শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা

আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় নীরব যৌন নিপীড়নের শিকার নারীরা

ব্রিটিশ পুরুষদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থী কয়েকজন নারী। তবে অনেকেই  নিজেদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফৌজদারি মামলা করতে ভয় পান। এই অভিযোগ এমন এক সময় এল, যখন দেশটির ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধেই ইংল্যান্ডের নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণের অভিযোগ করছে এবং এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি ডোভার ও পোর্টসমাউথে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমনের প্রতিবাদে ডানপন্থী আন্দোলনকারী ড্যানি টমোর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভেও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সমন্বিত প্রমাণ নেই। এদিকে আশ্রয়প্রার্থী এক নারীর অভিযোগ—তিনি ধর্মীয় নিপীড়ন ও পারিবারিক সহিংসতা থেকে বাঁচতে যুক্তরাজ্যে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বছর একটি হোটেলে স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি জানান, ওই হোটেলের এক কর্মী তাঁকে নিয়মিত মৌখিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি করতেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর কক্ষে যাতায়াত শুরু করেন এবং যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। এমনকি হোটেলের তথ্যভান্ডার থেকে তাঁর ফোন নম্বর নিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল থেকে বারবার যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ দিতে থাকেন। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইরান থেকে সদ্য যুক্তরাজ্যে যাওয়া আরেক নারী জানান, হিথরোর কাছে স্বরাষ্ট্র অফিসের ব্যবস্থাপনায় থাকা একটি হোটেলে একজন নিরাপত্তাকর্মী তাঁকে ধর্ষণ করেন। তবে ইরানের পুলিশের অভিজ্ঞতার কথা মনে করে যুক্তরাজ্যের পুলিশের কাছে যেতে তিনি ভয় পেয়েছিলেন। একই সঙ্গে আশঙ্কা করেছিলেন, ধর্ষণের অভিযোগ করলে হয়তো তাঁর আশ্রয়ের আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে। অভিযোগ জানানোর পর তাঁকে অন্য হোটেলে সরিয়ে নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। উগান্ডার এক সমকামী নারী আশ্রয়প্রার্থীও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন ছিল যৌন পরিচয় প্রকাশ পেলে নিজ দেশে কারাবন্দী বা মৃত্যুর আশঙ্কার ভিত্তিতে। আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী না পেয়ে তিনি একজন বেসরকারি অভিবাসন আইনজীবীর কাছে যান। কিন্তু পারিশ্রমিক দেওয়ার অর্থ না থাকায় ওই আইনজীবী তাঁকে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘গার্ডিয়ান’ জানায়, উল্লেখিত তিন নারীই পরবর্তী সময়ে শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন। তবে আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বাস্তবের তুলনায় অনেক কম নথিভুক্ত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির এক তদন্তে আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্রিটিশ রেড ক্রসও আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুতর দুর্বলতার কথা জানিয়েছে। রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসও আশ্রয়প্রার্থী নারী ও মেয়েদের সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা না থাকার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এই নারীরা যৌন নির্যাতন ও শোষণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অনেকেই নিজেদের অধিকার ও আইনি সহায়তার পথ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য জানেন না। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র অফিস জানিয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে এ ধরনের অভিযোগ মোকাবিলায় নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে অভিযোগকারীর তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় সহায়তা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে সেরা পাঁচে বাংলাদেশ

জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির মিশন জয় দিয়ে শেষ করলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দল। পঞ্চম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ২-১ গোলে হারিয়েছে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়াকে লাল-সবুজের মেয়েরা। চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে বাংলাদেশ। তবে প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি কোন দল।  তৃতীয় কোয়ার্টারে গোলের সুযোগ কাজে লাগায় বাংলাদেশ। পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক সারিকা রিমন। এরপর চতুর্থ কোয়ার্টারে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনা আক্তার। দারুণ এক ফিল্ড গোলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেন। তবে ম্যাচের শেষ দিকে ৫৯ মিনিটে একটি গোল শোধ করে মালয়েশিয়া। তাতে অবশ্য বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি তারা। ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। সেই হারে আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সরাসরি সুযোগও শেষ হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হলে অন্তত সেমিফাইনালে উঠতে হতো বাংলাদেশকে। তবে মালয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। যদি আগামী বছর মেয়েদের জুনিয়র বিশ্বকাপ ভারতে হয়, তাহলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পাবে। নিয়ম অনুযায়ী, আয়োজক দেশ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করলে সংশ্লিষ্ট মহাদেশ থেকে আরেকটি দেশ সুযোগ পায়। যেহেতু বাংলাদেশ পঞ্চম হলো, তাই সুযোগটা বাংলাদেশই তখন পাবে। 

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে সেরা পাঁচে বাংলাদেশ

ময়মনসিংহে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৪

ময়মনসিংহ নগরীতে ট্রাকের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সোনিয়া নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক শিশুসহ অটোরিকশাতে থাকা আরো চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ শুক্রবার  সকাল ১১টার দিকে আকুয়া বাইপাস মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোনিয়া ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী জোরবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বাইপাস সড়ক দিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাতে থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে সোনিয়ার ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেয়। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আহতদের তাৎক্ষণিক পরিচয় জানা যায়নি। দুর্ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

ময়মনসিংহে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ৪

জ্যোতিদের সামনে এবার ভারতের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশকে গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার কাছে হার চাপে ফেলে দিয়েছে। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতকে পেয়েছে টাইগ্রেসরা। নিগার সুলতানা জ্যোতিদের এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠতে তাই কঠিন লড়াই করতে হবে। বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে রানার্সআপ হয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে ভারত হয়েছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। নিয়ম অনুযায়ী, এক গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের সাথে অন্য গ্রুপের রানার্সআপের সেমিফাইনাল হওয়ায় মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ভারতকে এড়িয়ে সেমিফাইনালে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। এজন্য গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হেরে সেই সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। কঠিন এই লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশের বড় ভরসা মারুফা আক্তার। চলতি এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত দলের সেরা পারফরমার এই পেসার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩টি এবং ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তিনি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৯ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে ১৮তম স্থানে উঠে এসেছেন মারুফা, যা বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী মারুফা। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিপক্ষে আমাদের ম্যাচ। এ ম্যাচ জিততে পারলে আমরা ইনশাআল্লাহ ফাইনালে খেলব।’ দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে এই পেসার আরো বলেন, ‘আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমি যেভাবে অবদান রেখে যাচ্ছি, দোয়া করবেন যেন এভাবে খেলা চালিয়ে যেতে পারি। আর দলের অন্য সিনিয়র আপুরাও যেন একইভাবে দলকে সহযোগিতা করতে পারেন। আপনারা দোয়া রাখলে কালকের ম্যাচটি আমরা ইনশাআল্লাহ জয় দিয়ে শেষ করতে পারব।’ তবে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পরিসংখ্যান খুব একটা স্বস্তির নয়। দুই দল এখন পর্যন্ত ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টি; ভারত জিতেছে ২১ ম্যাচে। তারপরও ইতিহাসে একটি সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। ২০১৮ সালে কুয়ালালামপুরে ভারতকে হারিয়েই এশিয়া কাপের একমাত্র শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। আট বছর পর এবার সেমিফাইনালের মঞ্চে আবারো মুখোমুখি দুই দল। দুবাইয়ে সেই সুখস্মৃতি ফিরিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটতে পারবেন কি জ্যোতিরা—সেটিই এখন দেখার।

জ্যোতিদের সামনে এবার ভারতের চ্যালেঞ্জ

নারী নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই শান্তি অসম্ভব: আইরিন জুবাইদা খান

সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই কেবল টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব বলে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান বলেছেন। একই সাথে তিনি শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে গতকাল বুধবার জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ‘শান্তির সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মসূচির উচ্চপর্যায়ের ফোরাম’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নারী নেতৃত্ব জোরদারে তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নারীর পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, কিশোরী ও তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতে বিনিয়োগ এবং সংঘাত প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা, কমিউনিটির সহনশীলতা, সামাজিক সংহতি ও শান্তি বিনির্মাণে নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে টেকসই ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আইরিন খান বলেন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। এমনকি তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও নারীরা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকেন। তিনি শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নারীর নেতৃত্ব জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের পাশাপাশি তৃণমূলসহ দেশের নাগরিক সমাজে মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। সূত্র : বাসস

নারী নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই শান্তি অসম্ভব: আইরিন জুবাইদা খান

গ্যাস থেকে বাস—নারীদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা ঘোষণা বিজয়ের

নারীদের জন্য একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজ্য বিধানসভায়। বছরে তিনটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের সম্পূর্ণ খরচ এখন থেকে সরকারই বহন করবে। একই সঙ্গে বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসে নারীদের যাতায়াতের সুবিধাও আরও বাড়ানো হয়েছে। ‘অন্নপূর্ণি সুপার সিক্স’ প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর তিনটি গ্যাস সিলিন্ডারের টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। এ প্রকল্প চালু হচ্ছে আগামী বছরের পঙ্গল উৎসব থেকে। প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ পরিবার এর আওতায় আসবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে চার হাজার কোটি রুপির বেশি খরচ হতে পারে। বার্ষিক আয় আড়াই লাখ রুপির মধ্যে থাকা পরিবার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবার এবং প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারগুলো এ সুবিধা পাবে। উপভোক্তারা আগে সিলিন্ডার কিনবেন। পরে কেনার প্রমাণপত্র দেখিয়ে সেই টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ফেরত পাবেন। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর রান্নার জ্বালানির খরচে বড় ধরনের স্বস্তি মিলবে। নারীদের জন্য আরও বড় ঘোষণা এসেছে গণপরিবহণে। এতদিন সাধারণ সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় চলার সুবিধা ছিল। এবার সেই সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আগামী ২ অক্টোবর থেকে নারীরা দ্রুতগামী ও বিলাসবহুল বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। যাতায়াতের সংখ্যায়ও কোনো সীমা থাকবে না। বিজয়ের ঘোষণায় তৃতীয় চমকও রয়েছে। চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর হিসেবে পরন্দুরে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিপুল কৃষিজমি নষ্ট হতো এবং কৃষকসহ স্থানীয় মানুষের জীবিকায়ও প্রভাব পড়ত। চেন্নাইয়ের জন্য নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজন আছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ক্ষতি কম হয়, এমন বিকল্প জায়গা খোঁজার কথা জানিয়েছেন। একসঙ্গে রান্নার গ্যাসে আর্থিক সহায়তা, নারীদের গণপরিবহণে বাড়তি সুবিধা এবং কৃষিজমি রক্ষার সিদ্ধান্তকে বিজয় সরকারের বড় জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারপক্ষের দাবি।

গ্যাস থেকে বাস—নারীদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা ঘোষণা বিজয়ের

নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন?

জানাজা আদায় একজন মুসলমানের জন্য মৃত ব্যক্তির প্রতি শেষ  বিদায়ের নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তা নিয়েই আলোচনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাজায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহিত করেছেন। একটি হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজা আদায় করবে, সে এক ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি জানাজা আদায়ের পাশাপাশি দাফনকার্যেও অংশ নেবে, তার জন্য থাকবে দুই ‘কিরাত’ সওয়াব। এক সাহাবি জানতে চাইলে, ‘দুই কিরাত বলতে কী বোঝায়?’ জবাবে মহানবী (সা.) বলেন, ‘দুই কিরাতের ক্ষুদ্রতম কিরাত ওহুদ পাহাড়ের সমান।’ (ইবনে কাছির) বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অনেক অঞ্চলে সাধারণত পুরুষরাই জানাজায় অংশ নেন। নারীদের জানাজায় উপস্থিত হতে খুব কমই দেখা যায়। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, নারীদের জন্য জানাজা আদায় করা বৈধ নয়। কিন্তু ইসলামি ফিকহের আলোচনায় বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফিকহবিদ আলেমদের মতে, নারীদের জানাজা আদায়ে শরিয়তের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হারাম শরিফ, মসজিদ কিংবা অন্য যেকোনো স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হলে নারীরা চাইলে তাতে অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মৌলিক কোনো মতভেদ নেই। অর্থাৎ, শরিয়তের দৃষ্টিতে নারীদের জানাজা আদায় করা বৈধ।আরও পড়ুনআরও পড়ুনবিয়ে ‘কঠিন’ হওয়ায় বাড়ছে অনৈতিকতা আলেমরা বলেছেন, নারীরা জানাজায় অংশ নিলেও সেখানে পর্দার বিধান, নিরাপত্তা এবং শরিয়তসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যদি পর্দাহীনতা, নিরাপত্তার ঝুঁকি বা শরিয়তবিরোধী কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ কারণেই অনেক আলেম সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। তবে এটি জানাজার বৈধতা অস্বীকার করার কারণে নয়; বরং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নারীরা জানাজা আদায় করতে পারলেও জানাজার সঙ্গে চলাচলা বা ঘন ঘন কবরস্থানে যাওয়া মাকরূহ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই শরিয়তের আলোকে নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও জানাজার সঙ্গে কবরস্থান পর্যন্ত যাওয়া কিংবা নিয়মিত কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, নারীদের জানাজা আদায়ে কোনো নিষেধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে পর্দা, নিরাপত্তা এবং শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন?
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream