মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
সৌদির তেল স্থাপনায় কর্মী-নাগরিকদের না যাওয়ার সতর্কতা

সৌদির তেল স্থাপনায় কর্মী-নাগরিকদের না যাওয়ার সতর্কতা

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা ছাড়া বাকি আকাশসীমাকে অনিরাপদ ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে দেশটির তেল স্থাপনাগুলো থেকে কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়েছে গোষ্ঠীটি। এক প্রতিবেদনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন সংবাদ সংস্থা সাবার সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আকাশসীমা অনিরাপদ।’ সতর্কবার্তা উপেক্ষা করলে সংশ্লিষ্টদের কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সূত্রটি। সামরিক সূত্রটি সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর শেয়ারহোল্ডারদেরও শেয়ার বিক্রি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্রটি বলছে, ‘ক্ষতি এড়াতে, আমরা আরামকোর শেয়ারহোল্ডারদের পরামর্শ দিচ্ছি যেন খুব দেরি হওয়ার আগেই তারা তাদের শেয়ার তুলে নেন।’ তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি গোষ্ঠীটি। এর আগে সৌদি আরবের নাজরান শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য কোনো ধরনের প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় ছয়জন আহত হওয়ার কথা জানায় দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও জানিয়েছে, তারা হুথিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহর লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। অক্টোবরের শুরু থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুথিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উত্তেজনা ও সংঘর্ষের মধ্যেই এই ঘটনাগুলো ঘটছে। হুতিদের সক্ষমতা লক্ষ্য করে বড় পরিসরে অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে জোটটি। অন্যদিকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর

ইরানের সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে হুতিদের হামলা

ইরানের সহযোগিতায় সৌদি আরব ও ইয়েমেনে তাদের মিত্রদের লক্ষ্য করে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা।মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।সৌদি আরব ও ইয়েমেনে হুতিবিরোধী জোটের গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ইরানের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখছে। এই সহযোগিতার ফলে লোহিত সাগর উপকূলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দরেও হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে গোষ্ঠীটি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে সৌদি রাজধানী রিয়াদে চালানো একটি হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। ওই হামলাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিদের সাম্প্রতিক আক্রমণগুলো তাদের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব হামলার পেছনে ইরানের গোয়েন্দা সহায়তা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সহায়তায় হুতিরা শুধু হামলার সক্ষমতাই বাড়াচ্ছে না, ইয়েমেনের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের সাম্প্রতিক ভূখণ্ডগত অগ্রগতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ও তাদের সামরিক সহায়তার বিষয়ে তেহরান বরাবরই হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের দাবি, ইয়েমেনের হুতিরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারা ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন সত্তা’ হিসেবে কাজ করে। ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম পক্ষ হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটি দেশটির উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের হুতিবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। ফলে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের বাইরেও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক অভিযানে ইরানের সহায়তার অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনের সংঘাত ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনও বক্তব্য দিয়েছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: আল-জাজিরা

ইরানের সহায়তায় শক্তিশালী হয়েছে হুতিদের হামলা

হুতিদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি আরবে একের পর এক হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এদিকে হামলার কারণে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হুতিদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আসলে হুতিরা খুবই খারাপ আচরণ করছে। এটা মোটেও ভালো না।’ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ ও দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশটির বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেবে কি না, তা বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি তিনি। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এরপর বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরদিন রোববার সেখানে আরেক দফা হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী শনিবার পর্যন্ত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতেও ধারাবাহিক হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে হুতিদের বিরুদ্ধে। হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে একাধিক এয়ারলাইনস। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, আবুধাবি থেকে রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামগামী কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এয়ারলাইনটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আবুধাবি থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত পরিচালিত হবে না। দাম্মামগামী মঙ্গলবার ও বুধবারের সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। গতকাল হালনাগাদ করা এক ভ্রমণ নির্দেশনায় এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সৌদি আরবের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যাত্রীদের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে যেসব যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে বলেও জানিয়েছে এয়ারলাইনটি। এদিকে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজে হুতিদের গোলাবর্ষণে পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম সাবা। আহতদের মধ্যে তিন শিশু রয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, আহতদের চারজন একই পরিবারের সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৪ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। আল-ধাহরা আবাসিক এলাকায় হামলায় তারা আহত হয়। এ ছাড়া বীর বাশা এলাকার কাছে গোলাবর্ষণের পৃথক ঘটনায় ৩০ বছর বয়সী এক নারী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সাবা।

হুতিদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, বন্ধ রিয়াদ বিমানবন্দর

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে অস্থিরতা, একদিনেই ইয়েমেন ছাড়ল ১,৪০০

ইরান-সমর্থিত হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে আরও শক্ত অবস্থানে। এ অবস্থায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ ইয়েমেন ছেড়ে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে। দেশটির অর্থনীতি ও অর্থ বিষয়ক মন্ত্রীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। শনিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) জিবুতির অর্থনীতি ও অর্থ বিষয়ক মন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ লিখেছেন, ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ১ হাজার ৪০০ জন জিবুতিতে পৌঁছেছেন।’ এরই মধ্যে জিবুতিতে হাজার হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মার্চ ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৩৬ হাজারের বেশি। তাঁদের বেশির ভাগই সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। গত বৃহস্পতিবার হুতিরা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। এরপর তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে থাকা উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়। এই অভিযানের কারণে হাজারো পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। মাকবানাহ, জাবাল হাবাশি ও আল-মাফেরের মতো জেলাগুলোর পুরো গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার পৃথক এক পোস্টে মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় শহর ওবকে ৫০০ শরণার্থী পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বাব এল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকার জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তাঁদের সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়। ইয়েমেনের উপকূল থেকে পানিপথে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে ওবক শহর। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য কয়েক বছর ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরাও বিপরীত দিকে এই বাব আল-মানদাব প্রণালি ব্যবহার করেন। তাঁরা ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম এএফপিকে বলেন, ‘নারী ও শিশুর মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ ওবকের উপকূলে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষ আসতে পারেন।’ আইওএম শনিবার জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে চলমান লড়াইয়ের কারণে ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে অস্থিরতা, একদিনেই ইয়েমেন ছাড়ল ১,৪০০

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো ইরান-সমর্থিত হুতিদের দখল ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। তাদের বাহিনীর তালিকায় এমন বিপুলসংখ্যক সেনার নাম ছিল, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এ তথ্য গতকাল শনিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন এক পশ্চিমা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, এসব ‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের সেনারাও বেতন পেতেন। এর ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বেশি বড় মনে হতো। কিন্তু বাস্তবে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কাগজে দেখানো সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল বলে ওই সূত্র জানিয়েছেন। হুতিদের মোখা দখলের সময় ইয়েমেনি বাহিনী কেন কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, তা নিয়ে দায় চাপানো হচ্ছে ইয়েমেনের নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপরও। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন পক্ষের আলাদা আলাদা দায় রয়েছে। সিএনএনের এক আঞ্চলিক সূত্র মোখার পতনকে ‘সৌদি-আমেরিকানদের ভয়াবহ মাত্রার ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘এবার ব্যর্থতা ইয়েমেনিদের নয়। গতকাল সারাদিন সৌদি সমর্থনকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিমান হামলাও হয়নি, যদিও প্রতি মিনিটের পরিস্থিতি তাদের জানানো হচ্ছিল।’ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা অগ্রসর হতে পারে এমন আশঙ্কায় কয়েক সপ্তাহ আগেই সৌদি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এমনকি যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান কমান্ডের কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘সৌদিরা ইয়েমেনিদের বাসের নিচে ছুড়ে দিয়েছে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, ‘পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠছে।’ ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সেন্টকম তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে।’ কিন্তু সেই বিমান সহায়তা শেষ পর্যন্ত আসেনি। হুতিদের হামলার দিন বৃহস্পতিবার সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সমন্বয় বৈঠকের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। সেন্টকম অবশ্য ওই সফর হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি। তবে সিএনএন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক সদস্যরা ইয়েমেনে গঠিত নতুন একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ইরান হুতিদের হামলায় সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর এই যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার মূল কারণ ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। তিনি আরব উপদ্বীপ নিয়ে মার্কিন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। বাশা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি হুতিবিরোধী জোটের আরও গভীর একটি সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এখানে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেনে কোনো ঐক্যবদ্ধ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, পশ্চিম উপকূলের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে সবাই জানত। দেয়ালে লেখা ছিল খুবই স্পষ্ট।’ এরপর কী ঘটতে পারে জানতে চাইলে বাশা ধারণা করেন, হুতিরা পূর্ব দিকে আরও অগ্রসর হবে এবং ইয়েমেনের আরও ভেতরে ঢুকে পড়বে। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ স্যাটেলাইট এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি অর্থাৎ উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা ছবি থেকে দেখছি...হুতিরা সেনা ও সামরিক শক্তি সংগঠিত করছে।’

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দুইবার ফোন করেছিলেন। এসব ফোনকলের উদ্দেশ্য ছিল ইয়েমেনে হুতিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এই তথ্য জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী তখন লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব এল–মান্দেবের প্রবেশদ্বারের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক সেই সময়েই এই ফোনকল হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—ট্রাম্প এমবিএসের ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের কৌশলগত উপকূলীয় শহর মোখা হুতিরা দখল করে নেওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে যায়। এর ফলে তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালির আরও কাছে চলে গেছে। এই প্রণালি বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এরই মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণও যদি হুতিদের হাতে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ তৈরির জন্য তেহরান আরও একটি শক্তিশালী কৌশলগত হাতিয়ার পেতে পারে। ইয়েমেনে দ্রুত সংঘাত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। সরাসরি সামরিকভাবে জড়িয়ে না পড়ে সৌদি আরবকে সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিতে সৌদি আরব সফর করেছেন। সৌদি দূতাবাস ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয় জুলাইয়ে। ওই সময় রিয়াদ ইরানের একটি বিমানকে সানা বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি দেয়নি। বিমানটিতে হুতিদের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তারা সাবেক ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির শেষকৃত্য থেকে ইয়েমেনে ফিরছিলেন। এরপর এমবিএস ট্রাম্পের কাছে সানা বিমানবন্দরে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজনৈতিক সমর্থন চান। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এ হামলার জন্য সৌদি আরবের মার্কিন সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাকে সমর্থন জানান। এর জবাবে হুতিরা লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এতে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ হুমকির মুখে পড়ে। পরে হুতিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও হামলা বাড়িয়ে দেয়। জবাবে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান শুরু করে। হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য সৌদি আরবের এই অনুরোধ জুলাইয়ের অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পরিবর্তন। ওই সময় রিয়াদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছিল, তারা নিজেরাই হুতিদের মোকাবিলা করতে পারবে। তবে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্রমবর্ধমান মাত্রায় সহায়তা চাইতে শুরু করে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তাদের সৌদি কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ট্রাম্পের নির্দেশ হলো মার্কিন বাহিনীকে ইরান ও হরমুজ প্রণালিতে কেন্দ্রীভূত রাখা এবং আরেকটি সামরিক ফ্রন্ট খোলা এড়িয়ে চলা। বৃহস্পতিবার হুতিরা উপকূলীয় শহর মোখার দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী পিছু হটতে থাকলে এমবিএস ট্রাম্পকে ফোন করেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোনে তিনি পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ট্রাম্পকে অবহিত করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর এমবিএস আবারও ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলার নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সৌদি আরবে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছেন। তারা সেখানে অ-সামরিক বা নন-কাইনেটিক সহায়তা দিচ্ছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার হলো লোহিত সাগরকে উন্মুক্ত রাখা এবং একই সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাতের দায়িত্ব আঞ্চলিক অংশীদারদের ওপর ছেড়ে দেওয়া। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার মূল জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সমাধানের ক্ষেত্রে আমরা আমাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জোরদার করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে আমরা সৌদি আরব এবং ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের সরকারের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream