ইরান-সমর্থিত হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে আরও শক্ত অবস্থানে। এ অবস্থায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ ইয়েমেন ছেড়ে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে। দেশটির অর্থনীতি ও অর্থ বিষয়ক মন্ত্রীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা।
শনিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) জিবুতির অর্থনীতি ও অর্থ বিষয়ক মন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ লিখেছেন, ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ১ হাজার ৪০০ জন জিবুতিতে পৌঁছেছেন।’
এরই মধ্যে জিবুতিতে হাজার হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মার্চ ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৩৬ হাজারের বেশি। তাঁদের বেশির ভাগই সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক।
গত বৃহস্পতিবার হুতিরা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। এরপর তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে থাকা উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়।
এই অভিযানের কারণে হাজারো পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। মাকবানাহ, জাবাল হাবাশি ও আল-মাফেরের মতো জেলাগুলোর পুরো গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে শুক্রবার পৃথক এক পোস্টে মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় শহর ওবকে ৫০০ শরণার্থী পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বাব এল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকার জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তাঁদের সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়।
ইয়েমেনের উপকূল থেকে পানিপথে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে ওবক শহর। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য কয়েক বছর ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরাও বিপরীত দিকে এই বাব আল-মানদাব প্রণালি ব্যবহার করেন। তাঁরা ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম এএফপিকে বলেন, ‘নারী ও শিশুর মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ ওবকের উপকূলে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষ আসতে পারেন।’
আইওএম শনিবার জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে চলমান লড়াইয়ের কারণে ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
মতামত