শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায়


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায়
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান বিশ্বে একটি নীরব ও ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসমস্যার নাম ফ্যাটি লিভার। কম বয়সেই এখন অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যকৃতে প্রদাহ এবং সেখান থেকে সিরোসিস বা ক্যানসারের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হওয়াও এখন আর বিচিত্র নয়।

বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসকে পেছনে ফেলে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাটি লিভারজনিত সিরোসিস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

আমাদের দেশে মূলত ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’-এর প্রকোপই সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কায়িক শ্রমের অভাব, ডায়াবেটিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং কম ‘গুড কোলেস্টেরল’-এর কারণে যকৃতে চর্বি জমে। এছাড়া কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির বিপাকের ত্রুটিও এর অন্যতম কারণ।

ফ্যাটি লিভারের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা নেই; একমাত্র নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই এর থেকে মুক্তির প্রধান উপায়। এজন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ও চর্বি কমাতে সাহায্য করে এমন কিছু উপকারী খাবার নিচে দেওয়া হলো:

 সবুজ পাতাওয়ালা শাকসবজিতে থাকা পলিফেনল ও নাইট্রেট যকৃতে চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করে। তবে শাকসবজি সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে এর পুষ্টিগুণ কমে যায়; তাই সালাদে বা কম সেদ্ধ করে এগুলো খাওয়া বেশি উপকারী।

ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটিতে প্রচুর আঁশ ও স্টার্চ থাকে, যা ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া সয়াপ্রোটিন, টফু এবং ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সূর্যমুখীর বীজ ফ্যাটি লিভারের জন্য বেশ উপকারী।

ইলিশ, রূপচাঁদা, স্যামন বা সার্ডিনের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড ও প্রদাহ কমায়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এ ধরনের মাছ খাওয়া উচিত।

সাধারণ শর্করার বদলে ওটমিল, লাল আটা বা যবের রুটির মতো জটিল শর্করা বেছে নেওয়া উচিত।

এতে থাকা গ্লুটাথিয়ন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আরজিনিন লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য দূর করে। প্রতিদিন সকালে ৪-৫টি আখরোট খাওয়া উপকারী।

বিটে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার ও নাইট্রেট পিত্তরস তৈরিতে সাহায্য করে এবং লিভারকে সতেজ রাখে।

আমলকি, পেয়ারা ও লেবুর মতো ফল শরীর ও লিভারকে বিষমুক্ত (ডিটক্স) করতে দারুণ কার্যকর।

কাঁচা হলুদের কারকিউমিন এবং কাঁচা রসুন যকৃতের প্রদাহ কমাতে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সুফল দেয়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তির উপায়

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বর্তমান বিশ্বে একটি নীরব ও ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যসমস্যার নাম ফ্যাটি লিভার। কম বয়সেই এখন অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যকৃতে প্রদাহ এবং সেখান থেকে সিরোসিস বা ক্যানসারের মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি হওয়াও এখন আর বিচিত্র নয়।

বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসকে পেছনে ফেলে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে ফ্যাটি লিভারজনিত সিরোসিস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

আমাদের দেশে মূলত ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’-এর প্রকোপই সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, কায়িক শ্রমের অভাব, ডায়াবেটিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং কম ‘গুড কোলেস্টেরল’-এর কারণে যকৃতে চর্বি জমে। এছাড়া কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির বিপাকের ত্রুটিও এর অন্যতম কারণ।

ফ্যাটি লিভারের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধভিত্তিক চিকিৎসা নেই; একমাত্র নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই এর থেকে মুক্তির প্রধান উপায়। এজন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি। এর মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাসকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ও চর্বি কমাতে সাহায্য করে এমন কিছু উপকারী খাবার নিচে দেওয়া হলো:

 সবুজ পাতাওয়ালা শাকসবজিতে থাকা পলিফেনল ও নাইট্রেট যকৃতে চর্বি জমা কমাতে সাহায্য করে। তবে শাকসবজি সেদ্ধ করে পানি ফেলে দিলে এর পুষ্টিগুণ কমে যায়; তাই সালাদে বা কম সেদ্ধ করে এগুলো খাওয়া বেশি উপকারী।

ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটিতে প্রচুর আঁশ ও স্টার্চ থাকে, যা ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া সয়াপ্রোটিন, টফু এবং ভিটামিন ই সমৃদ্ধ সূর্যমুখীর বীজ ফ্যাটি লিভারের জন্য বেশ উপকারী।

ইলিশ, রূপচাঁদা, স্যামন বা সার্ডিনের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ সামুদ্রিক মাছ ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়ায় এবং ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড ও প্রদাহ কমায়। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন এ ধরনের মাছ খাওয়া উচিত।

সাধারণ শর্করার বদলে ওটমিল, লাল আটা বা যবের রুটির মতো জটিল শর্করা বেছে নেওয়া উচিত।

এতে থাকা গ্লুটাথিয়ন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও আরজিনিন লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য দূর করে। প্রতিদিন সকালে ৪-৫টি আখরোট খাওয়া উপকারী।

বিটে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার ও নাইট্রেট পিত্তরস তৈরিতে সাহায্য করে এবং লিভারকে সতেজ রাখে।

আমলকি, পেয়ারা ও লেবুর মতো ফল শরীর ও লিভারকে বিষমুক্ত (ডিটক্স) করতে দারুণ কার্যকর।

কাঁচা হলুদের কারকিউমিন এবং কাঁচা রসুন যকৃতের প্রদাহ কমাতে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সুফল দেয়।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream