দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বার্থে ঢাকামুখী টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্প পর্যায়ক্রমে বাইরের জেলাগুলোতে স্থানান্তরের জোর তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, সমন্বিত প্রিপারেশন বা পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে এই শিল্প ঢাকার বাইরে ছড়িয়ে দিতে পারলে একদিকে যেমন পোশাক শ্রমিকদের আবাসন ও জীবনযাত্রার খরচ নাটকীয়ভাবে কমে আসবে, অন্যদিকে ঢাকা শহরের ওপর অস্বাভাবিক জনসংখ্যার চাপ ও তীব্র যানজট নিরসন সম্ভব হবে।
বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের একটি বড় অংশই ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়া কেন্দ্রিক। এর ফলে একদিকে যেমন রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকাগুলো অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও দূষণের কবলে পড়ছে, অন্যদিকে শ্রমিকরা তাদের আয়ের একটি বিশাল অংশ বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে হারিয়ে ফেলছেন।
জীবনযাত্রার খরচ হ্রাস ও নতুন আশার আলো:
ঢাকার বাইরে তুলনামূলক কম খরচে আবাসন ও খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। শিল্প কারখানাগুলো ঢাকার বাইরে স্থানান্তরিত হলে শ্রমিকরা সস্তায় ভালো মানের বাসা ভাড়া পাবেন। ফলে তাদের সঞ্চয়ের সুযোগ বাড়বে এবং দারিদ্র্যের হার হ্রাস পাবে। একই সাথে গ্রাম থেকে ঢাকামুখী অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন (Rural-to-Urban Migration) হ্রাস পাবে, যা গ্রামীণ অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ঢাকার পরিবেশ ও যানজট মুক্তি:
রাজধানী ঢাকা থেকে ভারী শিল্প সরিয়ে নেওয়া হলে শহরের যানজট ও বায়ুদূষণ বহুলাংশে কমে আসবে। এতে ঢাকাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও সেবা-কেন্দ্রিক বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে।
বাস্তবায়নে প্রিপারেশন ও চ্যালেঞ্জ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ সফল করতে হলে সরকার ও শিল্প মালিকদের এখনই সুনির্দিষ্ট প্রিপারেশন নেওয়া প্রয়োজন:
অবকাঠামোগত নিশ্চয়তা: ঢাকার বাইরে পরিকল্পিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ (SEZ) গড়ে তুলে সেখানে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা নিশ্চিত করা।
যোগাযোগ ও লজিস্টিকস: চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর এবং অন্যান্য যোগাযোগ পথের সাথে দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেন রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।
সামাজিক সুসংগঠন: কারখানা স্থানান্তরের পাশাপাশি শ্রমিক পরিবারের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার মতো মৌলিক সুবিধাগুলো গ্রামীণ বা মফস্বল এলাকায় নিশ্চিত করা।
সঠিক পরিকল্পনা ও রাষ্ট্রীয় নীতি সহায়তার মাধ্যমে টেক্সটাইল শিল্পের এই বিকেন্দ্রীকরণ বাস্তবায়ন করা গেলে তা দেশের সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং রাজধানী পুনর্গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মতামত