রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
| ফটো কার্ড

আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা
আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা

ব্রিটিশ পুরুষদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী কয়েকজন নারী। তবে অনেকেই  নিজেদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফৌজদারি মামলা করতে ভয় পান।

এই অভিযোগ এমন এক সময় এল, যখন দেশটির ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই ইংল্যান্ডের নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগ করছে এবং এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ডোভার ও পোর্টসমাউথে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের প্রতিবাদে ডানপন্থী আন্দোলনকারী ড্যানি টমোর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভেও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সমন্বিত প্রমাণ নেই।

এদিকে আশ্রয়প্রার্থী এক নারীর অভিযোগ—তিনি ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বছর একটি হোটেলে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি জানান, ওই হোটেলের এক কর্মী তাঁকে নিয়মিত মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করতেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর কক্ষে যাতায়াত শুরু করেন এবং যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এমনকি হোটেলের তথ্যভান্ডার থেকে তাঁর ফোন নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে বারবার যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইরান থেকে সদ্য যুক্তরাজ্যে যাওয়া আরেক নারী জানান, হিথরোর কাছে স্বরাষ্ট্র অফিসের ব্যবস্থাপনায় থাকা একটি হোটেলে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে ধর্ষণ করেন। তবে ইরানের পুলিশের অভিজ্ঞতার কথা মনে করে যুক্তরাজ্যের পুলিশের কাছে যেতে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে আশঙ্কা করেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগ করলে হয়তো তাঁর আশ্রয়ের আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

উগান্ডার এক সমকামী নারী আশ্রয়প্রার্থীও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন ছিল যৌন পরিচয় প্রকাশ পেলে নিজ দেশে কারাবন্দী বা মৃত্যুর আশঙ্কার ভিত্তিতে। আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী না পেয়ে তিনি একজন বেসরকারি অভিবাসন আইনজীবীর কাছে যান। কিন্তু পারিশ্রমিক দেওয়ার অর্থ না থাকায় ওই আইনজীবী তাঁকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানায়, উল্লেখিত তিন নারীই পরবর্তী সময়ে শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বাস্তবের তুলনায় অনেক কম নথিভুক্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসও আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতার কথা জানিয়েছে।

রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসও আশ্রয়প্রার্থী নারী ও মেয়েদের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই নারীরা যৌন নির্যাতন ও শোষণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনেকেই নিজেদের অধিকার ও আইনি সহায়তার পথ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে অভিযোগকারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিষয় : নারী ব্রিটিশ আশ্রয়ন প্রকল্প অভিবাসন শরণার্থী

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ব্রিটিশ পুরুষদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী কয়েকজন নারী। তবে অনেকেই  নিজেদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফৌজদারি মামলা করতে ভয় পান।

এই অভিযোগ এমন এক সময় এল, যখন দেশটির ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই ইংল্যান্ডের নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগ করছে এবং এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ডোভার ও পোর্টসমাউথে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের প্রতিবাদে ডানপন্থী আন্দোলনকারী ড্যানি টমোর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভেও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সমন্বিত প্রমাণ নেই।

এদিকে আশ্রয়প্রার্থী এক নারীর অভিযোগ—তিনি ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বছর একটি হোটেলে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি জানান, ওই হোটেলের এক কর্মী তাঁকে নিয়মিত মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করতেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর কক্ষে যাতায়াত শুরু করেন এবং যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এমনকি হোটেলের তথ্যভান্ডার থেকে তাঁর ফোন নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে বারবার যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ইরান থেকে সদ্য যুক্তরাজ্যে যাওয়া আরেক নারী জানান, হিথরোর কাছে স্বরাষ্ট্র অফিসের ব্যবস্থাপনায় থাকা একটি হোটেলে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে ধর্ষণ করেন। তবে ইরানের পুলিশের অভিজ্ঞতার কথা মনে করে যুক্তরাজ্যের পুলিশের কাছে যেতে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে আশঙ্কা করেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগ করলে হয়তো তাঁর আশ্রয়ের আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

উগান্ডার এক সমকামী নারী আশ্রয়প্রার্থীও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন ছিল যৌন পরিচয় প্রকাশ পেলে নিজ দেশে কারাবন্দী বা মৃত্যুর আশঙ্কার ভিত্তিতে। আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী না পেয়ে তিনি একজন বেসরকারি অভিবাসন আইনজীবীর কাছে যান। কিন্তু পারিশ্রমিক দেওয়ার অর্থ না থাকায় ওই আইনজীবী তাঁকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানায়, উল্লেখিত তিন নারীই পরবর্তী সময়ে শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বাস্তবের তুলনায় অনেক কম নথিভুক্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসও আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতার কথা জানিয়েছে।

রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসও আশ্রয়প্রার্থী নারী ও মেয়েদের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই নারীরা যৌন নির্যাতন ও শোষণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনেকেই নিজেদের অধিকার ও আইনি সহায়তার পথ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে অভিযোগকারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream