শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালু ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার



ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালু ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার
প্রতীকি ছবি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের পুঁজিবাজারে 'ইন্ট্রাডে ট্রেডিং' বা একই দিনে শেয়ার কেনাবেচার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

​দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বাজারে টি+১ বা টি+২ সেটেলমেন্ট প্রথা চালু থাকায় বিনিয়োগকারীদের কোনো শেয়ার কেনার পর তা বিক্রি করতে অন্তত এক থেকে দুই কর্মদিবস অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু ইন্ট্রাডে চালু হলে একই কার্যদিবসের মধ্যে দর বৃদ্ধির সুবিধা নিয়ে শেয়ার বিক্রি করে পজিশন ক্লোজ করা সম্ভব হবে।

​বিশ্বের উন্নত ও উদীয়মান পুঁজিবাজারগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, একই দিনে কেনাবেচার এই সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট (NYSE ও NASDAQ) এবং যুক্তরাজ্যে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (LSE) ইন্ট্রাডে ট্রেডিং অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত একটি প্রক্রিয়া।

​বৈশ্বিক বাজারগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়গুলো শেখার রয়েছে:

​১. তারল্য ও লেনদেন বৃদ্ধি: আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও ভারতের বাজারে প্রতিদিনের মোট লেনদেনের একটি বড় অংশ আসে ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের কাছ থেকে। এর ফলে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং লেনদেনের গতি বজায় থাকে।

​২. প্রযুক্তি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত: উন্নত বাজারগুলোতে এই ব্যবস্থা সফল হওয়ার মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য ট্রেডিং সফটওয়্যার এবং গতিশীল অবকাঠামো। বিএসইসি এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলোকেও সমমানের আইটি অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

​৩. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা: উন্নত বাজারে একই দিনে লেনদেনের সুবিধাজনক দিক যেমন রয়েছে, তেমনই দরপতনের ঝুঁকিও থাকে। ফলে আমেরিকার মতো উন্নত বাজারে বিনিয়োগকারীরা কঠোর স্টপ-লস এবং টেক-প্রফিট ডিসিপ্লিন মেনে চলেন। বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষণীয় দিক—কেবল আবেগ নয়, বরং সঠিক টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং কৌশল প্রয়োগ করেই এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক বাজারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন কৌশল গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। সঠিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং দেশের বাজারকে আরও গতিশীল ও টেকসই করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


ইন্ট্রাডে ট্রেডিং চালু ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের পুঁজিবাজারে 'ইন্ট্রাডে ট্রেডিং' বা একই দিনে শেয়ার কেনাবেচার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

​দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বাজারে টি+১ বা টি+২ সেটেলমেন্ট প্রথা চালু থাকায় বিনিয়োগকারীদের কোনো শেয়ার কেনার পর তা বিক্রি করতে অন্তত এক থেকে দুই কর্মদিবস অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু ইন্ট্রাডে চালু হলে একই কার্যদিবসের মধ্যে দর বৃদ্ধির সুবিধা নিয়ে শেয়ার বিক্রি করে পজিশন ক্লোজ করা সম্ভব হবে।

​বিশ্বের উন্নত ও উদীয়মান পুঁজিবাজারগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, একই দিনে কেনাবেচার এই সংস্কৃতি নতুন কিছু নয়। ভারতের ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE), মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট (NYSE ও NASDAQ) এবং যুক্তরাজ্যে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে (LSE) ইন্ট্রাডে ট্রেডিং অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত একটি প্রক্রিয়া।

​বৈশ্বিক বাজারগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়গুলো শেখার রয়েছে:

​১. তারল্য ও লেনদেন বৃদ্ধি: আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও ভারতের বাজারে প্রতিদিনের মোট লেনদেনের একটি বড় অংশ আসে ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের কাছ থেকে। এর ফলে বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং লেনদেনের গতি বজায় থাকে।

​২. প্রযুক্তি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত: উন্নত বাজারগুলোতে এই ব্যবস্থা সফল হওয়ার মূল ভিত্তি হলো নির্ভরযোগ্য ট্রেডিং সফটওয়্যার এবং গতিশীল অবকাঠামো। বিএসইসি এবং ব্রোকারেজ হাউজগুলোকেও সমমানের আইটি অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

​৩. ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা: উন্নত বাজারে একই দিনে লেনদেনের সুবিধাজনক দিক যেমন রয়েছে, তেমনই দরপতনের ঝুঁকিও থাকে। ফলে আমেরিকার মতো উন্নত বাজারে বিনিয়োগকারীরা কঠোর স্টপ-লস এবং টেক-প্রফিট ডিসিপ্লিন মেনে চলেন। বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষণীয় দিক—কেবল আবেগ নয়, বরং সঠিক টেকনিক্যাল অ্যানালাইসিস এবং কৌশল প্রয়োগ করেই এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক বাজারের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে প্রাতিষ্ঠানিক ও খুচরা উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন কৌশল গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। সঠিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং দেশের বাজারকে আরও গতিশীল ও টেকসই করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।




Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream