মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
নারী নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই শান্তি অসম্ভব: আইরিন জুবাইদা খান

নারী নেতৃত্ব ছাড়া টেকসই শান্তি অসম্ভব: আইরিন জুবাইদা খান

সমাজে ন্যায়বিচার, সমতা, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই কেবল টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলা সম্ভব বলে জাতিসঙ্ঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান বলেছেন। একই সাথে তিনি শান্তি বিনির্মাণে নারী নেতৃত্ব এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে গতকাল বুধবার জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ‘শান্তির সংস্কৃতিবিষয়ক কর্মসূচির উচ্চপর্যায়ের ফোরাম’-এ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি নারী নেতৃত্ব জোরদারে তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতিটি পর্যায়ে নারীর পূর্ণ, সমান ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, কিশোরী ও তরুণ নারীদের নেতৃত্ব বিকাশে, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার ও ডিজিটাল সাক্ষরতা বাড়াতে বিনিয়োগ এবং সংঘাত প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা, কমিউনিটির সহনশীলতা, সামাজিক সংহতি ও শান্তি বিনির্মাণে নারী-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে টেকসই ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আইরিন খান বলেন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডা থাকা সত্ত্বেও শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয়। এমনকি তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও নারীরা প্রায়ই উপেক্ষিত থাকেন। তিনি শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নারীর নেতৃত্ব জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানের পাশাপাশি তৃণমূলসহ দেশের নাগরিক সমাজে মানবাধিকার ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে নারী নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন। সূত্র : বাসস

গ্যাস থেকে বাস—নারীদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা ঘোষণা বিজয়ের

নারীদের জন্য একের পর এক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজ্য বিধানসভায়। বছরে তিনটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের সম্পূর্ণ খরচ এখন থেকে সরকারই বহন করবে। একই সঙ্গে বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসে নারীদের যাতায়াতের সুবিধাও আরও বাড়ানো হয়েছে। ‘অন্নপূর্ণি সুপার সিক্স’ প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর তিনটি গ্যাস সিলিন্ডারের টাকা সরাসরি সুবিধাভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হবে। এ প্রকল্প চালু হচ্ছে আগামী বছরের পঙ্গল উৎসব থেকে। প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ পরিবার এর আওতায় আসবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বছরে চার হাজার কোটি রুপির বেশি খরচ হতে পারে। বার্ষিক আয় আড়াই লাখ রুপির মধ্যে থাকা পরিবার, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক পরিবার এবং প্রতিবন্ধী সদস্য থাকা পরিবারগুলো এ সুবিধা পাবে। উপভোক্তারা আগে সিলিন্ডার কিনবেন। পরে কেনার প্রমাণপত্র দেখিয়ে সেই টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে ফেরত পাবেন। এতে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর রান্নার জ্বালানির খরচে বড় ধরনের স্বস্তি মিলবে। নারীদের জন্য আরও বড় ঘোষণা এসেছে গণপরিবহণে। এতদিন সাধারণ সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় চলার সুবিধা ছিল। এবার সেই সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। আগামী ২ অক্টোবর থেকে নারীরা দ্রুতগামী ও বিলাসবহুল বাসসহ বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। যাতায়াতের সংখ্যায়ও কোনো সীমা থাকবে না। বিজয়ের ঘোষণায় তৃতীয় চমকও রয়েছে। চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় বিমানবন্দর হিসেবে পরন্দুরে যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিপুল কৃষিজমি নষ্ট হতো এবং কৃষকসহ স্থানীয় মানুষের জীবিকায়ও প্রভাব পড়ত। চেন্নাইয়ের জন্য নতুন বিমানবন্দরের প্রয়োজন আছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। তবে কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ক্ষতি কম হয়, এমন বিকল্প জায়গা খোঁজার কথা জানিয়েছেন। একসঙ্গে রান্নার গ্যাসে আর্থিক সহায়তা, নারীদের গণপরিবহণে বাড়তি সুবিধা এবং কৃষিজমি রক্ষার সিদ্ধান্তকে বিজয় সরকারের বড় জনমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারপক্ষের দাবি।

গ্যাস থেকে বাস—নারীদের জন্য একগুচ্ছ সুবিধা ঘোষণা বিজয়ের

নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন?

জানাজা আদায় একজন মুসলমানের জন্য মৃত ব্যক্তির প্রতি শেষ  বিদায়ের নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন? এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী—তা নিয়েই আলোচনা। রাসুলুল্লাহ (সা.) জানাজায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে মুসলমানদের উৎসাহিত করেছেন। একটি হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজা আদায় করবে, সে এক ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। আর যে ব্যক্তি জানাজা আদায়ের পাশাপাশি দাফনকার্যেও অংশ নেবে, তার জন্য থাকবে দুই ‘কিরাত’ সওয়াব। এক সাহাবি জানতে চাইলে, ‘দুই কিরাত বলতে কী বোঝায়?’ জবাবে মহানবী (সা.) বলেন, ‘দুই কিরাতের ক্ষুদ্রতম কিরাত ওহুদ পাহাড়ের সমান।’ (ইবনে কাছির) বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অনেক অঞ্চলে সাধারণত পুরুষরাই জানাজায় অংশ নেন। নারীদের জানাজায় উপস্থিত হতে খুব কমই দেখা যায়। এর ফলে অনেকেই মনে করেন, নারীদের জন্য জানাজা আদায় করা বৈধ নয়। কিন্তু ইসলামি ফিকহের আলোচনায় বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফিকহবিদ আলেমদের মতে, নারীদের জানাজা আদায়ে শরিয়তের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। হারাম শরিফ, মসজিদ কিংবা অন্য যেকোনো স্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হলে নারীরা চাইলে তাতে অংশ নিতে পারবেন। এ বিষয়ে ইসলামি আইনবিদদের মধ্যে মৌলিক কোনো মতভেদ নেই। অর্থাৎ, শরিয়তের দৃষ্টিতে নারীদের জানাজা আদায় করা বৈধ।আরও পড়ুনআরও পড়ুনবিয়ে ‘কঠিন’ হওয়ায় বাড়ছে অনৈতিকতা আলেমরা বলেছেন, নারীরা জানাজায় অংশ নিলেও সেখানে পর্দার বিধান, নিরাপত্তা এবং শরিয়তসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত হওয়া জরুরি। যদি পর্দাহীনতা, নিরাপত্তার ঝুঁকি বা শরিয়তবিরোধী কোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকে, তাহলে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ কারণেই অনেক আলেম সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। তবে এটি জানাজার বৈধতা অস্বীকার করার কারণে নয়; বরং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর উদ্দেশ্যে। আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নারীরা জানাজা আদায় করতে পারলেও জানাজার সঙ্গে চলাচলা বা ঘন ঘন কবরস্থানে যাওয়া মাকরূহ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই শরিয়তের আলোকে নারীদের জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও জানাজার সঙ্গে কবরস্থান পর্যন্ত যাওয়া কিংবা নিয়মিত কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে সংযম ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার্বিকভাবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে বলা যায়, নারীদের জানাজা আদায়ে কোনো নিষেধ নেই। তবে এ ক্ষেত্রে পর্দা, নিরাপত্তা এবং শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নারীরা কি জানাজায় অংশ নিতে পারবেন?
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream