শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত অভিনেতা রাসেল


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত অভিনেতা রাসেল
রাসেল ব্র্যান্ড । ছবি : সংগৃহীত

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে লন্ডনের একটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন একসময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্রিটিশ উপস্থাপক এবং হলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড। বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের একটি জুরিবোর্ড তাকে একজন নারীকে ধর্ষণ এবং আরও তিন নারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা আরও দুটি ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টা-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাকে।

এ দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, মার্কিন পপ গায়িকা কেটি পেরির সাবেক স্বামী রাসেল ব্র্যান্ড যৌনতায় আসক্ত ছিলেন। তিনি বহু নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে ছিলেন।

এদিকে রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের স্ত্রী লরা ব্র্যান্ড। জুরির সদস্যরা একে একে রায় ঘোষণা করার সময় চোখ বন্ধ করে ছিলেন অভিনেতা। তবে তার মধ্যে বিশেষ কোনো আবেগের প্রকাশ দেখা যায়নি। 

রায় ঘোষণার পর বিচারক জোয়েল বেনাথান জানান, ব্র্যান্ডকে উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) তার সাজা ঘোষণা করা হবে। এরইমধ্যে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ফলে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের পর তার সম্ভাব্য সাজা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চার নারীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ব্র্যান্ড। ঘটনাগুলো ঘটেছিল বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বেতারকেন্দ্র, একটি রেকর্ডিং স্টুডিও এবং লন্ডনে তাঁর নিজ বাসভবন।

অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা রয়েছে। অপরদিকে ১৯৯৯ সালে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ২০০৪ সালে আরেক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং ২০০১ সালে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ছয় নারী ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন। তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, যৌন অপরাধের অভিযোগকারীরা আজীবন পরিচয় গোপন রাখার অধিকার পান।

আদালতে ভুক্তভোগী এক নারী সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, রাসেল তার সঙ্গে পশুর মত আচরণ করেছিলেন। এ সময় জুরিদের উদ্দেশ্যে প্রধান কৌঁসুলি রিয়েল কারমি-জোন্স বলেন, ৫০ বছর বয়সী রাসেল যখন চাইতেন, তখন অত্যন্ত হাস্যরসিক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন নির্মম এবং চরম লম্পট। নারীদের কাছ থেকে কেবল নিজের স্বার্থ হাসিল করতেই তিনি আগ্রহী ছিলেন। অভিযোগকারী নারীদের প্রতি তার সাক্ষ্যে একধরণের অবজ্ঞা ও ঘৃণার সুর স্পষ্ট ছিল, যা অপরাধ সংঘটনের সময় নারীদের প্রতি রাসেলের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাসেল ব্র্যান্ড এখন দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখে রয়েছেন। পুলিশ বলেছে, তার বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলায় তিনি অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারেন।

যদিও রাসেল ব্র্যান্ড বরাবরই পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া তিনি কোনো যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

বিষয় : অভিনেতা হলিউড

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত অভিনেতা রাসেল

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে লন্ডনের একটি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন একসময়ের অন্যতম প্রভাবশালী ব্রিটিশ উপস্থাপক এবং হলিউডের কৌতুক অভিনেতা রাসেল ব্র্যান্ড। বিবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টের একটি জুরিবোর্ড তাকে একজন নারীকে ধর্ষণ এবং আরও তিন নারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা আরও দুটি ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টা-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তাকে।

এ দিন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, মার্কিন পপ গায়িকা কেটি পেরির সাবেক স্বামী রাসেল ব্র্যান্ড যৌনতায় আসক্ত ছিলেন। তিনি বহু নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে ছিলেন।

এদিকে রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ৫১ বছর বয়সী রাসেল ব্র্যান্ডের স্ত্রী লরা ব্র্যান্ড। জুরির সদস্যরা একে একে রায় ঘোষণা করার সময় চোখ বন্ধ করে ছিলেন অভিনেতা। তবে তার মধ্যে বিশেষ কোনো আবেগের প্রকাশ দেখা যায়নি। 

রায় ঘোষণার পর বিচারক জোয়েল বেনাথান জানান, ব্র্যান্ডকে উল্লেখযোগ্য মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে। আগামী সোমবার (৯ নভেম্বর) তার সাজা ঘোষণা করা হবে। এরইমধ্যে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

যুক্তরাজ্যে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ফলে ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের পর তার সম্ভাব্য সাজা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে চার নারীর সঙ্গে সংঘটিত অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ব্র্যান্ড। ঘটনাগুলো ঘটেছিল বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে রয়েছে একটি বেতারকেন্দ্র, একটি রেকর্ডিং স্টুডিও এবং লন্ডনে তাঁর নিজ বাসভবন।

অভিযোগগুলোর মধ্যে একটি ধর্ষণ এবং তিনটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা রয়েছে। অপরদিকে ১৯৯৯ সালে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ২০০৪ সালে আরেক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং ২০০১ সালে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চার সপ্তাহ ধরে চলা এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ছয় নারী ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের অভিযোগ এনেছিলেন। তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, যৌন অপরাধের অভিযোগকারীরা আজীবন পরিচয় গোপন রাখার অধিকার পান।

আদালতে ভুক্তভোগী এক নারী সাক্ষ্য দিতে গিয়ে জানান, রাসেল তার সঙ্গে পশুর মত আচরণ করেছিলেন। এ সময় জুরিদের উদ্দেশ্যে প্রধান কৌঁসুলি রিয়েল কারমি-জোন্স বলেন, ৫০ বছর বয়সী রাসেল যখন চাইতেন, তখন অত্যন্ত হাস্যরসিক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি ছিলেন নির্মম এবং চরম লম্পট। নারীদের কাছ থেকে কেবল নিজের স্বার্থ হাসিল করতেই তিনি আগ্রহী ছিলেন। অভিযোগকারী নারীদের প্রতি তার সাক্ষ্যে একধরণের অবজ্ঞা ও ঘৃণার সুর স্পষ্ট ছিল, যা অপরাধ সংঘটনের সময় নারীদের প্রতি রাসেলের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাসেল ব্র্যান্ড এখন দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখে রয়েছেন। পুলিশ বলেছে, তার বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত চলায় তিনি অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারেন।

যদিও রাসেল ব্র্যান্ড বরাবরই পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া তিনি কোনো যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream