শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই অনেকের ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চামড়া ওঠা কিংবা ঠোঁটের কোণে ফাটল ধরার মতো সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। মুখের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় ঠোঁটের ত্বক বেশ পাতলা হয় এবং এতে কোনো তেল উৎপাদনকারী গ্রন্থিও থাকে না। ফলে সহজেই ঠোঁট তার আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে এবং অবহেলা করলে ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও ফাটলের সৃষ্টি হয়।
বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাসের কারণে ঠোঁটের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হয়।
ঠোঁট শুকিয়ে গেলে অনেকেই জিভ দিয়ে ভেজানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু লালা শুকিয়ে যাওয়ার পর ঠোঁট আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। শরীরে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
সুগন্ধিযুক্ত লিপস্টিক, লিপবাম বা টুথপেস্টের উপাদানে অ্যালার্জি বা প্রদাহ হতে পারে।
আয়রন বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি কিংবা একজিমা ও নানা ধরনের সংক্রমণের কারণেও ঠোঁট ফাটার সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুগন্ধি ও স্বাদহীন পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভালো মানের লিপবাম ব্যবহার করুন। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগানো অত্যন্ত উপশমকারী।
বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজানো এবং শুকনো চামড়া টেনে তোলার অভ্যাস ত্যাগ করুন। শরীর হাইড্রেটেড রাখতে নিয়মমাফিক পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ার সময় এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার ব্রড-স্পেকট্রাম লিপবাম ব্যবহার করুন।
মেনথল, কর্পূর বা অতিরিক্ত সুগন্ধযুক্ত পণ্য ঠোঁটের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই এমন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের পর জ্বালাপোড়া অনুভূত হলে তা বর্জন করুন।
সাধারণ যত্ন নেওয়ার পরও যদি ঠোঁটের ফাটল না কমে কিংবা তীব্র ব্যথা, প্রদাহ বা ক্ষত ও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ছোট কিছু সতর্কতাই পারে শীতের আগেই আপনার ঠোঁটকে কোমল ও সুরক্ষিত রাখতে।
মতামত