বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
কানাডার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, দুশ্চিন্তায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

কানাডার অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন, দুশ্চিন্তায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

কানাডার অভিবাসনব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন ঘিরে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন, দক্ষ কর্মীদের নির্বাচন এবং শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের অনেককেই নিজেদের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে। কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক বিভাগ (আইআরসিসি) গত ১৬ অক্টোবর ঘোষণা করেছে, আগামী ৩ নভেম্বর থেকে এক্সপ্রেস এন্ট্রি ব্যবস্থায় দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়নের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব এবং কানাডায় অর্জিত প্রাসঙ্গিক কর্ম-অভিজ্ঞতাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। যোগ্য চাকরির প্রস্তাবের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে শ্রমবাজারের প্রভাব মূল্যায়ন (এলএমআইএ) সনদ ছাড়াই পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। তবে সব চাকরির প্রস্তাব এই সুবিধার আওতায় আসবে না। নতুন নিয়মে কানাডার শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট পেশায় যোগ্য চাকরির প্রস্তাব থাকলে আবেদনকারীরা তাঁদের বেতন ও পেশাগত যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত পয়েন্ট পেতে পারেন। একইভাবে, নির্দিষ্ট উচ্চ বেতনের পেশায় কানাডায় অর্জিত কর্ম-অভিজ্ঞতাও মূল্যায়নে ভূমিকা রাখবে। তবে নতুন নিয়মে সুবিধা পাওয়া মানেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিশ্চিত হওয়া নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্মসূচির অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে, শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়ের আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। গত ২৬ মার্চ বিল সি-১২ আইনে পরিণত হওয়ার পর নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত আরও কঠোর হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪ জুনের পর কানাডায় প্রথম প্রবেশের এক বছরের বেশি সময় পর করা কিছু আশ্রয়ের আবেদন এবং কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তের নির্ধারিত প্রবেশপথের বাইরে দিয়ে প্রবেশের ১৪ দিনের বেশি সময় পর করা কিছু আবেদন শরণার্থী ও অভিবাসন বোর্ডে শুনানির জন্য পাঠানো হবে না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অপসারণ-পূর্ব ঝুঁকি মূল্যায়নের সুযোগ থাকতে পারে। এ ছাড়া, ৩ নভেম্বর থেকে শরণার্থী আবেদনের অনলাইন প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন কার্যকর হবে। যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা না দিয়ে শুধু আবেদনপ্রক্রিয়া শুরু করে রেখেছেন, তাঁদের নতুন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে এবং আগের তথ্য পর্যালোচনা করতে হবে। অভিবাসন আইন ও আবেদনপ্রক্রিয়ার পরিবর্তনের কারণে অনেকের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও সব পরিবর্তন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। স্থায়ী বাসিন্দা, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, অস্থায়ী বিদেশি কর্মী, দক্ষ অভিবাসনপ্রত্যাশী ও শরণার্থী আবেদনকারীদের নিয়ম এবং যোগ্যতার শর্ত আলাদা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর নির্ভর না করে কানাডা সরকারের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার উপরে গুরুত্বোরোপ করা হয়েছে।  যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা বুঝতে সরকারি তথ্যের পাশাপাশি প্রয়োজনে অনুমোদিত অভিবাসন পরামর্শক বা আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিবাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনের এই সময়ে সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ রাখা এবং নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলাই আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনকে দুষলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন। যদিও অভিবাসন ইস্যুর সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি বিক্ষোভকারীদের মূল দাবির সঙ্গে। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দেখা যায় আগের রাতের সহিংসতার চিহ্ন। কোথাও পুড়ে যাওয়া ব্যারিকেড, কোথাও লুট হওয়া দোকান, আবার কোথাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি স্থাপনা। এমন পরিস্থিতিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিশ্বের মানুষ, যাদের হৃদয়ে ঘৃণা রয়েছে, তাদের অভিবাসন একসময়ের মহান দেশটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিন।’ ফ্রান্সে অস্থিরতার সূত্রপাত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে। স্কুলে আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করার দাবিতে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে এর সঙ্গে যুক্ত হন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও জনসেবার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। মূলত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবার সংকটের প্রতিবাদে দেশজুড়ে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ। শুরুতে শান্তিপূর্ণভাবে চলা মিছিলের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এসব সহিংসতা মূলত দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভের ফাঁকে ফাঁকে সংঘটিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলো ছিল দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবা নিশ্চিত করা—অভিবাসন বন্ধ করা নয়। সহিংসতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর রোববারও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যস্ত ছিল ফরাসি প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রায় ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি। রাজধানী প্যারিসে গ্রেফতারের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শহরটিতে ৮৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে এর আগেও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এর আগে এক নির্বাচনী সমাবেশে  তিনি ফ্রান্সের বিপ্লব ও দাঙ্গার ইতিহাস টেনে দেশটিতে যাওয়ার কথা রসিকতার ছলে বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই! জায়গাটা চমৎকার। সেখানে কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। অথচ বিপ্লবের জন্য ফ্রান্স যেন ভীষণ উপযুক্ত জায়গা। অবিশ্বাস্য! চলুন, ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমা উদারপন্থিরা বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে তৃতীয় বিশ্বের মানুষদের নিয়ে এসেছে। কিন্তু তারা এসব মানুষের সমাজে মিশে যাওয়া এবং সংস্কৃতিগত সামঞ্জস্যের মতো মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছে।’ ভ্যান্স আরও বলেন, ‘তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, কিন্তু তারা শোনেনি। ফ্রান্স একটি সুন্দর দেশ, সেখানকার মানুষও অসাধারণ। আরও কোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার আগে দেশটি এই উন্মাদনা থামাতে পারবে বলে আমি প্রার্থনা করি।’

ফ্রান্সের বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনকে দুষলেন ট্রাম্প

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বড় দুটি ধাক্কার মুখে পড়েছে। একদিকে ফেডারেল এক বিচারক বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত ভিসার সময়সীমা আটকে দিয়েছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্য অভিবাসীদের বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে গ্রিন কার্ড আটকে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা নতুন বিধির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের এক ফেডারেল বিচারক প্রশাসনের এমন প্রস্তাব কার্যকর করা বন্ধ করে দেন, যার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হতো। একই সময়ে ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া মিলে আলাদা একটি মামলা করেছে। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি ফেডারেল বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো, যার আওতায় অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বৈধভাবে সরকারি সুবিধা নেওয়া অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএসের প্রস্তাবিত বিধিটি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই সোমবার বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ ডেনিস সেলার চতুর্থ ট্রেড ইউনিয়ন ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের জোটের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিধিটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত এফ ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য দেওয়া জে ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর করা হতো। অন্যদিকে সাংবাদিকদের জন্য ব্যবহৃত আই ভিসা, যা বর্তমানে কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে, সেটির মেয়াদ ২৪০ দিনে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। বিচারক সেলার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও তিনি ভিসা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ঠেকানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ডিএইচএস যে যুক্তি দিয়েছে, সেটিকে ‘অত্যন্ত দুর্বল’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান ভিসা ব্যবস্থা কয়েক কোটি গবেষক ও শিক্ষাবিদকে যুক্তরাষ্ট্রে অবদান রাখার সুযোগ দিয়েছে। এর ফলে যুগান্তকারী গবেষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হয়েছে। এই ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলে উচ্চশিক্ষা এবং বৃহত্তর মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি ‘বিপর্যয়কর’ হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা প্রায় ১৬ লাখ এফ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং প্রায় ৫ লাখ জে ভিসাধারী বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীকে প্রভাবিত করত। এদিকে সোমবার ম্যানহাটনের একটি ফেডারেল আদালতে দুটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার লক্ষ্য, ডিএইচএসের আরেকটি বিধি কার্যকর হওয়া ঠেকানো। বিধিটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন এই বিধিতে অভিবাসন কর্মকর্তারা কোন আবেদনকারীকে ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন, সেই মানদণ্ড আরও বিস্তৃত করা হবে। ‘পাবলিক চার্জ’ একটি আইনি মানদণ্ড। ঐতিহাসিকভাবে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে, যারা নিজেদের জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে মনে করা হয়। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয় ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার একটি জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা নতুন নীতিটি আটকে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। একই বিষয়ে ছয়টি শহর ও কাউন্টিও আলাদা একটি মামলা করেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের মূল্যায়নে অভিবাসন কর্মকর্তারা নগদ সরকারি সহায়তা বিবেচনা করতে পারতেন। তবে খাদ্য সহায়তা এবং মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়ার কারণে কোনো আবেদনকারীকে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন ট্রাম্প প্রশাসন তার প্রথম মেয়াদের নীতিগুলো আবার চালু করতে চাইছে। সেই নীতিতে খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা নেওয়াকেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নতুন প্রস্তাবে শুধু আবেদনকারী নিজে কী ধরনের সুবিধা নিয়েছেন তা নয়, তার পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, সেটিও যাচাইয়ের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র নতুন বিধির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মামলাকারীদের ‘বামপন্থী নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তারা আশঙ্কা করছেন যে ফেডারেল সরকারের অর্থায়ন হারাবেন। কারণ, লাখ লাখ ‘অবৈধ অভিবাসী ও অ-নাগরিক’ হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে বলেন, নতুন এই বিধির লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে সেই কর্মসূচিগুলো থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যেগুলো কয়েক দশক ধরে মানুষকে খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ দিয়ে আসছে। মামলাকারীরা বলছেন, কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাদের যুক্তি, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তাদের আরও দাবি, খাদ্য সহায়তা ও মেডিকেইডের মতো নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধা বৈধভাবে ব্যবহার করা আবেদনকারীদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসন একটি বেআইনি বিধিনিষেধ তৈরি করেছে। মামলাকারীদের মতে, এই বিধিনিষেধ ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভিসা ও গ্রিন কার্ড নীতিতে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা

ব্রিটিশ পুরুষদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী কয়েকজন নারী। তবে অনেকেই  নিজেদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফৌজদারি মামলা করতে ভয় পান। এই অভিযোগ এমন এক সময় এল, যখন দেশটির ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই ইংল্যান্ডের নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগ করছে এবং এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ডোভার ও পোর্টসমাউথে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের প্রতিবাদে ডানপন্থী আন্দোলনকারী ড্যানি টমোর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভেও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সমন্বিত প্রমাণ নেই। এদিকে আশ্রয়প্রার্থী এক নারীর অভিযোগ—তিনি ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বছর একটি হোটেলে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি জানান, ওই হোটেলের এক কর্মী তাঁকে নিয়মিত মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করতেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর কক্ষে যাতায়াত শুরু করেন এবং যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এমনকি হোটেলের তথ্যভান্ডার থেকে তাঁর ফোন নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে বারবার যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান থেকে সদ্য যুক্তরাজ্যে যাওয়া আরেক নারী জানান, হিথরোর কাছে স্বরাষ্ট্র অফিসের ব্যবস্থাপনায় থাকা একটি হোটেলে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে ধর্ষণ করেন। তবে ইরানের পুলিশের অভিজ্ঞতার কথা মনে করে যুক্তরাজ্যের পুলিশের কাছে যেতে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে আশঙ্কা করেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগ করলে হয়তো তাঁর আশ্রয়ের আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। উগান্ডার এক সমকামী নারী আশ্রয়প্রার্থীও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন ছিল যৌন পরিচয় প্রকাশ পেলে নিজ দেশে কারাবন্দী বা মৃত্যুর আশঙ্কার ভিত্তিতে। আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী না পেয়ে তিনি একজন বেসরকারি অভিবাসন আইনজীবীর কাছে যান। কিন্তু পারিশ্রমিক দেওয়ার অর্থ না থাকায় ওই আইনজীবী তাঁকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানায়, উল্লেখিত তিন নারীই পরবর্তী সময়ে শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বাস্তবের তুলনায় অনেক কম নথিভুক্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসও আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতার কথা জানিয়েছে। রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসও আশ্রয়প্রার্থী নারী ও মেয়েদের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই নারীরা যৌন নির্যাতন ও শোষণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনেকেই নিজেদের অধিকার ও আইনি সহায়তার পথ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে অভিযোগকারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream