বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

কানাডার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, দুশ্চিন্তায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কানাডার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, দুশ্চিন্তায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার অভিবাসনব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন ঘিরে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন, দক্ষ কর্মীদের নির্বাচন এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের অনেককেই নিজেদের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) গত ১৬ অক্টোবর ঘোষণা করেছে, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়নের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব এবং কানাডায় অর্জিত প্রাসঙ্গিক কর্ম-অভিজ্ঞতাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। যোগ্য চাকরির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন (এলএমআইএ) সনদ ছাড়াই পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। তবে সব চাকরির প্রস্তাব এই সুবিধার আওতায় আসবে না।

নতুন নিয়মে কানাডার শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব থাকলে আবেদনকারীরা তাঁদের বেতন ও পেশাগত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত পয়েন্ট পেতে পারেন। একইভাবে, নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় কানাডায় অর্জিত কর্ম-অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নে ভূমিকা রাখবে।

তবে নতুন নিয়মে সুবিধা পাওয়া মানেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মসূচির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ আইনে পরিণত হওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত আরও কঠোর হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪ জুনের পর কানাডায় প্রথম প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর করা কিছু আশ্রয়ের আবেদন এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তের নির্ধারিত প্রবেশপথের বাইরে দিয়ে প্রবেশের ১৪ দিনের বেশি সময় পর করা কিছু আবেদন শরণার্থী ও অভিবাসন বোর্ডে শুনানির জন্য পাঠানো হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপসারণ-পূর্ব ঝুঁকি মূল্যায়নের সুযোগ থাকতে পারে।

এ ছাড়া, ৩ নভেম্বর থেকে শরণার্থী আবেদনের অনলাইন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন কার্যকর হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দিয়ে শুধু আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করে রেখেছেন, তাঁদের নতুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং আগের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।

অভিবাসন আইন ও আবেদনপ্রক্রিয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। স্থায়ী বাসিন্দা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী বিদেশি কর্মী, দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী আবেদনকারীদের নিয়ম এবং যোগ্যতার শর্ত আলাদা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর না করে কানাডা সরকারের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার উপরে গুরুত্বোরোপ করা হয়েছে। 

যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা বুঝতে সরকারি তথ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনে অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শক বা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের এই সময়ে সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলাই আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয় : কানাডা অভিবাসন নীতি প্রবাস

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


কানাডার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, দুশ্চিন্তায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কানাডার অভিবাসনব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন ঘিরে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন, দক্ষ কর্মীদের নির্বাচন এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের অনেককেই নিজেদের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।

কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) গত ১৬ অক্টোবর ঘোষণা করেছে, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়নের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব এবং কানাডায় অর্জিত প্রাসঙ্গিক কর্ম-অভিজ্ঞতাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। যোগ্য চাকরির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন (এলএমআইএ) সনদ ছাড়াই পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। তবে সব চাকরির প্রস্তাব এই সুবিধার আওতায় আসবে না।

নতুন নিয়মে কানাডার শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব থাকলে আবেদনকারীরা তাঁদের বেতন ও পেশাগত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত পয়েন্ট পেতে পারেন। একইভাবে, নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় কানাডায় অর্জিত কর্ম-অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নে ভূমিকা রাখবে।

তবে নতুন নিয়মে সুবিধা পাওয়া মানেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মসূচির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ আইনে পরিণত হওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত আরও কঠোর হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪ জুনের পর কানাডায় প্রথম প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর করা কিছু আশ্রয়ের আবেদন এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তের নির্ধারিত প্রবেশপথের বাইরে দিয়ে প্রবেশের ১৪ দিনের বেশি সময় পর করা কিছু আবেদন শরণার্থী ও অভিবাসন বোর্ডে শুনানির জন্য পাঠানো হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপসারণ-পূর্ব ঝুঁকি মূল্যায়নের সুযোগ থাকতে পারে।

এ ছাড়া, ৩ নভেম্বর থেকে শরণার্থী আবেদনের অনলাইন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন কার্যকর হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দিয়ে শুধু আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করে রেখেছেন, তাঁদের নতুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং আগের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে।

অভিবাসন আইন ও আবেদনপ্রক্রিয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। স্থায়ী বাসিন্দা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী বিদেশি কর্মী, দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী আবেদনকারীদের নিয়ম এবং যোগ্যতার শর্ত আলাদা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর না করে কানাডা সরকারের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার উপরে গুরুত্বোরোপ করা হয়েছে। 

যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা বুঝতে সরকারি তথ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনে অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শক বা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের এই সময়ে সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলাই আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream