রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়েরকৃত আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে ৪ দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) মামলার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সাবেক এমপি গাজী নজরুলের ৪ দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদার ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগ সংবাদমাধ্যমকে আদালতের রিমান্ড আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর দায়ের করা মামলার এজাহারে উঠে এসেছে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য:
গত জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের বিয়ে হয়। এমপি হওয়ায় প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে একত্রে বসবাস করছিলেন তিনি।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে সাবেক এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রী যৌথভাবে মরিয়মের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।
২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ফোন করে মরিয়মের বাবাকে বাসায় আসতে বলেন। পরে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মরিয়মের বিছানার ওপর তাঁর নিজ হাতে লেখা একটি ‘সুইসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মরিয়ম খাতুনের সাথে গাজী নজরুলের সংবেদনশীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের দায়ে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
পূর্বে ২১ জুলাই ভিডিও ফাঁসের প্রতিবাদ করায় মারধরের অভিযোগে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা করেছিলেন মরিয়মের মামা ও ড্রাইভার ওবায়দুর রহমান। অথচ বর্তমান আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা উল্লেখ করেন—ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনাতেই এই অসম বিয়েটি হয়েছিল। ফলে নতুন এই মামলায় প্ররোচনাকারী হিসেবে ওবায়দুর রহমানকেও অন্যতম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মতামত