আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ পেরিয়ে স্মার্ট প্রযুক্তি,কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কথা বলছি। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা,যোগাযোগ ও কর্মক্ষেত্র। কিন্তু এই অগ্রগতির আড়ালে একটি উদ্বেগজনক বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। আর তা হলো,নারীদের জন্য অনলাইন জগৎ এখনো নিরাপদ হয়ে ওঠেনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে এই জগৎ তাঁদের জন্য ভয়, অপমান ও মানসিক চাপের নতুন ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষ করে যেসব নারী নিজেদের যোগ্যতা,মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রশাসন,সরকারি দপ্তর কিংবা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নিচ্ছেন,তাঁদের অনেককেই নানা ধরনের অনলাইন হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা,কারও চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন,আবার কারও পেশাগত দক্ষতা ও সিদ্ধান্তকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো,এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কোনো নারী আইনের আশ্রয় নিলে অনেক সময় তাঁকে নতুন করে সামাজিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। অর্থাৎ হয়রানির শিকার হওয়ার পর বিচার চাইতে গিয়েও তাঁকে আরেক দফা হয়রানি সহ্য করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত দুর্ভোগের বিষয় নয়,এটি নারীর নিরাপত্তা,মর্যাদা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও বড় বাধা।
অভিযোগের পর শুরু হয় নতুন করে অপপ্রচার:
অনলাইনে কোনো নারী হয়রানির শিকার হলে তাঁর প্রথম চাওয়া থাকে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অভিযোগ দায়েরের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তাঁদের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রচারণা শুরু করেন। ভুক্তভোগী নারীর ব্যক্তিগত জীবন,পেশাগত পরিচয় ও অতীত নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ছড়ানো হয়।
কখনো নিজেদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থানকারী হিসেবে তুলে ধরে অভিযুক্তরা জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন। আবার কখনো বিভিন্ন ফেসবুক পেজ,ভুয়া পরিচয় ও অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে একজন নারীকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলে।
এর প্রভাব শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে মানববন্ধন,ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়। কোনো মামলার আসামি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে এমন কর্মসূচি হলেই তা অপরাধের প্রমাণ হয়ে যায় না। তবে এসব কর্মসূচির আড়ালে যদি বিচারাধীন বিষয়কে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ,ভয় দেখানো কিংবা মামলা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়া হয়,তাহলে সেটি অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
আদালতে বিচার চলবে আইনের ভিত্তিতে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে দোষী কিংবা নির্দোষ ঘোষণা করার প্রবণতা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর জন্য নতুন সংকট তৈরি করে।
নারী হয়েও নারীর বিরুদ্ধে অবস্থান কেন?
অনলাইন হয়রানির আরেকটি দিক হলো, অনেক সময় নারীরাও অন্য নারীর বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচারে যুক্ত হন। একজন নারী যখন নিজের যোগ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসীন হন,তখন তাঁর কাজের সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু সেই সমালোচনা যখন ব্যক্তিগত আক্রমণ,চরিত্র নিয়ে কুৎসা কিংবা অপমানের পর্যায়ে চলে যায়, তখন সেটিকে আর স্বাভাবিক মতপ্রকাশ বলা যায় না।
সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পুরুষতান্ত্রিক চিন্তাভাবনার প্রভাব অনেক সময় নারীদের মধ্যেও কাজ করে। ফলে কোনো নারী নিজের অধিকার ও অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে গেলে অন্য নারীর কাছ থেকেও বিরূপ আচরণের শিকার হতে পারেন।
কর্মক্ষেত্রেও বিষয়টি উদ্বেগজনক। কোনো নারী কর্মকর্তার অধীনস্থ বা সহকর্মীদের কেউ যদি ব্যক্তিগত বিরোধ, পেশাগত প্রতিযোগিতা কিংবা অন্য কোনো স্বার্থে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান,তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে।
অবশ্যই কোনো কর্মকর্তার কাজের সমালোচনা বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া ব্যক্তিগত আক্রমণ,চরিত্রহনন কিংবা পরিকল্পিত অপপ্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যেমন জরুরি,তেমনি অভিযোগকারীর পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করাও প্রয়োজন।
বিশেষায়িত সেবা থাকলেও ভোগান্তি কেন কমছে না?
অনলাইনে হয়রানির শিকার নারীদের সহায়তার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন’ (PCSW) চালু করা হয়েছে। নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত এই সেবার উদ্দেশ্য হলো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ গ্রহণ,পরামর্শ প্রদান এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার পথ দেখানো।
এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো,বিশেষায়িত সেবার বাইরে মাঠপর্যায়ে একজন ভুক্তভোগী নারী কতটা সহযোগিতা পাচ্ছেন?
অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ভুক্তভোগীকে নানা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ডিজিটাল অপরাধের ধরন,তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত বিষয় সম্পর্কে সব পর্যায়ের কর্মকর্তার সমান দক্ষতা না থাকায় অভিযোগের যথাযথ গুরুত্ব পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
আবার অপরাধীরা ভুয়া আইডি,ছদ্মনাম ও একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একই ধরনের হয়রানি চালিয়ে যেতে পারে। এসব অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে প্রযুক্তিগত তদন্তের প্রয়োজন হয়। আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহেও সময় লাগতে পারে।
ফলে একজন নারী যখন দ্রুত প্রতিকার চান,তখন তাঁকে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। শুধু অভিযোগ গ্রহণ বা সাধারণ পরামর্শ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন দ্রুত তদন্ত,প্রমাণ সংরক্ষণ এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর কার্যকর ব্যবস্থা।
বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন ও বিধিবিধানে বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন এসেছে। তবু অনলাইন হয়রানির শিকার নারীদের জন্য দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নানা সমস্যা রয়ে গেছে।
প্রথম সমস্যা হলো ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ ও গ্রহণযোগ্যতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট,ছবি, ভিডিও কিংবা মন্তব্য প্রকাশের পর অনেক সময় সেগুলো মুছে ফেলা হয়। ভুক্তভোগীও মানসিক চাপে পড়ে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট বা কথোপকথন সরিয়ে ফেলতে পারেন। পরে এসব তথ্যের যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুরু থেকেই ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
দ্বিতীয় সমস্যা হলো,আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে নতুন করে হয়রানি। কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আবারও ভুক্তভোগীকে হুমকি দিলে,তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালালে কিংবা মামলা প্রত্যাহারের চাপ সৃষ্টি করলে বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। জামিনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ, নতুন অপরাধ কিংবা ভুক্তভোগীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তৃতীয় সমস্যা হলো,অনেক ক্ষেত্রে নারীকে লক্ষ্য করে চালানো অনলাইন আক্রমণকে কেবল মানহানির ঘটনা হিসেবে দেখা হয়। অথচ একজন কর্মজীবী নারীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার তাঁর ব্যক্তিগত সম্মান নষ্ট করার পাশাপাশি পেশাগত অবস্থান, কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে।
তাই অপরাধের প্রকৃতি,উদ্দেশ্য,পুনরাবৃত্তি এবং ভুক্তভোগীর ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একজন নারী কর্মকর্তা কিংবা সাধারণ নারী যখন সব ধরনের নিয়ম মেনে অভিযোগ করেন,প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ দেন এবং আইনের আশ্রয় নেন,তখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়।
কিন্তু অভিযোগের পরও যদি একই ধরনের অপপ্রচার চলতে থাকে,কর্মক্ষেত্রে তাঁকে বিব্রত করা হয় কিংবা অধীনস্থদের কেউ অনলাইন হয়রানিতে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হন,তাহলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আচরণবিধি ও আইন অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু কমিটি গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কমিটিকে কার্যকর হতে হবে,অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তদন্ত ও সুপারিশ দিতে হবে।
প্রশাসনের নীরবতা কিংবা দীর্ঘসূত্রতা অনেক সময় ভুক্তভোগীকে আরও অসহায় করে তোলে। একই সঙ্গে অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অন্যরাও এমন আচরণে উৎসাহিত হতে পারে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
প্রথমত,অনলাইন হয়রানির অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ এবং দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করতে হবে। ভুক্তভোগীকে বারবার একই তথ্য দিতে বাধ্য করা কিংবা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্নের মুখোমুখি করা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরত থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত,পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন,সিআইডির সাইবার ইউনিট এবং স্থানীয় থানার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। বিশেষায়িত ইউনিটের পরামর্শ যেন মাঠপর্যায়ে দ্রুত কার্যকর হয়,তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তৃতীয়ত,কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে ভুক্তভোগীকে হুমকি দিলে,ভয় দেখালে কিংবা নতুন করে হয়রানি করলে সেই অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করতে হবে। আদালতকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানিয়ে আইন অনুযায়ী জামিনের শর্ত ও অন্যান্য ব্যবস্থা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিতে হবে।
চতুর্থত,সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন অপপ্রচার বা হয়রানিতে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
পঞ্চমত,সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ,মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ যেন হয়রানির অভিযোগের আড়ালে চাপা না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
একটি দেশের উন্নয়ন শুধু বড় বড় অবকাঠামো,প্রযুক্তি কিংবা অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিসংখ্যানে বিচার করা যায় না। সেই দেশের নারীরা কতটা নিরাপদে কাজ করতে পারছেন,তাঁদের মতপ্রকাশ ও পেশাগত স্বাধীনতা কতটা সুরক্ষিত,সেটিও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
একজন নারী নিজের যোগ্যতায় দায়িত্বশীল পদে পৌঁছাবেন,তাঁর কাজের সমালোচনা হবে,ভুল হলে জবাবদিহি করতে হবে। কিন্তু তাঁকে দমিয়ে রাখতে ব্যক্তিগত আক্রমণ,চরিত্রহনন কিংবা সংঘবদ্ধ অনলাইন হয়রানির আশ্রয় নেওয়া কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।
আর কোনো নারী আইনের আশ্রয় নেওয়ার পর যদি নতুন করে সামাজিক অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন,তাহলে সেটি বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের জন্যও বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
আমরা এমন একটি সমাজ চাই,যেখানে একজন নারী তাঁর যোগ্যতায় কাজ করবেন,নিজের সিদ্ধান্ত নেবেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলবেন। তাঁকে ভয় দেখিয়ে,অপমান করে কিংবা সামাজিকভাবে একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে না।
প্রযুক্তির উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে,যখন এই প্রযুক্তি মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে। নারীর জন্য নিরাপদ কর্মক্ষেত্র এবং নিরাপদ অনলাইন জগৎ গড়ে তোলা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়,এটি তাঁর মৌলিক অধিকার।
রাষ্ট্র,প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই দায়িত্ব পালন করতেই হবে। কারণ একজন নারীকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা মানে শুধু একজন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণ্ন করা নয়,বরং সমাজের অগ্রযাত্রাকেই পিছিয়ে দেওয়া।
মতামত