মৌলভীবাজারে আলোচিত রেজাউল করিম নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আরও ৫ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে মৌলভীবাজার জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ রবিউল আউয়াল বহুল প্রতীক্ষিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বর্ষিজোড়া এলাকার মৃত মো. ইদ্রিস মিয়ার ছেলে মো. নুরুল ইসলাম, আব্দুল আজিজের ছেলে মো. সাইমন ইসলাম, দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম রনি ও আব্দুল কাদিরের ছেলে আনোয়ার হোসেন। সাজাপ্রাপ্ত নাহিদুল ইসলাম রনি ও আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- একই উপজেলার বর্ষিজোড়া এলাকার ইদন মিয়ার ছেলে ইমন মিয়া, নাজিরাবাদ ইউনিয়নের সাহিদ মিয়ার ছেলে আল আমিন, বর্ষিজোড়া এলাকার মো. রমিজ মিয়ার ছেলে সাকির আহমদ ওরফে শাকিল, দন্ডপ্রাপ্ত মো. নুরুল ইসলামের স্ত্রী পারভীন বেগম ও মেয়ে রুকশানা আক্তার।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁদা নিতে আসামি নুরুল ইসলাম ও অন্যান্য আসামিরা মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বর্ষিজোড়া গ্রামে চেরাগ মিয়ার বাসায় প্রবেশ করে নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও মা শামসুন নাহারকে গালাগালি ও মারধর শুরু করেন। নাঈম ঘটনা থামাতে এগিয়ে গেলে তাকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে আসামিরা। পরে নাঈমকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার দুদিন পর ৯ নভেম্বর নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় মামলা করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৯৮-এর ৩৬৮(১) ধারার বিধানমতে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত চার আসামিকে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসির রশিতে ঝুলিয়ে কার্যকর করার নির্দেশ দেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক।
পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রকৃত আসামিদের দণ্ড প্রদানে বাদী পক্ষসহ আইনের প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা বাড়বে। অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে অপরাধ করে আইনি সাজা থেকে রেহাই পাওয়া যায় না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কলেজছাত্র নাঈমের বাবা চেরাগ মিয়া ও স্বজনরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি।
এই রায় দ্রুত কার্যকরে প্রত্যাশা ও পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করেন তারা।
এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফনিলাল ধর ও স্বজনরা জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
মতামত