শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

শীতকালে চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

শীতকালে চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

শীতকাল মানেই মিষ্টি রোদ, পিঠা-পুলির উৎসব আর আরামদায়ক আবহাওয়া। কিন্তু এই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ত্বক ও চুলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতাও কমে যায়, যার ফলে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা টেনে নেয়। এর সঙ্গে ধুলাবালি ও কুয়াশা যোগ হয়ে চুলের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি বৃদ্ধি পায়, বাড়ে খুশকি, চুল সহজে ভেঙে যায় এবং চুলের আগা ফেটে যায়। অনেকেরই এ সময় চুল পড়ার পরিমাণও অনেকখানি বেড়ে যায়, ফলে চুল হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও প্রাণবন্ত ভাব। তবে একটু সচেতনতা এবং প্রতিদিনের ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে শীতেও চুল সুস্থ, নরম ও চকচকে রাখা সম্ভব।

শীতে চুলের যত্নে তেল মালিশ অত্যন্ত কার্যকর। সপ্তাহে অন্তত দুবার হালকা গরম তেল চুলের গোড়ায় মালিশ করা উচিত। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল কিংবা বাদাম তেল এই সময়ে দারুণ উপকারী। আঙুলের ডগা দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে ধীরে ধীরে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়। শ্যাম্পু করার অন্তত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আগে তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। চাইলে রাতে তেল লাগিয়ে পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করেও চমৎকার ফল পাওয়া যায়।

শীতে অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল বা চুল ধোয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত গরম পানি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ধুয়ে ফেলে, ফলে স্ক্যাল্প আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যায় এবং খুশকি বাড়ে। তাই চুল ধোয়ার জন্য সবসময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় শ্যাম্পু শেষে চুলে ঠান্ডা পানি ঢাললে; এটি চুলের কিউটিকল বন্ধ করে চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে এবং চুলের আগা মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

শ্যাম্পু করার পর চুল নরম ও জটমুক্ত রাখতে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে মাথায় রাখবেন, কন্ডিশনার সবসময় চুলের আগা থেকে মাঝামাঝি অংশে লাগাতে হবে, কখনোই সরাসরি স্ক্যাল্প বা গোড়ায় লাগানো যাবে না। দুই থেকে তিন মিনিট চুলে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এ ছাড়া শীতে চুলের বাড়তি পুষ্টির জন্য সপ্তাহে অন্তত একবার মানসম্মত হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও নরম থাকে, ফলে এ সময় চুল খুব সহজেই ভেঙে যায়। তাই চুল ভেজা অবস্থায় ভুলেও আঁচড়াবেন না। তোয়ালে দিয়ে খুব জোরে ঘষে চুল মোছার অভ্যাস বাদ দিন। এর পরিবর্তে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে অতিরিক্ত পানি মুছে নিন। চুল কিছুটা শুকিয়ে ঝরঝরে হলে তবেই চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। সবসময় চুলের নিচের অংশ থেকে জট ছাড়াতে শুরু করলে চুল কম ভাঙে।

বাইরে বের হওয়ার সময় ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা ও ধুলাবালি থেকে চুল সুরক্ষিত রাখতে স্কার্ফ, ওড়না বা টুপি দিয়ে মাথা ও চুল ঢেকে রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন, চুল যেন খুব বেশি টাইট করে বাঁধা না হয়। ঘরে ফিরে এসেই চুল খোলা বাতাসে ছেড়ে দিন, যাতে স্ক্যাল্পে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ চুল ঢাকা রাখলে মাথার ত্বকে ঘাম জমে অন্য সমস্যা হতে পারে।

শীতকালে চুলের যত্নে কোনো জাদুকরি উপায় নেই, বরং নিয়মিত কিছু অভ্যাসই পারে আপনার চুলকে সুরক্ষা দিতে। সঠিক নিয়মে তেল মালিশ, পরিমিত তাপমাত্রার পানির ব্যবহার এবং নিয়মিত কন্ডিশনিং—এই সহজ ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললেই শীতেও আপনার চুল থাকবে নরম, মসৃণ, দীপ্তিময় ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


শীতকালে চুলের যত্ন নিবেন যেভাবে

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শীতকাল মানেই মিষ্টি রোদ, পিঠা-পুলির উৎসব আর আরামদায়ক আবহাওয়া। কিন্তু এই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ত্বক ও চুলের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতাও কমে যায়, যার ফলে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস চুলের ভেতরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা টেনে নেয়। এর সঙ্গে ধুলাবালি ও কুয়াশা যোগ হয়ে চুলের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

শীতকালে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি বৃদ্ধি পায়, বাড়ে খুশকি, চুল সহজে ভেঙে যায় এবং চুলের আগা ফেটে যায়। অনেকেরই এ সময় চুল পড়ার পরিমাণও অনেকখানি বেড়ে যায়, ফলে চুল হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও প্রাণবন্ত ভাব। তবে একটু সচেতনতা এবং প্রতিদিনের ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে শীতেও চুল সুস্থ, নরম ও চকচকে রাখা সম্ভব।

শীতে চুলের যত্নে তেল মালিশ অত্যন্ত কার্যকর। সপ্তাহে অন্তত দুবার হালকা গরম তেল চুলের গোড়ায় মালিশ করা উচিত। নারকেল তেল, অলিভ অয়েল কিংবা বাদাম তেল এই সময়ে দারুণ উপকারী। আঙুলের ডগা দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ধরে ধীরে ধীরে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং চুলের গোড়া শক্ত হয়। শ্যাম্পু করার অন্তত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা আগে তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। চাইলে রাতে তেল লাগিয়ে পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করেও চমৎকার ফল পাওয়া যায়।

শীতে অতিরিক্ত গরম পানিতে গোসল বা চুল ধোয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত গরম পানি মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল বা সিবাম ধুয়ে ফেলে, ফলে স্ক্যাল্প আরও বেশি শুষ্ক হয়ে যায় এবং খুশকি বাড়ে। তাই চুল ধোয়ার জন্য সবসময় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। সবচেয়ে ভালো হয় শ্যাম্পু শেষে চুলে ঠান্ডা পানি ঢাললে; এটি চুলের কিউটিকল বন্ধ করে চুলে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে এবং চুলের আগা মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।

শ্যাম্পু করার পর চুল নরম ও জটমুক্ত রাখতে অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। তবে মাথায় রাখবেন, কন্ডিশনার সবসময় চুলের আগা থেকে মাঝামাঝি অংশে লাগাতে হবে, কখনোই সরাসরি স্ক্যাল্প বা গোড়ায় লাগানো যাবে না। দুই থেকে তিন মিনিট চুলে রেখে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এ ছাড়া শীতে চুলের বাড়তি পুষ্টির জন্য সপ্তাহে অন্তত একবার মানসম্মত হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

ভেজা অবস্থায় চুল সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল ও নরম থাকে, ফলে এ সময় চুল খুব সহজেই ভেঙে যায়। তাই চুল ভেজা অবস্থায় ভুলেও আঁচড়াবেন না। তোয়ালে দিয়ে খুব জোরে ঘষে চুল মোছার অভ্যাস বাদ দিন। এর পরিবর্তে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে চেপে অতিরিক্ত পানি মুছে নিন। চুল কিছুটা শুকিয়ে ঝরঝরে হলে তবেই চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান। সবসময় চুলের নিচের অংশ থেকে জট ছাড়াতে শুরু করলে চুল কম ভাঙে।

বাইরে বের হওয়ার সময় ঠান্ডা বাতাস, কুয়াশা ও ধুলাবালি থেকে চুল সুরক্ষিত রাখতে স্কার্ফ, ওড়না বা টুপি দিয়ে মাথা ও চুল ঢেকে রাখুন। তবে খেয়াল রাখবেন, চুল যেন খুব বেশি টাইট করে বাঁধা না হয়। ঘরে ফিরে এসেই চুল খোলা বাতাসে ছেড়ে দিন, যাতে স্ক্যাল্পে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ চুল ঢাকা রাখলে মাথার ত্বকে ঘাম জমে অন্য সমস্যা হতে পারে।

শীতকালে চুলের যত্নে কোনো জাদুকরি উপায় নেই, বরং নিয়মিত কিছু অভ্যাসই পারে আপনার চুলকে সুরক্ষা দিতে। সঠিক নিয়মে তেল মালিশ, পরিমিত তাপমাত্রার পানির ব্যবহার এবং নিয়মিত কন্ডিশনিং—এই সহজ ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললেই শীতেও আপনার চুল থাকবে নরম, মসৃণ, দীপ্তিময় ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream