বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

‘বাবার বাড়িতে চাঁদা নিতে গিয়ে’—নাঈম হত্যায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

‘বাবার বাড়িতে চাঁদা নিতে গিয়ে’—নাঈম হত্যায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড

একটি সন্ধ্যা। বাবার বাড়িতে চাঁদা নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। এরপর গালিগালাজ, মারধর—আর পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে আসা তরুণ নাঈমের ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাত। গুরুতর আহত নাঈমকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।

ঘটনার প্রায় তিন বছর পর সেই হত্যা মামলার রায় এসেছে। রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন মৌলভীবাজারের আদালত। একই সঙ্গে পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজারের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন—মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন। তাঁদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়ার বাড়িতে চাঁদা নিতে যান কয়েকজন আসামি।

এ সময় চেরাগ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহারকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি নাঈমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগও করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন নাঈম। আর তখনই ঘটে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, নাঈমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন।

অন্যদিকে মামলার পাঁচ আসামি—পারভীন বেগম, রুখসানা আক্তার জেসি, সাকির আহমদ শাকিল, আল আমিন ও ইমন মিয়া—খালাস পেয়েছেন। ইমন মিয়া পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রায়ের পর নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া, মা শামছুন নাহার ও স্বজনরা সন্তোষ জানিয়ে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

একটি সন্ধ্যার সংঘর্ষ থেকে যে হত্যাকাণ্ডের শুরু, প্রায় তিন বছর পর আদালতের রায়ে তার বিচারিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হলো। এখন অপেক্ষা—পলাতক আসামিরা কবে আইনের আওতায় আসেন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


‘বাবার বাড়িতে চাঁদা নিতে গিয়ে’—নাঈম হত্যায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একটি সন্ধ্যা। বাবার বাড়িতে চাঁদা নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা। এরপর গালিগালাজ, মারধর—আর পরিস্থিতি থামাতে এগিয়ে আসা তরুণ নাঈমের ওপর ধারালো অস্ত্রের আঘাত। গুরুতর আহত নাঈমকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।

ঘটনার প্রায় তিন বছর পর সেই হত্যা মামলার রায় এসেছে। রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন মৌলভীবাজারের আদালত। একই সঙ্গে পাঁচ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে মৌলভীবাজারের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলেন—মো. নুরুল ইসলাম, মো. সাইমন ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন। তাঁদের মধ্যে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়ার বাড়িতে চাঁদা নিতে যান কয়েকজন আসামি।

এ সময় চেরাগ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহারকে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ ওঠে। পাশাপাশি নাঈমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগও করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন নাঈম। আর তখনই ঘটে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। অভিযোগ অনুযায়ী, নাঈমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত চার আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন।

অন্যদিকে মামলার পাঁচ আসামি—পারভীন বেগম, রুখসানা আক্তার জেসি, সাকির আহমদ শাকিল, আল আমিন ও ইমন মিয়া—খালাস পেয়েছেন। ইমন মিয়া পলাতক রয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন চৌধুরী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রায়ের পর নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া, মা শামছুন নাহার ও স্বজনরা সন্তোষ জানিয়ে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

একটি সন্ধ্যার সংঘর্ষ থেকে যে হত্যাকাণ্ডের শুরু, প্রায় তিন বছর পর আদালতের রায়ে তার বিচারিক অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি হলো। এখন অপেক্ষা—পলাতক আসামিরা কবে আইনের আওতায় আসেন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream