শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

কানাডার থান্ডার বে’তে ‘ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ গালা নাইট’ অনুষ্ঠিত


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কানাডার থান্ডার বে’তে ‘ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ গালা নাইট’ অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের থান্ডার বে শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ট্যাপেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ গালা নাইট’। ‘অ্যান ইভনিং অব এক্সপ্রেশনস’ শীর্ষক এই আয়োজনে প্রায় ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে উদ্‌যাপিত হয় বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি।

সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যভিত্তিক বিশেষ ফ্যাশন শো ‘ওয়ান ফ্যাব্রিক, কাউন্টলেস এক্সপ্রেশনস’। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন দেশের খাবারের সমাহার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থান্ডার বের তৎকালীন মেয়র কেন বশকফ এবং পরবর্তী সময়ে নবনির্বাচিত মেয়র মরিন (মো) কোমুজ্জি। এ ছাড়া শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের অতিথিরা এই আয়োজনে অংশ নেন।

সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক ফ্যাশন শো’টির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন ফ্যাশন ও জুয়েলারি ডিজাইনার, ‘আভরণ – ওয়্যারেবল আর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক পেশাদার মডেল তাসমিয়া এমদাদ।

শাড়িকে কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে নয়, বরং নারীর পরিচয়, আবেগ, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল ভাবনা।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার শাড়ির ঐতিহ্য, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং নিজস্ব সাজসজ্জা ধরণকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় পুরো পরিবেশনা। সংগীত, ফ্যাশন ও গল্পের সমন্বয়ে দর্শকদের সামনে উঠে আসে দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয়।

এই আয়োজনের মূল বার্তা ছিল-শাড়ি শুধু ছয় গজ কাপড় নয়; এর প্রতিটি ভাঁজে জড়িয়ে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের গল্প, স্মৃতি, ভালোবাসা ও ঐতিহ্য।

কখনো মায়ের কাছ থেকে মেয়ের হাতে তুলে দেওয়া অমূল্য উপহার, কখনো দাদী-নানীর স্মৃতিবিজড়িত শাড়ি, আবার কখনো উৎসব কিংবা বিশেষ জীবনের মুহূর্তের সঙ্গী-শাড়ির সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় নারীদের এই আবেগঘন সম্পর্কই ফুটিয়ে তোলা হয় মঞ্চে। পাশাপাশি দেখানো হয় সময়ের সঙ্গে শাড়ির বিবর্তন এবং আধুনিক ফ্যাশনে এর নতুন রূপ।

ফ্যাশন শো’র সূচনা হয় জেনিফার আহমেদ নির্ঝরের বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় গান ‘তাঁতি’-এর সঙ্গে এই পরিবেশনায় উঠে আসে শাড়ি বুননের ঐতিহ্য এবং তাঁতশিল্পীদের নিপুণ কারুকাজের প্রতি শ্রদ্ধা।

এরপর স্নিগ্ধা দাস ও রোদেলা মা-মেয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক আবেগঘন পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি, ভালোবাসা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।

মূল রানওয়ে পর্বে মডেলরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও সাজসজ্জার বৈচিত্র্য উপস্থাপন করেন। প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে নিজস্ব সংস্কৃতি, বস্ত্রশিল্প ও ঐতিহ্যের স্বতন্ত্র সৌন্দর্য।

পরবর্তী পর্বে ছিল আধুনিক ও ফিউশন ফ্যাশনের বিশেষ উপস্থাপনা। সমসাময়িক পোশাকের সঙ্গে শাড়ির সৃজনশীল সমন্বয় দেখিয়ে তুলে ধরা হয় কীভাবে ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেও নতুন প্রজন্মের ফ্যাশনে শাড়ি হয়ে উঠতে পারে আধুনিক ও বহুমাত্রিক।

ফ্যাশন শো’র সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে রানওয়েতে উপস্থিত হন মিস আর্থ কানাডা ২০১৭ খেতাবজয়ী জ্যাকলিন মার্শ। শো-স্টপার হিসেবে তাঁর আকর্ষণীয় উপস্থিতি ফ্যাশন শো’র সমাপণী পর্বকে করে তোলে বিশেষভাবে স্মরণীয়।সকল মডেলের সম্মিলিত গ্র্যান্ড ফিনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বর্ণিল আয়োজন।

ফ্যাশন শো’র পরিচালক তাসমিয়া এমদাদের কাছে এই আয়োজন ছিল ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে সৃজনশীলভাবে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। তিনি বলেন, আমার কাছে ফ্যাশন শুধু সুন্দর পোশাক নয়, এটি গল্প বলার একটি শিল্পমাধ্যম। শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের মা-নানী-দাদীদের স্মৃতি, ভালোবাসা ও শিকড়ের টান। আমি চেয়েছি সেই গল্পগুলো রানওয়েতে তুলে ধরতে এবং দেখাতে, কীভাবে একই ছয় গজ কাপড় বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অসংখ্য অভিব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে। থান্ডার বের মতো একটি বহুসাংস্কৃতিক শহরে সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়া আমার জন্য সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।

ফ্যাশন শো’টি সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ট্যাপেস্ট্রির নেতৃত্বে থাকা ড. রূপা রক্ষিত এবং ফ্যাশন শো সমন্বয়ক স্নিগ্ধা। পাশাপাশি মডেল, শিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আয়োজনটিকে সফল করে তোলে।

ট্যাপেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস নেটওয়ার্ক থান্ডার বেভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উদ্‌যাপন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি গড়ে তোলা। সংগঠনটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি থেকে আসা নারীদের নিজেদের পরিচয়, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ড. রূপা রক্ষিত বলেন, আমাদের ‘অ্যান ইভনিং অব এক্সপ্রেশনস’ ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির এক সুন্দর উদ্‌যাপন। বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা প্রায় ২০০ মানুষের অংশগ্রহণ আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পারস্পরিক সম্পর্ক ও একাত্মবোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্য আমাদের একত্র করে, কিন্তু মানবিকতাই আমাদের সত্যিকার অর্থে সংযুক্ত রাখে।

থান্ডার বে’র দর্শক, বিশিষ্ট অতিথি ও স্থানীয় কমিউনিটির কাছ থেকে ফ্যাশন শোটি ব্যাপক প্রশংসা পায়। শুধু পোশাকের প্রদর্শনী নয়, ‘ওয়ান ফ্যাব্রিক, কাউন্টলেস এক্সপ্রেশনস’ হয়ে ওঠে দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্য, নারীর সৃজনশীলতা এবং প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্ককে উদ্‌যাপনের এক অনন্য মঞ্চ।

ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ গালা নাইট আবারও প্রমাণ করেছে, শিল্প, ফ্যাশন ও সংস্কৃতি ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ভিন্ন পটভূমির মানুষকে একসূত্রে গাঁথতে পারে। কানাডার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

বিষয় : কানাডা

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


কানাডার থান্ডার বে’তে ‘ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ গালা নাইট’ অনুষ্ঠিত

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের থান্ডার বে শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ট্যাপেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ গালা নাইট’। ‘অ্যান ইভনিং অব এক্সপ্রেশনস’ শীর্ষক এই আয়োজনে প্রায় ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে উদ্‌যাপিত হয় বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি।

সন্ধ্যার অন্যতম আকর্ষণ ছিল দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্যভিত্তিক বিশেষ ফ্যাশন শো ‘ওয়ান ফ্যাব্রিক, কাউন্টলেস এক্সপ্রেশনস’। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ছিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত, নৃত্য এবং বিভিন্ন দেশের খাবারের সমাহার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন থান্ডার বের তৎকালীন মেয়র কেন বশকফ এবং পরবর্তী সময়ে নবনির্বাচিত মেয়র মরিন (মো) কোমুজ্জি। এ ছাড়া শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের অতিথিরা এই আয়োজনে অংশ নেন।

সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দক্ষিণ এশীয় সাংস্কৃতিক ফ্যাশন শো’টির পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন ফ্যাশন ও জুয়েলারি ডিজাইনার, ‘আভরণ – ওয়্যারেবল আর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং আন্তর্জাতিক ফ্যাশন অঙ্গনে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাবেক পেশাদার মডেল তাসমিয়া এমদাদ।

শাড়িকে কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক হিসেবে নয়, বরং নারীর পরিচয়, আবেগ, স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের মূল ভাবনা।

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার শাড়ির ঐতিহ্য, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং নিজস্ব সাজসজ্জা ধরণকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় পুরো পরিবেশনা। সংগীত, ফ্যাশন ও গল্পের সমন্বয়ে দর্শকদের সামনে উঠে আসে দক্ষিণ এশিয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিচয়।

এই আয়োজনের মূল বার্তা ছিল-শাড়ি শুধু ছয় গজ কাপড় নয়; এর প্রতিটি ভাঁজে জড়িয়ে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের গল্প, স্মৃতি, ভালোবাসা ও ঐতিহ্য।

কখনো মায়ের কাছ থেকে মেয়ের হাতে তুলে দেওয়া অমূল্য উপহার, কখনো দাদী-নানীর স্মৃতিবিজড়িত শাড়ি, আবার কখনো উৎসব কিংবা বিশেষ জীবনের মুহূর্তের সঙ্গী-শাড়ির সঙ্গে দক্ষিণ এশীয় নারীদের এই আবেগঘন সম্পর্কই ফুটিয়ে তোলা হয় মঞ্চে। পাশাপাশি দেখানো হয় সময়ের সঙ্গে শাড়ির বিবর্তন এবং আধুনিক ফ্যাশনে এর নতুন রূপ।

ফ্যাশন শো’র সূচনা হয় জেনিফার আহমেদ নির্ঝরের বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় গান ‘তাঁতি’-এর সঙ্গে এই পরিবেশনায় উঠে আসে শাড়ি বুননের ঐতিহ্য এবং তাঁতশিল্পীদের নিপুণ কারুকাজের প্রতি শ্রদ্ধা।

এরপর স্নিগ্ধা দাস ও রোদেলা মা-মেয়ের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক আবেগঘন পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি, ভালোবাসা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা।

মূল রানওয়ে পর্বে মডেলরা বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী শাড়ি ও সাজসজ্জার বৈচিত্র্য উপস্থাপন করেন। প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে নিজস্ব সংস্কৃতি, বস্ত্রশিল্প ও ঐতিহ্যের স্বতন্ত্র সৌন্দর্য।

পরবর্তী পর্বে ছিল আধুনিক ও ফিউশন ফ্যাশনের বিশেষ উপস্থাপনা। সমসাময়িক পোশাকের সঙ্গে শাড়ির সৃজনশীল সমন্বয় দেখিয়ে তুলে ধরা হয় কীভাবে ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেও নতুন প্রজন্মের ফ্যাশনে শাড়ি হয়ে উঠতে পারে আধুনিক ও বহুমাত্রিক।

ফ্যাশন শো’র সমাপনী আকর্ষণ হিসেবে রানওয়েতে উপস্থিত হন মিস আর্থ কানাডা ২০১৭ খেতাবজয়ী জ্যাকলিন মার্শ। শো-স্টপার হিসেবে তাঁর আকর্ষণীয় উপস্থিতি ফ্যাশন শো’র সমাপণী পর্বকে করে তোলে বিশেষভাবে স্মরণীয়।সকল মডেলের সম্মিলিত গ্র্যান্ড ফিনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বর্ণিল আয়োজন।

ফ্যাশন শো’র পরিচালক তাসমিয়া এমদাদের কাছে এই আয়োজন ছিল ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে সৃজনশীলভাবে তুলে ধরার একটি প্রয়াস। তিনি বলেন, আমার কাছে ফ্যাশন শুধু সুন্দর পোশাক নয়, এটি গল্প বলার একটি শিল্পমাধ্যম। শাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আমাদের মা-নানী-দাদীদের স্মৃতি, ভালোবাসা ও শিকড়ের টান। আমি চেয়েছি সেই গল্পগুলো রানওয়েতে তুলে ধরতে এবং দেখাতে, কীভাবে একই ছয় গজ কাপড় বিভিন্ন সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অসংখ্য অভিব্যক্তি হয়ে উঠতে পারে। থান্ডার বের মতো একটি বহুসাংস্কৃতিক শহরে সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় এই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হওয়া আমার জন্য সত্যিই বিশেষ অনুভূতি।

ফ্যাশন শো’টি সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ট্যাপেস্ট্রির নেতৃত্বে থাকা ড. রূপা রক্ষিত এবং ফ্যাশন শো সমন্বয়ক স্নিগ্ধা। পাশাপাশি মডেল, শিল্পী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আয়োজনটিকে সফল করে তোলে।

ট্যাপেস্ট্রি ইন্টারন্যাশনাল উইমেনস নেটওয়ার্ক থান্ডার বেভিত্তিক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যার মূল লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের উদ্‌যাপন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতি গড়ে তোলা। সংগঠনটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন পটভূমি থেকে আসা নারীদের নিজেদের পরিচয়, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান ড. রূপা রক্ষিত বলেন, আমাদের ‘অ্যান ইভনিং অব এক্সপ্রেশনস’ ছিল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির এক সুন্দর উদ্‌যাপন। বিভিন্ন পটভূমি থেকে আসা প্রায় ২০০ মানুষের অংশগ্রহণ আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, পারস্পরিক সম্পর্ক ও একাত্মবোধ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্য আমাদের একত্র করে, কিন্তু মানবিকতাই আমাদের সত্যিকার অর্থে সংযুক্ত রাখে।

থান্ডার বে’র দর্শক, বিশিষ্ট অতিথি ও স্থানীয় কমিউনিটির কাছ থেকে ফ্যাশন শোটি ব্যাপক প্রশংসা পায়। শুধু পোশাকের প্রদর্শনী নয়, ‘ওয়ান ফ্যাব্রিক, কাউন্টলেস এক্সপ্রেশনস’ হয়ে ওঠে দক্ষিণ এশীয় ঐতিহ্য, নারীর সৃজনশীলতা এবং প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সম্পর্ককে উদ্‌যাপনের এক অনন্য মঞ্চ।

ট্যাপেস্ট্রি ২০২৬ গালা নাইট আবারও প্রমাণ করেছে, শিল্প, ফ্যাশন ও সংস্কৃতি ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে ভিন্ন পটভূমির মানুষকে একসূত্রে গাঁথতে পারে। কানাডার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাংস্কৃতিক পরিচিতি ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এমন আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream