রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
বাব এল-মান্দেবে হুথিদের নিশানায় সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ

বাব এল-মান্দেবে হুথিদের নিশানায় সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ

হুথি বিদ্রোহীরা বর্তমানে ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা একলেডের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক ভ্যালেনটিন দ্যোতিয়ে। এপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিপজ্জনক এলাকায় চলাচলের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিপিং তথ্য সংস্থা ‘উইন্ডওয়ার্ড’ জানিয়েছে, হুথিদের তৎপরতা শুরুর আগে বাব এল-মান্দেব দিয়ে দৈনিক ৩৫টি জাহাজ চলাচল করত, যা কমে ২৫টিতে নেমেছিল। তবে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে গত রোববার সেই সংখ্যা বেড়ে ৪৫টি জাহাজে উন্নীত হয়েছে। বিশ্লেষক ভ্যালেনটিন দ্যোতিয়ে জানান, বর্তমানে হুথিরা কেবল সৌদি আরব-সংশ্লিষ্ট জাহাজে নজর দিলেও সৌদি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তারা ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তুর পরিধি আরও বাড়াতে পারে। হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি। তিনি এসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, সৌদি আরব নিজেই ইয়েমেনের জলসীমায় জাহাজ চলাচল বন্ধ করে অন্যায্য অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে, যার জবাবে তারা এই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সূত্র: আল জাজিরা

হুথিদের মক্কামুখী হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন দুই ইমাম

হুথি বিদ্রোহীদের মক্কাকে লক্ষ্য করে আক্রমণকে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যের ওপর আঘাত এবং একটি ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছেন দুই পবিত্র মসজিদের ইমামগণ। সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মক্কার মসজিদ আল-হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলা শুক্রবারের খুতবায় জানান, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা করা একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। তিনি বলেন, আল্লাহর ঘর ও নবীর মসজিদকে লক্ষ্য বস্তু বানানোর স্পর্ধা যাদের রয়েছে, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ধ্বংসাত্মক কাজ ঢাকতে হুথিরা ধর্মীয় স্লোগানকে ব্যবহার করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুল মহসিন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা হুথিদের এই আক্রমণগুলো তাদের সন্ত্রাসবাদের ধারাবাহিকতারই অংশ। এই হামলাগুলো নিরপরাধ মুসলিমদের রক্তপাত ঘটানো এবং শান্তিতে থাকা মানুষকে আতঙ্কিত করার অপচেষ্টা মাত্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই মক্কার দক্ষিণে একটি হুথি ড্রোন চিহ্নিত করে ধ্বংস করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সহায়তাকারী সামরিক জোট জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ছটা ৫০ মিনিটে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুথিদের দ্বিতীয় আক্রমণ ছিল। শেখ বালিলা আরও বলেন, এসব হামলা সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও জনগণের ঐক্যকে কেবল শক্তিশালীই করবে এবং দেশটি চিরকাল মুসলিমদের কিবলা হিসেবে অটুট থাকবে। সূত্র: সৌদি গেজেট

হুথিদের মক্কামুখী হামলাকে ‘মহাপাপ’ বললেন দুই ইমাম

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে চলমান ইরান যুদ্ধে পেন্টাগনের প্রকাশ্যে স্বীকার করা তথ্যের তুলনায় বাস্তবে অনেক বেশি মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ছয় কর্মকর্তার পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্যের বরাতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এই খবর জানানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচজন জানান, যুদ্ধে অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য মারা গেছেন, যা পেন্টাগনের প্রাতিষ্ঠানিক ডাটাবেজ ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালিসিস সিস্টেম’ বা ডিসিএএস-এ প্রদর্শিত সংখ্যার চেয়ে চারটি বেশি। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল যৌথভাবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৩ জন মার্কিন সেনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত তিনজন মার্কিন ঠিকাদার প্রাণ হারিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেজে ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর কথা বলা হলেও চারজনের তথ্য বাদ দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মৃতের সংখ্যা আড়াল করার ফলে নিহত সেনাদের স্বজনরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। রয়টার্স-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী ট্রাম্পের ইরাননীতির প্রতি মার্কিন জনগণের অনিচ্ছা ও অসন্তোষ বাড়ছে। এর মধ্যেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা যুদ্ধ বন্ধে ও তথ্য বিকৃতি রুখতে নানা আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে আইনি জটিলতার অভিযোগে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের অভিশংসন দাবি করেছেন একজন রিপাবলিকান প্রতিনিধি। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের এক নথি অনুযায়ী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই যুদ্ধে আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আটশরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই মস্তিষ্কে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি

ইসরায়েল-মরক্কোর কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অগ্রগতি

নিজেদের কূটনৈতিক সম্পর্ক দূতাবাস চালু এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও মরক্কো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সরকারের অফিসিয়াল আরবি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাতে রয়টার্স এই খবর নিশ্চিত করেছে। আমেরিকায় জাতিসংঘের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজের উপস্থিতিতে নিউইয়র্কে আয়োজিত একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এবং মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বোরিতা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা কূটনৈতিক মিশনগুলোকে দূতাবাসে উন্নীত করা এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগের পাশাপাশি ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন। মার্কিন মধ্যস্থতায় ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির আওতায় যে চারটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল, মরক্কো তার মধ্যে অন্যতম। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদানও এই চুক্তিতে অংশ নিয়েছিল। এছাড়া মিশর ও জর্ডানের সঙ্গে ইসরায়েলের পূর্ব থেকেই শান্তি চুক্তি বিদ্যমান। আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি প্রত্যাহারের দীর্ঘদিনের আরব অবস্থানের ওপর এসব চুক্তি প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করছেন। সূত্র: রয়টার্স

ইসরায়েল-মরক্কোর কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন অগ্রগতি

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ভবন ধসে নিহত ২০, আহত ১৪

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নারী-শিশুসহ ২০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ১৪ জন এ ঘটনায় আহত হয়েছেন। শতাধিক আটকা পড়েছেন এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে বলে আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা গেছে। ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাতের বেলায় ছয়তলা একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। নিহতদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে শিশুদের বের করে আনছেন। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয়রাও হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ভিডিওতে দেখা যায়, সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা জীবিতদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। এ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। একটি ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপ থেকে একটি ছোট মেয়েকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে দেখা যায়। এ সময় আরও শিশুসহ কয়েকজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। তাদের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের দুর্ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আল-জাজিরাকে জানান, সিভিল ডিফেন্সের দলগুলো এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালাচ্ছে। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০০ ফিলিস্তিনি আটকা রয়েছেন বলেও জানান মুখপাত্র। তিনি আরও জানান, উদ্ধারকারী দলের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলের আগের একটি বিমান হামলায় ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই হামলার পর ভবনটিতে ফাটল ধরেছিল এবং এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। পরে সেটিই ধসে পড়ে। এক বিবৃতিতে গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় এই ঘটনার জন্য ইসরায়েল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ‘সম্পূর্ণ ও সরাসরি’ দায়ী করেছে। কার্যালয়টি বলেছে, ছয়তলা ভবনটিতে প্রতিটি তলায় চারটি করে আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ভবনটিকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। এতে ভবনটির কাঠামোগত দৃঢ়তা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সেটি ধসে যায়। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানা যায়, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডজুড়ে হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় নির্মাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশেও ইসরায়েল বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। মুখপাত্র বাসাল বলেন, অনেক ফিলিস্তিনি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, তাঁদের যাওয়ার মতো অন্য কোনো জায়গা নেই। শরণার্থী কেন্দ্র বা উপযুক্ত তাঁবুর অভাবেই তাঁদের এমন ভবনে থাকতে হচ্ছে, যা তাঁদের হুমকির মুখে ফেলছে। এ দিকে ধ্বংসস্তূপ নিরাপদে সরানো এবং উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য সিভিল ডিফেন্সের প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম গাজায় প্রবেশেও ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে ভবনধসের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া মানুষদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে মূলত হাতের সাহায্যে কাজ করতে হচ্ছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে। গাজা সিটির মেয়র ইয়াহইয়া আল-সাররাজ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এটি কোনো ভবনধসের প্রথম ঘটনা নয়। আমরা আশঙ্কা করছি, এটিই শেষ ঘটনাও নাও হতে পারে।’ মেয়র আরও জানান, সিটি করপোরেশন ও সিভিল ডিফেন্স ‘অচল’ হয়ে পড়েছে। মানুষকে উদ্ধারে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তাদের হাতে নেই।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ভবন ধসে নিহত ২০, আহত ১৪

হুথিদের সামরিক হামলা নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের কড়া ভাষণ

সৌদি আরবে হুথিদের সামরিক আক্রমণ নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দেওয়ার সময় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, ‘ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথিদের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি, সৌদি আরবের ওপর অব্যাহত হামলা এবং লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত পুরো পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ে নিয়ে এসেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের ওপর হুথি বাহিনীর পরিচালনা করা সমস্ত হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। সেই সঙ্গে অঞ্চলে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ স্তরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার রাখার বিষয়ে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সূত্র: ডন

হুথিদের সামরিক হামলা নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের কড়া ভাষণ

হরমুজে আরও এক ‘এমকিউ-১’ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

আরও একটি ‘এমকিউ-১’ ড্রোন হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।। আইআরজিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর থেকে শুরু হওয়া সামরিক তৎপরতার মধ্যে এটি ড্রোন ভূপাতিতের দ্বিতীয় ঘটনা। মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি ও তার আশপাশের এলাকায় ইরানি বাহিনীর পরিচালিত অভিযানে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত মোট চারটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করা হলো। প্রধানত নজরদারি ও রেকি অভিযানের কাজে ব্যবহৃত এই ড্রোনগুলোকে কেন্দ্র করে কৌশলগত জলসীমায় উত্তেজনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা

হরমুজে আরও এক ‘এমকিউ-১’ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তলাইব গাজায় চলমান নৃশংসতার ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অংশীদারিত্বের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, গাজায় শিশুদের জীবন যাচ্ছে মার্কিন নির্মিত প্রাণঘাতী অস্ত্রের আঘাতেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রাশিদা তলাইব উল্লেখ করেন, ‘গণহত্যা এখনো চলছে’ এবং ‘মার্কিন নির্মিত বোমার আঘাতে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে, আর যারা বেঁচে থাকছে তারা সারাজীবনের জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।’ জাতিগত নিধনের মতো এসব জঘন্য ও নৃশংস কর্মকাণ্ডে মার্কিন প্রশাসনের সব ধরনের সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানান তিনি। সূত্র: আল জাজিরা

‘মার্কিন অস্ত্রেই প্রাণ যাচ্ছে গাজার শিশুদের’

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে অস্থিরতা, একদিনেই ইয়েমেন ছাড়ল ১,৪০০

ইরান-সমর্থিত হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে আরও শক্ত অবস্থানে। এ অবস্থায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ ইয়েমেন ছেড়ে জিবুতিতে পালিয়ে গেছে। দেশটির অর্থনীতি ও অর্থ বিষয়ক মন্ত্রীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল-জাজিরা। শনিবার এক্সে (সাবেক টুইটার) জিবুতির অর্থনীতি ও অর্থ বিষয়ক মন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ লিখেছেন, ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেন থেকে ১ হাজার ৪০০ জন জিবুতিতে পৌঁছেছেন।’ এরই মধ্যে জিবুতিতে হাজার হাজার শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী বসবাস করছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মার্চ ২০২৬-এর হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে নিবন্ধিত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৩৬ হাজারের বেশি। তাঁদের বেশির ভাগই সোমালিয়া, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিক। গত বৃহস্পতিবার হুতিরা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করে নেয়। এরপর তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালিকে ঘিরে থাকা উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়। এই অভিযানের কারণে হাজারো পরিবারকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে। মাকবানাহ, জাবাল হাবাশি ও আল-মাফেরের মতো জেলাগুলোর পুরো গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর আগে শুক্রবার পৃথক এক পোস্টে মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় শহর ওবকে ৫০০ শরণার্থী পৌঁছেছেন। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বাব এল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দেওয়ার সময় নৌকার জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে তাঁদের সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হয়। ইয়েমেনের উপকূল থেকে পানিপথে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দূরে ওবক শহর। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য কয়েক বছর ধরে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরাও বিপরীত দিকে এই বাব আল-মানদাব প্রণালি ব্যবহার করেন। তাঁরা ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সমন্বয়ক সাফিয়া ইব্রাহিম এএফপিকে বলেন, ‘নারী ও শিশুর মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মানুষ ওবকের উপকূলে পৌঁছেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরও মানুষ আসতে পারেন।’ আইওএম শনিবার জানিয়েছে, জুলাই থেকে ইয়েমেনে চলমান লড়াইয়ের কারণে ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

হুতিদের নিয়ন্ত্রণে অস্থিরতা, একদিনেই ইয়েমেন ছাড়ল ১,৪০০

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখায় অবস্থানরত ইয়েমেনি ব্যাটালিয়নগুলো ইরান-সমর্থিত হুতিদের দখল ঠেকাতে গত বৃহস্পতিবার অনেকটাই অপ্রস্তুত ছিল। তাদের বাহিনীর তালিকায় এমন বিপুলসংখ্যক সেনার নাম ছিল, যাদের বাস্তবে কোনো অস্তিত্বই ছিল না। এ তথ্য গতকাল শনিবার প্রকাশিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইয়েমেনে হুতিবিরোধী সামরিক অভিযান সম্পর্কে জানেন এমন এক পশ্চিমা সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছেন, এসব ‘ঘোস্ট নেম’ বা ভুতুড়ে নামের সেনারাও বেতন পেতেন। এর ফলে কাগজে-কলমে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীকে প্রকৃত শক্তির তুলনায় অনেক বেশি বড় মনে হতো। কিন্তু বাস্তবে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা কাগজে দেখানো সংখ্যার মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ ছিল বলে ওই সূত্র জানিয়েছেন। হুতিদের মোখা দখলের সময় ইয়েমেনি বাহিনী কেন কার্যকর সামরিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, তা নিয়ে দায় চাপানো হচ্ছে ইয়েমেনের নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের ওপরও। সিএনএনের সঙ্গে কথা বলা একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই ব্যর্থতার জন্য বিভিন্ন পক্ষের আলাদা আলাদা দায় রয়েছে। সিএনএনের এক আঞ্চলিক সূত্র মোখার পতনকে ‘সৌদি-আমেরিকানদের ভয়াবহ মাত্রার ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন ও রিয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘এবার ব্যর্থতা ইয়েমেনিদের নয়। গতকাল সারাদিন সৌদি সমর্থনকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিমান হামলাও হয়নি, যদিও প্রতি মিনিটের পরিস্থিতি তাদের জানানো হচ্ছিল।’ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিরা অগ্রসর হতে পারে এমন আশঙ্কায় কয়েক সপ্তাহ আগেই সৌদি সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। এমনকি যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও নির্দেশ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিমান কমান্ডের কর্মকর্তাদেরও মোতায়েন করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সূত্র সিএনএনকে বলেন, ‘সৌদিরা ইয়েমেনিদের বাসের নিচে ছুড়ে দিয়েছে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমকে বারবার সতর্ক করেছিলেন যে, ‘পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠছে।’ ওই কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, সেন্টকম তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি বিমান সহায়তা আসছে।’ কিন্তু সেই বিমান সহায়তা শেষ পর্যন্ত আসেনি। হুতিদের হামলার দিন বৃহস্পতিবার সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সমন্বয় বৈঠকের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। সেন্টকম অবশ্য ওই সফর হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করেনি। তবে সিএনএন এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে মার্কিন সামরিক সদস্যরা ইয়েমেনে গঠিত নতুন একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের সঙ্গে কাজ করছিলেন। ইরান হুতিদের হামলায় সহায়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পর এই যৌথ বাহিনী কমান্ড গঠন করা হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক মোহাম্মদ আল-বাশা মনে করেন, মোখা রক্ষায় ব্যর্থতার মূল কারণ ইয়েমেনের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন। তিনি আরব উপদ্বীপ নিয়ে মার্কিন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। বাশা সিএনএনকে বলেন, ‘এটি হুতিবিরোধী জোটের আরও গভীর একটি সমস্যার সঙ্গে যুক্ত। এখানে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইয়েমেনে কোনো ঐক্যবদ্ধ কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই। আমার মনে হয়, পশ্চিম উপকূলের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা সম্পর্কে সবাই জানত। দেয়ালে লেখা ছিল খুবই স্পষ্ট।’ এরপর কী ঘটতে পারে জানতে চাইলে বাশা ধারণা করেন, হুতিরা পূর্ব দিকে আরও অগ্রসর হবে এবং ইয়েমেনের আরও ভেতরে ঢুকে পড়বে। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘আমরা আজ স্যাটেলাইট এবং ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বা ওএসআইএনটি অর্থাৎ উন্মুক্ত উৎসের গোয়েন্দা ছবি থেকে দেখছি...হুতিরা সেনা ও সামরিক শক্তি সংগঠিত করছে।’

হুতিদের ঠেকাতে গিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীর ভিন্ন চিত্র

হরমুজে ট্যাংকার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতে রাতের বেলা ইরানের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর সামরিক সুরক্ষার জন্য জাহাজগুলোকে কেবল সুনির্দিষ্ট সময়ে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকে ওমান উপকূল ঘেঁষে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে গত মে মাস থেকে বিমানভিত্তিক সুরক্ষা সহায়তা দিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন। তবে সামুদ্রিক উপদেষ্টাদের কাছে পাঠানো মার্কিন নৌ সমন্বয় কেন্দ্রের ইমেইলের বরাতে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানায়, সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে জাহাজ সুরক্ষার এই সময়সীমা কমিয়ে দৈনিক কেবল দুটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

হরমুজে ট্যাংকার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশই ফিলিস্তিনের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। অবৈধ ইসরায়েলি বসতির পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের ওপর আটটি আরব-ইসলামিক দেশের যৌথ বিবৃতিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। সামগ্রিক আঞ্চলিক ইস্যুতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে উভয় দেশ। বিশেষ করে সৌদি আরব ও মিসরের সঙ্গে সম্মত হওয়া রিজিওনাল ফোর (আর৪) কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক বিষয়গুলোতে পারস্পরিক পরামর্শ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তারা জোর দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা

তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে ইসহাক দার ও ফিদানের আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জাহান্নাম’ দেখাতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল ইরান

মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি মার্কিন জাহাজ এবং জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সংবলিত নতুন 'ধ্বংসকারী-বিরোধী' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর। আজ বৃহস্পতিবার টাইমস নাউ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দ্য টেলিগ্রাফ ও সেন্টকমকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সচিব মহসিন রেজাই জানান, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে এই বিশেষ ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহারের পর ‘আমেরিকানদের জন্য জাহান্নাম তৈরি হয়েছিল এবং তারা পালিয়ে গেছে’। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের পর ইরান তাদের সামরিক কৌশল ‘প্রতিরোধমূলক’ অবস্থান থেকে পরিবর্তন করে ‘সক্রিয় প্রতিরোধ’ ব্যবস্থায় নিয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি অপটিক্যাল সেন্সর ও ক্যামেরার মাধ্যমে জিপিএস ছাড়াই নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আক্রমণের কথা স্বীকার করলেও নিশ্চিত করেছে, ইরানের হামলায় তাদের কোনো বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়ার পরেই মূলত এই হামলা চালায় আইআরজিসি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের সশস্ত্র বাহিনী আত্মরক্ষার আইনগত অধিকার থেকেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি এবং তেল ট্যাঙ্কারে আরও হামলার হুমকি দিয়ে নাবিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইআরজিসি। বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালিতে চরম উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান এই প্রযুক্তি চীন বা রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহের সহায়তায় তৈরি করে থাকতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করেছেন, মার্কিন নৌঘাঁটি বা জাহাজে ইরানি আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা আরও তেলবাহী জাহাজ হারাবে। সূত্র: টাইমস নাউ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘জাহান্নাম’ দেখাতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল ইরান

হরমুজে উত্তেজনা, ১০০ ডলারের পথে তেল

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাতের কারণে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বেড়ে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯৭ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।গত সপ্তাহে তেলের বাজারের দর জুলাইয়ের পর থেকে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল, যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ২৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছায়। তেলের বাজার বিশ্লেষণে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের অনিশ্চয়তাই তেলের মূল্যে অতিরিক্ত ঝুঁকি বা প্রিমিয়াম যুক্ত রাখছে। আজ সকাল সাড়ে আটটার বাজার চিত্র অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ৬৯ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ বেড়ে ৯২ দশমিক ০৩ ডলারে দাঁড়ায়। তবে মারবান ক্রুড ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ১০৩ দশমিক ৩০ ডলার এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ দশমিক ৯২৯ ডলারে নেমেছে। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচল চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায় যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র চারটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করতে পেরেছে, যা সাধারণ ১০ দিনের গড়ে দৈনিক ১৩টির তুলনায় অনেক কম। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে ব্রেন্ট ক্রুড বর্তমানে মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডের চেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৬৬ ডলার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত বাড়লে বা জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই মূল্যের পার্থক্য আরও বাড়তে পারে। সূত্র: গালফ নিউজ

হরমুজে উত্তেজনা, ১০০ ডলারের পথে তেল

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত

ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় ইরানের সীরিক শহরের এক বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে সম্মিলিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি দাবি করে, পেন্টাগনের একটি মেরামত কেন্দ্র, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম রাখার গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে তাদের এই যৌথ হামলায়। হামলায় ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়। তবে এই ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো স্বাধীন সত্যতা পাওয়া যায়নি। অন্যদিক, সম্ভাব্য হুমকির মুখে গত ছয় ঘণ্টার মধ্যে তৃতীয়বারের মতো জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জনগণকে অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্যের আপডেট অনুসরণ করতে বলেছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের কফর রেমান এবং আরব সালিম এলাকার উপকণ্ঠে দুটি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এর আগে ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের তিনটি স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সাতজন নিহত এবং আটজন আহত হন বলে প্রদেশটির নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-গভর্নরের বরাতে ইরনা নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে। সূত্র: আল জাজিরা

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream