্বরে দেশে ফেরার পথ তাদের জন্য সুগম হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তার দাবি, এ ধরনের নাশকতার চেষ্টা শুধু ডিসেম্বরকে ঘিরে নয়, শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন চলতে পারে। তবে সরকার এসব চেষ্টা প্রতিহত করবে। ‎পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকা এবং এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সরকার আগেভাগে মজুরি কমিশন গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির সমাধান হওয়ার কথা। ‎তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পাঁচ বছর পরপর পর্যালোচনার কথা। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পর্যালোচনা হয়েছে। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের কথা ছিল না। এরপরও সরকার শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় কমিশন করেছে।‎ ‎আন্দোলনে সহিংস আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই প্রকৃত পোশাকশ্রমিকদের হতে পারে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার অধীনস্থ বাহিনীগুলোর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলেছেন, এসব ঘটনার পেছনে সীমান্তের ওপার থেকে ইন্ধন রয়েছে। ‎জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন কোনো কিছু করতে পারবে বলে সরকার বিশ্বাস করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল অর্থ রয়েছে, যা দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। এর সঙ্গে ডিসেম্বরের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে নিশ্চিত নন। তবে শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে। ‎‎শ্রমিক আন্দোলনে প্রকৃত শ্রমিকদের বাইরে অন্যদের অংশগ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার আগের মতো বলপ্রয়োগ করে আন্দোলন দমাতে চায় না। এসব তরুণও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি ও ভোগান্তি যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করছে সরকার। অল্প সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির অবসান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।‎ ‎শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতে চায়। তিনি নিজে আসুন কিংবা তাকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক, সরকারের চাওয়া একই। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা ট্রাভেল পাস দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আগাম জানাতে চাননি তিনি। পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।‎ ‎পুলিশের বলপ্রয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতির তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেভাবে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেই চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পুলিশের অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বনিম্ন ক্ষয়ক্ষতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চর্চা নিশ্চিত করছে সরকার। ‎

শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা

বাংলাদেশ সোলার এক্সপো- ২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এক্সপোর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।এবারের সোলার এক্সপোর মূল স্লোগান রাখা হয়েছে, ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। ছাদের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং এর মাধ্যমে আয় বাড়ানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের আয়োজনে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

বাংলাদেশ সোলার এক্সপো- ২০২৬ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা ও নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড মানার নির্দেশ তারেক রহমানের

ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা, জাতীয় বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।সোমবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি জানান।সভায় তারেক রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি জোরদার করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, উদ্ধার সরঞ্জামের পর্যাপ্ততা, উদ্ধারকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভূমিকম্পবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রিয়াজুল ইসলাম রিজুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা ও নির্মাণে জাতীয় বিল্ডিং কোড মানার নির্দেশ তারেক রহমানের

দেশে-বিদেশে থাকা সব বাংলাদেশিকে এক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে প্রবাসী এবং দেশে থাকা সব বাংলাদেশিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব হলে এর সুফল দেশের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসীরাও ভোগ করবেন।তিনি বলেন, দেশের জন্য ভালো কিছু করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মানুষ দেশে থাকুক বা বিদেশে, যার যার অবস্থান থেকে দেশের ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাপানের টোকিওতে নিউ ওতানি হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।সভায় জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। স্কুলে জাপানিসহ তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাপানিসহ জার্মান, ফরাসি এবং আরও কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হবে। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী একটি ভাষা বেছে নিতে পারবে।’ এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী বছর থেকে স্কুলগুলোতে জাপানিসহ কয়েকটি বিদেশি ভাষা শেখানোর কার্যক্রম শুরু করার প্রত্যাশা রয়েছে।’ তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে খেলাধুলা, শিল্পকলা ও সংস্কৃতিচর্চার সুযোগও নিশ্চিত করতে চায় সরকার। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে। তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুবিধা পাবে। স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে জাপানের সহযোগিতা নেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, নারী ও শিশুরা যাতে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৫০টি করে শয্যা রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এসব হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর পাশাপাশি শিশু ও নারীদের জন্য বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হবে। এর ফলে গ্রামের মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা বা বিভাগীয় শহরে ছুটতে হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা গেলে বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে। এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে গ্রাম পর্যায়ে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, পুষ্টি, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন করবেন।’ তারেক রহমান বলেন, মানুষকে সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা গেলে রোগের প্রকোপ কমবে এবং চিকিৎসাব্যবস্থার ওপর চাপও হ্রাস পাবে। জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।’ জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের দেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেওয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।’ দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসে অবস্থান করলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানোর মতো ক্ষেত্রগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে সভায় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দেশে-বিদেশে থাকা সব বাংলাদেশিকে এক হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আবারও চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ফেসবুক পেজ

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অফিসিয়াল অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি পুনরায় চালু করা হবে। ট্রাস্টের উপবৃত্তি ও বিবিধ আর্থিক সহায়তায় সেবা গ্রহীতাদের সেবা প্রদানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের এক চিঠিতে এ তথ্য জানা যায়। চিঠিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেককে পাঠানো হয়েছে। এতে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের অফিসিয়াল ফেসবুক ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট/Prime Minister's Education Assistance Trust’ পেজটি গত ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৫ আগস্ট এরপর থেকে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজ স্মৃতি কর্মকারের মৌখিক নির্দেশে বন্ধ রাখা হয়। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি ও বিবিধ আর্থিক সহায়তায় সেবা গ্রহীতাদের সেবা দেওয়ার জন্য ট্রাস্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজটি পুনরায় সক্রিয় করা প্রয়োজন।

আবারও চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ফেসবুক পেজ

ভোটের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা ইসরায়েলে

ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না বলে বুথফেরত জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট—কেউই সহজে সরকার গঠন করতে পারছেন না।সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠন করতে অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। কিন্তু ভোট-পরবর্তী জরিপ অনুযায়ী, কোনো জোটই এই সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি।ইসরায়েলের তিনটি প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর জরিপে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে। আগের পার্লামেন্টে তাঁর জোটের আসন ছিল ৬৮টি। ফলে এবার তাঁর জোটের আসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভের জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৯টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট আরব লিস্ট পেতে পারে ১৯টি আসন।সব মিলিয়ে, নির্বাচনের এই ফলাফলের ইঙ্গিত অনুযায়ী, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারছে না। ফলাফল হিসেবে ইসরায়েলে পরবর্তী সরকার গঠনের লক্ষ্যে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষির পথ উন্মুক্ত হতে পারে।  তবে ইসরায়েলি রাজনীতি মূলত জোট গঠনের ওপরই নির্ভরশীল। সবচেয়ে বড় দল হওয়াটা এখানে মুখ্য নয় আর নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার পথ এখন অস্পষ্ট। বিরোধী শিবিরের জন্যও সরকার গঠনের পথটি বেশ জটিল। নেতানিয়াহু-বিরোধী দলগুলো ভোটের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী তারা ৬৮ থেকে ৭০টি আসন অর্জন করেছে। তবে তারা ডানপন্থী, বামপন্থী ও মধ্যপন্থী-এমনকি ইহুদি ও আরব দলগুলোর মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছে। আইজেনকোটের ‘ইয়াশার’ দলটি বিরোধী বৃহত্তম দল। তবে ক্ষমতায় যেতে হলে তাদের আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের সব নেতা সেটা মেনে নিতে প্রস্তুত নন। তবে, এক্সিট পোল কেবল একটি ধাপ মাত্র। তাই ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক এহাব জাবারিন বলেন, বুথফেরত জরিপগুলোয় নেতানিয়াহুর জোটের ‘স্পষ্ট দুর্বলতা’ উঠে এসেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন কিংবা তার রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে-কোনোটা বলার সময় এখনও আসেনি।’ এহাব জাবারিন আরও বলেন, ‘একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় যদি কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারে, তবে আলোচনা চলাকালে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধান হিসেবে ক্ষমতায় থেকে যেতে পারেন।’ যেহেতু এক্সিট পোলগুলোতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়ই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়ছেন তাই উভয় নেতাই তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা ভোট গণনার রাতটিকে নিজেদের অনুকূলে তুলে ধরার এবং বিজয়ের একটি আখ্যান তৈরির চেষ্টা করেছেন। ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর, নির্বাচনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপটি ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের হাতে চলে যাবে। জেরুজালেমে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে হারজোগ পরামর্শ গ্রহণের একটি প্রক্রিয়া শুরু করবেন, যেখানে প্রতিটি নির্বাচিত দল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে। এই সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে, প্রেসিডেন্ট একজন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। এই প্রার্থী যে সবসময় বৃহত্তম দলের নেতাই হবেন-তা কিন্তু নয়; বরং প্রেসিডেন্টের বিবেচনায় যিনি ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সবচেয়ে সক্ষম বলে মনে হবেন, তাকেই তিনি এই দায়িত্ব দেবেন। সুতরাং ইসরায়েলের নির্বাচনে জয়লাভ মানে কেবল ভোট বা আসন পাওয়া নয়, বরং একটি কার্যকর জোট গঠন করা এবং তা টিকিয়ে রাখাও এর অন্তর্ভুক্ত। সূত্র: সিএনএন, আল জাজিরা

ভোটের পরও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা ইসরায়েলে

জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির চিবা প্রিফেকচারের ইচিকাওয়া শহরে অবস্থিত ‘নিটসু লজিস্টিকস হাব’ পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী এ পরিদর্শনে অংশ নেন।  প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রটোকল অফিসার-২ কামরুল ইসলাম এবং গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পররাষ্ট্রসচিব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, মহাকাশ গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার এবং দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি। স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় নিজের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানের বিনিয়োগ এবং অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের উন্নত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এসব বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে এ বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রগতি আনতে দ্রুত জাপানি দল পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। বৈঠকে জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও আলোচনা হয়। বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশাও জানান প্রধানমন্ত্রী। একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান আঞ্চলিক যোগাযোগ, অবাধ বাণিজ্য প্রবাহ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ সম্পর্ক আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত চিহ্নিত করা, সেসব খাতে সহযোগিতার বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সম্ভাবনাগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি। পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আজ স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান। এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’ প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।’ এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। গবেষণা প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধা, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহনব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকটসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।’ যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।’ দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রী পর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।

বাংলাদেশ-জাপান শীর্ষ বৈঠকে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ

চলে গেলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন। গত বৃহস্পতিবার টোকিওতে ৯০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। সোমবার (২৩ অক্টোবর) ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।১৯৩৬ সালের ১৬ জুলাই জাপানের গুন্মা প্রিফেকচারের তাকাসাকি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ফুকুদা। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি একটি তেল কোম্পানিতে কাজ করেন। পরে বাবার রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তাঁর বাবা তাকেও ফুকুদাও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইয়াসুও ফুকুদা। এরপর টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন ফুকুদা। তখন তাঁর বয়স ছিল ৭১ বছর। তাঁর বাবাও একই বয়সে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।জাপানের ইতিহাসে বাবা ও ছেলে—দুজনেরই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার একমাত্র উদাহরণ এটি। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওয়ের সঙ্গে সফর বিনিময় হয় এবং পূর্ব চীন সাগরে গ্যাস ক্ষেত্র যৌথ উন্নয়নের চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়। ২০০৮ সালে জি-৮ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করে পরিবেশ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। সেই বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন এবং ২০১২ সালে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণ অবসর নেন। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, ফুকুদার অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার কারণেই অনেক কঠিন সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছিল। দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাপানের সম্মান বাড়াতে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

চলে গেলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী লীগের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।সোমবার প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মৈত্রী লীগের সভাপতি ও জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো।সাক্ষাৎকালে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারে মৈত্রী লীগের ভূমিকার জন্য তারো আসোকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।এ সময় ২০০৬ সালে জাপান সফরের স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। ওই সফরে তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁর।অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতিও তুলে ধরেন তারো আসো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকাকালে তারো আসো বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। এ সময় জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারো আসো বলেন, বাংলাদেশের জনগণের একটি বড় অংশই তরুণ। দেশে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে তাঁর সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে কিছু আইনি পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলোও প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর জোরদারে তারো আসোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাপানের সাবেক মন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, দেশটির ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের সিনিয়র সংসদ সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ মৈত্রী লীগের বৈঠক

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট দ্বিগুণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে সামনে রেখে ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এ রুটে সপ্তাহে একটির পরিবর্তে দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। বর্তমানে ঢাকা থেকে জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতি সোমবার একটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান। নতুন সূচি অনুযায়ী, সোমবারের পাশাপাশি প্রতি বৃহস্পতিবারও ফ্লাইট চলাচল করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফর শেষে ২৯ অক্টোবর তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ জানান, চলতি মাসের শেষ দিকেই ঢাকা-নারিতা রুটে দ্বিতীয় ফ্লাইট যুক্ত হচ্ছে। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে নতুন ফ্লাইটটি নিয়মিত পরিচালিত হবে। তিনি জানান, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ায় জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশি, শিক্ষার্থী, গবেষক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। তবে উড়োজাহাজের সংকট, পরিচালন ব্যয় ও বাণিজ্যিক বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে রুটটিতে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে ঢাকা-নারিতা রুটে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করে বিমান। এবার প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকে সামনে রেখে রুটটিতে সাপ্তাহিক ফ্লাইটের সংখ্যা একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে ঢাকা-নারিতা রুটে বিমানের ফ্লাইট দ্বিগুণ

মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, জেলেদের হামলা, পুলিশ সদস্যসহ আহত ২

পটুয়াখালীর গলাচিপায় বুড়াগৌড়ঙ্গ নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে জেলেদের হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ দুজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রতনদী-তালতলী ইউনিয়ন সংলগ্ন বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে হামলার এ ঘটনা ঘটে।  আহত পুলিশ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন ও স্পিডবোট চালক মো. শাহজালালকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গলাচিপা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপার পানপট্টি লঞ্চঘাট থেকে আগুনমুখা, তেতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকারের খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেল থেকে ট্রলার ও স্পিডবোট নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে অভিযান শুরু হয়। পরে সন্ধ্যার দিকে রতনতী তালতলী এলাকার পর বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে দুটি জাল দেখতে পেয়ে অভিযানে থাকা সদস্যরা নদী থেকে একটি ট্রলারে ও অপরটি স্পিডবোটে জাল টেনে তুলছিল।  এসময় দক্ষিণ দিক থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রলার হঠাৎ এসেই স্পিডবোটের ড্রাইভারকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা চালায়। এসময় পাশে থাকা পুলিশ সদস্য জসিম বৈঠা খালি হাতে ধরার চেষ্টা করলে দুজনেই মারাত্মক আহত হয়। গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে একটি ট্রলারে ১০ থেকে ১২ জন জেলে অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার করছিল। তারা নদীতে জাল ফেলে কোথাও লুকিয়েছিল। জালগুলো উদ্ধারের সময় হঠাৎ করে দ্রুতগামী একটি ট্রলার বিপরীত দিক থেকে এসে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলা চালায়। সন্ধ্যা হওয়ায় আমরা কাউকে চিনতে পারিনি।  এসময় একজন পুলিশ সদস্য ও স্পিডবোট ড্রাইভার মারাত্মক আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, জেলেদের হামলায় আহত এক পুলিশ সদস্যসহ দুজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান, জেলেদের হামলা, পুলিশ সদস্যসহ আহত ২

আমাদের কাছে তথ্য আছে, দিল্লির সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ: প্রধানমন্ত্রীকে পরওয়ার

পলাতক স্বৈরাচারের অর্থে একটি পক্ষ দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আপনার ওই সমস্ত গোয়েন্দা তথ্য ভুয়া। এর আগে আমাদের কাছে তথ্য আছে-দিল্লির সাথে আপনাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।’ আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির কার্যালয়ে দলটির ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আপনি কোন গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেন? যে গোয়েন্দা বাহিনী, যে সেটআপ আওয়ামী লীগ রেখে গিয়েছে, নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে জঙ্গি বানিয়ে যারা ক্রসফায়ারে দিয়েছে, রিমান্ডে–আয়নাঘরে নিয়েছে সেই গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে আপনি এখন বিরোধী দলের ওপরে দোষ চাপাবেন?’ মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘এই তো আপনার গোয়েন্দা। সেই গোয়েন্দাকে আপনি বিশ্বাস করেন যারা একদিনে বাংলাদেশের সকল জেলায় আওয়ামী লীগকে মিছিল করতে সাহায্য করেছে। আপনি সেই তথ্যের সূত্র দিয়ে বলেন যে-বিরোধী দল অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে।’ এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অপরিপক্বতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের অভাব’ বলে আখ্যা দেন জামায়াতের এ নেতা। সরকারের উদ্দেশে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি, সংসদের ইতিহাসে শফিকুর রহমানের মতো ‘দেশপ্রেমিক, সৎ নেতৃত্ব’ পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করার অর্থ হলো—নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নীতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ নেই বলে আপনি এই দেশপ্রেমিক বিরোধী দলের ওপরে দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন।’ রাষ্ট্র, সরকার আর রাজনৈতিক দল তিনটি পৃথক সত্তা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন বলেন, সরকার সেটাকে গুলিয়ে ফেলেছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতার বিরুদ্ধে কথা বললে আপনারা বলেন-দেশকে অস্থিতিশীল করছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আরে বাবা, রাষ্ট্র আর সরকার কি এক? সরকার আর সরকারি দল কি এক?’ রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে পরওয়ার বলেন, ‘আপনি রাষ্ট্র ও সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে সরকারি দলের কাজ, রাষ্ট্রের কাজ, সরকারি দলের কাজ আর তার কী ব্যাখ্যাএইটা দয়া করে সরকারকে একটু বোঝানোর চেষ্টা করুন। আপনি একটু ক্লাস করান, তাঁরা তিনটা অর্গানকে গুলিয়ে ফেলছেন আর বিরোধী দলকে ভুল বুঝছেন।’ ২০২৩ সালে এই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা করা হয়েছিল উল্লেখ করে পরওয়ার বলেন, ‘এখন গার্মেন্টস সেক্টরের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি হচ্ছে ২৩ হাজার টাকা। ৯ শতাংশের ওপরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যস্ফীতি, তার চেয়ে আরও বেশি খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি।’ বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম তালুকদারসহ ১১ দলের অন্যান্য নেতারা।

আমাদের কাছে তথ্য আছে, দিল্লির সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ: প্রধানমন্ত্রীকে পরওয়ার

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সফর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বিকেলে মোংলা বন্দর পরিদর্শনে যাবেন। বন্দরের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই তাঁর এ সফর। এর মাধ্যমে মোংলা বন্দরসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সরেজমিনে দেখবেন। এ সময় চীনা বিনিয়োগ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, সুন্দরবন পরিদর্শন, মোংলা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়গুলো তাঁর সামনে তুলে ধরা হবে।তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ফয়লায় খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সফরে বিমানবন্দরটির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের জেটি ও চ্যানেল পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া সুন্দরবন ও হিরণ পয়েন্টে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। আকরাম পয়েন্টে প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনের স্থান এবং চীনা বিনিয়োগভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলও পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বন্দরে এসে চীনের সঙ্গে চুক্তি হওয়া নতুন জেটি নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করবেন। তিনি বন্দরের চ্যানেলে যথাযথভাবে খননকাজ চালানোর দাবি জানান, যাতে নাব্যতা বাড়ে এবং বড় জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করতে পারে।

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর সফর
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream